০৭:৪১ পি.এম
এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর কাছে একটি বৈধভাবে কেনা দামি আইফোনকে ‘চোরাই’ বলে অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) কর্তৃক সেটি নিয়ে যাওয়ার। শুধু মোবাইলটি নেওয়ার বিষয়টি নয়, বরং ওই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচ হিসেবে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ান, যিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র, অভিযোগ করেছেন যে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান টিটু, যিনি শ্রীপুর থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত, তার কাছে এসে ফোনটি চোরাই বলে জানান।
আয়ান জানান, তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের ‘এপেল হট’ নামের একটি দোকান থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবহৃত আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স কিনেছিলেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান তার বাসায় গিয়ে ফোনটি চোরাই বলে দাবি করেন এবং জানান যে, এটি চট্টগ্রাম থেকে এক নারীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে চুরি করা হয়েছে। এ সময় আয়ান তার ফোন কেনার ক্যাশ মেমো ও বক্স দেখান এবং এসআইয়ের সামনে ওই দোকানের বিক্রেতাকে কল করে কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আরও পড়ুন: বিএমইউতে ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিশেষজ্ঞদের
আয়ান বলেন, ‘সব প্রমাণ দেখানোর পরও এসআই আমাকে বলেন, ফোন যেহেতু আপনার কাছে পেয়েছি, সমস্যা আপনারই।’ তার মামা এসআইকে ওই দোকানে গিয়ে অভিযান চালানোর অনুরোধ করেন, কিন্তু এসআই উল্টো তাকে ফোনসহ ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন। এক পর্যায়ে লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের খরচের কথা বলে আয়ানের কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা নিয়ে যান।
আয়ান অভিযোগ করেন যে, এসআইয়ের মোবাইল নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ধারণ করা হলেও তা তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনায় নিজের আর্থিক ক্ষতি ও হয়রানির বিচার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, ‘গেল ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও একটি আইফোন চুরি হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা আমাকে মোবাইলটি উদ্ধারের দায়িত্ব দেয়। সেই নির্দেশনায় আমি মোবাইলটি উদ্ধার করেছি।’
তবে বৈধভাবে কেনা শিক্ষার্থীর আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। বরং তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে এবং নিজেকে সরকারি দলের এক শীর্ষ নেতার ভাগনে পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি প্রতিবেদককে চা পানের দাওয়াতও দেন।
আরও পড়ুন: শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি নেতা বুলু, দোয়া চাইলেন পরিবার
এদিকে ট্র্যাকিংয়ের নামে ১৭ হাজার টাকা নেয়ার বিষয়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন বলেন, ‘এসআই কেন ১৭ হাজার টাকা নেবে? মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের কথা বলে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, এটি সঠিক নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন