ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয় নির্মানের ৩ বছরেই ভবন ভেঙে বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে


নাটোরের গুরুদাসপুরে ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয় নির্মানের ৩ বছরেই ভবন ভেঙে বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকারি নির্দেশনা ছাড়া একটি বিদ্যালয়ের একতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন এবং একটি আধাপাকা ভবন ভেঙে বিক্রির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের ধানুড়া বালিকা বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গুরুদাসপুর অফিসের সূত্রে জানা গেছে, জাপানের সাহায্য সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে ২২ লাখ টাকায় নির্মিত একতলা ভবনটি ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

কিন্তু মাত্র তিন বছর যেতে না যেতেই প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর ভবনটি ভেঙে রড ও ইট বিক্রি করে সমূদয় আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। নতুন ভবনের পাশাপাশি আরেকটি আধাপাকা ভবনও ভেঙে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি এবং উপজেলা প্রশাসনও অবগত নয়।

আরও পড়ুন: হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসা বৃদ্ধকে গুলি

নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, “শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (যেমন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) নির্দেশনার আলোকে গঠিত তদন্ত বা কারিগরি কমিটির মাধ্যমে প্রথমে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বা ব্যবহার অনুপযোগী/পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয়।

বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন: প্রকৌশলী বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্ট্রাকচারাল অ্যাসেসমেন্ট (Structural Assessment) বা পরীক্ষা সম্পন্ন করে ভবনটি ভাঙার পক্ষে মতামত নিতে হয়।

অনুমোদন ও নিলাম: হঠাৎ করে বা নিজস্ব সিদ্ধান্তে কোনো স্কুল ভবন ভাঙা বা বিক্রি করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ভবন ভাঙার আগে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশে নিলাম বা বিধিমালা মেনে অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এই ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কোনো প্রক্রিয়াই অনুসরণ করেননি।

রোববার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে জাপানের সাহায্য সংস্থা (জাইকা) একতলা ভবনটির অস্তিত্ব ছিল, সেখানে এখন কিছুই নেই। ভবনের বীমের খনন করা হয়েছে। পুরাতন আধাপাকা ভবনটিও নেই। এগুলো ভাঙচুরের পর ইট-রড কিংবা কোনো খোয়ার অস্তিত্ব নেই। সুনিপুণভাবে সকল আলামত নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। বোঝার উপায় নেই, সেখানে একটি পাকা ও একটি আধাপাকা ভবন ছিল। অন্য ভবনে পাঠদান চলছে যথারীতি।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় নিজ হাতে ড্রেন পরিষ্কার করলেন জেলা প্রশাসক

স্থানীয়রা জানায়, গেল প্রায় দুই মাস ধরে মিস্ত্রিরা নতুন ও পুরাতন ভবন দুটি ভেঙেছেন। প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতি সরকারি দলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ার কারণে কেউ প্রতিবাদও করেননি। উপরন্তু, ভবন দুটি ইট-রডসহ অন্যান্য উপকরণ প্রধান শিক্ষক বিক্রি করেছেন।

প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর ভবন ভেঙে বিক্রি করার অভিযোগটি স্বীকার করে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের সহায়তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ৪তলা ভিত বিশিষ্ট ১তলা একাডেমিক ভবনের অনুমোদন হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন তিনি।

নতুন এই ভবনটির অনুমোদন পেতে আগের একতলা বিশিষ্ট ভবনসহ পুরাতন ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। জায়গা সংকটের কারণে এটি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। সময় স্বল্পতার কারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে পারেননি। তবে মাইকিং করে একজন দরদাতার কাছে প্রায় ১ লাখ টাকায় নতুন ও পুরাতন ভবন দুটি বিক্রি হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির রেজুলেশনের কথা দাবি করা হলেও তা দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া বলেন, নারী শিক্ষা প্রসারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা পরিষদের সুপারিশে জাপানি সংস্থা (জাইকা) অর্থায়নে ২২ লাখ টাকায় ভবনটি তৈরি করা হয়েছিল। হঠাৎ করেই সম্প্রতি জানতে পারেন ওই ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। বিষয়টি ইউনওকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: নাসিরনগরের পূর্বভাগ পুরাতন বাজারে ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করেই প্রধান শিক্ষক নতুন একতলা ভবনটি ভেঙে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাঁর অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেননি। প্রধান শিক্ষককে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এডহক) বর্তমান সভাপতি রনি আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, “দেড়-দুই মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ভবন ভাঙা ও বিক্রির বিষয়টি জানা নেই তাঁর। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের বিষয়টিও অজ্ঞাত রয়েছে। এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার কারণে হিসাব চাইতেও পারছেন না। দায়দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকের বলে জানান তিনি।

সাবেক সভাপতি মোতালেব হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হবে- এই কারণে জমির মাপজোক বিষয়ে মিটিং হয়েছিল। তবে ভবন ভাঙা এবং নীতিমালা প্রণয়ন, কত টাকায় তা বিক্রি হয়েছে, সে টাকা কোথায় কিভাবে ব্যয় হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বলতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ৯ দিন পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


অনলাইন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ

সংসদ ভবন, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : অনলাইন ব্যবসা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য সরকার ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা একটি চলমান প্রক্রিয়া। ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, দেশে কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে অনলাইন ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। এসব এমএলএম কোম্পানিকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি এমএলএম কোম্পানির আর্থিক প্রতারণার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভোক্তারা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ করেছেন।

এসব অভিযোগের বিপরীতে আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সাল পর্যন্ত দেশে অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি ও নিবন্ধনের জন্য কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরবর্তীতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন দেওয়ার দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) দেওয়া হয়।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।

অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ দায়েরের পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

উদ্ধার করা অর্থের মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ইতোমধ্যে প্রকৃত ভোক্তাদের হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ভোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী বছর দেশজুড়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে : ববি হাজ্জাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


আগামী বছর দেশজুড়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে : ববি হাজ্জাজ

রংপুর, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই দেশব্যাপী স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।তিনি বলেন, চলমান পাইলটিং কর্মসূচির ফলাফলে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে বছরের শুরুতে না হলেও আগামী বছরের মধ্যেই এ কর্মসূচি চালু করা হবে।

আজ রোববার রংপুরে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি মডেল বিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এ কর্মসূচির পাইলটিং চলছে এবং এর ফলাফল ইতিবাচক। আগামীকাল দিনাজপুরে পাইলটিং কর্মসূচির ওপর একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে আরও কিছু চিত্র পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, পাইলটিংয়ের ফলাফল সন্তোষজনক থাকলে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই দেশব্যাপী কর্মসূচি চালু করা হবে। কোনো ত্রুটি বা সমস্যা চিহ্নিত হলে কিছুটা বিলম্ব হলেও একই শিক্ষাবর্ষে এটি চালু করা হবে।

দেশে শিক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী কমা-বাড়া বড় বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রত্যেক শিশু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং সঠিক শিক্ষা লাভ করছে কি না।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাতে মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রত্যেক শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়া এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে সঠিক শিক্ষা প্রদান-দুটি বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাজাগতিক রহস্যের খোঁজে মহাশূন্যে নাসার ৪০০ কোটি ডলারের টেলিস্কোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২৭ পি.এম


মহাজাগতিক রহস্যের খোঁজে মহাশূন্যে নাসার ৪০০ কোটি ডলারের টেলিস্কোপ

মহাবিশ্বের জন্ম কীভাবে হলো? ডার্ক ম্যাটার বা ডার্ক এনার্জির আসল রহস্যই বা কী? সৌরজগতের বাইরে কি আরও এমন কোনো গ্রহ আছে? এসব মহাজাগতিক রহস্যের জট খুলতে এবার মহাশূন্যে পাড়ি জমাল নাসার নতুন স্পেস টেলিস্কোপ ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান’।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ৪০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

রোমান টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথ ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আপাতত এর মিশন পাঁচ বছরের হলেও, এতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে। এটি মূলত জেমস ওয়েব এবং হাবল টেলিস্কোপের কাজগুলোকে আরও এগিয়ে নেবে।

নাসার বিজ্ঞান মিশন দপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল ও জেমস ওয়েব মহাবিশ্বকে অনেকটা দরজার ‘চাবির ছিদ্র’ দিয়ে দেখেছে। কিন্তু রোমান টেলিস্কোপ সরাসরি সেই দরজা ভেঙে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

হাবলের মতোই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে রোমানের। তবে এর কাজের গতি হাবলের চেয়ে অনেক বেশি। প্রজেক্ট বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারি জানান, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির জরিপ করতে হাবল টেলিস্কোপের প্রায় ১০০ বছর লাগত। অথচ রোমান মাত্র এক মাসেই সেই কাজ করতে পারবে। ওয়েব টেলিস্কোপ ক্যামেরার ‘জুম লেন্সের’ মতো কাজ করে। অন্যদিকে রোমান কাজ করবে ‘ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স’ হিসেবে। এটি একসঙ্গে মহাবিশ্বের বিশাল অংশের প্যানোরামিক ছবি তুলবে।

এই টেলিস্কোপ ২০০ কোটির বেশি গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অদৃশ্য ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের আকর্ষণ ও বিকর্ষণ ক্ষমতা পরিমাপ করবেন। পাশাপাশি হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্লানেট (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) আবিষ্কারেও এটি সাহায্য করবে। নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগেই এই টেলিস্কোপটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল নাসা।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইমচরে বিকল্প সড়ক ও বাজার দখলমুক্ত করার তাগিদ এমপি মানিকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


হাইমচরে বিকল্প সড়ক ও বাজার দখলমুক্ত করার তাগিদ এমপি মানিকের

চাঁদপুর, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার হাইমচরে বিকল্প সড়কের কাজ দ্রুত শুরু, বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জলাশয় পরিষ্কার এবং নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায়। 

একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিকল্প সড়ক প্রসঙ্গে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, হাইমচর-চাঁদপুরের বিকল্প সড়কের বিষয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই সড়কটির কাজ শুরু করা হবে। সড়কটি চালু হলে হাইমচরের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলার সরকারি-বেসরকারি সব পুকুর ও জলাশয় কচুরিপানামুক্ত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। জলাশয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নদীতে নিষিদ্ধ চায়না জাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার কথা বলেন সংসদ সদস্য। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, জনতা বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। জনসাধারণের চলাচলের সড়ক ও জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি হাইমচর বাজারে দ্রুত একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণের নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় কৃষকদের সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম, বাজার ব্যবস্থাপনা, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, সার ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সভায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, হাইমচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্যাহ বেপারী, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম সফিক, হাইমচর থানার ওসি শাহ আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%