ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার


তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

একসময় সার্কাসে কাজ করে নিজের সংসারে সচ্ছলতা আনার স্বপ্ন দেখতেন ফয়সাল সরদার (৩৫)। সেই আয়ে চলত তাঁর পরিবার। কিন্তু করোনার পর সার্কাসের আয়োজন কমে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় উপার্জনের পথ। এখন নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি স্ত্রী ও তিন বছর বয়সী প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি তিনি। জরাজীর্ণ টিনের ঘরে আট সদস্যের পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন বাবা হেমায়েত সরদারের সামান্য আয়।

মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফয়সাল। তাঁর বাবা মস্তফাপুর স্ট্যান্ডে মাহিন্দ্রা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রতিদিনের উপার্জনে কোনো রকমে চলে সংসার। পরিবারের সদস্যদের খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে চিকিৎসা, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো যেন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিবারের তিন সদস্যই প্রতিবন্ধী। ফয়সাল নিজে, তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার (৩০) এবং তাঁদের তিন বছর বয়সী মেয়ে জুবাইদা প্রতিবন্ধী। ফয়সাল ও তাঁর স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য বলতে মূলত তাঁর বাবা হেমায়েত সরদারই।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

প্রায় পাঁচ বছর আগে সুবর্ণার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফয়সাল। সুবর্ণার বাবার বাড়ি ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম এলাকায়। তাঁর বাবা কালচানা সরদারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। ফলে মেয়ের সংসারে সহযোগিতা করার সামর্থ্য তাঁরও সীমিত।

ফয়সালের পরিবারে রয়েছেন তাঁর বাবা-মা, দাদি, স্ত্রী-সন্তান, ছোট ভাই ও বোন। সব মিলিয়ে আট সদস্যের এই পরিবারের জীবন চলছে সীমিত আয়ের ওপর নির্ভর করে। পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে হেমায়েত সরদারকে।

পরিবারটির বসবাস একটি জরাজীর্ণ দোচালা টিনের ঘরে। ঘরের টিনের বিভিন্ন স্থানে ফুটো থাকায় বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। বৃষ্টির পানি ঠেকাতে ছাদের ওপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে পলিথিন। মাথা গোঁজার এই ঠাঁইটুকুতেই কষ্টে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। সামান্য বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়াও তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।

ফয়সাল প্রায় ১০ বছর সার্কাসে কাজ করেছেন। একসময় সার্কাসে কাজ করেই নিজের সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করতেন তিনি। কিন্তু করোনার পর থেকে সার্কাসের আয়োজন কমে যাওয়ায় কাজের সুযোগ হারান। এরপর থেকে নিয়মিত আয় না থাকায় পরিবারের ভরণপোষণে বাবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। তবে মাহিন্দ্রা চালিয়ে পাওয়া সামান্য আয়ে আটজনের সংসার চালানো তাঁর বাবার জন্যও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না

এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতা পেলে খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে পরিবারটিতে।

ফয়সালের দুরবস্থার কথা জানতে পেরে মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন সেই আশ্বাস বাস্তব সহায়তায় রূপ নেবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছে অসহায় পরিবারটি।

প্রতিবন্ধকতা, কর্মহীনতা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাওয়া ফয়সালের পরিবারের স্বপ্ন খুব বেশি নয়—দুই বেলা খাবারের নিশ্চয়তা আর নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি ঘর।

আরও পড়ুন: ভালুকায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিলটনের নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীর র‍্যালি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৬ পি.এম


‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

‎রাঙামাটি সদর উপজেলার ডিসি অফিস এলাকার নিজ বাসা থেকে আশিকুল ইসলাম (১৭) নামে এক স্কুলছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে রাঙামাটি সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তার বাবা আব্দুল কাদির।
‎
‎আশিকুল রাঙামাটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
‎
‎আশিকুলের বাবা আব্দুল কাদির ও মা মোছা. আছমা আক্তার মরনা। তাঁদের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা রাঙামাটি সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিসি অফিস এলাকা।
‎
‎ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। আশিকুলের সন্ধান পেতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।
‎
‎কেউ আশিকুল ইসলামের সন্ধান পেলে তার বাবা আব্দুল কাদিরের মুঠোফোন নম্বর ০১৫৫৬৬৪২৭৬৩-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

(ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩০ পি.এম


(ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন
 
 
 
পিরোজপুরের জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা ও তার পরিবার।
 
সোমবার বিকালে উপজেলার চণ্ডিপুর বাজার ব্যবসায়ীদের আয়োজনে চন্ডিপুর বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চন্ডিপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ৫নং চণ্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ  মশিউর রহমান মঞ্জু, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোঃ দুলাল ফকির, চন্ডিপুর আজিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী মহারাজ খন্দকার সহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
 
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আব্দুল কুদ্দুস খন্দকারের, ওপর হামলার ঘটনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনে চণ্ডীপুর বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রাখার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
 
বক্তারা আরও জানান, চিকিৎসা শেষে আব্দুল কুদ্দুস বাড়িতে ফিরলেও তাঁর স্মৃতিশক্তি এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন ব্যবসায়ী নেতারা।  তবে পরিবারের দাবি মামলা ভিন্নখাতে নিতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার  ১সপ্তাহ পরও মামলা রেকর্ড করেনি ইন্দুরকানী থানা পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ১৩ অক্টোবর রাতে দোকান বন্ধ করে আঃ কুদ্দুস খন্দকার  বাড়ি ফেরার পথে মুখোশধারী কতিপয় দুর্বৃত্ত হামলা করে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ২ লক্ষাধিক নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।  শিকার হন ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস খন্দকার। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে একটি চাপাতি, স্যান্ডেল ও মুখোশ উদ্ধার করা হয় বলে জানা গেছে।
 
 হামলার কিছু সময় পর রুবেল নামের এক সিএনজিচালক ইউনুস নামের এক মুখোশধারী ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। এ সময় আহত কুদ্দুসকে ঘটনাস্থলে রেখেই দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আহত কুদ্দুসকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে আটক করে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাওয়া প্রান্তে পদ্মায় গোসলে নেমে নিখোঁজ রাসেলের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


মাওয়া প্রান্তে পদ্মায় গোসলে নেমে নিখোঁজ রাসেলের মরদেহ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মাওয়া নৌ পুলিশ নিখোঁজ রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের অফিস সহায়ক মো. মারুফ (৪০) এবং গাড়ি চালক মো. রাসেল (৪০)। মারুফের বাড়ি ঢাকার খিলগাঁওয়ে এবং রাসেলের বাড়ি বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলশাখালী এলাকায়।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শরীফ ল্যান্ডমার্ক লিমিটেডের আটজন কর্মী পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে নদীতে গোসল করতে নামেন। তাদের মধ্যে ছয় জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও মারুফ ও রাসেল নিখোঁজ হয়ে যান। ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে এ বিষয়ে খবর আসে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। মঙ্গলবার মারুফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিখোঁজ রাসেলের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত ছিল।

মাওয়া নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে পদ্মা সেতু থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে লৌহজংয়ের বড় নওপাড়া পুরাতন লৌহজং থানা জামে মসজিদের ১০০ মিটার পূর্বে পদ্মা নদীতে রাসেলের মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মালেক খসরু খানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

দুই জনের মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে নিখোঁজদের সন্ধানে পরিচালিত উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগানিস্তানে লাখ লাখ মানুষের প্রত্যাবর্তনে কাজ ও বাসস্থানের সংকট তীব্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


আফগানিস্তানে লাখ লাখ মানুষের প্রত্যাবর্তনে কাজ ও বাসস্থানের সংকট তীব্র

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে রাস্তার পাশে কাজের জন্য অপেক্ষা করছেন শ্রমিকেরা। তাদের মধ্যে গুলাম সাখি বারাতও রয়েছেন। প্রতিদিনের মতো তিনিও সেখানে এসেছেন কাজের সন্ধানে। তবে ইরান ও পাকিস্তান থেকে লাখ লাখ আফগান দেশে ফিরে আসার ফলে কাজ ও বাসস্থানের সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ৬০ লাখেরও বেশি আফগান দেশে ফিরে এসেছেন। কয়েক দশক ধরে সংঘাতের কারণে এসব দেশে আশ্রয় নেওয়া আফগানদের ফিরিয়ে দিতে সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বহিষ্কার অভিযান শুরু করেছে প্রতিবেশী দেশ দুটি।

আফগানিস্তানের জওজজান প্রদেশের রাজধানী শেবেরঘানে সাতজন স্বজনের ভরণপোষণের দায়িত্ব ৮৩ বছর বয়সী বারাতের কাঁধে রয়েছে। তার মতে, দেশে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ না খেয়ে থাকছে। দেশে ফিরে আসা মানুষদের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজের সুযোগ কমে গেছে। যারা নতুন করে ফিরেছে, তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা আগে থেকেই এখানে বসবাস করছে, তারা কোনো সহায়তা পাচ্ছে না।’

ইরান ও পাকিস্তান সীমান্ত থেকে জওজজান প্রদেশের দূরত্ব কয়েকশ কিলোমিটার হলেও অনেক আফগান সেখানে ফিরে এসেছেন। তাদের মধ্যে কেউ একসময় ওই এলাকায় বসবাস করতেন, আবার কারও পরিবারের সদস্যরা বহু বছর আগে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন।

৬০ বছর বয়সী আবদুল কাদের হোটাক দুই দশক পাকিস্তানে কাটিয়ে জওজজানে ফিরেছেন। কিন্তু সেখানে তার পরিবারের কোনো জমি বা নিজস্ব বাড়ি নেই।

আট মাস আগে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কৃত হয়ে দেশে ফেরার পর তার সন্তানদের জীবনও বদলে গেছে।

হোটাক বলেন, ‘পাকিস্তানে আমার সন্তানরা স্কুলে যেত, পড়াশোনা করত। এখন তাদের সবাইকে কিছু আয় করার জন্য আবর্জনা সংগ্রহ করতে হচ্ছে।’

পানি ও বাসস্থানের সংকট আরও তীব্র

প্রদেশটির আকচা এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের ফিরে আসার কারণে জনসংখ্যা ২৬ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। খরাপীড়িত এই জেলায় পানির সংকটও গুরুতর হয়ে উঠছে।

৫৪ বছর বয়সী রাজমিস্ত্রি ফকির মোহাম্মদ খুদাবখশ গত দুই দশক ধরে কাজের সন্ধানে ইরানে যাওয়া-আসা করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজ পান।

শেবেরঘানে অন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কাজের অপেক্ষায় থাকা খুদাবখশ বলেন, ‘যারা আফগানিস্তানে ফিরে এসেছে, তাদের প্রত্যেকেরই থাকার জন্য একটি জায়গা ও কাজ দরকার। কিন্তু তাদের কোনোটিই নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাবার ও পোশাক কেনার পেছনে অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে আমাদের বাড়িভাড়া দিতে হচ্ছে। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমরা অপুষ্টিতে ভুগছি।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে প্রতি তিনজনের প্রায় একজন, অর্থাৎ ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি সংকটজনক বা তার চেয়েও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাসস্থান নিয়েও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এএফপির সঙ্গে কথা বলা স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোনো কোনো এলাকায় বাড়িভাড়া বেড়েছে সর্বোচ্চ ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত।

‘আল্লাহ নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবেন’

জওজজান প্রদেশের তথ্য অধিদপ্তরের পরিচালক সাইফুদ্দিন মুত্তাসেমের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা দেশে ফিরে আসা মানুষদের নিয়ে সমাধানহীন কোনো সমস্যা নেই।

আফগানিস্তানে বেকার মানুষ নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি কাজ না করে, তাহলে বুঝতে হবে সে নিজের আরাম-আয়েশের প্রতি বেশি আসক্ত এবং তিনি কাজ করতে চায় না।’

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও অযৌক্তিক ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার দেশব্যাপী একটি কমিটি গঠন করেছে বলেও জানান তিনি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩০ বছর বয়সী এক সরকারি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, এমন কোনো কমিটির কথা তিনি কখনো শোনেননি। গত ১৮ মাসে তার বাড়িভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে শুধু আহমাদি নামে পরিচয় দেওয়া ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ার পর অর্থনৈতিক সমস্যা আরও বেড়েছে।’

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছিল, দেশে ফিরে আসা মানুষ ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী— উভয়ের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের উপপ্রধান জর্জেট গ্যানন বলেন, ‘সীমিত সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াতে পারে, আরও বেশি মানুষকে বাস্তুচ্যুত করতে পারে এবং অস্থিতিশীলতা উসকে দিতে পারে।’

খরা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে

জওজজান প্রদেশে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চারদিকে ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন পরিবেশ, মাটির তৈরি গম্বুজাকৃতির ঘরবাড়ি আর চরে বেড়ানো উট— এমন শুষ্ক পরিবেশের মধ্যেই চলছে মানুষের টিকে থাকার লড়াই।

প্রদেশটির তথ্য অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, সেখানকার অধিকাংশ পানি এখন পান করা কিংবা কৃষিকাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে একটি খাল নির্মাণ প্রকল্পের ওপর আশা রাখছেন তারা। তবে প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে আরও দুই বছর লাগতে পারে।

মুত্তাসেম বলেন, ‘আফগানিস্তানের মানুষ ক্ষুধা কিংবা তৃষ্ণায় মারা যাচ্ছে না— তবে তাদের আশ্রয়ের ভীষণ প্রয়োজন।’

তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রদেশটিতে ফিরে আসা মানুষের জন্য ঘরবাড়ি নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘বাকি বিষয়গুলোর ব্যবস্থা আল্লাহ নিশ্চয়ই করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%