ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানিবদ্ধতায় ডুবছে


কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানিবদ্ধতায় ডুবছে

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অপরিকল্পিত খাল ভরাট, দখল এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবের কারণে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় বছরের সাত-আট মাস প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। এর ফলে কৃষকরা বছরে দুই থেকে তিনবার ফসল উৎপাদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের মতে, জলাবদ্ধতা দূর হলে আমন ও আউশ মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার টন ধানসহ অন্যান্য শস্য উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা।

পদ্মা, গড়াই, কালীগঙ্গা ও ডাকুয়া নদীবেষ্টিত এই উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এলাকায় সেচের জন্য ছোট-বড় অসংখ্য জিকে খাল থাকলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো পরিকল্পিত নালা নেই। বিদ্যমান খালগুলোও নিয়মিত সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও খাল ভরাট করে বসতি গড়ে তোলা হয়েছে, আবার কোথাও আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে অবাধে চলছে মাছ চাষ। বিলসংলগ্ন খালগুলোতেও পুকুর কাটা হয়েছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি জমি বছরের পর বছর এক ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং খাদ্য উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার বহলবাড়ীয়া, চাঁদপুর, বাঁশআড়া, বাঁখই, করাতকান্দি ও জগন্নাথপুর বিল পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে। আবাদি জমিতে জন্মেছে কচুরিপানা, কলমি ও শাপলাসহ নানা ধরনের আগাছা। নিরুপায় হয়ে কেউ কেউ ডিঙি নৌকায় মাছ ধরছেন, আবার কেউ চলতি বোরো মৌসুমে আবাদের জন্য বাড়তি খরচ করে জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন। লাগাতার লোকসানের মুখে টিকতে না পেরে অনেক কৃষক আবাদি জমিতে পুকুর খনন করে মাছ চাষে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে কৃষকের চাষ পদ্ধতি

জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নন্দলালপুর ইউনিয়নের বহলবাড়ীয়া বিলের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, তার ১৬ বিঘা জমি রয়েছে। এক দশক আগে খাল দিয়ে গড়াই নদীতে স্বাভাবিকভাবে পানি নেমে যেত এবং বছরে তিনবার ধান চাষ করা যেত। কিন্তু বর্তমানে পানি বের হতে না পারায় কোনোমতে কেবল বোরো ধানের আবাদ হয়। একই এলাকার কৃষক মাজেদ আলী ও গোবিন্দপুর বিলের আব্দুস সামাদ জানান, চারদিকে নদী থাকলেও নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে ব্যাপকভাবে আগাছা জন্মাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমি পরিষ্কার করতে ছয়জন শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়। সদকী ইউনিয়নের করাতকান্দি বিলের কৃষক আজাহার বিশ্বাস জানান, একবার চাষে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৪ মণ ধান পাওয়া যায়, যার আয় আগাছা পরিষ্কারের খরচেই শেষ হয়ে যায়। স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, পরিকল্পিত খাল খনন করা হলে এসব জমিতে অনায়াসেই বছরে তিনবার ফসল ফলানো সম্ভব হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় আবাদি জমির মধ্যে নন্দলালপুর ইউনিয়নে ২৯০, সদকীতে ২৫০, জগন্নাথপুরে ২৪০, শিলাইদহে ২০৫, যদুবয়রাতে ৭৫, কয়াতে ১২০ এবং চাপড়া ইউনিয়নে ৭০ হেক্টরসহ মোট প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতা রয়েছে। প্রতিবছর বৃষ্টিপাতের কারণে এই জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৪ সালে যেখানে জলাবদ্ধ জমির পরিমাণ ছিল ৫১০ হেক্টর, এ বছর তা দ্বিগুণেরও বেশি ছাড়িয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানান, বর্তমানে জলাবদ্ধ এসব জমিতে শুধু বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ২২৫ টন ধান উৎপাদন হয়। আমন ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদ করা গেলে আরও ১০ হাজার টন শস্য উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, সরকারের চলমান খাল খনন প্রকল্পে কুমারখালীর দুটি খালের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। খনন প্রকল্প শুরু হলে এলাকার জলাবদ্ধতা অনেকটাই নিরসন হবে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি বিভাগ, কৃষক, বিএডিসি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে পেঁয়াজ-রসুন চাষে ব্যস্ত কৃষকরা, ভালো ফলনের প্রত্যাশা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই

বিশ্বখ্যাত গ্রাফিক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ক্যানভা প্রতিষ্ঠার ১৩ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করার উচ্চ ব্যয় এবং ব্যবসায়িক গতি শ্লথ হয়ে পড়ার কারণে বড় ধরনের পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ক্যানভার মোট কর্মীর ২২ শতাংশ, যা ১ হাজার ২৭১ জন কর্মীকে চাকরি হারাতে হবে বা তাদের কর্মস্থল পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। এই তথ্য বিবিসির প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

বুধবার, কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় ক্যানভার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেলানি পারকিন্স উল্লেখ করেন, “এটি ক্যানভার ১৩ বছরের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। আমাদের কিছু কর্মীর কাজের ধরণে পরিবর্তন আসবে এবং তাদের কেন্দ্রীয় হাবে স্থানান্তরিত হতে বলা হবে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, আমাদের অনেক সহকর্মীকে বিদায় জানাতে হচ্ছে।”

এই বছরেই গত এক দশকে প্রথমবারের মতো ক্যানভার প্রবৃদ্ধি ধীরগতির হয়ে পড়েছে। বিশ্বের ৩৭টি দেশে ক্যানভার কার্যক্রম ছড়িয়ে থাকলেও সিডনিকে প্রোডাক্ট টিমের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকে দূর থেকে বা হাইব্রিড মডেলে কাজ করা কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন অফিসে এসে কাজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নতুন পণ্য চালুর জন্য এআই সংক্রান্ত অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্যানভার দুই প্রধান বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—‘ব্ল্যাকবার্ড ভেঞ্চার্স’ ও ‘এয়ারট্রি’ কোম্পানিটির বাজার মূল্যায়ন কমিয়ে দিয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন যেখানে প্রায় ৬ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার ছিল, তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে।

মেলানি পারকিন্স ২০১৩ সালে ক্যানভা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যাতে সাধারণ ব্যবহারকারীরা কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই সহজে পোস্টার, কার্ড বা প্রেজেন্টেশন ডিজাইন করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

খুলনার পাইকগাছায় অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৬ শতাধিক দুঃস্থ ও অসহায় রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স এবং গাইনিসহ বিভিন্ন রোগের জন্য এই সেবা প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপজেলার গড়ইখালীর বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জি এম আব্দুর রবের ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পটির পরিচালনা ও সহায়তায় ছিল বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার পরিচালিত বিনোদিনী হাসপাতাল।

মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোঃ হারুনর রশীদ, সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম গোলাম আজম, স ম রেজাউল করিম, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুবদল নেতা ওবায়দুল্লাহ সরদার, নজরুল ইসলাম, বগুলার চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুপ কুমার মন্ডল, সাবেক শিক্ষক গাজী আব্দুস সাত্তার এবং শিক্ষক হাফিজুর রহমান।

এই দিনব্যাপী ক্যাম্পে এলাকার ৬ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, অধ্যাপক ডাঃ পরিতোষ কুমার চৌধুরী, ডাঃ রুবাইয়া ইয়াসমিন, ডাঃ ইতি রাণী ঘোষ, ডাঃ প্রমা সাহা এবং ডাঃ চুমকি মহান্ত।

উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র জনগণ হাতের কাছে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেয়ে আয়োজকদের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
বিচারক হওয়ার স্বপ্নে বাধা দারিদ্র্য

ভ্যান চালকের মেয়ে সুমনা এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


ভ্যান চালকের মেয়ে সুমনা এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার। প্রতিটি ভোর শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই দিয়ে। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও দারিদ্র্যকে জয় করে এইচএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী সুমনা খাতুন। তার এই সাফল্যে পরিবারে আনন্দের পাশাপাশি এখন দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। কারণ, উচ্চশিক্ষা অর্জন করে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে সে।

সুমনা উপজেলার দোগাছি গ্রামের দরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুর রাহিম বিশ্বাস ও গৃহিণী তাহমিনা খাতুনের দ্বিতীয় মেয়ে। সে ধানাইদহ খলিশাডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারে প্রতিদিনের খাবারের জোগান দেওয়াই যেন একেকটি যুদ্ধ। বাবা দিনভর ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। অন্যদিকে, মা হিসাব করে সংসারের খরচ সামলান। এমন অভাবের সংসারে তিন ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যয় বহন করাও পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে দারিদ্র্য সুমনার স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বড় বোন জান্নাতুল ফেরদৌস টুম্পা। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে টুম্পার উচ্চশিক্ষার পথও ছিল বেশ কঠিন। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কখনো হোটেলে থালাবাসন ধুয়েছেন, আবার কখনো বাজারে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করেছেন। বড় বোনের সেই সংগ্রামী জীবনই সুমনাকে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এ ছাড়া দুই বোনের স্বপ্নপূরণের পথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশী মাইনুল ইসলাম। অভিভাবকের মতো পাশে থেকে তিনি তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছেন।

সুমনার এই সাফল্যে শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী আনন্দিত। তবে আনন্দের পাশাপাশি পরিবারটির সামনে এখন বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চশিক্ষার ব্যয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, আবেদন ফি, ভর্তি ও আবাসন খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা। ভ্যান চালিয়ে বাবার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।

বিচারক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় সুমনা। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তার সেই স্বপ্ন যেন থেমে না যায়—এমনটাই প্রত্যাশা পরিবার ও এলাকাবাসীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে: আইআরজিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তাকারী দেশ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে: আইআরজিসি

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা প্রদানকারী যেকোনো দেশকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি বেলালি।

তিনি আল-আলমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনে সহযোগিতা ও সমন্বয়কারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেলালি আরও জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের হুমকির জবাব ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

বেলালি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখন অনেকাংশে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, দেশজুড়ে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো থেকে ইসরাইল-অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।

এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত হামলা কৌশলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকারিতা হারাচ্ছে। তার মতে, ইরানের অস্ত্রের আওতায় থাকা কোনো এলাকাকেই মার্কিন সেনাদের জন্য নিরাপদ বলা যায় না।

এই অবস্থায়, মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং উৎপাদিত অস্ত্র সংরক্ষণের জন্য আরও স্থাপনার প্রয়োজন হচ্ছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%