বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৪০ এম
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পিরোজপুরের কাউখালীতে বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন জাতের ফলজ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর এমপি।
চারা রোপণ শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সফল করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু সরকারিভাবেই নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সবাইকে অন্তত তিনটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি। কাউখালীকে একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব মডেল উপজেলায় রূপান্তর করতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাইসুল ইসলাম, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন।
এছাড়াও বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ,উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিঞা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকত তালুকদার এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারত জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তিনি এসব কথা বলেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে।
রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দেশে গ্যাস, হাম, ডেঙ্গুসহ সব ধরনের সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তার অঙ্গীকার মোতাবেক জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও তাঁকে ব্যর্থ করতে নানা চক্রান্ত হয়েছিল। এখনো তেমন চক্রান্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভোজ (ফিস্টে) নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান আহত হয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর (রাতে) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা দিবস হলে এ ঘটনা ঘটে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বনলতা ও অপরাজিতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ ফিস্টের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ফিস্টে খাবার পরিবেশনের পর শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নিম্নমানের খাবার দেওয়ায় পাঁচটি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় রূপ নেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান উপস্থিত শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং খাবারের মান নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন।
এতে তিনি আহত হন।
পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তিতুমীর, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বনলতা, অপরাজিতা হলসহ সব আবাসিক হলে ভবিষ্যতে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিউল আলম রানা বলেন, ‘এত নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে, যা মুখে নেওয়াই যায় না। খাবারের মধ্যে দেওয়া অধিকাংশ ডিমই ছিল পচা এবং ডালের মধ্যে মুরগির নাড়িভুঁড়ি পাওয়া গেছে।
আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার জবাব চাই এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানাই।’
স্বাধীনতা দিবস হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘খাবারের মান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, ‘হলের খাবারের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ আমার নজরে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি শক্তিশালী বরফভাঙা জাহাজ (পোলার আইসব্রেকার) তৈরি করতে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার শুরু হয়েছিল আগস্টের এক রাতে। তখন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব হেলসিঙ্কির বাইরে নিজের গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ফোন পান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে। ফোনে ট্রাম্পের আগ্রহের মূল বিষয় ছিল আর্কটিক অঞ্চলে চলাচলের জন্য বিশেষ ধরনের আইসব্রেকার জাহাজ।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরেই এসব জাহাজ ট্রাম্পের আগ্রহের বিষয় ছিল। আর্কটিক অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলতে থাকায় নতুন নৌপথ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে থাকা মূল্যবান খনিজ সম্পদ নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে বিভিন্ন দেশের।
ট্রাম্প মনে করেন, শক্তিশালী আইসব্রেকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতার প্রতীক হতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কম সংখ্যক আইসব্রেকার থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন অসন্তুষ্ট ছিলেন। চুক্তি ঘোষণার সময় ট্রাম্প ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্টাবের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি আইসব্রেকার রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সেরা আইসব্রেকার তৈরি ও সংগ্রহ করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের আগের হিসাব অনুযায়ী, তাদের প্রয়োজন ছিল চার থেকে পাঁচটি ভারী পোলার আইসব্রেকার। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ১১টি জাহাজ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রচলিত নিয়মও শিথিল করতে হয়েছে। সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নির্মাণ করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু প্রথম চারটি আইসব্রেকার ফিনল্যান্ডে তৈরি হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের জন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। সাধারণত জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কোস্ট গার্ডের কমান্ড্যান্ট অ্যাডমিরাল কেভিন ই. লানডে বলেন, ১১টি জাহাজের সংখ্যা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত থেকেই এসেছে। তিনি বলেন, এটি ছিল প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত সংখ্যা এবং তারই সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ১১টি জাহাজ তৈরি করলেই খরচ শেষ হবে না। এসব জাহাজের জন্য নতুন অবকাঠামো তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা এবং পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগেও বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। কোস্ট গার্ডের নথি অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প পরিচালনা করতে ভবিষ্যতে আরো হাজার হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, এই অতিরিক্ত খরচ বহনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্পষ্ট অর্থায়ন পরিকল্পনা এখনো দেখানো হয়নি। প্রকল্পের প্রাথমিক অর্থের একটি বড় অংশ আসবে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে। রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এর মাধ্যমে প্রশাসন এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ পায়।
হোয়াইট হাউস বলছে, আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য নতুন আইসব্রেকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তরের মুখপাত্র অ্যালি ম্যাকক্যান্ডলেস বলেন, আগের সরকারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ ও আর্কটিক সক্ষমতা দুর্বল হতে দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আবার যুক্তরাষ্ট্রকে বড় আর্কটিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ট্রাম্পও বিভিন্ন সময় এই প্রকল্পের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে কোস্ট গার্ড আইসব্রেকার চেয়ে আসছিল, কিন্তু কোনো প্রেসিডেন্ট তাদের সেই প্রয়োজন পূরণ করেননি।
ফিনল্যান্ডের আইসব্রেকারের প্রতি ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। ১৯৯২ সালে রাজনীতিতে আসার আগেই তিনি প্রথম এসব জাহাজ সম্পর্কে আগ্রহ দেখান। তখন নিউইয়র্কের ব্যবসায়ী হিসেবে ট্রাম্প হেলসিঙ্কি গিয়েছিলেন একটি জাহাজকে ভাসমান ক্যাসিনোতে রূপান্তরের সম্ভাবনা দেখতে। পরে খরচ বেশি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন। তবে ওই সফরে তিনি ফিনল্যান্ডের আইসব্রেকার দেখেন এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে দেশটির দক্ষতা সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন তাকে জানানো হয়েছিল, বিশ্বের বিপুল সংখ্যক আইসব্রেকার ফিনল্যান্ড তৈরি করেছে। পরে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও ট্রাম্প এসব জাহাজের সক্ষমতার প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। ২০২৫ সালের মার্চে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের একটি গলফ কোর্সে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। স্টাব তাকে একটি আইসব্রেকারের ছবি উপহার দেন। ফিনল্যান্ডের জন্যও এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি মনে করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ন্যাটোর সহযোগিতা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এটি ভূমিকা রাখবে। এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল সংখ্যক আইসব্রেকার তৈরি ও কেনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুরুতে কংগ্রেস এই প্রকল্পের জন্য ৩৫০ কোটি ডলার অনুমোদন করেছিল। কর্মকর্তারা দুটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছিলেন। একটি ছিল পাঁচটি জাহাজ তৈরির, অন্যটি ছিল ছয়টি জাহাজ তৈরির। শেষ পর্যন্ত প্রশাসন দুটি পরিকল্পনাই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে পাঁচটির পরিবর্তে জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ১১টিতে দাঁড়ায়। হোয়াইট হাউসের বাজেট পরিচালক রাসেল টি. ভট বলেন, নতুন অর্থ বরাদ্দের কারণে দুটি পরিকল্পনাই একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
আর্কটিক বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগই মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরো আইসব্রেকার দরকার। তবে ঠিক কতটি দরকার, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ট্রাম্প প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের আইসব্রেকারের সংখ্যা রাশিয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছে অনেক বেশি আইসব্রেকার রয়েছে। কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাশিয়ার কাছে ৫৬টি পোলার আইসব্রেকার রয়েছে। চীনের রয়েছে পাঁচটি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু সংখ্যার তুলনা করলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে ২০ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করেন এবং দেশটি ওই অঞ্চলের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঞ্চলের আর্কটিক এলাকায় জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। কোস্ট গার্ডের ২০২৩ সালের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চার থেকে পাঁচটি ভারী আইসব্রেকারই তাদের কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন চায়, তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই প্রথম কয়েকটি জাহাজ সরবরাহ করা হোক। দ্রুত কাজ শুরু করতে কোস্ট গার্ড প্রচলিত দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে ‘জনস্বার্থ’ ছাড়ের বিধান ব্যবহার করেছে। সমালোচকদের মতে, এত বড় প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া না থাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের দাবি, আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও প্রভাব বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সব মিলিয়ে ১১টি আইসব্রেকার তৈরির এই প্রকল্প কয়েক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ডের অন্যতম বড় ও ব্যয়বহুল উদ্যোগ হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ