০৭:২৫ পি.এম
নবনির্বাচিত মার্কিন সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান এবং ইসরায়েলের মতো দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, মার্কিন অর্থ ব্যবহার করে যেসব দেশ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, তাদের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এই বক্তব্যটি ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক অর্থ সাহায্য পাওয়ার বিষয়ে ভারতের সাম্প্রতিক আপত্তির পটভূমিতে এসেছে। প্রথম মার্কিন মুসলিম সিনেটর হিসেবে আবদুল এল-সায়েদের এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন। পেশায় চিকিৎসক ও মহামারী বিশেষজ্ঞ এল-সায়েদ জয়ের পর স্পষ্টভাবে জানান, মার্কিন করদাতাদের অর্থ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযুক্ত কোনো দেশকে সমর্থন করার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করব? এটি কেবল ইসরায়েলের বিষয় নয়। মিসর—যেখান থেকে আমার পরিবার অভিবাসিত হয়ে এসেছে—সে ক্ষেত্রেও আমি একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি। পাকিস্তান এবং জর্ডানের ক্ষেত্রেও আমার বক্তব্য একই। আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে আমাদের প্রথম সারিতে থাকা দরকার।’
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন আমরা এমন কোনো দেশকে অর্থ সরবরাহ করি যে দেশটি সেই অর্থ দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে, তখন সেখান থেকেই পদক্ষেপ শুরু করার উপযুক্ত স্থান বলে আমি মনে করি।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে এল-সায়েদের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে, যেখানে তিনি ইসরায়েলকে দেওয়া বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন।
এর আগে, নির্বাচনী জয়ের পর ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা কমানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান এল-সায়েদ। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের এই নীতির সাথে তিনি একমত। ‘আমি মনে করি এই নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট আসলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন,’ বলেন তিনি।
এছাড়াও, ইসরায়েলের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানান তিনি। এল-সায়েদ জানান, ওয়াশিংটনের সরবরাহ করা কিছু অস্ত্র এমন কিছু অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে, যাকে তিনি গণহত্যা এবং বর্ণবাদ বলে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন: সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে ভারতীয় ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে নারী ভক্তকে যৌন শোষণের অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন