ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতিসংঘে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র


জাতিসংঘে ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের প্রস্তুতির বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, তবে বৈঠক বা এর সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

মঙ্গলবার এনবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে বৈঠকটি আয়োজনের বিষয়টি তখনই গুরুত্ব পাবে যখন এমন আলোচনা ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকবে।

এই ধরনের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যাতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। রুবিও আরও বলেন, ইরানের কাছে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না। এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুন: আফগানিস্তানে লাখ লাখ মানুষের প্রত্যাবর্তনে কাজ ও বাসস্থানের সংকট তীব্র

বিশ্বনেতারা বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে সমবেত হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করবে এনডিএ: গণপূর্তমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৭ পি.এম


নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করবে এনডিএ: গণপূর্তমন্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনডিএ) গঠন করা হয়েছে, যা নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য আরও বেশি সেবা নিশ্চিত করবে, এমনটি জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এনডিএর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এই অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করে নগর উন্নয়নের কাজ করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুরে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনডিএ) কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সেবা ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজউকের সেবাব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজউকের আওতাধীন এলাকা বড় হলেও সে তুলনায় পর্যাপ্ত জনবল ছিল না। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের সেবা সহজ করতে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের সরকার আসার পরে রাজউকের যে একটি বড় সীমানা ছিল, সেই তুলনায় এত জনবল ছিল না। যার জন্য নতুন করে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। যেন স্থানীয়রা আরও বেশি সেবা পেতে পারে। মানুষকে সেবা দিতে গেলে জনবল লাগবে।’

রাজউকের সেবাব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, ‘এই সরকার আসার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাজউকে আগে ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তর করতে মেইন ক্লিয়ারেন্স লাগত। এখন সেটি লাগে না। একবার যদি আপনার নামে মিউটেশন হয়ে যায়, তাহলে আর যেতে হবে না।’

তিনি জানান, সেবাগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল করা হচ্ছে। ‘আমরা প্রচুর পরিমাণে ডিজিটালে যাচ্ছি। চেষ্টা করছি যেন যেকোনো পরিকল্পনা ২৪ দিনের মধ্যে পাস হয়। আমরা আপনাদের এতটুকু আশা দিতে পারি, আগের রাজউকের থেকে আগামী রাজউক অনেক পরিবর্তনশীল হবে।’

নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এনডিএর আইন পাস হয়েছে এবং কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো। তিনি বলেন, ‘এনডিএ যে কর্তৃপক্ষ তৈরি হলো, এটি গণপূর্ত থেকেই হলো এবং এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্যই করা হয়েছে। যেন নারায়ণগঞ্জবাসী আরও বেশি সেবা পায়। একই সঙ্গে যেন একটি পরিকল্পিত নগর তৈরি করতে পারি।’

মন্ত্রী জানান, রাজউকের মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের জন্য এনডিএ আলাদা বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে নগর উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এনডিএর সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়েও যাচাই-বাছাই চলছে। মন্ত্রী বলেন, কর্তৃপক্ষের একটি সীমানা ইতোমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেটি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। ফতুল্লা ও সোনারগাঁসহ আশপাশের এলাকাগুলোও এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার এসবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছে। এই সিদ্ধান্ত গত সরকারের আমলে হয়েছে। যেকোনো প্রকল্প হতে সময় লাগে। এটি গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এনডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে, দেখছি কী করা যায়।’ মন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য সহজ ও বেশি সেবা নিশ্চিত করাই এনডিএ গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলে যাচ্ছে রাজধানীর গাজী সামসুন নেসা গার্লস হাই স্কুলের নাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


বদলে যাচ্ছে রাজধানীর গাজী সামসুন নেসা গার্লস হাই স্কুলের নাম

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর একটি পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও প্রতিষ্ঠালগ্নের নাম ফিরে পেতে যাচ্ছে। ‘গাজী সামসুন নেসা গার্লস হাই স্কুল’ নাম বাতিল করে নতুনভাবে ‘মগবাজার গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ’ নাম অনুমোদন করা হয়েছে।

এ তথ্যটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা-এর অধীন ঢাকা জেলার রমনা থানাধীন ‘গাজী সামসুন নেসা গার্লস হাই স্কুল’, ৫২, সিদ্ধেশ্বরী, ঢাকা এর নাম বাতিলপূর্বক প্রতিষ্ঠালগ্নের নাম ‘মগবাজার গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ’ নামে নামকরণের বিষয়ে এ বিভাগের সম্মতি নির্দেশক্রমে জ্ঞাপন করা হলো।’

এছাড়া, অফিস আদেশে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর মায়ের নামে নামকরণ করা হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা রতন গ্রেপ্তার, কার্যক্রম নিষিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ পি.এম


কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা রতন গ্রেপ্তার, কার্যক্রম নিষিদ্ধ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পুলিশ একটি নিষিদ্ধ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আওয়ামী লীগের নেতা আহম্মদ আলী পোদ্দার রতন (৫৭) কে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত নেতাকে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা বাজারের খামার এলাকার তার নিজ বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়।

আহম্মদ আলী পোদ্দার রতন, যিনি মৃত জালাল উদ্দিন পোদ্দারের পুত্র, ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১২ আগস্ট ফুলবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলার আসামি হিসেবে আহম্মদ আলী পোদ্দার রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাইম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় কুড়িগ্রাম আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা যেভাবে ‘সাইবার দাসত্বের’ শিকার হচ্ছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীরা যেভাবে ‘সাইবার দাসত্বের’ শিকার হচ্ছেন

২০২৫ সালে কুমিল্লা শহর থেকে স্নাতক পাস করা ২৩ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেনের জীবনে একটি চাকরির বিজ্ঞাপন একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেখা দেয়। বিজ্ঞাপনটিতে কম্বোডিয়ার রাজধানী নম পেনে ডাটা-এন্ট্রি কাজের জন্য আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার বেতন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ভিসা প্রক্রিয়ার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করে এক মধ্যস্থতাকারী বা দালাল। এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্বাক্ষর করে, প্রায় ৪,৫০,০০০ টাকা (৩,৬৪০ মার্কিন ডলার) প্রদান করে তিনি কম্বোডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নম পেনে নামার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর পাসপোর্ট কোম্পানির সেফে বন্দি হয়ে যায় এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া চাকরিটি মিলিয়ে যায়।

সাজ্জাদের কম্বোডিয়া যাত্রা উন্নত ভবিষ্যতের আশায় হলেও এটি মূলত মানব পাচারের একটি পাঠ্যবইতুল্য উদাহরণ, যা জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল "সাইবার দাসত্ব" বলে আখ্যা দিয়েছে। এটি ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণামূলক নিয়োগের একটি নতুন কৌশল। পুরো প্রতারণার চক্রটি খুব সরল ও নির্মম: সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুক্তভোগীকে আকৃষ্ট করা হয়, ফ্লাইটে কম্বোডিয়া নিয়ে গিয়ে পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়, এবং পরে বিক্রি করে দেওয়া হয় অপরাধী চক্রের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে। সেখানে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক হাজার হাজার মাইল দূরের অচেনা মানুষের সাথে ডিজিটাল সাইবার প্রতারণা করানো হয়।

সাজ্জাদের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি কম্বোডিয়ার স্ক্যাম কম্পাউন্ডগুলোতে আটকে পড়া বহু ভুক্তভোগীর নির্মম বাস্তবতার প্রতিফলন।

প্রযুক্তি-ভিত্তিক নিয়োগ চক্রের জাল

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাচার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে তিন স্তরের একটি চক্র ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছে। এই চক্রে অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি, অসৎ ট্রাভেল অপারেটর এবং স্থানীয় দালালরা অন্তর্ভুক্ত। দালালরা অভিবাসীদের পরিচিত এবং বিশ্বাসযোগ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—যেমন ফেসবুক গ্রুপ, হোয়াটসঅ্যাপ সার্কেল এবং ইমোতে যুক্ত হয়ে সাধারণ চাকরির বিজ্ঞাপন পোস্ট করে। তারা উচ্চ বেতনের চাকরি এবং "ইনস্ট্যান্ট ভিসার" আশ্বাস দেয়। প্রতারক চক্রের অংশ হিসেবে তারা টেলিগ্রাম গ্রুপে কিছু "সফল অভিবাসীর" ভুয়া গল্প ও উদাহরণও ছড়িয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবাল ভয়েসেস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও গবেষক রিয়াজ আহমেদ বলেন, "দুর্ভাগ্যবশত, অনেক অভিবাসীই রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা, চাকরির চুক্তিপত্র, নিয়োগকর্তার বিস্তারিত তথ্য কিংবা গন্তব্য দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যাচাই না করেই এই বহুজাতিক চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে বিদেশে চলে যান। কিন্তু সেখানে পা রাখতেই বাস্তবতা বদলে যায়। প্রতিটি ওয়াদা শেষ পর্যন্ত প্রতারণায় রূপ নেয় এবং তারা বৈশ্বিক অপরাধ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন।"

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, "কম্বোডিয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোনো আকর্ষক বা লাভজনক গন্তব্য নয়। অসৎ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো ভুয়া আইটি ও আতিথেয়তা খাতের উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে এই গন্তব্য তৈরি করেছে। আর দালাল ও কিছু ট্রাভেল এজেন্সি মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যগুলোর বিকল্প হিসেবে এটিকে সস্তা, দ্রুত ও সহজ পথ হিসেবে তুলে ধরছে।"

কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের কোনো কূটনৈতিক মিশন বা দূতাবাস নেই। অর্থাৎ, পরিস্থিতি প্রতিকূলে গেলে সাহায্য চাওয়ার মতো কোনো আশ্রয় সেখানে অভিবাসীদের নেই। তা সত্ত্বেও সরকারি তথ্য বলছে, ফিরে আসা অভিবাসীদের ৮০ শতাংশই বৈধ অভিবাসন পথ ব্যবহার করে গিয়েছিলেন এবং ৬৬ শতাংশ কোনো নিবন্ধিত এজেন্সির বদলে দালালের মাধ্যমে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

উদ্বেগের বিষয় হলো, সরকারিভাবে নির্ধারিত অভিবাসন খরচ এবং প্রকৃত খরচের মধ্যে বিস্তর তফাত। যেখানে নথি অনুযায়ী অভিবাসনের খরচ হওয়া উচিত ৬৫৪ থেকে ১,২৫৮ ডলারের মধ্যে, সেখানে দালালের মাধ্যমে ফ্লাইট নিশ্চিত করতে একেকজনকে খরচ করতে হয়েছে ২,৮৩৫ থেকে ৪,৪৫০ ডলার পর্যন্ত। অথচ ২০২৬ সালের হিসাবে বাংলাদেশে একজন শ্রমিকের গড় মাসিক আয় আনুমানিক ৩২৯ ডলারের কাছাকাছি।

এই অতিরিক্ত অর্থ চলে যায় দালাল, ট্রাভেল এজেন্সি ও রিক্রুটিং এজেন্সির পকেটে, যারা দ্রুত ভিসা এবং কম্বোডিয়ায় আকর্ষণীয় চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিবাসীদের নিঃস্ব করে।

অনলাইনে অবরুদ্ধ, ভেতরে বন্দি

কম্বোডিয়ার এসব কম্পাউন্ডে পৌঁছানোর পর বিজ্ঞাপনের সমস্ত প্রতিশ্রুতি এক নিমিষেই মিথ্যা প্রমাণ হয়। বিমান বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, তাঁদের ১,৫০০ থেকে ৪,০০০ ডলার পর্যন্ত মূল্যে বিভিন্ন স্ক্যাম পরিচালনাকারীদের কাছে কেনাবেচা করা হয়।

এক ভুক্তভোগী তাঁর বন্দিদশার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, তিনি মেয়ার্দ উত্তীর্ণ ভিসা নবায়নের জন্য দালালের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু দালাল তা প্রত্যাখ্যান করে। এখন তাঁকে অন্য একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য অজ্ঞাত একটি ভবনে আটকে রাখা হয়েছে।

অন্য এক ভুক্তভোগী সাইবার অপরাধে বাধ্য করার বিষয়ে বলেন, "আমি প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ না করে অন্য কাজের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু দালাল তা শোনেনি। এখন সে আমার পরিবারকে আরও টাকা পাঠানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।"

ভুক্তভোগীদের পরিবারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে স্বজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার বিনিময়ে ৩,০০০ ডলার পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে বারবার অন্য চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এক অভিবাসী জানান, দালাল তাঁর কাছ থেকে ৩,৫০০ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার পর সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।

কম্পাউন্ড থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা জানান, এসব সেন্টারে তাঁদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, নির্যাতন ও চরম দুর্ব্যবহার করা হতো। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা 'বাংলাদেশ প্রবাসী ঐক্য ফাউন্ডেশন'-এর মুখপাত্র প্রমিত খন্দকার জানান, "বহু পরিবার তাঁদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে ফেলেছে। ছেলেদের উদ্ধারের জন্য হাত দেওয়ার মতো আর কিছুই তাঁদের অবশিষ্ট নেই।" তিনি আরও জানান, অনেকে দেশে ফিরে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলেও প্রমাণপত্রের অভাবে মামলা করতে পারেন না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের কোনো রসিদ বা লিখিত প্রমাণ তাঁদের কাছে থাকে না।

জোরপূর্বক সাইবার অপরাধে নিযুক্তি

পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সাধারণত অনলাইনে রোমান্স স্ক্যাম (যা 'পিগ বুচারিং' নামে পরিচিত), ভুয়া বিনিয়োগ এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতির মতো অপরাধে বাধ্য করা হয়। এই পাচার শিল্পটি বিশাল আকার ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষকে এভাবে বন্দি করে সাইবার প্রতারণায় বাধ্য করা হচ্ছে। ভেতরের দৃশ্যটি দেখতে সুশৃঙ্খল কলসেন্টারের মতো হলেও আদতে এটি কোনো কড়া কারাগারের চেয়ে কম নয়।

এক ভুক্তভোগী ক্যাসিনোর চাকরির কথা বলে গিয়ে এই ফাঁদে পড়েন। তিনি মোট ৪,০৪৭ ডলার খরচ করে আয় করতে পেরেছিলেন মাত্র ৯৭২ ডলার। পরবর্তীতে তাঁকে মুক্ত করতে তাঁর পরিবারকে আরও ১,২১৪ ডলার পাঠাতে হয়।

এদিকে, চলতি বছরের ছয় মাসে কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ ১১৮টি স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫,০০০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ বছরের এপ্রিলে কম্বোডিয়া তাদের প্রথম ডেডিকেটেড অ্যান্টি-স্ক্যাম আইন অনুমোদন করে, যেখানে জঘন্য অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে, সরকার জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর হওয়ার কথা বললেও এ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও হেনস্তা করার ঘটনাও ঘটছে।

কঠোর অভিযানের মুখে মূল চক্রগুলো তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। বড় বড় কম্পাউন্ড ভেঙে এখন নম পেনের সাধারণ আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে ছোট ছোট সেল তৈরি করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগী এখন চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে আটকা পড়েছেন।

পরিসংখ্যানের পেছনের আসল সংকটের চিত্র

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ১৭,০৩১ জন বাংলাদেশি কর্মী হিসেবে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাঁদের ৯৮ শতাংশই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি। অর্থাৎ, এই পুরো অভিবাসন পথটি কার্যত সুপরিকল্পিত প্রতারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ সালের জুন থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার কম্বোডিয়া থেকে পাচার হওয়া ৫৮৩ জন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়ে চলতি বছর দেশে ফেরত এসেছেন মোট প্রায় ১,৮০০ জন। এক ফেরত আসা ব্যক্তি জানান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার জরিমানা সহ দেশে ফিরতে তাঁকে অতিরিক্ত ২,২৬৬ ডলার খরচ করতে হয়েছে।

অন্য এক ব্যক্তি জানান, কোনো কাজ না পেয়ে দেশে স্বজনদের পাঠানো টাকায় ৯ মাস অলস বসে থাকার পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, "সেখানে কোনো কাজের সুযোগ নেই। কম্বোডিয়ায় যে-ই যাবে, সে-ই অপরাধী সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়বে।"

একটি অবিচ্ছিন্ন অপরাধের চক্র

অনলাইন বা প্রযুক্তির সাহায্যে রিক্রুট করা এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধে বাধ্য করা—এই দুটো আলাদা কোনো ঘটনা নয়, বরং একই অপরাধ চক্রের ধারাবাহিক অংশ। সাজ্জাদের মতো যুবকদের কম্পাউন্ডে বন্দি করা থেকে শুরু করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়—সবকিছুই একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।

কূটনৈতিক উপস্থিতি ছাড়া একটি দেশে মাত্র তিন বছরে ১৭ হাজারের বেশি মানুষের গমন স্পষ্ট করে দেয় যে, বিদেশগামী নাগরিকদের তদারকি ও ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে কতটা বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

চার মাস বন্দি থাকার পর এ বছর এক অভিযানে উদ্ধার পেয়ে দেশে ফিরেছেন সাজ্জাদ। কিন্তু তিনি ফিরেছেন নিঃস্ব হয়ে, বিশাল ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে—যে ঋণ তাঁর পরিবার আজও শুধে চলেছে। আর তাঁর মতো আরও শত শত তরুণ একই বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে, একই ফ্লাইটে উঠে একই নির্মম নিয়তির মুখোমুখি হচ্ছেন।সূত্র: গ্লোবাল ভয়েস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%