১১:৫৯ এম
ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতিসংঘে একটি আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে মানবাধিকারকে স্থান দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সমতা, মানবিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখা হচ্ছে, তার ভিত্তিতে উন্নয়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করা উচিত।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে বাংলাদেশে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান। ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি যেন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হয়, সেই জন্য ন্যায়সংগত করব্যবস্থা, সাশ্রয়ী উন্নয়ন অর্থায়ন, ঋণের স্থায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, মানবাধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দায়ী বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া এবং বৈষম্য বিস্তার।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য আরও ন্যায়সংগত আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, ঋণ পুনর্গঠনে সমতা, জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা এবং নাগরিক সমাজের অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, সংঘাত, ঋণের অতিরিক্ত পরিশোধ ব্যয় এবং উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং উরুগুয়ের স্থায়ী মিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মরক্কোর রাষ্ট্রদূত ওমর হিলালে, উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসের, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত এমক্সোলিসি এনকোসি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত স্তাভরোস লামব্রিনিদিস অংশগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: সরকারের সমালোচনা করলেই গ্রেপ্তার মানবাধিকারের লঙ্ঘন: আখতার হোসেন
এছাড়া মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইগনাসিও সাইস, অধ্যাপক সাকিকো ফুকুদা-পার এবং জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আতিয়া ওয়ারিসও আলোচনা করেন।
সংলাপে ২০৩০ সালের পরবর্তী সময়ের বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থায় মানবাধিকারের নীতিগুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন