১০:২৭ পি.এম
মহাবিশ্বের জন্ম কীভাবে হলো? ডার্ক ম্যাটার বা ডার্ক এনার্জির আসল রহস্যই বা কী? সৌরজগতের বাইরে কি আরও এমন কোনো গ্রহ আছে? এসব মহাজাগতিক রহস্যের জট খুলতে এবার মহাশূন্যে পাড়ি জমাল নাসার নতুন স্পেস টেলিস্কোপ ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান’।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে চড়ে এটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ৪০০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প জ্যোতির্বিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
রোমান টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৬ লাখ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথ ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২’-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আপাতত এর মিশন পাঁচ বছরের হলেও, এতে আরও পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে। এটি মূলত জেমস ওয়েব এবং হাবল টেলিস্কোপের কাজগুলোকে আরও এগিয়ে নেবে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
নাসার বিজ্ঞান মিশন দপ্তরের প্রধান নিকোলা ফক্স জানান, হাবল ও জেমস ওয়েব মহাবিশ্বকে অনেকটা দরজার ‘চাবির ছিদ্র’ দিয়ে দেখেছে। কিন্তু রোমান টেলিস্কোপ সরাসরি সেই দরজা ভেঙে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
হাবলের মতোই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে রোমানের। তবে এর কাজের গতি হাবলের চেয়ে অনেক বেশি। প্রজেক্ট বিজ্ঞানী জুলি ম্যাকএনারি জানান, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির জরিপ করতে হাবল টেলিস্কোপের প্রায় ১০০ বছর লাগত। অথচ রোমান মাত্র এক মাসেই সেই কাজ করতে পারবে। ওয়েব টেলিস্কোপ ক্যামেরার ‘জুম লেন্সের’ মতো কাজ করে। অন্যদিকে রোমান কাজ করবে ‘ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স’ হিসেবে। এটি একসঙ্গে মহাবিশ্বের বিশাল অংশের প্যানোরামিক ছবি তুলবে।
এই টেলিস্কোপ ২০০ কোটির বেশি গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় থ্রিডি ম্যাপ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা অদৃশ্য ডার্ক এনার্জি এবং ডার্ক ম্যাটারের আকর্ষণ ও বিকর্ষণ ক্ষমতা পরিমাপ করবেন। পাশাপাশি হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্লানেট (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) আবিষ্কারেও এটি সাহায্য করবে। নির্ধারিত সময়ের ৯ মাস আগেই এই টেলিস্কোপটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করল নাসা।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন