বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৫১ এম
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় নতুন শিক্ষাক্রমের বইয়ে যুক্ত ও সংশোধন করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানাচ্ছে, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এসব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির একটি নথি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জন্য বাংলা সাহিত্য, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা—এই তিন ধরনের পাঠ্যবইয়ে অন্তত ১৪টি সংযোজন ও সংশোধন আনা হচ্ছে।
নতুন পাঠ্যবইয়ে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয়।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের পরিবর্তন মূলত বিদ্যমান বইয়ে কিছু বিষয় সংযোজন ও সংশোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে ২০২৮ সালের শিক্ষাক্রমে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন সংযোজন
২০২৭ সালের বইয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে থাকছে জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভল্ট’ বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাসংক্রান্ত বিষয়। তৃতীয় থেকে সপ্তম শ্রেণিতে বিষয়টি সংক্ষেপে এবং অষ্টম থেকে দশম শ্রেণিতে তুলনামূলক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতৃবৃন্দ’ অধ্যায়ে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবনী যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক লেখা অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির বইয়ে সাত বীরশ্রেষ্ঠকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত লেখা এবং অষ্টম শ্রেণিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ ব্রিগেড বাহিনী’ নিয়ে পাঠ যুক্ত হবে।
নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক পর্যায় সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবে। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তেলিয়াপাড়া বৈঠক বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।
গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস।
মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনাও নতুন করে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চতর শ্রেণির বইয়ে ধাপে ধাপে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘সিপাহি-জনতা বিপ্লব’ নিয়ে আলোচনা যুক্ত করা হবে।
অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিয়েও পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও এবার জাতীয় পাঠ্যক্রমে জায়গা পাচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির বইয়ে থাকবে ‘শহীদ আনাসের গল্প’। আর নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ সংক্রান্ত বিষয়।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সংসদে জানিয়েছিলেন, বয়স উপযোগীভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ, আন্দোলনে নিহতদের হত্যাকাণ্ড, তাদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং এ আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব পাঠ্যক্রমে তুলে ধরা হবে।
নবম-দশম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের গুম, হত্যাকাণ্ড, অর্থপাচার, নির্বাচনীব্যবস্থা, পিলখানা ট্র্যাজেডি, সাংবাদিক হত্যা এবং গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার পূর্বে বাংলাদেশ তীব্র গরমের প্রভাব অনুভব করছে। ক্রিকেটারদের জন্য এই গরম অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আবুধাবিতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকলেও, বাতাসের আর্দ্রতার কারণে অনুভূতি হচ্ছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো।
এমন তীব্র গরমের সাথে মানিয়ে নেওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিল সিমন্সের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার শিষ্যরা কিভাবে এই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, “সত্যি বলতে এটাই এখন একমাত্র সমস্যা। যারা জাপান থেকে এসেছে, তাদের এখানে কিছু করার সুযোগ হয়নি। এর মধ্যে এই ধরনের আবহাওয়া, দু’দিন ধরে প্রচুর গরম। এখানে মূল বিষয়টা হচ্ছে কিভাবে তারা মানিয়ে নেয়।”
তবে সময়ের সাথে সাথে মেহেদী হাসান মিরাজ এবং মমিনুল হকরা মানিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান সিমন্স। তিনি বলেন, “দিন শেষে এটা মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়। আজ তাদের দেখে মনে হয়েছে খুব ভালো অবস্থায় আছে। এই গরমের মধ্যে প্রথম দিন হিসেবেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ছিল। তাই আমি নিশ্চিত তারা খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবে।”
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি আগামীকাল শুরু হবে। আবুধাবির উইকেট সম্পর্কে সিমন্স মন্তব্য করেন, “আমি উইকেট দেখেছি, আমার কাছে ভালোই মনে হয়েছে। তবে আমার মনে হয় কিছুটা ধীরগতির হতে পারে। আমরা একটি ভালো উইকেটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা জানি আমাদের বেশ কয়েকজন ভালো মানের স্পিনারের বিপক্ষে খেলতে হবে। এ জন্য আমরা সবকিছুর জন্যই নিজেদের তৈরি করেছি। আমাদের প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেনমার্কের বিভিন্ন কোম্পানিতে রাশিয়া নাশকতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে, যা ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদান বন্ধ করার জন্য পূর্বের বড় পরিসরের কার্যক্রম ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া এই নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। বুধবার ডেনমার্কের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এ তথ্য প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে ওই কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। তিনি ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ মস্কোর ছায়াযুদ্ধের বড় ধরনের বিস্তারকে নির্দেশ করছে।
তিনি বলেন, ‘বসন্তকালে আমরা অনেক পরিকল্পনা দেখতে পেয়েছি। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন খুবই কম হয়েছে। গ্রীষ্মের শুরুতে আমরা লক্ষ্য করেছি, তারা অনেক বেশি তৎপরতা শুরু করেছে।’
রাশিয়া বুঝতে পেরেছে যে, তাদের পূর্বের বিস্তৃত লক্ষ্যভিত্তিক কার্যক্রম পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে বাধা দিতে পারেনি। গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, মস্কো এখনো এসব অভিযানের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তবে তাদের অভিযানের সাহস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, রাশিয়া এখন ‘এমন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার চেষ্টা করছে, যার সরাসরি প্রভাব যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পড়ে। এর অর্থ অস্ত্র উৎপাদন।’ নাশকতা বা ছায়াযুদ্ধের কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ রাশিয়া বারবার অস্বীকার করেছে। বুধবার কোপেনহেগেনে রুশ দূতাবাসও এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা দাবি করেছে, ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।
ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তালিকার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ইউরোপের বিভিন্ন ড্রোন ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এপ্রিলে রাশিয়া বলেছিল, এসব প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ডেনমার্কের জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, রাশিয়া ক্রমশ প্রশিক্ষণহীন লোকজনকে এসব কাজে নিয়োগ করছে। তাদের মধ্যে গৃহহীন মানুষ এবং মাদকাসক্তরাও রয়েছে। টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত খুব সহজ কাজের মাধ্যমে এসব লোককে কাজে নেওয়া হয়, যেমন কোনো স্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা বা ছবি তোলা। পরে ধীরে ধীরে তাদের প্রকৃত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এমন যে কেউ হতে পারে, যে দ্রুত কিছু টাকা আয় করতে চাইছে। প্রথম ব্যক্তি সফল না হলে, তারা আরেকজনকে কাজে লাগাবে। সফল না হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’
ডেনমার্কের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা গত মাসে জানায়, আগামী কয়েক মাসে পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর আগে আগস্টে জার্মানি লেইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ডেনমার্কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে, দেশটির ছয়টি বিমানবন্দরে ড্রোনের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল। এর মধ্যে কোপেনহেগেন বিমানবন্দরও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নর্ডিক অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ওই ঘটনাকে তার দেশের বিরুদ্ধে একটি ছায়াযুদ্ধের হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আজ দিল্লিতে বিরোধীরা আবারও এক বিশাল বিক্ষোভে অংশ নিতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) এই বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগদান করবেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭ অক্টোবর) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কিছু বিরোধী দলের নেতাকে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। আজকের বিক্ষোভের জন্য বিরোধী ইন্ডিয়া (ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স) জোট আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকের পর বিরোধী দলগুলো একত্রে বিক্ষোভে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। এ সময় সংসদ সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের ব্যবস্থা করা হয়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে বাসগুলো অগ্রসর হচ্ছিল। কিন্তু দিল্লির অশোক রোডে শাংরি-লা হোটেলের কাছে বাসগুলো থামিয়ে দেওয়া হয়। এই স্থান যন্তর মন্তর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
এরপর ভারতের রাজধানীতে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। যন্তর মন্তরে যেতে না পেরে বিরোধী নেতারা সেখানে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং সিইসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।
বুধবারের সমন্বিত কর্মসূচির মাধ্যমে যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বাধা পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আরও বড় বিক্ষোভের ঘোষণা করেছেন ইন্ডিয়া জোটের নেতারা।
বুধবারই বিরোধী দলগুলোর মধ্যে নতুন করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতারা জানিয়েছেন, এবারের আন্দোলনে আরও বেশি সংখ্যক সংসদ সদস্য অংশগ্রহণ করবেন।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের মূল অভিযোগ হলো, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কমিশন এমন একটি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে, যার ফলে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণের বিষয়ে বিরোধীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন তাদের উদ্বেগ যথাযথভাবে আমলে নিচ্ছে না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এই কারণেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার দিল্লিতে বিক্ষোভ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতা আটক হওয়ার পর বৃহস্পতিবার আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ইন্ডিয়া জোট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৫ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি আজ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনায় বিরতিহীনভাবে রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিশেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় ভাষণ দিতে গিয়ে মোদি ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে একটি সম্পূর্ণ ‘উন্নত ভারত’-এ রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছেন।
অনুষ্ঠানের সময় দেশবাসীকে ‘আমরাই করব’ মনোভাব ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ভারতের থমকে দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ বা কারণ নেই। এক শতক আগে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৪০ কোটিরও কম, আর আজ আমরা ১৪০ কোটি। এই ১৪০ কোটি নাগরিক মিলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলব—এটি নিশ্চিত। আমরা তা করেই ছাড়ব।’
২০৪৭ সালের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি অর্থনীতির একটিতে উন্নীত করার, বৈশ্বিক ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে স্বাবলম্বী হওয়ার, অলিম্পিক গেমসের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে অংশ নেওয়ার এবং মহাকাশ গবেষণায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর বিষয়গুলোকে তিনি তুলে ধরেন।
দেশের মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘আমার কাছে দেশের জনগণই ঈশ্বর, আর কঠোর পরিশ্রমী বিজেপি কর্মীরাই আমার মূল শক্তি।’
তিনি আরো বলেন, শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করেছেন এবং সমালোচকরা তাকে নিজের দিকে ফিরে তাকাতে শিখিয়েছেন।
নিজের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদি বলেন, ‘পঁচিশ বছর আগে, ৫০ বছর বয়সে আমার সময় কাটত বনাঞ্চলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সেবা করে এবং পাহাড়ের সান্নিধ্যে। পরবর্তীতে আমি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক কাজের পথ বেছে নিই। আমার রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে ছিল কেবল একজন সাংগঠনিক কর্মীর কাজ। আমি নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নিজে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিনি।’
নির্বাচনী রাজনীতিতে তারকা হওয়ার কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা তার ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী রাজনীতিতে আলো ছড়ানোর মানসিকতা থাকলে আমি অনেক আগেই মাঠে নামতাম। জীবনে কী হবো বা আমার ভবিষ্যৎ কী—তা নিয়ে থামার সময়ও আমার ছিল না। আমার জীবনের একমাত্র দর্শন হলো—শৈশব থেকে আমাকে যা শেখানো হয়েছে, তা হলো কোনো মিশন বা লক্ষ্যের জন্য বাঁচা, কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য নয়।’
নিজের সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যা একসময় অকল্পনীয় বলে মনে হতো, তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশে ২৫ কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে আনার বিষয়টি এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ২৫ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি এখন বলতে পারেন যে, ভারতের এই বৈপ্লবিক রূপান্তর সবার চোখের সামনেই ঘটছে।
বক্তব্যে ফ্লাইদুবাইয়ের সাহসী ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন মোদি। ককপিটে কো-পাইলটের ছুরিকাঘাত সত্ত্বেও ইসরায়েলগামী বিমানটিকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করায় স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে মোদি বলেন, ‘আজ পুরো বিশ্ব ভারতের এই পাইলটের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। একদিন এমন আসবে যখন পুরো বিশ্ব ভারতে তৈরি (মেড ইন ইন্ডিয়া) বিমান নিয়েও কথা বলবে।’
ভোটের রাজনীতি এবং সামাজিক বিভাজনকে ভারতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রী একটি নতুন স্লোগান দেন। তিনি বলেন, “যখন একজন কৃষকের ক্ষেতে পানির অভাব হয়, তখন সেই সমস্যা কি কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতির ওপর পড়ে? যখন বিদ্যুৎ থাকে না, তখন কি অন্ধকার কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসে? উত্তর হলো ‘না’। সুতরাং সমস্যা যদি সবার হয়, তবে তার সমাধানও হতে হবে সবার জন্য।”
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেওয়ার দিনে ২৫ বছরের এই দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন জনসেবার যাত্রার মাইলফলক ছোঁবেন বলে কখনো ভাবেননি বলেও জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ