বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:০৬ পি.এম
কুড়িগ্রামে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে নাগরিক সমাজভিত্তিক দিনব্যাপী ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘তথ্য জানি অধিকার মানি’ এই প্রতিপাদ্যে
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে খলিলগঞ্জের অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, একশনএইড বাংলাদেশ এর যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত ‘সুশীল—সাপোর্টিং দ্য ইউনিটি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি অব সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনস (সিএসও’স) টু আপহোল্ড হিউম্যান রাইটস, ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড রুল অব ল ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
জেলা পর্যায়ে ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস) ও কুড়িগ্রাম সিএসও হাব।
অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক লাইলুন নাহার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নূর আলম, শহর সমাজসেবা অফিসার আবু সুফিয়ান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর আসিফ সাহারিয়ারসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী, যুব সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলার সভাপতি রওশন আরা। সঞ্চালনা করেন গ্রীন ভিলেজ ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান কুড়িগ্রাম সিএসও হাবের সাধারণ সম্পাদক এম রশিদ আলী (মাস্টার)। এতে উপস্থিত ছিলেন, ইউএসএস প্রজেক্টের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম, কুড়িগ্রাম সিএসও হাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।
জবাবদিহিতামুলক প্রতিশ্রুতি এবং আগামী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বক্তারা বলেন, সাধারণ মানুষের তথ্য অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সরকারি কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তথ্যের সহজলভ্যতা ও অধিকার সচেতনতা দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়নের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ বলেন, হিজড়া সম্প্রদায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নিজ এলাকায় বিশেষ প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
ক্যাম্পেইনে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয় এবং কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই আইন ব্যবহার করে নিজেদের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর (সিএসও) সাংগঠনিক সক্ষমতা ও টেকসই ভিত্তি তৈরির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার ও সুশাসন সুসংহত করতেই এ ধরনের ক্যাম্পেইন কাজ করে যাচ্ছে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সকলের সমন্বিত সহযোগিতায় জেলা পর্যায়ের এই প্রচারণামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক ক্রীড়াশিক্ষক বিশ্বনাথ দে ধারার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, প্রয়াত বিশ্বনাথ দে ধারা ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রীড়াঙ্গনের একটি উজ্জ্বল নাম ছিলেন।
তিনি বলেন, "তিনি একজন সজ্জন মানুষ হিসেবে ঠাকুরগাঁওয়ের সবার কাছে জনপ্রিয় ছিলেন।" রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন, "তার মৃত্যু ঠাকুরগাঁওয়ের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"
রাষ্ট্রপতি প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় দেব আবারও বাংলাদেশে আসছেন, যিনি ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করে সাড়া ফেলেছেন। তিনি ঢাকা আসবেন টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য।
সঞ্জয় নিজেই একটি বিশেষ ভিডিও বার্তায় জানান, তিনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টেকনোর স্পেশাল গেস্ট পারফর্মার হিসেবে মঞ্চ মাতাতে বাংলাদেশে আসছেন।
এ প্রসঙ্গে সঞ্জয় বলেন,
"ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করা আমার জন্য বিশেষ একটি মুহূর্ত ছিল। তবে নিজের দেশের মানুষের সামনে পারফর্ম করার অনুভূতিটা একেবারেই আলাদা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সবার সঙ্গে সেই আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ভাগ করে নিতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আমাকে বাংলাদেশে আসার সুযোগ করে দেয়ার জন্য আয়োজকদের অনেক ধন্যবাদ।"
এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে আয়োজকদের পৃষ্ঠপোষক টেকনো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইস্মার্টইউ টেকনোলজি বিডি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক মন্তব্য করেন, সঞ্জয় বাংলাদেশের সঙ্গে তার শিকড়ের সম্পর্ক অটুট রেখে বিশ্বমঞ্চে তার মিউজিককে তুলে ধরেছেন। টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন,
"ফুটবল ও মিউজিকের এমন এক শক্তি রয়েছে যা ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে মানুষকে একত্রিত করে। তাই আমরা চাই, উদ্বোধনী রাতটি দর্শকদের জন্য আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর স্মরণীয় মুহূর্তে ভরপুর হয়ে উঠুক যা তাদের মনে থেকে যাবে দীর্ঘদিন।"
উল্লেখ্য, টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ ২০২৬ আগামী ৫ থেকে ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল দল অংশগ্রহণ করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৫ নভেম্বর আবারও ঢাকার মাটিতে পা রাখবেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সঞ্জয় দেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে উত্তাল ঢেউ ও স্রোতে ভেসে গিয়ে শান্ত (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এই ঘটনায় দুটি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন ভেসে যেতে শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের সহযোগিতায় ১৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মৃত শিশু শান্ত ঢাকার খিলগাঁওয়ের গোরান এলাকার বাসিন্দা মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। সে ধানমন্ডির ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল।
উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন- আফলাম (১৮), ইয়ামিন (১৬), কাওসার (১৭), সাইফুল ইসলাম (১৫), হারিস (১৩), আব্দুল্লাহ (৩৫), রিয়াদুল (১৮), তাহসিম (১২), হাসনাইন (১২), আদিল হাসান (১৫), মুসা (১৮), শিব্বির (৩০), আব্দুল্লাহ (২২), জিহাদ (১৭) এবং নাইম। তারা সবাই ঢাকার তেজগাঁওয়ের দারুল আরকাম ও ধানমন্ডির ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী।
ঘটনার পর ইনানী সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সৈকতে বেড়াতে এলেও সেখানে দৃশ্যমান লাইফগার্ড ব্যবস্থা নেই। এছাড়া, পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের দারুল আরকাম ও ধানমন্ডির ফয়জুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন বৃহস্পতিবার সকালে ইনানী সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সাগরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতে তারা বিপদে পড়েন। তখন কয়েকজন স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে তারা চিৎকার শুরু করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচকর্মী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুটি ট্রলারের সহায়তায় ১৫ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে নিখোঁজ থাকে শিশু শান্ত। পরে দুপুর ১টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন জানান, একজন সাঁতার কাটতে কাটতে সাগরের মাঝামাঝি চলে গিয়েছিলেন। পরে তাকে স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায়। তখন একটি নৌকা নিয়ে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। ওই সময় আরেকজনকেও উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনেই তিনি স্রোতে ভেসে যান।
ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান বলেন, দুটি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ১৬ জন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাগরে গোসল করতে নামেন। কয়েকজন পানির স্রোতে ভেসে যেতে থাকলে তারা চিৎকার শুরু করেন। তখন দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। দুটি ট্রলারের সহায়তায় প্রায় সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইনানী সৈকতে লাইফগার্ড না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘এখানে কোনো লাইফগার্ড নেই। কেন নেই, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’
সৈকতে বেড়াতে এসে এমন দুর্ঘটনা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটকেরা। গাজীপুরের বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, ইনানী সমুদ্রসৈকতে কোনো লাইফগার্ড দেখা যায় না। কক্সবাজারের অন্যান্য এলাকায় লাইফগার্ড থাকলেও এখানে তা চোখে পড়ে না।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর কক্সবাজারের হিমছড়ির পেঁচার দ্বীপ সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচ পর্যটকের মৃত্যু হয়।
পরপর এমন দুর্ঘটনায় কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পর্যটকদের দাবি, সমুদ্রসৈকতে নিরাপত্তা জোরদার, লাইফগার্ড নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৮৬ জন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৪১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ১০৫ জন।
গতকাল বুধবার ডেঙ্গুতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং মঙ্গলবার একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু ঘটে। এছাড়া গেল ৬ ও ১৫ অক্টোবর ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জন করে মারা গিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ