বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:১৯ পি.এম
চট্টগ্রাম, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ‘যদি স্কুলটি না থাকে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে প্রতিবন্ধী শিশুদের। তারা সমাজের মূলধারায় আসতে পারবে না। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বাধ্য হবে, পারিবারিকভাবে হেনস্তার শিকার হবে এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হবে।’ এই ব্যথিত মন্তব্যগুলো করেছেন চট্টগ্রামের ফিজিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপড ট্রেনিং (পি.এইচ.টি.) সেন্টারের অধীনে পরিচালিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষক মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান মুকুল।
নিজের দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি এখন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাগুরু হিসেবে কাজ করছেন।
চট্টগ্রামের মুরাদপুরে অবস্থিত পি.এইচ.টি সেন্টার সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাক-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
এই সেন্টারের অধীনে পরিচালিত বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় দু’টি চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।
এখানে শিক্ষার্থীদের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত স্বল্প খরচে পড়াশোনার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এর ফলে বাক্-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যালয় দু’টিতে মোট ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন আবাসিক এবং ৫০ জন অনাবাসিক। প্রতিদিনের রুটিনে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ চাহিদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইশারা ভাষা, ঠোঁট দেখে কথা বোঝার অনুশীলন এবং ব্রেইল পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুই শিফটে ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।
এছাড়া, সেন্টারটিতে ৪৪টি পদের মধ্যে ৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও নেই।
এ বিষয়ে শিক্ষক মোহাম্মদ মুখলেসুর রহমান মুকুল বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এক সময় এখানে কাঠ, চর্ম, সেলাই এবং বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র তৈরির জন্য বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। এসব প্রশিক্ষণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানে সহায়ক ছিল। কিন্তু কারিগরি বিভাগে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বর্তমানে তা বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বাক্-শ্রবণ বিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত একমাত্র শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিন সরকার নিজেও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আবাসিক সুবিধা— এই তিনটি অঙ্গ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের একাডেমিক ভবন নেই, তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জনবল সংকট। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে তিনজন শিক্ষক থাকলেও বাক্-শ্রবণ বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন কেবল একজন। এসব প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষক প্রয়োজন।’
এক সময় এখানে বাক্-শ্রবণ ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা দুটি বিদ্যালয়, চারটি প্রশিক্ষণ সেন্টার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এবং বালক-বালিকাদের জন্য আলাদা হোস্টেল ভবন ছিল। কিন্তু, ২০১৬ সালে সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানের পুরনো ভবনগুলো ভেঙে ফেলা হয়। ফলে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের চতুর্থ তলায় অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে বিদ্যালয় দু’টির কার্যক্রম চলতে থাকে।
শিক্ষক দুজন মনে করেন, সংকট কাটাতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, সেক্টরভিত্তিক জনবল নিয়োগ, কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, দৃষ্টি ও বাক্-শ্রবণ বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক একাডেমিক ভবন, ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা আবাসিক ভবন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য ওয়ার্কশপ নির্মাণ জরুরি।
এছাড়া, পুরো প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে, নিজের সন্তানকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে হাটহাজারী থেকে মুরাদপুরে আসেন অভিভাবক ওমর উদ্দিন মাহমুদ। তার দুই ছেলে বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বড় ছেলে এই বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ঢাকার বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী উচ্চবিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। ছোট ছেলে পড়ছে এই বিদ্যালয়েরই পঞ্চম শ্রেণিতে।
মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের এখানে পড়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমার দুই ছেলেই বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী। বিদ্যালয়টি না থাকলে তাদেরকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা আমার পক্ষে সম্ভব হতো না।’
তবে পঞ্চম শ্রেণির পর চট্টগ্রামে বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আর কোনো বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় অভিভাবকদের নতুন সংকটে পড়তে হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকায় যেতে হয়, যা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিভাবক বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আর কোনো বিশেষায়িত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান নেই। এই স্কুল দু’টি যদি এসএসসি পর্যন্ত করা যেতো, তাহলে অনেক উপকার হতো।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুধুমাত্র শিক্ষা নয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের আত্মনির্ভরশীল করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পথ তৈরি হয়।
তাছাড়া ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী প্রতিবন্ধীদের সমন্বিত শিক্ষার অধিকার রয়েছে। সুতরাং, জনবল নিয়োগ, কারিগরি প্রশিক্ষণ চালু, শিক্ষার পরিধি পঞ্চম শ্রেণির পরেও সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী ও সম্পূর্ণ প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।
‘সংশপ্তক’ এনজিওর প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলায় কয়েক হাজার দৃষ্টি ও বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু থাকলেও শিক্ষার আলো পায় মাত্র দুই-তিনশো, তাও প্রাইমারি পর্যন্ত। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য চট্টগ্রামে একটি উচ্চবিদ্যালয়, সম্ভব হলে একটি কলেজও খুব বেশি জরুরি। নয়তো তাদের সমাজের মূলধারায় আনা কখনো সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদেরকে পাঠদান দিতে প্রতিটি প্রাইমারি স্কুলে অন্তত একজন করে শিক্ষককে ইশারা ভাষায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষম করে তুলতে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আমরা চাই প্রতিবন্ধী শিশুরা শিক্ষার্জন করে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসুক। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে, আমরা চাইলেই শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারি না। ২০১৯ সালের পর থেকে সম্ভবত নতুন করে আর সার্কুলার হয়নি। আশা করি দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগ হবে।
অবকাঠামোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্কুল দু’টি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। দুটি একাডেমিক ও দুটি আবাসিক ভবনের একটি ডিপিপি সম্ভবত প্লানিং কমিশনে আছে। আরও কিছু সংস্কার কাজও হবে।’
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আজ জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেসব বাংলাদেশি মিশনে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু রয়েছে, সেখানে অনলাইনে আবেদন, প্রবাসীদের সুবিধাজনক সময়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দূতাবাস পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করলেও পাসপোর্ট ঢাকায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়। তাই দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলো নিয়মিত ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে। পাসপোর্ট ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত হলে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদনকারীকে অবহিত করা হয়।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত ১৭টি দেশে অবস্থিত ২৭টি বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদন দূতাবাসে গ্রহণ করা হলেও তা নির্বাচন কমিশন থেকে প্রদান করা হয়।
মোট ৪১টি দেশে পর্যায়ক্রমে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের সেবা সম্প্রসারণে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি বিশেষ কর্মসূচি বা ক্র্যাশ প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ঢাকা থেকে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন দল পাঠিয়ে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে কনস্যুলার সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে অনলাইন সত্যায়ন ও ই-অ্যাপোস্টিল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সেবাপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। এতে তাদের সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনায় পাসপোর্ট, ভিসা এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদের তথ্য যাচাই সহজ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি অনলাইন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, প্রতিটি বাংলাদেশি মিশনে অনলাইন ‘গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম’ চালু রয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ, অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদকে অবহিত করেছেন যে, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে যে প্রকল্পটি রয়েছে, তার উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হবে।’
আজ সংসদে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এর আগে আজ বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ শীর্ষক প্রকল্পটি পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন না পাওয়া নতুন প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি নিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপিটি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (সিএসএস) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিচালনাগত সমস্যা মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করা হবে।
মহিলা আসন-৪৯ এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম, ১৪ বোতল এলএসডি, ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে।
তিনি বলেন, চলতি বছরে এসব অভিযানে ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে সফরকারী পাকিস্তান ইংল্যান্ড বোলারদের দাপটে ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। ইংল্যান্ড দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান করে, ফলে তারা ৬ উইকেট হাতে রেখে ২৩ রানে এগিয়ে রয়েছে।
বার্মিংহামে টস হেরে গতকাল প্রথমে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। পাকিস্তান তাদের দুই পেসার ওলি রবিনসন ও জোফরা আর্চারের বোলিংয়ের মুখে ২৬ রানে ৪ উইকেট হারায়। সাইম আইয়ুব শূন্য, আজান আওয়াইস ৯, আব্দুল্লাহ শফিক ৩ এবং শান মাসুদ ৫ রানে আউট হন।
এরপর ইংল্যান্ডের আরেক পেসার জশ টাংয়ের দাপটে পাকিস্তান দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতে পড়ে। তাদের অষ্টম উইকেট পতন ঘটে ১০১ রানে। শেষ পর্যন্ত সৌদ শাকিলের ৪৩ রানের সুবাদে পাকিস্তান ১৩৩ রান করতে সক্ষম হয়। দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করেন মোহাম্মদ আব্বাস।
ইংল্যান্ডের টাং ৪টি উইকেট নেন, রবিনসন ও আর্চার ৩টি করে উইকেট দখল করেন।
ব্যাট হাতে নেমে ইংল্যান্ড ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে। বেন ডাকেট ১১, জর্ডান কক্স ৪ এবং অধিনায়ক জো রুট ৮ রান করেন। তবে চতুর্থ উইকেটে ইমিলো গে ও হ্যারি ব্রুক ১০৪ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন। গে ৯টি চারে ৬০ রানে আউট হন।
দিন শেষে ব্রুক ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন এবং তার সাথে ৫ রানে অপরাজিত ড্যান লরেন্সও রয়েছেন।
পাকিস্তানের অভিষিক্ত পেসার রাজাউল্লাহ ২ উইকেট নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অভিষেক ম্যাচে অংশগ্রহণকারী জর্ডান হারমানের রেকর্ড সেঞ্চুরির মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সূচনা করেছে।
গত রাতে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকা বৃষ্টি আইনের অধীনে ৯৯ রানে নামিবিয়াকে পরাজিত করে। হারমান তার অভিষেক ওয়ানডেতে ১৫০ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস উপহার দেন।
অভিষেক ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসে সতীর্থ ম্যাথু ব্রিটস্কির রেকর্ডে সমতা অর্জন করেন হারমান। ব্রিটস্কি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে ১৫০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। এখন ওয়ানডেতে অভিষেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংসের রেকর্ডটি ব্রিটস্কি এবং হারমানের মধ্যে ভাগাভাগি হয়েছে।
উইন্ডহুকে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৪৮ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার হিসেবে মাঠে নেমে ১৭টি চার এবং ৩টি ছক্কা মেরে ১২৬ বলে ১৫০ রান করেন হারমান।
এছাড়াও টনি ডি জর্জি ৭২, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস ৩৩ এবং কর্বিন বশ ৩৯ রান করেন। দ্বিতীয় উইকেটে হারমান ও জর্জি ১৬৭ বলে ১৯০ রানের একটি জুটি গড়েন।
বোলিংয়ে নামিবিয়ার রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ৬৮ রানে ৪ উইকেট নেন।
জবাবে নামিবিয়া ২১ দশমিক ৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৭৬ রান সংগ্রহ করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে ৩৮ ওভারে ৩০১ রানের টার্গেট পায় নামিবিয়া।
পরে ১৫ বল খেলার পর আবারও বৃষ্টি খেলা বন্ধ করে দিলে ৩১ ওভারে ২৬২ রানের নতুন টার্গেট পায় নামিবিয়া। শেষ পর্যন্ত ৩১ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬২ রান তুলে ম্যাচে পরাজিত হয় নামিবিয়া।
দলের হয়ে মালান ক্রুগার ৩৪ এবং জেজ স্মিথ ৩১ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেনেলান সুব্রায়েন ৪টি উইকেট দখল করেন। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন হারমান।
আগামীকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দুই দল মুখোমুখি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ