ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শ্রীলঙ্কান নারীর দুঃসহ দ্বীপবাস কুক আইল্যান্ডসে


শ্রীলঙ্কান নারীর দুঃসহ দ্বীপবাস কুক আইল্যান্ডসে

প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে একটি ছোট দ্বীপে আটকে পড়া কারো জন্য স্বপ্ন হতে পারে, আবার কারো জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা; কিন্তু ৫০ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান নারী রুচিরা রানাসিংঘার জন্য এটি হয়ে উঠেছে এক ভয়াবহ বন্দীজীবন। তিনি তিন বছর ধরে কুক আইল্যান্ডসে আটকে আছেন আইনী জটিলতার কারণে। সম্প্রতি বিবিসির একটি প্রতিবেদনে তার এই দুঃসহ জীবনযাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

২০১৮ সালে তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। প্রথমে হংকং হয়ে নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। সেখানে স্থায়ী হওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। তবে এক অভিবাসন উপদেষ্টার পরামর্শে তিনি সাময়িকভাবে কুক আইল্যান্ডসে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই আটকে আছেন। এখন তিনি যে কোনো মূল্যে দেশে ফিরতে চান; এমনকি ‘হাতে হাতকড়া, মুখ ও হাত-পা বাঁধা’ অবস্থায় হলেও। কিন্তু নিউজিল্যান্ড তাকে ট্রানজিট ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, অস্ট্রেলিয়াও একইভাবে তাকে ট্রানজিট ভিসা দিতে রাজি নয়।

কুক আইল্যান্ডস থেকে তার জন্য দুটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য ছিল, তাহিতি এবং হাওয়াই। কিন্তু সেখানেও যেকোনো ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া করার জন্য নিউজিল্যান্ডে গিয়ে সশরীরে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে কুক আইল্যান্ডস ছাড়ার কোনো বাস্তবসম্মত পথ তার সামনে নেই।

আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে তেলবাহী জাহাজে দুই দফা হামলা, নাবিকরা নিরাপদ

রুচিরা চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, ‘নভেম্বর মাসে আমার একমাত্র ছেলের বিয়ে হতে যাচ্ছে এবং আমি সত্যিই তার বিয়েতে উপস্থিত থাকতে চাই। আমার কী হয়েছে তা নিয়ে আমার মা এতটাই দুশ্চিন্তা করছেন যে তাকে প্রতিনিয়ত হাসপাতালে যাওয়া-আসা করতে হচ্ছে। তারা আমাকে যা করতে বলবে আমি তা-ই করব—আমি শুধু বাড়ি ফিরতে চাই।’

২০১৮ সালে ব্যবসায় লোকসানের কারণে তিনি নিজের ছোট টি-শার্ট কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হন। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তিনি বয়স্ক ও শিশুদের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য হংকং চলে যান। তার ভাই বিবিসিকে জানান, তিনি প্রচণ্ড আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছিলেন। তিনি আরো উল্লেখ করেন, তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর আগে মারা যান।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে রুচিরা নিউজিল্যান্ডে যান। সেখানে তিনি দুই মাসের ভিজিট ভিসায় তার এক কাজিনের সাথে থাকতেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে, একজন ইমিগ্রেশন দোভাষী তাকে শ্রীলঙ্কার ঋণদাতাদের কাছ থেকে হুমকির মুখোমুখি হওয়ার অজুহাতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে সাহায্য করেন। তাকে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ‘ওপেন ওয়ার্ক ভিসা’ দেওয়া হয়, যার ফলে তিনি এক বছরের জন্য যেকোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার সুযোগ পান। তিনি একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি পান এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাকে একটি এমপ্লয়মেন্ট ভিসা স্পন্সর করতে রাজি হয়, যা তাকে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন।

কিন্তু নিউজিল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালীন সাধারণত তারা অন্য কোনো ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন না বলে সেটি বাতিল করে দেওয়া হয়। তখন তিনি 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সেক্রেটারিয়াল সার্ভিসেস' নামের একটি ফার্মের সাথে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি তাকে বলেছিল যে বিদেশ থেকে এমপ্লয়মেন্ট ভিসার জন্য নতুন করে আবেদন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানকে ‘কঠোর আঘাত’ করতে হবে

ফার্মের ম্যানেজার সিলভিয়ান গ্যালান্ট বলেছিলেন যে রুচিরা দেশ ছাড়ার সাথে সাথেই তিনি এই প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তাই আবেদন করার সময়টুকুর জন্য তিনি কুক আইল্যান্ডসে একটি সংক্ষিপ্ত অবস্থানের জন্য টিকিট বুক করেন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত রুচিরার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তাকে নতুন করে এমপ্লয়মেন্ট ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। নিউজিল্যান্ড ছাড়ার কারণে তিনি তার বিদ্যমান ভিসার শর্তাবলী লঙ্ঘন করেন। নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে ভবিষ্যতে তাকে আর কোনো ভিসা দেওয়া হবে না।

গ্যালান্ট তার পক্ষ হয়ে বিভিন্ন তদবির করার দাবি করেন, যার মধ্যে নিউজিল্যান্ডের তৎকালীন ইমিগ্রেশন মন্ত্রী ক্রিস পেনকসহ অন্যান্য রাজনীতিকদের কাছে চিঠি লেখাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানাসিংঘা বলেন, গ্যালান্ট স্বীকার করেন যে পরিস্থিতিটি তার ভুলের কারণেই হয়েছে এবং তাকে বলেন যে তার আর কিছুই করার নেই।

রুচিরা যখন শ্রীলঙ্কার টিকিট নিয়ে এয়ার নিউজিল্যান্ডের বিমানে চড়ার জন্য বিমানবন্দরে হাজির হন, তখন তাকে বলা হয় যে নিউজিল্যান্ডের ট্রানজিট ভিসা ছাড়া তিনি বিমানে উঠতে পারবেন না। নিউজিল্যান্ডের ট্রানজিট ভিসার জন্য তার তিনটি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি যে নিউজিল্যান্ডে গিয়ে আবার সেটি ত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারছেন না। অস্ট্রেলিয়ার ট্রানজিট ভিসার জন্য করা চারটি আবেদনও একইভাবে বাতিল করা হয়।

একটি প্রত্যাখ্যানপত্রে নিউজিল্যান্ড তাকে বিকল্প রুট খুঁজে দেখার পরামর্শ দেয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হাওয়াই এবং ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার দ্বীপ তাহিতি—উভয় পক্ষই তাকে জানায় যে কোনো ভিসা প্রক্রিয়া করার আগে তাকে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে, যা কেবল নিউজিল্যান্ডে সশরীরে গিয়েই দেওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের উপকূলের কাছে পারস্য উপসাগরে ট্যাংকারে হামলা

নিউজিল্যান্ডে করা তার সর্বশেষ আবেদনটি—যেটিতে তিনি যেসব বিকল্প রুটের চেষ্টা করছিলেন তার সমস্ত বিবরণ, সেই সাথে তার ছেলের আসন্ন বিয়ে এবং মায়ের অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছিলেন—তাও প্রত্যাখ্যাত হয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে রুচিরা বলেন, ‘টিকিটের পেছনে আমি অনেক টাকা হারিয়েছি। প্রায় চার বছর ধরে আমি কেবল একটার পর একটা ভিসার আবেদনই করে যাচ্ছি, কিন্তু কোনো কিছুই কাজে আসছে না।’

অকল্যান্ড থেকে মাত্র চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত দিগন্ত বিস্তৃত বালুকাময় সমুদ্রসৈকত এবং রুক্ষ আগ্নেয়গিরির চূড়ার জন্য পরিচিত এই দ্বীপপুঞ্জে রুচিরা এখন একজন অনিচ্ছাকৃত অতিথি। তবে তিনি বলেন, তার মতো পরিস্থিতিতে থাকা অন্যদের তুলনায় তিনি কিছুটা ভাগ্যবান। কারণ হোটেল কর্তৃপক্ষ তাকে তাদের স্টাফ কোয়ার্টারে বিনামূল্যে থাকার অনুমতি দিয়েছে এবং স্থানীয় বন্ধুত্বপূর্ণ বাসিন্দারা তাকে খাবার ও পোশাক জুগিয়ে যাচ্ছেন।

হোটেলের একজন পরিচালক তাকে একটি সেলাই মেশিনও উপহার দিয়েছেন, যা দিয়ে তিনি সামান্য কিছু আয় করতে পারছেন। তিনি বিবিসি-কে বলেন, ‘আমার মা সবসময় আমাকে বলেন যে আমি নিশ্চয়ই ভালো কোনো কাজ করেছিলাম, যার কারণে আমি এমন একটি জায়গায় এসেছি যেখানে মানুষ আমার প্রতি এত দয়ালু।’ কিন্তু এই দয়াও তার খাঁচায় বন্দি থাকার অনুভূতিকে বিন্দুমাত্র কমাতে পারছে না।

অকল্যান্ড-ভিত্তিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ অ্যালিস্টার ম্যাকক্লিমন্ট বলেন, ’সত্যি বলতে, তার সমাধান কী তা আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, ওই নারী ভয়ানক ভুল পরামর্শ পেয়েছিলেন, যা নিশ্চিতভাবেই কোনো আসল অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে আসতে পারে না। তিনি তথাকথিত অভিবাসন পরামর্শদাতাদের একটি চক্রের দিকে ইঙ্গিত করেন, যারা কোনো ঝুঁকি না বুঝেই আবেদনের জন্য মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। রুচিরা জানান, তিনি 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড সেক্রেটারিয়াল সার্ভিসেস'-কে ফি বাবদ হাজার হাজার নিউজিল্যান্ড ডলার দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে মুরাসু, পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস

ম্যাকক্লিমন্ট ইঙ্গিত করেন যে নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রানজিট ভিসা দেবে না, কারণ তাদের ধারণা, যেহেতু এই নারী আগে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে দাবি করেছিলেন যে শ্রীলঙ্কায় তার জীবন বিপন্ন, তাই তিনি আর শ্রীলঙ্কায় ফিরতে চান না। তিনি আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড তাদের প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়ার সাথে সমন্বয় করে কাজ করে, যার অর্থ অস্ট্রেলিয়াও তাকে ট্রানজিট সুবিধা দিতে চাইবে না এবং ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সম্ভবত একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে। দেশ ছাড়তে হলে তাকে কোনো না কোনো জায়গা দিয়ে ট্রানজিট নিতেই হবে এবং কেউই এই ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড বিবিসি-কে জানিয়েছে যে তারা রুচিরার কাছ থেকে একাধিক ট্রানজিট ভিসার আবেদন পেয়েছেন এবং সবগুলোই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ‘কারণ আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি যে নিউজিল্যান্ডের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট নেওয়ার বিষয়ে তার কোনো আসল উদ্দেশ্য রয়েছে।

রুচিরা হাতকড়া পরা এবং প্রহরী বেষ্টিত অবস্থায় যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে একটি ভিসা দেওয়া যাচ্ছে না; জানতে চাইলে ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন প্রতিনিধি জানান, এই ব্যবস্থাগুলো কোনো ব্যক্তিকে পুনরায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা থেকে বিরত রাখতে পারে না।

এদিকে, শ্রীলঙ্কা সরকার কোনো সাহায্য করতে পারে কি না তা দেখার চেষ্টা করছে রুচিরার পরিবার। তার ভাই বলেন, তারা সম্ভাব্য সব পথেই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এই বিষয়ে কোনো সমাধান বের করতে পারিনি।

আরও পড়ুন: পিসিটির পর সিসিটির দিকে নজর দিচ্ছে সৌদি কোম্পানি

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবিসি-কে জানিয়েছে যে তারা কুক আইল্যান্ডস থেকে শ্রীলঙ্কায় তার প্রত্যাবর্তন সহজতর করার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনে অবস্থিত শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনের কর্মকর্তারা এবং নিউজিল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

কিন্তু রুচিরার ভাই গভীরভাবে চিন্তিত। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘তার মানসিক অবস্থা ভালো নয়। আমাদের একবার কথা বলার সময় সে আমাকে বলেছিল, তারা যদি তাকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে রাজি না হয়, তবে তারা যেন অন্তত তার মৃতদেহটি দেশে ফেরত পাঠায়।’

সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্ত, পাইলটের শেষ মুহূর্তের বার্তা প্রকাশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

“দক্ষ যুব গড়বে দেশ সবার জন্য বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে নিয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে যুবদের অংশগ্রহনে
বর্ণাঢ্য যুব র‌্যালি বের হয়। র‌্যালীটি উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ হাসিবুল হাসান এর সভাপতিত্বে এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্ত সৈয়দ আজমল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান, উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম মলাদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অয়াসীম মান্নান উৎপল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব শামীম হাওলাদার। প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার মজুমদার। পৌর যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মুন্সী, নারী উন্নয়ন সংস্থা পরাগ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহনাজ ফরিদ, উদ্যোক্তা জাহিদ মাহমুদ সুমন, শারমিন আক্তার ।

আলোচনা সভায় বক্তারা তরুণ ও যুব সমাজকে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দেশ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে বক্তারা তরুণদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান।

পরে যুব কল্যাণ তহবিল থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার যুব ঋণ ও অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। বৃক্ষ রোপণ, সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের পুরস্কৃতকরণ এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা এবং ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধের মতো বিভিন্ন দাবি নিয়ে আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। এই কারণে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।

রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ, ইউনিক, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরানীবাজার, বাইপাইল এলাকায় দেখা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন কারখানায় কার্যক্রম সকাল থেকেই চলছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে এবং কারখানার সামনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে সকাল ১০টার পর থেকে বিভিন্ন এলাকার বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি দিলে শ্রমিকরা বের হতে শুরু করেন।

পরে নরসিংহপুর, জিরানী বাজার, কবিরপুর, বাড়ইপাড়া, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসে। এর ফলে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ও বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক বন্ধ করে তারা আন্দোলন করতে থাকে। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে মহাসড়ক স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এদিকে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু কারখানার মূল ফটকে কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়েছে। এছাড়া অর্ধশত কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যে বেতন দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। তারা আরও বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, ফলে পুরুষ শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হন। এ কারণে তারা আন্দোলন করছেন।

তারা আরও জানান, তাদের সবচেয়ে বড় দাবি হচ্ছে, বেতন সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। ৩০ হাজার টাকা হলেই তারা আন্দোলন বন্ধ করবেন।

শিল্প পুলিশ-১-এর সহকারী পুলিশ সুপার শোয়েব আহম্মেদ জানান, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিছু ঝামেলা হয়েছিল। নিট এশিয়া নামের একটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরে ওই কারখানার শ্রমিকরা শারমিন গার্মেন্টসের সামনে জমায়েত হন। তবে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন এবং পুলিশও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। তাদের বোঝানো হয়েছে। পরে শারমিন গ্রুপও বন্ধ ঘোষণা করে।

তিনি আরও জানান, রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। অনন্ত গার্মেন্টে কিছু বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলে শ্রমিকদের সঙ্গে। পরে শ্রমিকরা চলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান শিল্প পুলিশের এই এএসপি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে লোডশেডিং কিছুটা কমবে: মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে লোডশেডিং কিছুটা কমবে: মন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জ্বালানিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘এনার্জির দাম বাড়তে বাড়তে ৩২ ডলারে চলে গেছে। সে জন্য সোলারে যেতে হবে, এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে। সোলারকে এগিয়ে নিতে আমরা নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, আগামী গ্রীষ্মে সোলার দিয়ে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কমাতে পারব।’

তিনি আরও জানান, গত আট মাস ধরে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ বিষয়ে দেশের মানুষকে উৎসাহিত করতেই এ এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারিভাবে এ ধরনের আয়োজন দেশে প্রথমবারের মতো হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন।

গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, পল্লী বিদ্যুতের গ্রিড লাইনে অনেক সমস্যা আছে। সমাধান হয়ে গেলে আর গ্রামে লোডশেডিং হবে না।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজেও অফ-গ্রিড হয়ে গেছেন। তিনি নিজের বাসায় আর গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না।

বিদ্যুৎ খাতের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর বিদ্যুৎ খাতে অনেক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। অথচ বিদ্যুতে লুটপাটের ফল ভোগ করতে হচ্ছে এখন।

সৌরবিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় বলেন, গত আট মাস ধরে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ বিষয়ে দেশের মানুষকে উৎসাহিত করতেই এ এক্সপোর আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারিভাবে এ ধরনের আয়োজন দেশে প্রথমবারের মতো হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে মানবপাচার চক্রের শীর্ষ সদস্য আবদুল করিম গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


টেকনাফে মানবপাচার চক্রের শীর্ষ সদস্য আবদুল করিম গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে একাধিক মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি আবদুল করিমকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৫। অভিযানের সময় তাঁকে একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্রের অন্যতম শীর্ষ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, জানিয়েছে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সংস্থাটি।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকায় কচ্ছপিয়া ঘাটে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ) ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আবদুল করিমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আবদুল করিম টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কচ্ছপিয়া এলাকার ছৈয়দ ওমরের ছেলে।

এসআরবি-১৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আবদুল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক মানবপাচার মামলায় এজাহারভুক্ত ও চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর আবদুল করিমকে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসআরবি-১৫ জানিয়েছে, মানবপাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%