১২:৪৩ পি.এম
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান বিদ্যমান। কোথাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আবার কোথাও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ঢাকার নিকটবর্তী অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মানিকগঞ্জও তেমন একটি জেলা। ঐতিহাসিক স্থাপনা, জমিদারবাড়ি এবং বিনোদনকেন্দ্রের জন্য জেলাটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
মানিকগঞ্জে ভ্রমণের সময় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি হলো—
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি
আরও পড়ুন: গাজীপুরের তুমুলিয়া ইউনিয়নের প্রথম নারী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিখা বেগম
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় অবস্থিত বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে গণ্য হয়। প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই জমিদারবাড়িতে রয়েছে কারুকার্যখচিত সাতটি দালান।
কালের পরিবর্তনে ভবনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর নির্মাণশৈলী এখনও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়।
ঢাকার গুলিস্তান থেকে পাটুরিয়া-মানিকগঞ্জগামী বাসে প্রায় দুই ঘণ্টায় কালামপুর পৌঁছানো যায়। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা সাটুরিয়ার বাসে করে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে বালিয়াটি জমিদারবাড়িতে পৌঁছানো সম্ভব।
এছাড়া গাবতলী-আমিনবাজার থেকে সরাসরি সাটুরিয়ার বাস পাওয়া যায়। সাটুরিয়া থেকে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে প্রায় পাঁচ মিনিটেই বালিয়াটি জমিদারবাড়িতে যাওয়া সম্ভব। বঙ্গবাজার থেকেও সাটুরিয়ার সরাসরি বাস পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: "পাল্টা অভিযোগ সৌদি প্রবাসী কাদির মিয়ার" কুলিয়ারচরে মেম্বার প্রার্থী পারভেজকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
তেওতা জমিদার বাড়ি
শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর তীরে সবুজে ঘেরা তেওতা গ্রামে অবস্থিত তেওতা জমিদার বাড়ি দেশের পুরাকীর্তির অন্যতম। এই স্থাপনাটি এখনও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জমিদারবাড়ির আঙিনায় রয়েছে নবরত্ন মঠ। জমিদার শ্যামশংকর রায় এটি নির্মাণ করেছিলেন। এক সময় অনেক দূর থেকে মঠটি দেখা যেত।
ঢাকা থেকে বাসে আরিচা ঘাটে গিয়ে সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তেওতা গ্রামে যাওয়া যায়। চাইলে নদীপথেও সেখানে যাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: কিশোর-যুবকদের শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে যুক্ত করতে চান ছাত্রদল নেতা কাওসার খান
বেতিলা জমিদার বাড়ি
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামে অবস্থিত বেতিলা জমিদার বাড়ির নির্মাণকাল এবং নির্মাণের পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জনশ্রুতি রয়েছে।
একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী, সত্য বাবু নামে এক বণিক যাতায়াতের সুবিধার জন্য এখানে বাড়িটি নির্মাণ করেন। পরে তার বসতবাড়িই লোকমুখে বেতিলা জমিদার বাড়ি নামে পরিচিতি পায়। স্থানীয়দের আরেকটি দাবি হলো, কলকাতার বণিক জ্যোতি বাবু ছিলেন এই জমিদারবাড়ির পূর্বপুরুষ।
মত্ত মঠ
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
মানিকগঞ্জ জেলা সদরে নিটোল দিঘির পাড়ে প্রায় আড়াইশ বছর আগে নির্মিত হয় মত্ত মঠ। প্রায় ১৫ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই মঠের উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট।
মঠটি নির্মাণের জন্য ইরাক থেকে কারিগর আনা হয়েছিল বলে জানা যায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জের পটল গ্রামের হেমসেন নামে এক অত্যাচারী জমিদার তার বাবার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর এখানে মঠটি নির্মাণ করেন।
নাহার গার্ডেন
গ্রামীণ ও নিরিবিলি পরিবেশে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন সাটুরিয়া উপজেলার কামতা গ্রামের নাহার গার্ডেনে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গোলড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।
আরও পড়ুন: সরকারি নির্দেশনা ও হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষার অভিযোগ: মানিকগঞ্জ-টাঙ্গাইলে স্কুল-কলেজের মাঠে মেলা, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
নাহার গার্ডেনে ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় তিন হাজার পাখি রয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নয়টি উট, একটি উটপাখি ও আটটি ময়ূর। শিশুদের জন্য রয়েছে বড় একটি শিশু পার্ক।
এছাড়া এখানে রয়েছে ছোট-বড় চারটি পুকুর এবং টাইটানিকের আদলে তৈরি একটি জাহাজ।
নাহার গার্ডেনে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। সেখানে সাতটি বনভোজনের স্থান রয়েছে। লোকসংখ্যা ও সময়ের ওপর ভিত্তি করে এসব স্থান ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ভাড়া নেওয়া যায়।
আরও পড়ুন: দায়িত্ব পেলে মোহাম্মদপুরকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে চান কাওসার খান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন