বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১০ পি.এম
হারিকেন ‘পোলো’ গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই তথ্য বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) একটি ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান মঙ্গলবার হারিকেন পোলোতে প্রবেশ করে। বিমানটি ঝড়ের ভেতরে ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ মাইল বা ২৮৫ কিলোমিটার বেগে বাতাসের গতি রেকর্ড করেছে। তবে ঝড়ের দমকা বাতাসের গতি ছিল এর চেয়েও বেশি।
এনওএএর মায়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার হারিকেন পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়টি দ্রুত শক্তিশালী হয়েছে। ধীরে ধীরে এগিয়ে চলা হারিকেন পোলো উষ্ণ সমুদ্রের পানি থেকে শক্তি পাচ্ছে। এল নিনোর কারণে সমুদ্রের পানি এখন বেশি উষ্ণ থাকায় ঝড়টি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে। পোলো এ মৌসুমে প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হওয়া তৃতীয় ক্যাটাগরি-৫ হারিকেন। ক্যাটাগরি-৫ হলো হারিকেনের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তর।
এনওএএ পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিম মেক্সিকোর উপকূলের কাছে যাবে। তবে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানবে না বলে জানানো হয়েছে। এনওএএ জানিয়েছে, পোলো ধীরে ধীরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৬ ইঞ্চি বা ১৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া আগামী কয়েক দিন উপকূলীয় এলাকায় বড় ঢেউ ও বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে এনওএএ।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম মঙ্গলবার বলেছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন ‘পোলো’ সরাসরি মেক্সিকোর উপকূলে আঘাত হানবে না। তবে তিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। শেইনবাম জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকান রাজ্যকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
‘হারিকেন হান্টার’ বিমানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন পোলো আরো শক্তিশালী হতে পারে। আগামী কয়েক দিন এটি ক্যাটাগরি-৫ ঝড় হিসেবেই থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনওএএ জানিয়েছে, সমুদ্রের অত্যন্ত উষ্ণ পানি ঝড়টিকে শক্তি জোগাচ্ছে। ফলে পোলো শক্তিশালী হওয়ার জন্য পরিবেশটি এখন খুবই অনুকূল।
সমুদ্রের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী বিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে। ১৯ সেপ্টেম্বর মধ্য-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর আগে ২০১৫ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় এই তাপমাত্রা ৩ দশমিক ০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
এল নিনোর কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিমাপ এখনো রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, পরিস্থিতি আরো পরিবর্তিত হতে পারে এবং এ বছরের শেষ দিকে এল নিনো সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছাতে পারে। সমুদ্রের পানি যত উষ্ণ হয়, ঝড় তত বেশি শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এর ফলে ঝড়ের বাতাসের গতিও বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই উষ্ণ সমুদ্রের পানিতে হারিকেন ‘পোলো’ আরো শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর দেখা দেয় এবং প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে সাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক বায়ু দুর্বল হয়ে যেতে পারে বা দিক পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে উষ্ণ সমুদ্রের পানি পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সমুদ্রের এই অতিরিক্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরনেও পরিবর্তন ঘটতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে এস আলম গ্রুপের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনকে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই জীবনবৃত্তান্তের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। পটিয়া উপজেলার অধিবাসী ৫ হাজার ১৪৮ জন রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকটির নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ৫ আগস্টের পর ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় নিয়মাবলী মানা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করার জন্য চলতি বছরের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সম্প্রতি প্রতিবেদনটি গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে কোনো সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, বরং নিয়োগ ও পরবর্তী ছাঁটাইয়ের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৩২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৪২ জনের নিয়োগে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।
চট্টগ্রামের বাসিন্দা ৮ হাজার ৯৯ জন, কক্সবাজারের ৩৯৮, কুমিল্লার ১১৪, ময়মনসিংহের ৯৯, বগুড়ার ৯৭ এবং ঢাকার ৯৬ জন রয়েছেন। রাজশাহী থেকে ৮৩, যশোর থেকে ৭৮, গাইবান্ধা থেকে ৭৫ ও রংপুর থেকে ৬৬ জন নিয়োগ পেয়েছেন।
জীবনবৃত্তান্ত জমার বাক্স
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমের পটিয়ার বাড়ি এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ কার্যালয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার জন্য বাক্স রাখা হতো। এসব বাক্সে পদ, এলাকা ও নারী-পুরুষের আলাদা পরিচিতি উল্লেখ থাকত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শক দল দৈবচয়নের ভিত্তিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ঢাকায় কর্মরত ১০ কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করে। তারা জানিয়েছেন, সাইফুল আলমের বাড়ি ও আসাদগঞ্জ অফিসের বাক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পর সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা ও নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি ১০ জনের মধ্যে দুজনের কোনো মৌখিক পরীক্ষাই হয়নি।
২৭ পদে নিয়োগ
পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়াই মোট ২৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পদে ২ হাজার ৭৮৯ জন এবং ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার পদে ২ হাজার ১৬০ জন নিয়োগ পেয়েছেন। মেসেঞ্জার কাম গার্ড পদে ১ হাজার ৫৪৪ জন, আরডিএস প্রকল্পে ৯১৫ জন এবং ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার পদে ৫০১ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের পদেও একই ধরনের অনিয়মের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক পেয়েছে। বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দুজন এমডি, আটজন ডিএমডি, দুজন এসইভিপি এবং একজন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপাল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ ইভিপির মধ্যে চারজনকেও বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, ডিএমডি হতে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ শর্ত পূরণ না করেই এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিনকে আট বছরের এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতায় ডিএমডি করা হয়েছে।
প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগেও প্রশ্ন
এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে প্রবেশনারি অফিসারের চারটি ব্যাচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচে ১৯০ জনকে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ১২ জন কোনো লিখিত পরীক্ষাতেই অংশ নেননি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৮৪০ জনের জীবনবৃত্তান্ত প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৭৬৩ জন। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ জন ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পান। পরে নম্বরের শর্ত শিথিল করে ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদেরও মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
এই ব্যাচের ১৮৪ জন যোগদান করেন। বর্তমানে চাকরিতে আছেন মাত্র ৩১ জন। ২১ জন পদত্যাগ করেছেন, ১৩১ জন চাকরি হারিয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন। তবে ২০১৭ সালের ১৪৪ জন এবং ২০২৪ সালের ২০০ প্রবেশনারি অফিসারের নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২০০ জনের মধ্যে চট্টগ্রামের ছিলেন মাত্র ৩৬ জন।
মূল্যায়ন পরীক্ষায় ৪৬৮৫ জন ছাঁটাই
২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ এসব কর্মীর যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৪০২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সবাই চাকরিতে বহাল আছেন। অন্যদিকে ৪ হাজার ৯৭১ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরে আরও ২৮৭ জনকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।
পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৪০ জন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া কক্সবাজারের ১৫৫, ঢাকার ১০ এবং অন্যান্য জেলার ৮০ জন রয়েছেন।
এর বাইরে বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নবায়ন না করে ১ হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় পাঁচ কর্মকর্তাকে।
বছরে সর্বোচ্চ নিয়োগ ২০১৯ সালে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকে ৩৬৭ জন নিয়োগ পান। ২০১৮ সালে এক হাজার ১১৮, ২০১৯ সালে দুই হাজার ৪৬৭, ২০২০ সালে দুই হাজার ১১০, ২০২১ সালে ৮৬৫ এবং ২০২২ সালে দুই হাজার ১১৯ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে ৩৯৭ এবং ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৩৯২ জন নিয়োগ পান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকের নিজস্ব মানবসম্পদ নীতিমালার অনুযায়ী নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পাওয়ার শর্তও রয়েছে। তবে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগের বড় একটি অংশে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকারের অধীনে ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে সরকার প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের জন্য ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সোলার প্যানেল বসানোর কাজ আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচির আওতায় পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, এলজিইডির বিভিন্ন দপ্তর, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য বিভাগের স্থাপনা এবং দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে।
সরকারের পরিকল্পনার অধীনে, প্রাথমিকভাবে এসব স্থাপনা থেকে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তবে বরাদ্দকৃত অর্থের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজস্ব রাজস্ব থেকে অর্থ ব্যয় করে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোট উৎপাদন ৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ বরাদ্দ থেকে অর্থ ছাড় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক চিঠির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচির বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য মোট ৩৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
উৎপাদিত বিদ্যুতের অতিরিক্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিক্রির পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ব্যবহারের জন্য প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রাখবে এবং অতিরিক্ত প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে। এই বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রির হিসাব করা হয়েছে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎকে উৎসাহিত করার জন্য সরকার সম্প্রতি বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজও চালু করেছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই ব্যবস্থায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা অতিরিক্ত বিদ্যুতের জন্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য দেওয়ার কথা রয়েছে। নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫-এর আওতায় এই সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিউইয়র্ক, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এটি ছিল উভয়ের মধ্যে প্রথম সাক্ষাৎ।
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈঠকের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন— শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার, চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এ বিষয়ে নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি তথ্য দিয়েছে।
বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার জন্য রদ্রিগেজের পরিকল্পনা রয়েছে।
জানুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আটক করার পর তিনিই প্রথম ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সফর করছেন।
মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিষয়টিও তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলাকে একসঙ্গে ধরলে এখন বিশ্বের ৬০ শতাংশেরও বেশি তেল আমাদের রয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকের ১৩টি পদে নিয়োগ কার্যক্রম হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত করা হয়েছে। এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগে করা রিটের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ প্রদান করে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এছাড়া, গত ২৫ আগস্ট প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং এর ভিত্তিতে নেওয়া পরবর্তী কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের দুটি এবং প্রভাষকের ১১টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়নে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার আদালতের আইনজীবী বিজয়া রানী টিকাদার হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবেদা গুলরুখ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও শিহাব উদ্দিন খান।
শুনানিতে আইনজীবী আবেদা গুলরুখ আদালতকে জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়নের জন্য ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নয়নে যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ন্যূনতম নির্দেশিকা’ প্রণয়ন করা হয়, যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে।
রিটকারীর আইনজীবীর দাবি, ইউজিসির ওই নির্দেশিকায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কোনো বিধান নেই। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক যোগ্য প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
শুনানি শেষে আদালত ২৫ আগস্ট প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও এর পরবর্তী কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল বিভাগে আবেদন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ