শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৫ পি.এম
ইতালিয়ান ক্লাব কোমো নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে একটি অসাধারণ জয় অর্জন করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে স্তাদিও জিউসেপ্পে সিনিগাগ্লিয়ায় তারা আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে পরাজিত করেছে, যেখানে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেস্ক ফ্যাব্রেগাস।
কোমোর হয়ে গোল করেছেন মার্টিন বাতুরিনা, তাসোস দুভিকাস, আসানে দিয়াও এবং ম্যাসিমো পেরোনে। পুরো ম্যাচে কোমো আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে এবং ছয়টি বড় গোলের সুযোগ তৈরি করে। অন্যদিকে, লাইপজিগ মাত্র দুটি বড় সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
এই জয়টি কোমোকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশগ্রহণকারী ১২তম ইতালিয়ান ক্লাব হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে দিয়েছে। তারা একইসাথে প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়া চতুর্থ ইতালিয়ান দল হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। এর আগে জুভেন্তাস, এসি মিলান এবং উদিনেজে অভিষেক ম্যাচে জয় পেয়েছিল।
কোমো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক ম্যাচে চার বা তার বেশি গোল করার কীর্তিও গড়েছে। তারা ইতালির দ্বিতীয় দল, যারা এমন একটি নজির স্থাপন করেছে। এর আগে ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান কাপে অভিষেক ম্যাচে রোজেনবার্গকে ৫-০ গোলে পরাজিত করেছিল সাম্পদোরিয়া।
ম্যাচ শেষে ফ্যাব্রেগাস মন্তব্য করেন, "এই জয় উদ্যাপনের জন্য আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।" কারণ, সোমবার সিরি আ-তে পারমার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে কোমোকে।
তবে, এমন দাপুটে জয় সত্ত্বেও কোমোর কোচ আত্মতুষ্টিতে ভুগতে রাজি নন। ফ্যাব্রেগাস বলেন, "আমি খুশি, তবে এই আনন্দ পাঁচ মিনিটের বেশি থাকবে না। এরপর থেকেই সোমবারের ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আজকের ম্যাচের মতো একই তীব্রতা ও শক্তি নিয়ে আমাদের খেলতে হবে।"
কোচ আরও বলেন, "এটি শহর ও ক্লাবের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাত। গত মৌসুমে আমরা যে অসাধারণ কাজ করেছি, এই জয় তারই প্রাপ্য স্বীকৃতি। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য সিরি আ। সেখানে ভালো করতে পারলেই ভবিষ্যতে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ তৈরি হবে।"
ফ্যাব্রেগাস তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্ট। তার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চ দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তবে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় একই মানের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে না পারলে তিনি হতাশ হবেন।
তার ভাষায়, "আমাদের পা মাটিতে রাখতে হবে এবং প্রতি তিন দিন পরপর একই মানের পারফরম্যান্স দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। সামনে খুব কঠিন একটি মৌসুম। তাই সঠিক মানসিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
এদিকে, একই রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নাটকীয় জয় পেয়েছে ফরাসি ক্লাব লেন্সও। তারা ১০ জনের স্লাভিয়া প্রাগকে ৩-২ গোলে পরাজিত করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরে ৬০ হাজার বনজ গাছের পর ৬০০ তালবীজ বপন করেছেন শিক্ষক নুরুল ইসলাম। তার লক্ষ্য হলো ২ লাখ তালের বীজ বপন করা।
শহর, বন্দর, গ্রাম ও গঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আকাশের বাজ বা বর্জপাতে মানুষের মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর জন্য শিক্ষক নুরুল ইসলামের এই মহৎ উদ্যোগটি গৃহীত হয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে জানান,
শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও একজন শিক্ষক সবুজের স্বপ্ন দেখেন। হাতে চক-ডাস্টার থাকলেও অবসরে তার সঙ্গী হয়ে ওঠে গাছের চারা, বীজ এবং কোদাল। কখনো রাস্তার পাশে, কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায়, আবার কখনো পুকুরপাড়ে—নিরবে গাছ লাগিয়ে চলেছেন তিনি। প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তার এই উদ্যোগের উৎপত্তি।
তিনি ফরিদপুরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক মো. নুরুল ইসলাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ফরিদপুর শহরের জিলা স্কুলের সামনের পুকুর, চৌরঙ্গী পুকুরের পাড়সহ কয়েকটি স্থানে প্রায় ৬০০টি তালবীজ বপন করেছেন। তার উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা।
শিক্ষকতা নুরুল ইসলামের পেশা হলেও বৃক্ষরোপণ যেন তার নেশায় পরিণত হয়েছে। নিজের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ ও বীজ বপন করে ইতোমধ্যে তিনি এলাকায় বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
নুরুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের সরকারি সড়কের ধারে ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার বনজ গাছ লাগিয়েছেন তিনি। কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, শিমুল, খেজুর, তাল, নারিকেল, শিউলি ও পলাশসহ নানা প্রজাতির গাছ তার হাতে রোপিত হয়েছে। এসব গাছ বড় হয়ে এখন অনেক জায়গায় ছায়া, সৌন্দর্য ও পরিবেশের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করছে।
বিশেষ করে, তালগাছ নিয়ে তার আগ্রহের পেছনে রয়েছে পরিবেশ ও বজ্রপাতের বিষয়টি। বাংলাদেশে বর্ষাকালে বজ্রপাত একটি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তাল, নারিকেলসহ উঁচু গাছের ভূমিকা নিয়ে গ্রামবাংলায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট গাছ একাই বজ্রপাত ঠেকাতে পারে—এমন নিশ্চয়তা বৈজ্ঞানিকভাবে দেওয়া যায় না। বরং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তবুও নুরুল ইসলামের কাছে তালবীজ বপন শুধুমাত্র বজ্রপাতের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা। তার বিশ্বাস, আজ একটি বীজ মাটিতে পুঁতে দিলে কয়েক বছর পর সেটিই হয়ে উঠতে পারে একটি বড় গাছ, যার ছায়া ও পরিবেশগত উপকার ভোগ করবে মানুষ।
ফরিদপুর শহরের কমলাপুরের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ফকির স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা নুর বেগম ছিলেন গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। স্ত্রী শামীমা নাসরিন গৃহিণী। তাদের দুই সন্তান—গোধূলী ইসলাম ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং নুরুল আহসান সকাল ফরিদপুর জিলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, “বজ্রপাত ঠেকাতে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তালবীজ বপন করেছি। আজ যে বীজগুলো বপন করছি, হয়তো একদিন এগুলো বড় গাছ হবে। তখন মানুষ এর সুফল পাবে।”
তার এই উদ্যোগ হয়তো একদিনে শহরের চেহারা বদলে দেবে না। কিন্তু ৬০০টি বীজের প্রতিটি থেকে যদি একটি করে গাছও বেড়ে ওঠে, তাহলে সেই সবুজের গল্পটি ছড়িয়ে পড়বে বহু দূর। একজন শিক্ষক হিসেবে নুরুল ইসলামের সবচেয়ে বড় পাঠ হয়তো এটাই—প্রকৃতিকে ভালোবাসার কথা শুধু বইয়ে পড়ানো নয়, নিজের হাতে মাটিতে বীজ পুঁতে তার উদাহরণ তৈরি করাও সম্ভব।
এই বিষয়ে কথা হয়, ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স পাশ করা একজন শিক্ষার্থীর সাথে। তিনি বলেন, নুর ইসলাম স্যার আমার স্কুলজীবনের শিক্ষক। ওনার নেশা গাছ লাগানো। বছরের ছাত্র পড়ায়ে যা পান সব খরচ করেন সড়কে গাছ লাগানোর কাজে।
সর্বশেষ ফরিদপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরব্বি প্রফেসর এমএ সামাদের মন্তব্য হলো, নুর ইসলামকে যদি সরকার বৃক্ষ রোপণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাহলে সে দেশের মধ্যে বনজ ফলজ ও তালগাছ লাগানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করবেন। এটা আমি বিশ্বাস করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
১৮ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক হয়ে কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, এমনটি জানিয়েছেন ইয়েমেনি লেখক ও সাবেক বন্দি মনসুর আদায়ফি। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’-এর নামে মুসলিমদের আটক, নজরদারি ও নির্যাতনের যে ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, তা ২৫ বছর পরেও সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়নি; বরং সেই কাঠামো এখন নতুন লক্ষ্যবস্তু তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত এক লেখায় আদায়ফি তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার সময় তিনি আফগানিস্তানে ছিলেন। হামলার কয়েক দিন পর একটি বেসরকারি সংস্থার সরঞ্জাম সরানোর সময় সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে।
আদায়ফি বলেন, পরে তাকে এক আফগান যুদ্ধবাজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ব্যক্তিটি তার মুক্তির বিনিময়ে এক লাখ মার্কিন ডলার দাবি করেছিলেন। এরপর তাকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আল-কায়েদার নেতা হওয়ার অভিযোগ আনা হলেও তিনি দাবি করেন, সে সময় তিনি কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য ছিলেন না এবং আফগানিস্তানে গবেষণার কাজে গিয়েছিলেন।
‘নির্যাতন করে গুয়ানতানামোতে পাঠানো হয়’
আদায়ফি জানান, কান্দাহারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে আটক থাকার সময় তাকে ও অন্যান্য বন্দিদের মারধর ও অপমান করা হতো। ২০০১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে সেখানে প্রায় ১০০ বন্দিকে রাখা হয়েছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একদিন সেনারা বন্দিদের নামের পরিবর্তে নম্বর ধরে ডাকতে শুরু করে। তাকে একটি তাঁবুতে নিয়ে গিয়ে পোশাক খুলে ফেলা, শরীরের চুল কামিয়ে দেওয়া, মারধর ও অপমান করা হয়। পরে তাকে কমলা রঙের পোশাক, জুতা, মোজা ও টুপি পরিয়ে হাত-পায়ে শিকল পরানো হয়।
আদায়ফি বলেন, তার গলায় ‘আমাকে মারো’ লেখা একটি চিহ্ন ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চোখ ও কান ঢেকে তাকে বিমানে তোলা হয়। বিমানে ওঠার পরও বন্দিদের মারধর ও অপমান করা হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথে হাত-পায়ের শিকল এতটাই শক্ত করে বাঁধা ছিল যে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ অবশ হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
গুয়ানতানামোতে প্রথম দিন
গুয়ানতানামোতে পৌঁছানোর পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন আদায়ফি। তাকে নগ্ন করে শরীরে পানি ও সাবান ঢেলে রুক্ষ ব্রাশ দিয়ে ঘষা, একাধিকবার তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তাকে একটি খাঁচায় রাখা হয়।
তিনি জানান, খাঁচায় থাকার সময় তার কাছে ছিল একটি প্লাস্টিকের মাদুর, একটি কম্বল, পানির পাত্র এবং দুটি ছোট বালতি। এর একটি পানি রাখার জন্য এবং অন্যটি শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করতে হতো। বন্দিদের বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না; আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল না।
আদায়ফির বর্ণনা অনুযায়ী, বন্দিদের সঙ্গে সবসময় নম্বর ধরে কথা বলা হতো। তাকে দেওয়া হয় ‘আইএসএন ৪৪১’ নম্বর। তার আগে সিআইএর গোপন বন্দিশিবিরে তার কোনো নম্বরও ছিল না বলে জানান তিনি।
‘আমরা জানতাম না কেন আটক’
গুয়ানতানামোতে থাকা বন্দিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের মানুষ ছিলেন বলে জানান আদায়ফি। তাদের অনেকেই জানতেন না কেন তাদের সেখানে রাখা হয়েছে এবং কতদিন সেখানে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বন্দিরা আবহাওয়া, উড়োজাহাজের যাত্রার সময় এবং আশপাশের বিভিন্ন চিহ্ন দেখে তারা কোথায় আছেন তা অনুমান করার চেষ্টা করতেন। কেউ বলতেন ওমান বা বাহরাইন, কেউ ভারত। এমনকি নামাজের সময় কোন দিকে মক্কা রয়েছে, সেটিও তারা নিশ্চিতভাবে জানতেন না বলে জানান তিনি।
আদায়ফির দাবি, বন্দিদের অনেককে বলা হয়েছিল তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করতেন, কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
‘প্রায় ৮০০ মুসলিম পুরুষ ও শিশু সেখানে গিয়েছেন’
আদায়ফি বলেন, গুয়ানতানামোতে প্রায় ৮০০ মুসলিম পুরুষ ও শিশু বন্দি হিসেবে এসেছেন। তাদের অনেককে বিভিন্ন দেশের সহযোগী বাহিনী আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছিল বলে তার দাবি।
তার মতে, এসব বন্দিকে ‘সবচেয়ে ভয়ংকর’ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। গুয়ানতানামোকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য একটি ‘পরীক্ষাগার’ এবং নির্যাতন ও অনির্দিষ্টকালের আটক ব্যবস্থার একটি নকশা হিসেবে বর্ণনা করেন।
আদায়ফি আরও বলেন, গুয়ানতানোমর পাশাপাশি সিআইএ বিভিন্ন দেশে গোপন বন্দিশিবির পরিচালনা করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারও সহযোগিতা করেছিল।
২০১৫ সালে মুক্তির অনুমোদন, মুক্তি ২০১৬ সালে
আদায়ফি জানান, বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে প্রতিষ্ঠিত পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা বোর্ড ২০১৫ সালে তাকে গুয়ানতানামো থেকে স্থানান্তরের অনুমোদন দেয়। তবে অনুমোদনের পরও তাকে আরও প্রায় নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় তাকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বন্দি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল এবং এমনকি ‘চিরস্থায়ী বন্দি’ হিসেবেও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের ১১ জুলাই তাকে গুয়ানতানামো থেকে বের করে বিমানে তুলে দেওয়া হয়।
ইয়েমেনে তখন যুদ্ধ চলায় এবং মার্কিন কংগ্রেসের বিধিনিষেধের কারণে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। তার বদলে সার্বিয়ায় পাঠানো হয়। আদায়ফির দাবি, সার্বিয়ার সঙ্গে তার কোনো পারিবারিক, ভাষাগত বা ঐতিহাসিক সম্পর্ক ছিল না এবং তিনি সেখানে যেতে রাজিও ছিলেন না।
‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কাঠামো এখনো আছে’
নিজের লেখায় আদায়ফি বলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্র যে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুরু করেছিল, তার প্রভাব আফগানিস্তান ও ইরাকের বাইরে গিয়েও পড়েছে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি, ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহভাজনদের তালিকাভুক্ত করা এবং অভিবাসননীতিতে কঠোরতার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুসলিমদের ঘিরে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা কাঠামো পরে উগ্র ডানপন্থীদের জন্যও একটি প্রস্তুত ব্যবস্থা তৈরি করে দেয়। তিনি বলেন, মুসলিম ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সন্দেহ ও বৈরিতার যে ভাষা তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনেও ব্যবহৃত হয়েছে।
আদায়ফি আরও দাবি করেন, বর্তমানে মুসলিমদের বাইরেও বিভিন্ন প্রতিবাদী ও রাজনৈতিক আন্দোলনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সমালোচনা বা ভিন্নমতও অনেক ক্ষেত্রে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।
‘২৫ বছর পরও বিচার হয়নি’
আদায়ফির ভাষ্য, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পরও গুয়ানতানামো কারাগার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিনি দাবি করেন, সেখানে আটক অধিকাংশ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি বা নিয়মিত আদালতে বিচার হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া যুদ্ধের নামে বিশ্বজুড়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কিংবা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচারের দাবি কোথায়?
আদায়ফি বলেন, ২৫ বছর ধরে চলা ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না; এর মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা মানুষকে অপরাধ প্রমাণের আগেই সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
তার ভাষায়, ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ যে কাঠামো তৈরি করেছিল, তা অদৃশ্য হয়ে যায়নি; বরং সময়ের সঙ্গে নতুন লক্ষ্যবস্তুর দিকে তা সম্প্রসারিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রউফ (৩৪) নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রউফ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর থানার কুমারকান্দি গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। তিনি ব্যুরো বাংলাদেশের সোনাগাজীর কারামতিয়া শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত ব্যক্তি আখতারুজ্জামান (৩২) রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি থানার মারিশা মুসলিম ব্লকের শাহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঐ সংস্থার শাখা হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করছিলেন।
আরো পড়ুন
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পরেও শেষ হয়নি গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিতর্ক
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ফেনী শহর থেকে লালপোলের দিকে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুত গতির কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রউফ এবং তার সঙ্গে থাকা আখতারুজ্জামান গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই আব্দুর রউফের মৃত্যু ঘটে।
ব্যুরো বাংলাদেশের হাজীরবাজার শাখার হিসাবরক্ষক মো. সবুজ বলেন, ‘ফেনী শহর থেকে লালপোল যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সহকর্মীর এমন আকস্মিক চলে যাওয়া কেউ মানতে পারছে না। এ ঘটনায় আমরা সবাই শোকাহত।’
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডা. রুহুল মোহসেন সুজন কালের কণ্ঠকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুর রউফের মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহত আখতারুজ্জামানকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানার এসআই কবির হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও ঘাতক কাভার্ডভ্যান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের চালক ঘটনার পরপর পালিয়ে গেছে। তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ