ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে লটারিতে ৩০০ জন নির্বাচিত


মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে লটারিতে ৩০০ জন নির্বাচিত

মালয়েশিয়ার একটি খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন (মালয়েশিয়া) এসডিএন. বিএইচডি’-এ কর্মী নিয়োগের উদ্দেশ্যে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে। গত ৬ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনগুলো থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে এই লটারি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

আজ রবিবার বিকালে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) কর্মকর্তাগণ এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে লটারি কার্যক্রমটি অনুষ্ঠিত হয়।

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনলাইনে মোট ৪ হাজার ২৯ জন প্রার্থী আবেদন করেছেন। তাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ২০০ জন এবং টেকনিক্যাল স্কিল ওয়ার্কার্স পদে ১০০ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা শিগগিরই বোয়েসেলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুন: মার্কিন রাজ্য নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ৪ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজয়ী

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩০০ জন প্রার্থীর ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা পরবর্তীতে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল সাপ্লাই চেইন-এর প্রতিনিধিদের সরাসরি উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার পর চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ১১২ জন কর্মীকে শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক মন্তব্য করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে আগামী ৫ বছরে ১ কোটি জনশক্তি পাঠানোর যে লক্ষ্য রয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগ তা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর ঘোষিত 'জিরো কস্টে' কর্মী পাঠানোর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হক জানান, সরকারিভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে এই প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বোয়েসেল দেশবাসীকে বার্তা দিতে চায় যে, তারা সর্বদা স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই নিয়োগের কর্মীদের ফ্লাইট শুরু হবে। এছাড়া বোয়েসেল ইতিমধ্যে পর্যটন, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কেয়ারগিভিং সেক্টরে আরো ৫৫৮ জনের চাহিদাপত্র পেয়েছে। মেডিকেল ফি, বিমানভাড়াসহ সম্পূর্ণ খরচ নিয়োগকর্তা বহন করবে। এ সুবিধা নিয়ে একদম জিরো কস্টে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

আরও পড়ুন: সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনই চকরিয়ার বাসিন্দা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


পাকিস্তান ভেঙে ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা চলছে

পাকিস্তানের বর্তমান চারটি প্রদেশ ভেঙে মোট ১২টি নতুন প্রদেশ গঠনের একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, যা সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক কাজকে সহজ করার লক্ষ্যে করা হচ্ছে। তবে, এই পরিবর্তনের আগে জনগণের মতামত যাচাইয়ের জন্য একটি দেশব্যাপী গণভোট আয়োজনের কথা ভাবছে সরকার।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাব আগামী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ২৮তম সংবিধান সংশোধনী হিসেবে সংসদে উত্থাপিত হতে পারে। এর আগে ওই বছরের প্রথম প্রান্তিক থেকেই প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হতে পারে।

নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, দেশটির সবচেয়ে বড় প্রদেশ পাঞ্জাবকে ভেঙে ৪টি, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানকে ৩টি করে এবং সিন্ধ প্রদেশকে ২টি প্রদেশে রূপান্তর করা হতে পারে।

তবে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং নতুন প্রদেশগুলোর নির্দিষ্ট সীমানা বা কাঠামো কেমন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই উদ্যোগটি কোনো নির্দিষ্ট প্রদেশ বা রাজনৈতিক দলকে কোণঠাসা করার জন্য নেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। মূলত, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ সামলানো, সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভেদ রয়েছে। রাজনৈতিক দরকষাকষি বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে সরাসরি জনগণের রায় নিতেই তাই সংসদীয় আলোচনার আগে গণভোটের পথ বেছে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

অবশ্য গণভোটে জনসাধারণের সবুজ সংকেত মিললেও, নতুন প্রদেশগুলোর সীমানা নির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ভাগাভাগির মতো জটিল কাজগুলো সম্পন্ন করতে দেশের সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে ব্যাপক সমঝোতা ও দীর্ঘ সংসদীয় আলোচনার প্রয়োজন হবে।

সূত্র: জিও নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধ, ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধ, ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়াটিয়াদের প্রাণনাশের হুমকি এবং জমির মালিককে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রইছ মিয়া ও রতন মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা চেয়ে ভৈরব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অভিযোগকারী মুজিবুর রহমান।
(৭ নভেম্বর) শনিবার সন্ধায় ভৈরব থানায় এই অভিযোগ করা হয়।


জানাযায়, গেল ৬ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকায় বিরোধপূর্ণ জমিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জিডির আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিডি সূত্রে জানা যায়, মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একই এলাকার মো. রইছ (৬০) ও মো. রতন মিয়া (৩৭) নামের দুই জনের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন অভিযুক্তরা বিরোধপূর্ণ জমিতে গিয়ে সেখানে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের জমি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জিডিতে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, ভাড়াটিয়ারা জমি ছেড়ে না গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে সুযোগমতো যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানে কুপিয়ে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৩৫) ও আজিজুর রহমান (৫৮)সহ স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবেদনকারী। অভিযুক্তদের হুমকিতে তিনি ও তাঁর জমিতে বসবাসরত ভাড়াটিয়ারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জিডিতে দাবি করা হয়েছে।

এবিষয়ে মুজিবুরের ভাড়াটিয়া সজল বলেন, আমি আগেও ছিলাম এখনও মুজিবুর রহমান এর ভাড়াটিয়া আছি। কিন্তু ৬ নভেম্বর শুক্রবার রতন মিয়া বলে গেলো আমরা যেন ভাড়াটিয়া দোকান ছেড়ে চলে যেতে।

এদিকে, যেকোনো সময় হামলা ও প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার জন্য ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানিয়েছেন মুজিবুর রহমান।

এবিষয়ে অভিযুক্ত রতন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কাউকে যেতেও বলিনি হুমকিও দেয়নি। এগুলো মিথ্যা অভিযোগ। তারা এমনিতেই চলে যাবে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, এ বিষয়ে থানায় সাধারন ডায়েরি হয়েছে। তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী হলেন নতুন পররাষ্ট্র সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী হলেন নতুন পররাষ্ট্র সচিব

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। আজ রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে।

তিনি ২৯তম পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আসাদ আলম সিয়ামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি এই পদে আসীন হয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্রসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পানি সংকটে অস্তিত্ব হারাচ্ছে তিস্তা, জেগে উঠছে অসংখ্য বালুচর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


পানি সংকটে অস্তিত্ব হারাচ্ছে তিস্তা, জেগে উঠছে অসংখ্য বালুচর

এক সময়ের খরস্রোতা ও প্রমত্তা তিস্তা নদী বর্তমানে মরা তিস্তায় পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুম আসার আগেই পানির অভাবে নদীর বুকে জেগে উঠেছে অসংখ্য বালুচর। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও বিস্তীর্ণ বালুর চর দেখা যাচ্ছে। এই বালুচরে বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করা হচ্ছে। এক সময় যে নদীতে পাল্লা দিয়ে চলত শত শত নৌকা, সেই তিস্তার অনেক স্থানে এখন মানুষ হেঁটে পার হচ্ছে। পানির অভাবে নদীর জলধারা সংকুচিত হয়ে গেছে, ফলে তীব্র নাব্যসংকট দেখা দিয়েছে। নদীর এমন বিবর্ণ চিত্রে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা পরিবর্তিত হচ্ছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুম শুরু হতে না হতেই তিস্তার স্থানে অসংখ্য চর ও ডুবোচর জেগে উঠেছে। নদীর কিছু স্থানে পানির প্রবাহ এতটাই কমে গেছে যে সহজেই হেঁটে পার হওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মূল জলধারা সংকুচিত হয়ে সরু খালে পরিণত হয়েছে। শুধুমাত্র পানির অভাবের কারণে এক সময়ের খরস্রোতা তিস্তা তার চিরচেনা রূপ হারাতে বসেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রতি বছর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বালু ও পলি নদীতে জমা হয়। এর ফলে ক্রমাগত নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে নদীর নাব্যতা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এ বছর বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহ কম থাকায় গত বছরের তুলনায় নদীতে পানির পরিমাণ আরও কমেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তিস্তার বুকজুড়ে মাইলের পর মাইল বালুচর জেগে ওঠায় অনেক স্থানে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষায় যে নদীতে শত শত নৌকা নিয়ে মাঝি-মাল্লাদের ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন ঝিলিক মারছে রুপালি বালুচর। মাছ ধরা, খেয়া পারাপার ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত মানুষ তাঁদের কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। এক সময় নৌপথে জম জমাট ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পরিচিত তিস্তা এখন অনেকটাই জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে, নদীর পানির অভাবে তিস্তা অববাহিকার কৃষি ও জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে কৃষিজমির পরিমাণ বাড়লেও সেচের পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কৃষক শ্যালো, বৈদ্যুতিক মোটর কিংবা অন্য উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে ফসল ফলানোর চেষ্টা করছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং নতুন ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকেও তিস্তা নদী দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌপথে ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল বেশ জমজমাট। নদীতে চলাচল করত অসংখ্য পণ্যবাহী নৌকা। নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজারো মানুষ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নাব্য কমে যাওয়ায় সেই নৌপথের ব্যস্ততা হারিয়ে গেছে। কাজ হারিয়ে অনেক নৌ-শ্রমিক এখন বেকার জীবন কাটাচ্ছেন।

নদীতে পানি না থাকায় গঙ্গাচড়ার মহীপুর এলাকার মৎস্যজীবীদের অবস্থা করুণ হয়ে পড়েছে। মৎস্যজীবীদের অনেকেই অন্য পেশায় না যাওয়ায় তারা পূর্বের পেশায় থেকে পানির অভাবে নদীতে ধরতে যেতে পারছেন না। তাছাড়া পানি না থাকায় মাছও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ইতিমধ্যে অনেকেই পূর্বের পেশা ছেড়ে বিকল্প পেশা বেছে নিয়েছেন। স্থানীয় কয়েকজন মৎস্যজীবী জানান, নদীতে মাছ না থাকায় তাঁদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের ভিটেমাটিও নেই। জীবিকার তাগিদে কেউ পেশা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন।

ওদিকে, তিস্তার বুক চিরে জেগে ওঠা চর কিছু কিছু কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষকরা এসব চরে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ফলে একই নদীর পানি কমে যাওয়ার কারণে একদিকে যেমন কৃষকের একটি অংশ নতুন জমি পাচ্ছেন, অন্যদিকে নদীনির্ভর জেলে, মাঝি ও নৌ-শ্রমিকদের জীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের মতে, তিস্তার পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা, নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় একসময়ের প্রমত্তা তিস্তা ক্রমেই তার অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%