০৮:৫৭ এম
চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার সময়, ডিবি পরিচয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর এবং থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, এ সময় তার গলা চেপে ধরা হয়েছিল।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে এই মারধরের ঘটনা ঘটে যখন নাঈম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফিরে আসছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন নাঈম। বিমানবন্দর থেকে বাসায় যাবার পথে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তার গলা চেপে ধরা হয়েছে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
গণমাধ্যমের সাথে নাঈম এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘রাত ১০টা ২০ মিনিটে আমাদের ফ্লাইট চট্টগ্রামে পৌঁছায়। তখন কোনো গাড়ি না পেয়ে আমি সিএনজিতে করে বাসায় ফিরছিলাম। টোল প্লাজার কাছে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামান। তিনি লালখান বাজার পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে আসেন। এরপর একজন পুলিশ পোশাকে এবং আরেকজন সিভিল ড্রেসে এসে আমাদের গাড়ি তল্লাশি করতে চান। আমি ভাবছিলাম তারা শুধু ব্যাগ চেক করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা লক করে দেন। আমি জানতে চাইছিলাম কী হয়েছে। তখন আমি ভয় পেয়ে যাই। তিনি আমাকে বলেন, ‘তুই আসামি, চুপ থাক, একটা কথাও বলবি না।’ এরপর তিনি আমার কলার চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে মারধর করেন। শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে।’
নাঈম বলেন, ‘আমার গলা চেপে ধরা হয়েছিল। তখন আমি চিৎকার করি এবং বাবাকে ফোন দিই। পরে আমার মোবাইলও নিয়ে নেয়া হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকে আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছিলেন, তবুও তারা আমার গলা চেপে ধরে রেখেছিলেন।’
তিনি দাবি করেছেন, উপস্থিত লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ সেই বিষয়টি আমলে নেয়নি। নাঈম আরও বলেন, ‘ওদের একজন পুলিশ পোশাকে ছিল, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা ছিল। তারা আমাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে আমি ওসিকে নিজের পরিচয় দিই। ওসি আমাকে বলেন, ‘চোখ নিচু করে কথা বলো।’ পরে যখন আমাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসতে শুরু করে, তখন তার আচরণ বদলে যায়।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
এসআই শফিকের বিরুদ্ধে সরাসরি মারধরের অভিযোগ তুলে নাঈম আরও বলেন, ‘তিনি আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছেন। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার আপনার নেই। তারপরও তিনি মারধর করেছেন।’
এ দিকে, এই ঘটনাটি ক্রীড়াঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন