০৪:১৪ পি.এম
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার্স ইউনিয়ন (আইইউএমএস) এবং দ্য ফাউন্ডেশন অব ইসলামিক স্কলার্স-এর যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর ঐক্য : ঐক্যের সনদ’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনটি ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এর সমাপনী ঘোষণায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মতপার্থক্য নিরসন এবং নির্যাতিত জনগণের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানান ইসলামী চিন্তাবিদরা।
সম্মেলনে ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর সনদ : মৌলিক বিষয় ও পরিবর্তনশীল বিষয়’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামের অকাট্য মৌলিক বিধান এবং পরিবর্তনশীল ও গবেষণানির্ভর বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে শরিয়াহসম্মত গবেষণা, সংস্কার এবং আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলার চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার ‘ট্রেডারট্রেইটর’: এফবিআই
ঘোষণায় বলা হয়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শুধুমাত্র ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত প্রয়োজন। মতাদর্শিক ও মাজহাবভিত্তিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদ পরিহার করে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া মুসলিম বিশ্বের আলেম, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে ঐক্যবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সেন্টার ফর ইউনিটি’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও প্রবাসী মুসলিম জনগণের মধ্যে ঐক্য কমিটি গঠন, যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নিয়মিত সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সমাপনী ঘোষণায় ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং সুদানের জনগণের প্রতি বিশেষ সংহতি প্রকাশ করা হয়। গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড ও লঙ্ঘন বন্ধ, ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুরক্ষা, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং আল-আকসা মসজিদ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে দখলদারিত্ব অবসানের দাবি জানানো হয়।
ইয়েমেনের ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: চীনের শীর্ষ ধনী নারী হলেন লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝোউ চুনফেই
অন্যদিকে সুদানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। দেশটিতে চলমান সংঘাত বন্ধ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়া রোহিঙ্গা, পূর্ব তুর্কিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। কোনো অপরাধে জড়িত নন—এমন বিবেকবন্দিদের মুক্তি, অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।
সম্মেলনে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ইসলামবিদ্বেষ এবং বৈষম্য উসকে দেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। একটি গির্জায় সংঘটিত হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: এপস্টেইনকাণ্ডে আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প
সম্মেলনের আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু ঘোষণা বা সম্মেলন যথেষ্ট নয়; বরং এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।
সমাপনী ঘোষণায় সম্মেলন সফল করতে সহযোগিতার জন্য বিশ্ব মুসলিম উলামা ইউনিয়ন, ইসলামিক স্কলার্স ওয়াকফ, আয়োজক প্রতিষ্ঠান, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি এবং তুরস্কের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন