বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:১৮ পি.এম
ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলামের সুরক্ষা-সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার গোপন ফাইল ও নকশা এক ভয়াবহ সাইবার হামলার মাধ্যমে ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে।
এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তামিলনাড়ু রাজ্যে অবস্থিত এবং এর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স গ্রুপ তাদের সার্ভারে আংশিক তথ্য চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা এ বিষয়ে দেশটির সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে।
‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের একটি কুখ্যাত র্যানসমওয়্যার গ্রুপ এই সাইবার হামলার পেছনে রয়েছে বলে জানা গেছে। এই দলটি এর আগে টাটা গ্রুপ ও নাইকির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা ঘটিয়েছে।
একজন স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক দেয়া তথ্যে উল্লেখ করেছেন, ডার্ক ওয়েবে প্রায় ১৪.৩ গিগাবাইট আকারের প্রায় ১৯ হাজার স্পর্শকাতর ফাইল ও ব্লুপ্রিন্ট ফাঁস করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পারমাণবিক শক্তি সম্প্রসারণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্মাণাধীন ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটের ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের নকশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সঙ্গে ‘কমন কন্ট্রোল রুম’-এর ফ্লোর লেআউটও রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটির যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা, বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং কোনো সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্রে ১১২ মিলিয়ন ডলারের একটি বিমা পলিসির নথিও এতে রয়েছে।
তবে, ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া তথ্যগুলো সাধারণ পরিষেবা-সংক্রান্ত এবং মূল পারমাণবিক নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি।
আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক চুল্লির মূল ব্যবস্থার তথ্য সুরক্ষিত থাকলেও, এই নকশা ও ফাইলগুলোর মাধ্যমে অপরাধী চক্র বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্বলতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সহজেই চিহ্নিত করতে সক্ষম হতে পারে। এটি সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি মারাত্মক ঝুঁকি।
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে করপোরেট সেক্টরে সাইবার হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বহু প্রতিষ্ঠানই এই ধরনের হুমকি মোকাবিলার জন্য এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
এর আগে, ২০১৯ সালেও উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর দ্বারা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে এই কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সাইবার হামলার শিকার হতে হয়েছিল। বর্তমানে সরকারের প্রধান সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সার্ট-ইন এই মারাত্মক তথ্য ফাঁসের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এরপর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ।
আলোচনা সভায় শহীদ হোসাইনের মা, আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, "আমার ছেলের হত্যার বিচার এখনো হয়নি। আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার চাই।"
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, "শহীদ পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। আহতদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।"
অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি মাওলানা নিয়াজুল করীমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, পবিত্র জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘটনার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে তা সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কাজ করব। গণতন্ত্রের জন্য যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জুলাই শহিদ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মত্যাগ ও আহতদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। শহিদ ও আহত পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে এবং তাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ সময় জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিহত এবং আহতদের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, হত্যাকাণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দাখিল এবং আহত ও শহিদ পরিবারের পাশে থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখার দাবি জানান।
আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা, জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সাতক্ষীরায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম যৌথভাবে।
মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি আবু আফফান রোজ বাবু, নাগরিক নেতা সিদ্দিকুর রহমান এবং ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদসহ অন্যান্য বক্তারা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে, যেমন ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে সেখানে এসে তারা নিরাপদ বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং অন্যান্য মৌলিক সেবার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
মানববন্ধন থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে জন ও জন্তুদের নিরাপত্তার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, নগরের জন্য সবুজ জলবায়ু তহবিল গঠন, নিরাপদ ও টেকসই ভোগ ও উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের সব স্কুল ও কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছে।
মাউশি অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন শাখার এক আদেশে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
আদেশে স্ব-স্ব অঞ্চল ও দপ্তরের অধীনস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই তদারকি নিশ্চিত করতে মাউশির মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইংয়ের পরিচালক, দেশের সব অঞ্চলের পরিচালক ও উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা ও থানা মধ্যম শিক্ষা অফিসারদের মাঠপর্যায়ে এই মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ