ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকা ওয়াসার পদ্মা প্রকল্পে ১৫৬২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ


ঢাকা ওয়াসার পদ্মা প্রকল্পে ১৫৬২ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহারের ঘটনা, সরবরাহ লাইন নির্মাণের অভাব এবং নির্ধারিত পরিমাণ পানি সরবরাহ নিশ্চিত না করেই ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল ও জামানত পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের ফলে ওয়াসা ও সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য ও হিসাব থেকে জানা গেছে।

অনুসন্ধানের ফলাফল অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, প্রকল্প পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম এবং চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও পরামর্শক আজিজুল আকিল ডেভিডের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাঁদের যোগসাজশে কারিগরি আপত্তি উপেক্ষা করে নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার এবং ঠিকাদারকে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রকল্পে ক্ষতির হিসাব ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা

আরও পড়ুন: নেত্রকোণার ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন কলেজে দুই বছর ধরে কেউ পাশ করেনি

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে পদ্মা নদীর পানি মুন্সীগঞ্জের যশলদিয়ায় শোধন করে ঢাকায় সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রত্যাশিত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপ কেনার ক্ষেত্রে ৫০০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ওয়ারেন্টির আওতায় থাকা ত্রুটি ওয়াসার অর্থে সংশোধন করার পরও ঠিকাদার ৩৬০ কোটি টাকার জামানত তুলে নেন। এ ছাড়া প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সরবরাহ লাইন নির্মাণ করা সম্ভব হলেও তা করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ওয়াসার দেওয়া গড় উৎপাদনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে দৈনিক পানির ঘাটতি ২০ কোটি লিটার, যা নির্ধারিত পরিমাণের প্রায় ৪৪ শতাংশ। ২০১৯ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৭০৩ দিনে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ হাজার ৬০ কোটি লিটার।

এই পানির ৯০ শতাংশ আবাসিক এবং ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা যেত ধরে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য হিসাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই থেকে প্রতি হাজার লিটার পানির আবাসিক মূল্য ১৬ টাকা ৭০ পয়সা এবং বাণিজ্যিক মূল্য ৪৬ টাকা ২০ পয়সা ধরে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: ৩৫ বছরে সেন্টমার্টিনে চালু হয়নি সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র

পাইপ কেনায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উল্লেখ করা ৫০০ কোটি টাকা এর সঙ্গে যোগ করে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। তবে এই হিসাব সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সমষ্টি; এটি নিরীক্ষিত নিট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নয়।

আপত্তি জানানো প্রকৌশলীকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকল্পের পাইপের মান নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। ওই বছরের ৯ অক্টোবর প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এমএ রশীদ সিদ্দিকী কে-৯ ডাকটাইল পাইপ সরবরাহে আপত্তি জানিয়ে ঠিকাদারকে চিঠি দেন। ওই রাতেই তাকসিম এ খান ই-মেইলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ই-মেইলের অনুলিপি দেওয়া হয় উপপ্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও ডেভিডকে। পরে রশীদ সিদ্দিকীকে প্রকল্পের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাঁদের অভিযোগ, কম দাম ও কম পুরুত্বের পাইপ কেনার বিষয়টি আড়াল করতে রশীদ সিদ্দিকীকে সরিয়ে অনুগত প্রকৌশলীদের চীনে পাইপ পরিদর্শনে পাঠানো হয়। দেশে আনার পর পাইপের মান বুয়েটে পরীক্ষা করানোর বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকার সংযোগ সড়কে বালুর বদলে মাটি, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

রশীদ সিদ্দিকী জানান, নিম্নমানের পাইপ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুয়েটের মাধ্যমে পাইপ পরীক্ষার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাঁর মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফল ভোগ করতে হচ্ছে নগরবাসী ও ওয়াসাকে।

পাঁচ পাম্প চালাতেই ফেটে যায় পাইপ

প্রকল্পের পূর্ণ সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য পাঁচটি পাম্প একসঙ্গে চালানো হলে ইনটেক ও শোধনাগারের মধ্যবর্তী সঞ্চালন লাইনের দুটি স্থানে পাইপ ফেটে যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে সড়ক ভেদ করে পানি উঠে আসে এবং একটি ভবনের দেওয়ালও ভেঙে পড়ে বলে তাঁদের দাবি। পরে পাইপ মেরামত করা হলেও পাঁচটি পাম্প একসঙ্গে চালিয়ে আর সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়নি বলে জানা গেছে।

প্রকল্পের নির্মাণপদ্ধতি নিয়েও আপত্তি উঠেছিল। প্রকল্প পরিচালক আনরিফাইন্ড সয়েল সিমেন্ট কলাম নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তবে ডেনমার্কের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্রন্টমিজের টিম লিডার ও কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট বোদো গোপাট পদ্ধতিটিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয় জানিয়ে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

আরও পড়ুন: ২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংক

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকসিম এ খান উত্তেজিত হন। পরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিশেষজ্ঞকে ফিরিয়ে নেয়। এরপর তাকসিম, রফিকুল ও ডেভিড নিজেদের মতো করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুল ও ডেভিডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া এবং তদন্তের উদ্যোগ থামানোর ক্ষেত্রে রফিকুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাকসিম এ খান পলাতক থাকলেও রফিকুল পদে বহাল ছিলেন এবং সম্প্রতি অবসরে গেছেন।

সূত্রের দাবি, অর্থের বিনিময়ে পদে টিকে থাকা এবং দুদকের তদন্ত থামানোর ক্ষেত্রে রফিকুল ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতের মুর্শিদাবাদে থাকেন এবং দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ সেখানে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে এসিল্যান্ডের অভাবে ভূমি অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত, ভোগান্তিতে মানুষ

ডেভিডের বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ না করলেও নিজেকে প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ ও বুয়েট অ্যালামনাই হিসেবে পরিচয় দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একসময় ছোট ঠিকাদার হিসেবে কাজ করা ডেভিড তাকসিমের ঘনিষ্ঠ মহলের সহায়তায় বড় ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বর্তমানে গুলশানে একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে বসবাস এবং ১১৭ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ের ইউনিক হাইটসে চার হাজার বর্গফুটের নিজস্ব কার্যালয় থাকার তথ্যও দিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান সরকারের সময়েও বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ডেভিড। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই ব্যবসায়ী এখন বিএনপির ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও সূত্রের ভাষ্য।

তাকসিম, রফিকুল ও ডেভিডের মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম রয়েছে এবং সেখানে দুর্নীতির অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। শেখ রেহানার বিরুদ্ধেও লন্ডনে অর্থ পাচারের তথ্য দিয়েছেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে জেলা প্রশাসকের দপ্তর পরিদর্শন, মাদক নির্মূলে হুঁশিয়ারি

পরামর্শক নিয়োগে চাপ দেওয়ার অভিযোগ

জানা গেছে, রফিকুল ইসলামের স্ত্রী ও ডেভিড ন্যাশনাল ডিজাইন অ্যান্ড কনসালট্যান্ট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটিতে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা ও নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুরসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীরাও ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটি ওয়াসার সায়েদাবাদ প্রকল্প-২-এর ল্যান্ড ফিলিংসহ বিভিন্ন কাজ করেছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শক হিসেবে ডেভিডকে নিয়োগ দিতে রফিকুল চাপ দিয়েছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে ডেভিড বলেন, সরকার এ বিষয়ে তদন্ত করছে। তদন্তে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত হবেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া উচিত। এ বিষয়ে আর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চাননি তিনি।

দুর্নীতির তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন

নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ওয়াসার কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের অসাধু চক্র শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করেনি। বর্তমান সরকারেরও তেমন উদ্যোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, পদায়নের ক্ষেত্রেও দুর্নীতিবাজরা এগিয়ে থাকছেন। এটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা। দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি প্রকল্পের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত সুফল না মিললেও বিদেশি ঋণের কিস্তি সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।

ওয়াসা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলায় বোর্ড বারবার সরবরাহ লাইন নির্মাণের প্রকল্প নিতে বলেছিল। অর্থের সংস্থান থাকলেও তাকসিম এ খান এ বিষয়ে পরামর্শ নেননি। এতে প্রকল্পের নির্মাণমান নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। কারিগরি নিরীক্ষা প্রয়োজন হলেও তখন তা করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরবরাহ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হলে নির্ধারিত পরিমাণ পানি দিতে না পারার বিষয়টি প্রকাশ পেত। এ কারণে তাকসিম এ খান সরবরাহ লাইন নির্মাণে বাধা দিয়েছিলেন বলে তাঁদের অভিযোগ। এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। গণ-অভ্যুত্থানের পর পলাতক অবস্থায় তিনি ই-মেইলে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি তদন্ত করেছে এবং প্রতিবেদন দুদকে পাঠানো হয়েছে। দুদক বিস্তারিত তদন্ত করলে অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। এরপর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমান সরকার কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেবে না বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্য ক্ষমতাধরদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়: শি চিনপিং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্য ক্ষমতাধরদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়: শি চিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং মন্তব্য করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যকে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র হিসেবে পরিণত করা উচিত নয়। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে চীন প্রস্তুত।

সোমবার ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠকের সময় চিনপিং বলেন, বর্তমান বিশ্ব ‘এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন গভীর পরিবর্তনের’ মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতিতে সি চিন পিংয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে পরিণত হওয়া উচিত নয়। এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সুরক্ষা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ বন্ধে চীন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাসংকট সমাধানে ‘প্রজ্ঞা ও কার্যকর সমাধান’ দিতে বেইজিং অবদান রাখতে চায়।

রোববার দুই দিনের সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছান ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক। ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো ওমানি রাষ্ট্রপ্রধান চীন সফর করছেন।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপে সাইবার হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


রাশিয়া ও ইউক্রেনের জরুরি সতর্কতা অ্যাপে সাইবার হামলা

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা ওলেশকি শহরকে ঘিরে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই উভয় দেশের বিমান হামলার জরুরি সতর্কীকরণ অ্যাপগুলো সাইবার হামলার শিকার হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইউক্রেন তাদের বিমান হামলা সতর্কীকরণ অ্যাপ হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেয়ার কিছু ঘণ্টা পর রাশিয়া জানায়, তাদের জরুরি সতর্কবার্তা অ্যাপগুলো ব্যাপক সাইবার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

সোমবার ভোরে টেলিগ্রামে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, সাইবার হামলার কারণে অ্যাপটিতে ‘ভুল তথ্য’ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ড্রোন হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে সতর্ক করে থাকে। সাইবার হামলার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানায়, ব্যবহারকারীরা কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় পারমাণবিক ও রাসায়নিক হুমকির বিষয়ে ভুয়া সতর্কবার্তা পেয়েছেন; পাশাপাশি সেখানে সম্ভাব্য লড়াইয়ের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ওই ভুল বার্তাটিতে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া তাদের হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী টেলিগ্রামে জানিয়েছে, ‘মনে হচ্ছে বিমান হামলা সতর্কবার্তা অ্যাপটি শত্রুপক্ষের হামলার শিকার হয়েছে। কোনো রেডিয়েশন ঝুঁকি নেই! শান্ত থাকুন এবং আমাদের চ্যানেলে দেয়া আপডেটগুলো অনুসরণ করুন।’

ইউক্রেনের স্ট্রাটেজিক কমিউনিকেশনস সেন্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া একটি পোস্টে এই হ্যাকিংয়ের জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছে।

রুশ অধিকৃত খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে মস্কো ও কিয়েভের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই দুই দেশের বিমান হামলার জরুরি সতর্কীকরণ অ্যাপগুলো সাইবার হামলার শিকার হয়।

গত মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) শুরু হওয়া এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিটি রোববার শেষ হয়। দীর্ঘস্থায়িত্বের দিক থেকে এটিই ছিল চলতি সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরতি।

সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি, না ফেরার দেশে অভিনেতা অনুজ ঠাকুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি, না ফেরার দেশে অভিনেতা অনুজ ঠাকুর

ভারতের টেলিভিশন অভিনেতা অনুজ ঠাকুর মাত্র ৩৩ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তার পরিবার জানায়, ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ২৭ অক্টোবর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

অনুজ টেলিভিশনের বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন, যেমন ‘ধুম মাচাও ধুম’, ‘বন্ধন সাথ জনমোন কা’ এবং ‘মহিসাগর’।

তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন বন্ধু ও সহকর্মী রূপেশ সোনার। তিনি ৩০ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে একটি শোকবার্তায় বন্ধুর মৃত্যুর বিষয়টি জানান।

রূপেশ টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, মৃত্যুর ১০ দিন আগে তিনি অনুজের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে তিনি ভেঙে পড়েন। পরে অনুজের মা ও ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানতে পারেন, ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়ার পরই তার মৃত্যু হয়েছে।

রূপেশ আরও জানান, অনুজের প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৪টায় ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ছিল। তিনি নিয়মিত শরীরচর্চা ও জগিং করতেন। ঘটনার দিন নির্ধারিত সময়ে অ্যালার্ম বাজলেও অনুজ ঘুম থেকে ওঠেননি। পরে তার মা ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

২০০৮ সালে ‘বন্ধন সাথ জনমোন কা’ ধারাবাহিকে কাজ করতে গিয়ে রূপেশ ও অনুজের পরিচয় হয়। এরপর তাদের মধ্যে ১৭ বছরের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন ধারাবাহিকেও কাজ করেছেন।

তরুণ এই অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তার বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সূত্র: এবিপি আনন্দ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই বোনের চলার শক্তি নেই, বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


দুই বোনের চলার শক্তি নেই, বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা নেই

একটু বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। হুইলচেয়ারে বসে বাড়ির আঙিনা পেরিয়ে খোলা বাতাসে যাওয়ার সুযোগটুকুও মেলে না। কারণ, নিজেদের দাঁড়াতে পারেন না, আবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো চলাচলের উপযোগী রাস্তাও নেই। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রায় সব কাজেই অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটছে মানিকগঞ্জের একই পরিবারের চার ভাই-বোনের। তাদের মধ্যে দুই বোন সম্পূর্ণভাবে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। বৃদ্ধা মায়ের চোখে এখন একটাই প্রত্যাশা— সন্তানদের একটু স্বস্তির জীবন এবং বাড়িতে যাতায়াতের একটি রাস্তা।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দীঘি ইউনিয়নের ভাটবাউর গ্রামের এই পরিবারে আট ভাই-বোনের মধ্যে চারজনই খর্বাকৃতির। তাঁরা হলেন মোছা. হাবিয়া (৬৪), মোছা. মেহেরজান (৫৮), ইজ্জত আলী (৫২) ও সিরাজ আলী (৪৮)। তাঁদের মধ্যে হাবিয়া ও মেহেরজান নিজেরা দাঁড়াতে কিংবা চলাফেরা করতে পারেন না। খাওয়া-দাওয়া, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনেও পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা নিতে হয় তাদের।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার ভাই-বোন জন্মগতভাবে এমন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার ছিলেন না। সাত-আট বছর বয়সের দিকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁদের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। বৃদ্ধা মা জহুরা বেগম জানান, প্রথম সন্তান হাবিয়ার বয়স যখন সাত বছর, তখন তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বর সেরে যাওয়ার কয়েক দিন পর তাঁর হাঁটাচলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। পরে কবিরাজের মাধ্যমে চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। একইভাবে অন্য তিন সন্তানেরও সাত-আট বছর বয়সের দিকে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়।

সন্তানদের এমন অবস্থার কারণে দীর্ঘদিন সামাজিক অবহেলা ও কটূক্তি সহ্য করতে হয়েছে জহুরা বেগমকে। সংসার চালানোর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানদের দেখাশোনা করতে গিয়ে জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে তাঁর সংগ্রামে। কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, "বাড়ির বাইরে বের হইলে মানুষ কত ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছে! অনেক পরিশ্রম কইর‌্যা এই সংসার চালাইছি। এখনো কত কষ্ট করতে হয়, আল্লাহই জানেন।"

মেহেরজান বলেন, "আমাগো কষ্টের জীবনের খোঁজ কেউ নেয় না। প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজেদের পরিবারের বোঝা মনে হয়। হুইলচেয়ারে কইরা বাইরে নেবে, সেই রাস্তাটাও তো নাই। আমাগো কষ্টের শেষ নাই।"

পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের বাবা হযরত আলী একটি সংস্থায় চাকরি করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি মারা যান। আট সন্তানের মধ্যে শুধু ইজ্জত আলীর বিয়ে হয়েছে। তাঁর দুই ছেলে রয়েছে। অন্য তিন প্রতিবন্ধী ভাই-বোন অবিবাহিত। তাঁরা একই বাড়িতে বসবাস করেন। বর্তমানে বৃদ্ধা জহুরা বেগম প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাবিয়া ও মেহেরজানকে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় খাওয়ানিসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতেও তাঁদের অন্যের সাহায্য নিতে হয়। অন্যদিকে খর্বাকৃতির হলেও ইজ্জত আলী ও সিরাজ আলী কিছুটা চলাফেরা করতে পারেন। তাঁরা বাড়ির পাশে ভাটবাউর বাজারে সড়কের ধারে ছোট দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেন। তবে দোকান থেকে আয় খুবই সামান্য।

পরিবারের চার সদস্য প্রায় দুই বছর ধরে সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। নিজেদের জমির ফসল ও দোকানের সামান্য আয় দিয়ে কোনো রকমে চলে তাঁদের সংসার। ইজ্জত আলীর দুই ছেলে ইয়াসির আরাফাত (২২) ও আলিফ আহম্মেদ (২০) ভোকেশনাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। তাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ। বড় ছেলে আরাফাত সম্প্রতি আকিজ কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠানে বিড়ি-সিগারেট সরবরাহের কাজ নিয়েছেন। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটাতে ছেলেদের একটি ভালো চাকরির প্রত্যাশা করছেন ইজ্জত আলী।

ইয়াসির আরাফাত বলেন, "সরকার যদি একটা ভালো চাকরির ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম।"

তবে পরিবারটির সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকা। ভাটবাউর বাজারের পাকা সড়ক থেকে কয়েকটি বাড়ির ওপর দিয়ে তাঁদের বাড়িতে যেতে হয়। ফলে অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হাবিয়া ও মেহেরজানকে হাসপাতালে নিতে পরিবারের সদস্যদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বছর আগে রাস্তা নির্মাণের জন্য কিছু মাটি ফেলা হলেও অর্থের অভাবে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে রাস্তাটি নির্মাণ করা গেলে দুই বোনকে হুইলচেয়ারে করে বাড়ির বাইরে নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি উপকৃত হবে আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার।

স্থানীয় বাসিন্দা জবেত আলী বলেন, পরিবারটির চার সদস্য শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বাড়ি থেকে বের হওয়ার উপযোগী রাস্তা না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শুধু এই পরিবার নয়, আশপাশের আরও অন্তত ১০টি পরিবার চলাচলের রাস্তার অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছে। অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে তাঁদের যাতায়াত করতে হয়।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমী নাসরিন বলেন, পরিবারটির বিষয়ে সরেজমিনে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধী ওই পরিবারসহ আশপাশের অন্য পরিবারগুলোর চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দুই বোনের কাছে একটি রাস্তা শুধু যাতায়াতের পথ নয়, এটি ঘরের বাইরে যাওয়ার, প্রয়োজনের সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর এবং একটু স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় পরিবারটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%