১০:৩৬ এম
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী মন্তব্য করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ধারাবাহিক তেহরান সফর আলোচনা বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত প্রদান করছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের আঞ্চলিক প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি চলতি মাসে দুবার তেহরান সফর করেছেন। সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর সউদী আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে ইরান সফর করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে চলছে নীরব কূটনীতি
আসিম মুনিরের পরপর দুইবার তেহরান সফর ইতিবাচক অগ্রগতির লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আহমেদ শরিফ বলেন, "ইতিবাচক কিছু না থাকলে ফিল্ড মার্শাল দুবার সেখানে যেতেন কেন? সুতরাং হ্যাঁ, অবশ্যই।" তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তান সব সময়ই এ বিষয়ে ‘সতর্ক আশাবাদী’ অবস্থান নিয়েছে।
আহমেদ শরিফ আরও জানান, কিছু শক্তিশালী পক্ষ ও বিরোধী গোষ্ঠী এখনও মনে করে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে তাদের স্বার্থ পূরণ হবে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তেহরান সফরে কী আলোচনা হয়েছে কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি তিনি।
সর্বশেষ সফরে আসিম মুনিরের সঙ্গে ছিলেন সউদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। ২৬ অক্টোবর তেহরানে ইরান, পাকিস্তান, সউদী আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এ অঞ্চলের দেশগুলোকে। তাঁর ভাষ্য, চার দেশই মনে করে, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা সম্ভব। আলোচনাকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানোর আশাও প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফিরে যাওয়া উচিত : র্যাচেল রিভস
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে আট মাস আগে শুরু হওয়া সংঘাত পরে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। কয়েক মাসের লড়াইয়ের পর সংঘাত প্রশমনে পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় ফেরানোর উদ্যোগ নেয়। এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে জানিয়েছিল, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অগ্রগতির প্রতিফলন। সর্বশেষ উদ্যোগে সউদী আরব ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাকিস্তানের পাশাপাশি সউদী আরব ও তুরস্কের অংশগ্রহণে সংঘাত প্রশমনে আঞ্চলিক দেশগুলোর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: ‘সংবিধানের চেয়ে বড় নন মোদি-শাহ’, দিল্লির সমাবেশে রাহুল গান্ধী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন