ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দিল্লির জামিয়া যেন পুলিশ ক্যাম্পের মতো পরিস্থিতি


দিল্লির জামিয়া যেন পুলিশ ক্যাম্পের মতো পরিস্থিতি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ইতিহাস শতাব্দীরও বেশি পুরনো। এখানে বর্তমানে ২৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এটি যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

শনিবার সাউথ ফার্স্ট অনলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ঝালাই করে বন্ধ করে দিয়েছে।

লোহার পাত ও দেয়াল দিয়ে সেগুলো অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মেট্রো স্টেশনের নিকটবর্তী এবং ক্যাম্পাসের বাইরে ১ হাজার থেকে ২ হাজার পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী ও আইটিবিপি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাহুলের অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে জোর করে দোকানপাট বন্ধের অভিযোগ

তারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, যারা ভেতরে আছেন, তাদেরও বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না।

আশপাশের রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি নষ্ট করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং একাডেমিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পুরো এলাকা যেন একটি পুলিশ ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। শনিবার ছিল এ আন্দোলনের ১৯তম দিন। গত ১৭ অক্টোবর ভোরে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মী ও পুলিশ মিলে ওই এলাকার সব আলো নিভিয়ে ফেলে। তারা অনশনরত শিক্ষার্থীদের টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং মাটিতে ফেলে মারধর করে। নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়। কিছু শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারও করা হয়।

আরও পড়ুন: ইরান দুই বাহিনীকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেছে

‘আলোচনার’ অজুহাতে চাপ সৃষ্টি করে ভোরবেলা দুই শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

অন্য শিক্ষার্থীরা এই ঘটনাকে একটি কূটকৌশল হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও হয়রানি করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। যদিও কয়েকজন অনশন থেকে সরে এসেছেন, তবে এবিন বাসিল, রেহান খানসহ আরও অনেকে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন করে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

লাইব্রেরি, হোস্টেল, এমনকি শৌচাগারগুলোও এখন তালাবদ্ধ। শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্যান্টিন ও মেসগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের কাছে বাইরে থেকে খাবার বা পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করলে কিংবা অনশনরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নিলে তাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে নেমে আসা এ গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষার্থীরা—বিশেষ করে ছাত্রীরা—গভীর রাতেও তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কান নারীর দুঃসহ দ্বীপবাস কুক আইল্যান্ডসে

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কী?

বর্তমান অনশন ও আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ায় সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে নির্বাচিত সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেয়, তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা যেন কেবল বিভাগীয় বিষয়ভিত্তিক সমিতি (ডিপার্টমেন্টাল সাবজেক্ট অ্যাসোসিয়েশন) বা শ্রেণি প্রতিনিধিদের কাছে জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় বা জেএনইউতে যেখানে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন নির্বাচন নিষিদ্ধ থাকবে?

তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো—জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ পুনরায় চালু করা, অবিলম্বে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ছাত্র সংসদের জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা এবং তার ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা।

আরও পড়ুন: কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা, নাবিক ও পরিবেশের ক্ষতি হয়নি

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে জারি করা সব সাময়িক বহিষ্কারাদেশ, চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার করাও তাদের দাবি। পাশাপাশি তারা হোস্টেলে সুপেয় পানির সরবরাহ ও শৌচাগার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং লাইব্রেরি, ফি, ভর্তি প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান চান।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯২০ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয়তাবাদী মুসলিম নেতারা উত্তর প্রদেশের আলীগড়ে ‘জামিয়া মিলিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থার বিপরীতে স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং আধুনিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে তারা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, যে প্রতিষ্ঠানের রয়েছে এমন গৌরবময় ইতিহাস, সেই প্রতিষ্ঠানটিই আজ শিক্ষার্থীদের অধিকার দমন করছে; তাদের ওপর সহিংসতা চালাচ্ছে। যেন এটি একটি ‘আটক কেন্দ্র’ (ডিটেনশন সেন্টার)। তাদের ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন সরকার যৌথভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: ইস্তাম্বুলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বিয়ে, কনে নিধি রাজদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫০ পি.এম


কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বিয়ে, কনে নিধি রাজদান

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তিনি দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নিধি রাজদানের সঙ্গে এই নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের ছবি শেয়ার করে ওমর আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর জানান।

নবদম্পতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশ করে নিধি রাজদানকে ট্যাগ করেন ওমর আবদুল্লাহ। ছবির ক্যাপশনে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) থেকে এক নতুন যাত্রা শুরু হলো।’

এটি উভয়ের জন্যই দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে, ১৯৯৪ সালে, ওমর আবদুল্লাহ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মেয়ে পায়েল নাথকে বিয়ে করেছিলেন। দীর্ঘ সময় পৃথক থাকার পর, ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে তাদের তিন দশকের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। তাদের সংসারে দুটি ছেলে রয়েছে। অন্যদিকে, নিধি রাজদান ২০০৫ সালে সাংবাদিক ও গীতিকার নীলেশ মিশ্রকে বিয়ে করেছিলেন এবং পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন পেছনে ফেলে নতুন করে এক হওয়া এই হাইপ্রোফাইল দম্পতিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সূত্র: দ্য উইক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইন পাস করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিশেষ অগ্রাধিকার প্রদান করছে। এই উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের জ্বালানি ব্যয়ের চাপ কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে নাগরিকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। যেকোনো পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, চাহিদা বিবেচনায় নতুন টার্মিনাল স্থাপন করা হবে, যা গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি কমাতে সহায়ক হবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ভালুকায় ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগ্রহ তৈরি হবে। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৬০০ সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের ফলে দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

সোলার প্যানেলের মান নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের বাজারে সৌরবিদ্যুৎ পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকার সচেতন ও সক্রিয় রয়েছে। জনস্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, উদ্ভূত সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নাগরিক জীবন স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে সিংগাইর জয়মন্টপ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী মেলা, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে সিংগাইর জয়মন্টপ বিদ্যালয় মাঠে মাসব্যাপী মেলা, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন

আগামীকাল হাইকোর্টের শুনানির জোর প্রস্তুতি চলছে

সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করবে মানবাধিকার সংগঠন:

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনসংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানোর পরও কীভাবে ওই মাঠে মেলার অনুমোদন দেওয়া হলো, তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংগঠন। সংগঠনটির প্রশ্ন, সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত হওয়ার পরও কোন আইনি ক্ষমতাবলে জেলা প্রশাসন এ অনুমোদন দিয়েছে?

এ ঘটনায় আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১১ নম্বর বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে। একই দিন বিষয়টি সরকারের নজরে আনতে মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে অবহিত করার পরিকল্পনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে হস্ত ও কুটিরশিল্পজাত পণ্যের মাসব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মেলাটির উদ্বোধন করা হয়। মেলা আয়োজনে জেলা প্রশাসকের অনুমোদন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্যিক মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ ও আদালতের আদেশের বিষয়টি সামনে আসার পর জেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের ২৯ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র, ২০২২’-এর ৫(চ) ধারায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্টের একটি নিষেধাজ্ঞার অনুলিপিও সংগঠনটির কাছে রয়েছে। ওই সরকারি পরিপত্র ও আদালতের আদেশের অনুলিপি সংযুক্ত করে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন ও অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

এ অবস্থায় মানবাধিকার সংগঠনটির সরাসরি প্রশ্ন, সরকারি প্রজ্ঞাপন ও হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরও জেলা প্রশাসন কোন আইনি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের মাঠে মাসব্যাপী মেলার অনুমোদন দিয়েছে? আদালতের আদেশ এবং সরকারের জারি করা নির্দেশনার বিষয়টি অবগত হওয়ার পরও যদি সেই নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর প্রশাসনিক ও আইনগত দায়ভার কার? সরকারি বিধিনিষেধের বাইরে গিয়ে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জেলা প্রশাসনকে কে দিয়েছে?

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো লিখিত আবেদনগুলোতে শুধু মেলা আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়নি; বরং সরকারি পরিপত্র ও আদালতের আদেশের আলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করা হয়েছে। একই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে। এরপরও বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা চলমান থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মেলার কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, মাঠজুড়ে মেলার দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শারীরিক শিক্ষা বা পিটি এবং বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের জন্য মাঠ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পরীক্ষাসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, স্থানীয় সাধারণ মানুষও দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি বিভিন্ন সামাজিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে আসছেন। স্থানীয় তরুণ ও যুবকেরা সেখানে খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করেন। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরাও নিয়মিত হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের জন্য মাঠটি ব্যবহার করেন। মেলার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক চলাচল ও মাঠ ব্যবহারের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মেলা আয়োজনের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জেলা প্রশাসন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংগঠনটির মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ বাস্তবায়নের জায়গা নয়। এটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, খেলাধুলা ও শারীরিক বিকাশের জন্য সংরক্ষিত থাকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বলেন, তিনি মূলত এ মামলার প্রধান পরিচালনাকারী। এর আগেও মানবাধিকার সংগঠনটির জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন। তালাশ বিডিকে তিনি বলেন, “একটি বিষয় নিয়ে বারবার কেন মহামান্য হাইকোর্টে আসতে হবে? জেলা প্রশাসকেরা কি হাইকোর্টের আদেশ সম্পর্কে অবগত নন? আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে কোন ক্ষমতাবলে বিদ্যালয়ের মাঠে মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আগামীকাল আদালতে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। মেলার অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি কী এবং কোন ক্ষমতাবলে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা হবে।”

অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন আরও বলেন, আদালতের আদেশ ও সরকারি নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জানা থাকার পরও যদি কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর আইনগত ভিত্তি ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একটি বিষয়ে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত আইন ও আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা।

আগামীকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ১১ নম্বর বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতিনিধিরা সচিবালয়ে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি অবহিত করার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠের সুরক্ষা, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।

সংগঠনটির বক্তব্য, আদালতের আদেশ ও সরকারি প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। কোনো কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশনার ঊর্ধ্বে হতে পারে না। সরকারি বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতা আইন দ্বারা নির্ধারিত, আর সেই ক্ষমতার প্রয়োগও আইনের সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।

আইন ও আদালতের আদেশের প্রশ্নে কোনো প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বহীনতা কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসকসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মকর্তা প্রচলিত আইন ও আদালতের আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে বাধ্য। প্রশাসনিক ক্ষমতা কোনোভাবেই আদালতের আদেশ অমান্য করা কিংবা সরকারি বিধিবিধানের বাইরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা দেয় না। সরকারি প্রজ্ঞাপন ও আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকলে তার আইনগত ভিত্তি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দায়িত্ব পালনের জন্য, আইনের ঊর্ধ্বে অবস্থান করার জন্য নয়। আইনের শাসনে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

 

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর WhatsApp নম্বরে বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর কিংবা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেলার অনুমোদনের আইনগত ভিত্তি, সরকারি প্রজ্ঞাপন এবং হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে সিংগাইর উপজেলা প্রশাসন এবং জয়মন্টপ উচ্চবিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও এ ঘটনায় আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও আদালতের আদেশের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পরও বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা আয়োজন অব্যাহত থাকার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা, বিদ্যালয়ের মাঠের যথাযথ ব্যবহার এবং আদালতের আদেশ ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রশ্নে আগামীকালের হাইকোর্টের শুনানি এখন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি এবং জবাবদিহির বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫১ পি.এম


ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডে টাকা আদায়ের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করার আশ্বাসে অন্তত ৩০ জন নারীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা টাকা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এ ঘটনা ঘটেছে দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মধুমুড়া গ্রামে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকার ওই গ্রামের বাসিন্দা এবং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মেম্বার প্রার্থী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেন দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত মহিউদ্দিন সরকারকে ডেকে এনে তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নারীদের মধ্যে কয়েকজন জানান, মহিউদ্দিন সরকার ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি এবং জনপ্রতি ৩০০ টাকা নেন। কার্ড পাওয়ার পর আরো ২ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাদের জানানো হয়। এভাবে মধুমুড়া গ্রামের অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

মধুমুড়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সবুজ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি এবং ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। কার্ড হওয়ার পর আরও ২ হাজার টাকা দিতে হবে বললেও তিনি এখনো কোনো কার্ড পাননি।

প্রায় একই অভিযোগ করেছেন জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, শফিক মিয়ার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম, গিয়াস মিয়ার স্ত্রী শাহীনা বেগম এবং রফিক মিয়ার স্ত্রী সাবিনা আক্তার।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘মহিউদ্দিন সরকারের নাম প্রথমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রাথমিক তালিকায় থাকলেও পরে তাকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তিনি নিজেকে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে গ্রামের অসহায় নারীদের কাছ থেকে টাকা নেন।’

রুহুল আমিন আরও বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যও নারীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়েছিল। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কার্ড পাওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। এই কর্মসূচির নাম করে কেউ টাকা নিলে তা প্রতারণা এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহিউদ্দিন সরকার। তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে একটি মহল মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।

দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার দরিদ্র পরিবারের জন্য বিনামূল্যে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে। কিন্তু এই সুযোগে কেউ অসৎ উপায়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। মধুমুড়া গ্রামের কয়েকজন নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের ঘটনা জানার পর ওই এলাকা পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী নারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। পরে তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যিনি টাকা নিয়েছেন, তিনি প্রতারণা করেছেন। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%