বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪০ এম
নির্বাচিত সরকারের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অর্থনীতিতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এলেও সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। জ্বালানি সংকটের কারণে আমদানির চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বিনিয়োগে কোনো ইতিবাচক খবর নেই। রাজস্ব আদায়ের গতি ধীর। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
এ কারণে অর্থ বিভাগ মনে করে যে সামষ্টিক অর্থনীতি এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। এই পরিস্থিতিতে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আহ্বান করেছে অর্থ বিভাগ। সভায় অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মনজুরুল হক সভাপতিত্ব করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়াও মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। সরকারের ২০২৮-২৯ অর্থবছর হতে এপ্রিল-মার্চ মেয়াদে অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে জুলাই-মার্চ মেয়াদি ৯ মাসের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের হিসাব করা হবে।
বিবিএসের তথ্যমতে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও আট শতাংশের ওপরে রয়েছে। গত অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশে আটকে আছে। চলতি বছরেও প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ নেমে এসেছে নিম্নতম স্তরে। এর ফলে প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্থিতি, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই বাস্তবতায় বৈঠকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। অর্থনীতির বর্তমান ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগামী দিনে কোন খাতে কী ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজন সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
বাড়ছে জ্বালানি আমদানির চাপ
গত কয়েক মাসে আমদানি ব্যয়ের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে জ্বালানি খাত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি বিল রেকর্ড ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের ৫.১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর ফলে বাড়তি ডলারের চাহিদা, রিজার্ভের ওপর চাপ, জ্বালানি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে আমদানি ব্যয় এখন সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে।
সবশেষ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। আগস্টে এটি ছিল ৮.২৬ শতাংশ।
প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা
অর্থনীতির আরেকটি বড় দুর্বলতা প্রবৃদ্ধি। বিবিএসের সর্বশেষ সাময়িক হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও প্রবৃদ্ধি এখনও আগের দশকের ছয় শতাংশের বেশি গড় প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারেনি। প্রতিবছর প্রবৃদ্ধির এই ধারা শ্লথ।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৬.৫০ শতাংশ। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতি ৭.৫০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ থেকে এক অর্থবছরে প্রায় আড়াই শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর বড় লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।
তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস সরকারের লক্ষ্যের তুলনায় অনেক বেশি সতর্ক। আইএমএফ চলতি সময়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে এবং আর্থিক, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংক খাতের চাপের কথা বলেছে। বিশ্বব্যাংকও অর্থনীতিতে ধীর প্রবৃদ্ধি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের চাপ ও দুর্বল বেসরকারি বিনিয়োগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিনিয়োগে স্থবিরতা
অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি হলো বেসরকারি বিনিয়োগ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৪.৪৭ শতাংশে। মে মাসে এই হার ছিল ৪.৯৮ শতাংশ। এর আগে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও এখন তা নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
কর্মসংস্থানে বাড়ছে চাপ
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানে। সবশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে মোট শ্রমশক্তির আকার সাত কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার এবং নারী দুই কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। প্রতিবছর গড়ে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। অর্থাৎ, প্রতিবছর প্রায় ১৩-১৪ লাখ নতুন মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগ ও উৎপাদন কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়লে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে। বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান এখন অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিরাপত্তাহীনতা, দুর্যোগের পূর্বাভাসের অভাব, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং অন্য দেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশের আশঙ্কা- এসব নানা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই খুলনা অঞ্চলের হাজারো জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। নৌযান বিকল হলে দ্রুত উদ্ধার না পাওয়া কিংবা প্রত্যাশিত মাছ না মিললে ঋণ পরিশোধের চাপ তাদের জীবনে আরও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে। সুতরাং, প্রতিটি সমুদ্রযাত্রা তাদের কাছে শুধুমাত্র জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং নিরাপদে ঘরে ফেরার জন্যও একটি সংগ্রাম।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২টার পর, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবরের শুরুতেই মাছ ধরার জন্য সমুদ্রে যাত্রা শুরু করবেন জেলেরা। খুলনার উপকূলীয় জেলেপল্লীগুলোতে এ জন্য চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
পাইকগাছার মাহমুদকাঠি, বোয়ালিয়া, হেতামপুর, কাটাখালীসহ বিভিন্ন জেলেপল্লীতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা। কেউ নৌকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করছেন, কেউ ইঞ্জিন পরীক্ষা করছেন। কোথাও নতুন জাল বোনা হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো জাল মেরামতের কাজ চলছে। পাশাপাশি জ্বালানি, বরফ, খাবার ও প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘর ছাড়ার আগে তারা সবকিছু গুছিয়ে নিচ্ছেন।
পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপের বহু পরিবারের জীবিকা সমুদ্রের মাছের ওপর নির্ভরশীল। যাত্রা ও মাছ ধরার ধরন অনুযায়ী কেউ ১৫ দিন, আবার কেউ কয়েক মাস পর্যন্ত সমুদ্রে অবস্থান করেন। এ সময় মাছ পাওয়ার প্রত্যাশার সঙ্গে প্রতিকূল আবহাওয়া ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
তীর ছাড়ার পর যোগাযোগ একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়ায়। গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা না থাকলে ঝড় কিংবা নিম্নচাপের খবরও সময়মতো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিপদের খবর দেরিতে পৌঁছালে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সময়ও কমে আসে।
যোগাযোগের এই সংকট শুধু জেলেদের নয়, তীরে থাকা তাদের স্বজনদেরও উদ্বেগ বাড়ায়। আবহাওয়া খারাপ হলে নৌকা কোথায় আছে, সবাই নিরাপদে আছেন কি না- এসব জানতে না পেরে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে হয় পরিবারের সদস্যদের।
সমুদ্রে নিজেদের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক জলসীমা শনাক্ত করাও নিরাপদ যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে অবস্থান নির্ণয়ে উপযুক্ত জিপিএস যন্ত্র কাজে আসতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সেগুলো ব্যবহারের দক্ষতার অভাব থাকলে পথ হারানো কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য দেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হলে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে। তীর কিংবা কাছাকাছি থাকা অন্য নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলে সহায়তা চাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। স্রোত ও বাতাসে নৌকা ভেসে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় উদ্ধার-অপেক্ষায় কাটাতে হয় জেলেদের।
এসব ঝুঁকির মধ্যেই বড় অঙ্কের খরচ নিয়ে সমুদ্রে যেতে হয় তাদের। জ্বালানি, বরফ, খাবার, জাল ও নৌযান মেরামতের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। অনেকেই এসব খরচ মেটাতে ঋণ কিংবা দাদনের ওপর নির্ভর করেন। ফলে জাল ফেলার আগেই তাঁদের কাঁধে চাপে ঋণের টাকা ফেরত দেয়ার দায়।
কিন্তু সমুদ্রে গেলেই প্রত্যাশিত মাছ মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জালে মাছ কম উঠলে কিংবা বৈরী আবহাওয়ায় আগেভাগে ফিরে আসতে হলে যাত্রার খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়ে। তখন আগের ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরবর্তী যাত্রার পুঁজি জোগাড়ের চিন্তাও করতে হয়। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের খাবার, চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচে।
পাইকগাছা উপজেলার মাহমুদকাঠি জেলেপল্লীর শঙ্কর মন্ডল বলেন, "গভীর সমুদ্রে গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক থাকে না। তখন বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না। ঝড়ের খবর সময়মতো না পেলে নিরাপদ জায়গায় ফিরে আসাও কঠিন হয়ে পড়ে।"
একই এলাকার আরেক জেলে কৌশিক গাঙ্গুলি বলেন, "সমুদ্রে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না। আশপাশে অন্য নৌকা না থাকলে সাহায্য চাওয়াও কঠিন। অবস্থান জানিয়ে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ভরসা নিয়ে মাছ ধরতে যেতে পারতাম।"
চুকনগর গ্রামের জেলে আব্দুল জলিল বলেন, "সমুদ্রে যাই পরিবারের মুখের দিকে তাকিয়ে। যাওয়ার সময় যেমন মাছ পাওয়ার আশা থাকে, তেমনি ফিরে আসতে পারব কি না, সেই ভয়ও থাকে। বিপদে যোগাযোগ ও উদ্ধারের নিশ্চয়তা পেলে আমাদের এবং পরিবারের দুশ্চিন্তা কমত।"
জেলেদের এই শ্রমকে ঘিরে উপকূলেও গড়ে উঠেছে বহু মানুষের জীবিকা। নৌযান মেরামত, জাল তৈরি, বরফ সরবরাহ, মাছ পরিবহন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় মাছ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সমুদ্রে একটি নৌযানের লোকসানের প্রভাব পড়ে একাধিক পরিবারের ওপর।
জেলেদের জীবনমান ও নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাওসেডের প্রধান নির্বাহী শামীম আরফীন বলেন, "সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রে যাওয়া এসব মানুষের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে।"
এ ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা, দুর্যোগের আগাম বার্তা পাওয়ার সুযোগ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা চাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অবস্থান শনাক্তের সরঞ্জাম ব্যবহার ও বিপদের সময় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ জেলেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে পারে।
জেলেদের এসব প্রয়োজনের কথা স্বীকার করছে মৎস্য বিভাগও। মৎস্য অধিদফতরের খুলনার উপপরিচালক বিপুল কুমার বসাক জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরামর্শ ও মতামত দেয়া হচ্ছে।
তবে এসব উদ্যোগ মাঠপর্যায়ের জেলেদের কাছে কত দ্রুত পৌঁছাবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। যোগাযোগ ও উদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা মাছ না পেয়ে লোকসানে ফেরা জেলেদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়াতে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার কারণে বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়েছে, যা যাত্রীদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে চিলাহাটীর উদ্দেশে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। মির্জাপুর স্টেশন পার হওয়ার পর আনুমানিক ৫ কিলোমিটার যাওয়ার পর মহেড়া স্টেশনের পূর্বে আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় বিকট শব্দ হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে টিটি রাসেল চালককে অবহিত করার পর ট্রেনটি মহেড়া স্টেশনের কাছে থামানো হয়। তবে এই দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মহেড়া রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রকিবুলহাসান জানিয়েছেন, ট্রেনের ঠ বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ কারণে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ট এবং ঠ বগি রেখে ট্রেনটি ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে দুর্ঘটনার কারণে টাঙ্গাইল এবং যমুনা সেতু পূর্বপার স্টেশনে দুটি ট্রেন আটকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সুপার সেল কার বাজারের’ আসর। টানা সাত সপ্তাহের সাফল্যের পর এটি অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রেতারা এখানে তাদের পছন্দের গাড়িটি কিনতে পারবেন, পাশাপাশি নিজের ব্যবহৃত গাড়িটিও সঠিক দামে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন।
এই গাড়ি কেনাবেচার আয়োজন গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং এটি প্রতি শুক্রবার নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রেতারা এখানে কোন ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই পছন্দের বাইক কিংবা গাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রয়োজন হলে, তারা তাদের ব্যবহৃত বাইক কিংবা চার চাকার গাড়িও বিক্রি করতে পারছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ উদ্বোধনী দিন থেকেই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেক ক্রেতার মতে, শহরের ব্যস্ততায় এমন আয়োজন সত্যিই স্বস্তিদায়ক। তাই ক্রেতাদের সুবিধার জন্য শুক্রবার সকাল ১০টায় পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী ‘সুপার সেল কার বাজার’ শুরু হবে। এখানে নতুন, পুরাতন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকেলের বিশাল সমাহার থাকবে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদা পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি। এই আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া, ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কিত সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। তিনি নিজেকে ‘গর্বিত দিমাগি নকশাল’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, গণতন্ত্র এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ তুলে ধরেন।
ভিডিওতে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, “আমি গর্বের সঙ্গে বলছি যে, আমি একজন ‘দিমাগি নকশাল’। আমাদের মতো মানুষদের সম্বোধন করার জন্য তারা যে আর কী কী নতুন শব্দ উদ্ভাবন করেছে, তা আমার জানা নেই।”
তিনি ‘দেশবিরোধী’ এবং ‘টুকরে-টুকরে গ্যাং’-এর মতো শব্দের উল্লেখ করে বলেন, যদি সত্যিই এমন কোনো গোষ্ঠী থাকে, যারা ভারতকে বিভক্ত করতে চায়, তা হলো বর্তমান সরকার।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি তিনি সমর্থন জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে বিলুপ্ত হওয়া নির্বাচিত ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বুধবার ১৭তম দিনে প্রবাহিত হয়। এ সময় ক্যাম্পাসে ভাঙচুর ও সহিংসতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।
ভিডিওতে নাসিরুদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন, জেএনইউ, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটের পর এবার জামিয়ার শিক্ষার্থীদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি তরুণদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা, শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল করা এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করার চেষ্টার সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিজেপির আইটি সেলের সদস্যদের অশিক্ষিত ও অযোগ্য বলে কটাক্ষ করেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, গণতন্ত্র টিকে থাকবে এবং সরকার তরুণদের মনোবল ভাঙতে সফল হবে না।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ