ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৬:০০ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ এবং ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির অভিযোগে জোমাদ্দার মেডিকেল হলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ড্রাগ লাইসেন্স জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া বন্দরের সদর রোডে অবস্থিত জোমাদ্দার মেডিকেল হলে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হালদার।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোঃ হুমায়ুন কবির জমাদ্দার খুচরা ওষুধ বিক্রির (রিটেইলার) লাইসেন্স ব্যবহার করে পাইকারি ওষুধ বিক্রি করে আসছিলেন। অভিযানে দোকানটিতে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, নকল ওষুধ এবং বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির জন্য মজুত অবস্থায় পাওয়ায় ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০(খ) ও (গ) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি এর ড্রাগ লাইসেন্স জব্দ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক সুশীল কুমার ঢালী।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হালদার জানান, জনস্বার্থে ভেজাল, নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকার কর্তৃক ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি করে ২০৬০ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, "এলপিজির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে জনগণের খালি গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে রাজপথে নামাই বোধহয় বাকি!"
তিনি সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এই বক্তব্যটি তুলে ধরেন।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম বৃদ্ধির বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া, ৫ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪৪ টাকা, ১২ দশমিক ৫ কেজির ২ হাজার ১৪৬ টাকা, ১৫ কেজির ২ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৬ কেজির ২ হাজার ৭৪৭ টাকা, ১৮ কেজির ৩ হাজার ৯০ টাকা, ২০ কেজির ৩ হাজার ৪৩৪ টাকা, ২২ কেজির ৩ হাজার ৭৭৭ টাকা, ২৫ কেজির ৪ হাজার ২৯২ টাকা, ৩০ কেজির ৫ হাজার ১৫০ টাকা, ৩৩ কেজির ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা, ৩৫ কেজির ৬ হাজার ৯ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭ হাজার ৭২৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, নতুন এই আদেশ সোমবার রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাট সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন স্থানে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন উন্নয়নের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী এই সফর করবেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গন, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম, হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত এবং কাটাখালী মোড়ে পথসভা নিয়ে মানুষের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে সাজসজ্জা চলছে। দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফরের প্রতিটি কর্মসূচি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।"
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকালে হেলিকপ্টারযোগে মোংলা বন্দরে পৌঁছাবেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগদান করবেন। এছাড়া মংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে তিনি হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে খুলনায় যাওয়ার পথে ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত পথসভায় যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এই পথসভার আয়োজন করা হয়েছে বাগেরহাট জেলা বিএনপির উদ্যোগে।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানান, "দীর্ঘদিন পর আমাদের দলীয় প্রধান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাট সফরে আসছেন। এ কারণে আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।"
এদিকে, স্থানীয়রা প্রধানমন্ত্রীর সফরকে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের কৃষি খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, গ্রামীণ সড়ক ও মহাসড়কের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত রেললাইন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, বাগেরহাট একটি কৃষিনির্ভর জেলা। এ অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, কৃষিপণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ এবং রেল যোগাযোগের অভাব স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিশেষ করে মংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্প-বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন সময়ের দাবি।
তাঁদের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেক। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বন্দরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও উপজেলাগুলোর সড়ক-রেল ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়ন প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে বাগেরহাটবাসীর প্রত্যাশা তাই শুধু তাঁকে স্বাগত জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি। স্থানীয়দের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত উদয়ন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির কিছু ছাত্রীর ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করার, অশ্লীল বার্তা পাঠানোর এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। আন্দোলনকারীরা জানান, এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থীকে ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে।
অভিযোগ রয়েছে যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিম, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের ছেলে, বিদ্যালয় প্রশাসন তার প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানাতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে লিখিত বক্তব্য নেওয়া, ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন যে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমায়েতের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা, কিন্তু আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে তাদের বিক্ষোভ ঠেকাতে শ্রেণিকক্ষে আটকে রেখে দরজায় তালা দেওয়া হয়। পরে তালা ভেঙে বেরিয়ে এসে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় ‘হয়রানিমুক্ত স্কুল চাই’, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা চাই’ এবং ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের কি বাবা রিকশাওয়ালা?’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও হুমকি বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করা এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে তাদের সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করে আসছেন। সম্প্রতি কয়েকজন ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়ায় তারা আতঙ্কিত। তারা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন যে এর আগে দুই দফায় অভিযোগ জমা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাকে চার বছর ধরে মুনিম বিরক্ত করছে। একাধিকবার ব্যাড টাচ করেছে। বন্ধুদের কাছে আমার সংবেদনশীল অঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেছে। বহুবার শিক্ষকদের বলতে চেয়েছি, কিন্তু সাহস বা আশা পাইনি। আপত্তিকর ছবি তৈরি করে বাইরের স্কুলগুলোতেও শেয়ার করেছে। এ বিষয়ে আমাকে মেসেজ দিয়ে প্রতিদিন অনেকে বিব্রত করছে।’
আরেক ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, ‘মুনিম আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে কথা বলে, অশালীন মেসেজ দিয়ে বিব্রত করে। আমাদের অনেক বন্ধুকে ধর্ষণের হুমকিও দিয়েছে। পরপর এ ধরনের ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এগুলো চাইলেও স্যারদের বলা যায় না। আগেও স্যারদের এ ধরনের বিষয়ে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. জামিল হোসেন বলেন, অক্টোবরের প্রথম দিকে একদিন ক্লাস শেষে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তার মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিকৃত ছবি এবং সংশ্লিষ্ট বার্তা মুছে ফেলতে বলা হয়। তাকে সতর্ক করতে থাপ্পড়ও দেওয়া হয়।
জামিলের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সহকারী প্রক্টর বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরদিন ৮ অক্টোবর পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষকেরা ১০ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে লাঞ্চরুমে আটকে রাখেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা-৩টা পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়। এ সময় ভুক্তভোগী ছাত্রীরা অভিযোগ জমা দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। বরং তাঁদের অভিভাবকদের ডেকে মানসিক চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা জানান, ঘটনার পর প্রথমে ওই ১০ শিক্ষার্থীকে ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে বিরত রাখা হয়। পরে অভিভাবকদের প্রতিবাদের মুখে তাঁদের আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পূজার ছুটিসহ মোট ২৫ দিন তাঁরা স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আন্দোলন অব্যাহত রাখলে তাঁদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
এদিকে অভিযোগের পক্ষে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষিত একটি মুঠোফোন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেড়ে নিয়েছে বলেও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, তদন্তের নামে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও গুরুতর মারধরের অভিযোগসংবলিত একটি কাগজে জোর করে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এতে আপত্তি জানালে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এক ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের সদস্যদের বাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ভয়ভীতি দেখিয়েছেন এবং অন্য ভুক্তভোগীদের পরিবারকেও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও ড. এনামুল হক সজীবকে নিয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, কমিটির দুই সদস্যই বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে কাজ করেন এবং একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ভবনে বসবাস করেন। ফলে এ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে। এ কারণে ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের কোনো শিখন ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করে দেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি নিয়ে ওদের অনাস্থার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমি আজকেই ভিসি স্যারের কাছে যাব। এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’
তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘তদন্ত রিপোর্ট আসার পর কোনো আপত্তি থাকলে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবে। কোনো ধরনের অবিচার হতে দেব না। এখানে কারও হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।’
ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। কোনো কোনো পরিবারকে এ রকম চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। আশ্বস্ত করছি, কোনো হয়রানি করা হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা) প্রথম ভোটকেন্দ্র খুলেছে ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যে। নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া, কানেকটিকাট, ইন্ডিয়ানা, মেইন, নিউইয়র্ক ও কেন্টাকিতে সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ৩৫টি এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনে যদি ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অপরদিকে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন সংখ্যা ৫৩টি। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট এবং তাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ স্বতন্ত্র সিনেটরদের আসন সংখ্যা ৪৭টি। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য ডেমোক্র্যাটদের আরও চারটি আসন বাড়াতে হবে।
এবারের নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আগাম ভোট প্রদান করেছেন। তারা সরাসরি আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা) বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হতে শুরু করবে। এরপর প্রথম ফলাফল আসার আশা করা হচ্ছে। তবে সব আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ