কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
১১:১৬ পি.এম
নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, বর্ণিল র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে আলফাডাঙ্গা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসংলগ্ন চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মোল্যার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুর জামাল খসরু, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিব, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির ও আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত হোসেন।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নেয়ামত হোসেন পারভেজ ও শাহরিয়ার হাবিবের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইস্রাফিল মোল্যা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান কদর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম দাউদ, উপজেলা যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান আরবসহ অন্য নেতারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসির বলেন, যুবদলের রয়েছে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের আগামী দিনে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, সংগঠনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক ভেদাভেদ ও মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যুবদলকে আরও সুসংগঠিত করতে নেতাকর্মীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।
আলোচনা সভা শেষে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মর্তুজ আলীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধরন্তী চাকসার উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিলুফা বেগম (৪৬) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের চান্দিয়ারা গ্রামের মো. শহিদ মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী মর্তুজ আলী একই গ্রামের জবান আলী ও সাজেদা বেগমের ছেলে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে নিজ বসতঘরে নিলুফা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মর্তুজ আলীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মর্তুজ আলীকে আটক করে সরাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। নিহতের মরদেহও পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই মো. হুমায়ুন মিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ইতিহাস শতাব্দীরও বেশি পুরনো। এখানে বর্তমানে ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এটি যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
শনিবার সাউথ ফার্স্ট অনলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ঝালাই করে বন্ধ করে দিয়েছে।
লোহার পাত ও দেয়াল দিয়ে সেগুলো অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী এবং ক্যাম্পাসের বাইরে ১ হাজার থেকে ২ হাজার পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী ও আইটিবিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
তারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, যারা ভেতরে আছেন, তাদেরও বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।
আশপাশের রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি নষ্ট করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুরো এলাকা যেন একটি পুলিশ ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। শনিবার ছিল এ আন্দোলনের ১৯তম দিন। গত ১৭ অক্টোবর ভোরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ মিলে ওই এলাকার সব আলো নিভিয়ে ফেলে। তারা অনশনরত শিক্ষার্থীদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং মাটিতে ফেলে মারধর করে। নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। কিছু শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারও করা হয়।
‘আলোচনার’ অজুহাতে চাপ সৃষ্টি করে ভোরবেলা দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
অন্য শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে একটি কূটকৌশল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যদিও কয়েকজন অনশন থেকে সরে এসেছেন, তবে এবিন বাসিল, রেহান খানসহ আরও অনেকে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন করে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
লাইব্রেরি, হোস্টেল, এমনকি শৌচাগারগুলোও এখন তালাবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিন ও মেসগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে বাইরে থেকে খাবার বা পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে কিংবা অনশনরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নিলে তাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে আসা এ গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা—বিশেষ করে ছাত্রীরা—গভীর রাতেও তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কী?
বর্তমান অনশন ও আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে নির্বাচিত সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেয়, তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন কেবল বিভাগীয় বিষয়ভিত্তিক সমিতি (ডিপার্টমেন্টাল সাবজেক্ট অ্যাসোসিয়েশন) বা শ্রেণি প্রতিনিধিদের কাছে জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউতে যেখানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন নির্বাচন নিষিদ্ধ থাকবে?
তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করা, অবিলম্বে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ছাত্র সংসদের জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা এবং তার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা সব সাময়িক বহিষ্কারাদেশ, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করাও তাদের দাবি। পাশাপাশি তারা হোস্টেলে সুপেয় পানির সরবরাহ ও শৌচাগার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লাইব্রেরি, ফি, ভর্তি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান চান।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২০ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী মুসলিম নেতারা উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে ‘জামিয়া মিলিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং আধুনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, যে প্রতিষ্ঠানের রয়েছে এমন গৌরবময় ইতিহাস, সেই প্রতিষ্ঠানটিই আজ শিক্ষার্থীদের অধিকার দমন করছে; তাদের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে। যেন এটি একটি ‘আটক কেন্দ্র’ (ডিটেনশন সেন্টার)। তাদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন সরকার যৌথভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তিনি দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে এই নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের ছবি শেয়ার করে ওমর আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর জানান।
নবদম্পতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করে নিধি রাজদানকে ট্যাগ করেন ওমর আবদুল্লাহ। ছবির ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকে এক নতুন যাত্রা শুরু হলো।’
এটি উভয়ের জন্যই দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে, ১৯৯৪ সালে, ওমর আবদুল্লাহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মেয়ে পায়েল নাথকে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পৃথক থাকার পর, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে তাদের তিন দশকের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে দুটি ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে, নিধি রাজদান ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও গীতিকার নীলেশ মিশ্রকে বিয়ে করেছিলেন এবং পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে নতুন করে এক হওয়া এই হাইপ্রোফাইল দম্পতিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
সূত্র: দ্য উইক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন পাস করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। এই উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। যেকোনো পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বিবেচনায় নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা হবে, যা গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগ্রহ তৈরি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৬০০ সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের ফলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
সোলার প্যানেলের মান নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের বাজারে সৌরবিদ্যুৎ পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, উদ্ভূত সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নাগরিক জীবন স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ