ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা : কিমের নির্দেশ


বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা : কিমের নির্দেশ

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সেনাদের প্রশিক্ষণ জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কোম্পানি কমান্ডারদের সম্মেলনে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আরও পড়ুন: ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় আন্তরিক নয়, পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

কিমের এই আহ্বান এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তঃকোরীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সীমান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এর আগে, একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, যা ব্যাপক সামরিক নিরাপত্তাবেষ্টিত অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) ঘটে।

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরীয় যুদ্ধের সমাপ্তি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ঘটেছিল, কোনো শান্তিচুক্তির মাধ্যমে নয়। ফলে, দুই কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা’ তৈরি করা।

আরও পড়ুন: হুতিদের হামলা বন্ধের জন্য সৌদির ১ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব

কিম আরও উল্লেখ করেন, উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিকে সামরিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকে শক্তিশালী এবং দক্ষ এলিট ইউনিটে পরিণত করতে হবে, এবং সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

কেসিএনএ জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন দলের কংগ্রেসের পর এটি ছিল পুরো সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম এ ধরনের সমাবেশ।

ওই কংগ্রেসে কিম প্রচলিত সামরিক শক্তি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন।

উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি একের পর এক নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নতুন ধরনের’ নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম টর্পেডো ব্যবস্থা এবং মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির দাবি, উভয় অস্ত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অরুণাচলে উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়েছে ভারত

জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া আইনগতভাবে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দেশটির সরকার বারবার ঘোষণা করেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার স্থায়ী এবং এ অবস্থান থেকে তারা সরে আসবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির বিরুদ্ধে এপস্টেইন নথি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫১ পি.এম


সৌদির বিরুদ্ধে এপস্টেইন নথি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে হুথিরা

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাশাপাশি, প্রচারযুদ্ধের নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের নথি তাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পাঠিয়েছিলেন—এমন প্রতিবেদন সামনে এনে সৌদি নেতৃত্বের ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান, ভিডিও, বক্তব্য ও নানা প্রচারসামগ্রীর মাধ্যমে এ বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে গোষ্ঠীটি।

ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে হুথিরা। পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয় সৌদি আরব। সেই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুথিরা। নিজেদের প্রচারে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরে। বর্তমানে এপস্টেইনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করে সৌদি শাসকদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করার পর বিষয়টি হুথিদের প্রচারে গুরুত্ব পায়। এসব নথি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাবা শরিফের গায়ে ব্যবহৃত গিলাফ এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে পাঠিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে হুথিদের অভিযোগের জবাব দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিরা মুসলমানদের পবিত্র নগরী মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষায়, মুসলমানদের উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা এ হামলা ছিল ‘লজ্জাজনক’। হুথিরা অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এরপর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচারে কাবার গিলাফের প্রসঙ্গ সামনে আনে হুথিরা। গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তাদের নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যারা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কায় হামলা চালাচ্ছে।’

আল-মাশাতের এই বক্তব্যের নানা সংস্করণ ছড়িয়ে পড়ে হুথিদের প্রচার নেটওয়ার্কে। এর মধ্যে ছিল ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি অনুসারী থাকা এক ইয়েমেনি কৌতুকশিল্পীর ভিডিও ভাষ্য এবং দেশটির এক লোকসংগীতশিল্পীর গান।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান বাশা রিপোর্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ইয়েমেনবিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে হুথিরা খুব ভালোভাবে অবগত। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গোষ্ঠীটির প্রচার কার্যক্রমের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করছেন।

আল-বাশার মতে, একসময় হুথিদের প্রচার কার্যক্রম মূলত দুজনের একটি ছোট দলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন তা টেলিভিশন চ্যানেল, ওয়েবসাইট, বেতার, সংবাদপত্র, ই-মেইল প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্ট নিয়ে একটি সংগঠিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রভাবশালীদের একটি নেটওয়ার্কও তাদের প্রচারসামগ্রী ছড়িয়ে দেয়। এদের সবাই যে অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন, তা নয়; অনেকে হুথি ও ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আদর্শের সঙ্গে একমত।

এপস্টেইনকে ঘিরে প্রচারের লক্ষ্য

ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মতো হুথিরাও এপস্টেইনকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখায় বলে মনে করেন আল-বাশা। তার মতে, এপস্টেইনের নাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ইহুদি ও জায়নবাদীরা বিশ্ব পরিচালনা করে—এমন ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়াতেও তার নাম ব্যবহার করা হয়।

অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচারের অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখে ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। ওই সময় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথির বক্তৃতায় প্রায়ই এপস্টেইনের প্রসঙ্গ আসে।

চলতি মাসে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি এপস্টেইনের কথা বলেন। ওই হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ২০১৪ সালে হুথিদের দখলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেও এপস্টেইনের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।

গত ফেব্রুয়ারিতে এক ভাষণে আবদুল মালিক আল-হুথি বলেন, ‘এপস্টেইনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। এগুলো এমন এক জায়নবাদী প্রজননকেন্দ্রের চিত্র তুলে ধরে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের তৈরি করা হয়।’

লন্ডনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়ালগের গবেষক মুস্তাফা আয়াদ বলেন, হুথিরা সৌদি আরবের সঙ্গে নিজেদের সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘এপস্টেইন শ্রেণির’ বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত বৃহত্তর লড়াইয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। সৌদি নেতাদেরও তারা এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করছে।

হুথিদের মূল স্লোগানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে মৃত্যুর আহ্বান রয়েছে। আয়াদের মতে, ইসলাম ধর্মের জন্মভূমি সৌদি আরবের শাসকদের এই দুই শত্রুর সঙ্গে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে হুথিরা নিজেদের বক্তব্য জোরালো করতে চায়। সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও প্রচারে দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বোমা হামলায় মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

সৌদি যুবরাজকে লক্ষ্য করে প্রচার

হুথিদের প্রচারের বড় লক্ষ্য সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। আয়াদের ভাষায়, এখন তারা খুব নির্দিষ্টভাবে সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং যুবরাজের ভাবমূর্তি নষ্ট করার দিকে প্রায় পুরো মনোযোগ দিচ্ছে।

ইয়েমেনি কৌতুকশিল্পী মুস্তফা আল-মুমর আগে হুথিদের সমালোচনা করেছিলেন এবং এ কারণে কারাগারেও ছিলেন। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তার বক্তব্য হুথিদের প্রচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তার সাম্প্রতিক কাজের পেছনে কী কারণ রয়েছে কিংবা তিনি চাপের মুখে এসব করছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বর্তমান সংঘাতে তিনি সৌদি আরব ও যুবরাজ মোহাম্মদের সমালোচনা করে ধারাবাহিকভাবে গান, ভিডিও ভাষ্য ও ছোট নাটক তৈরি করেছেন। জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি মিউজিক ভিডিওতে তাকে সৌদি যুবরাজের চরিত্রে দেখা যায়। সেখানে হুথিদের হামলার খবর শুনে যুবরাজকে ভীত হয়ে গান গাইতে দেখা যায়। ভিডিওর শেষে তাকে নিজের প্রাসাদে বন্দুকের মুখে আটক হতে দেখা যায়। ভিডিওটি ৩ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।

সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষয়ক্ষতিও হুথিদের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটিতে বোমা হামলা শুরু করে। এই অভিযান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়। সহিংসতা, ক্ষুধা ও রোগে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যুতে যুদ্ধটি ভূমিকা রেখেছে।

গত মাসে নিউইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে আরবিতে এক অধিকারকর্মীর তিরস্কারের মুখে পড়তে দেখা যায়। হুথির মুখপাত্র আমিল হাইয়ান ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং বিশেষ করে ইয়েমেনে সংঘটিত ‘নৃশংস হত্যাযজ্ঞের’ কারণে বিশ্বজুড়ে সৌদি আরবকে ঘৃণা করা হয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত আগস্টে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ সপ্তাহে জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে হুথিরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

ইরানের প্রচারকৌশলের প্রভাব

মুস্তাফা আয়াদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে হুথিদের কিছু প্রচারসামগ্রী মূলত ইরানের প্রচারকৌশলের অনুকরণ। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছাতে ইরান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

ইরানি গোষ্ঠী এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া ভাইরাল লেগো ভিডিও তৈরির জন্য পরিচিত। গত মাসে তারা ইয়েমেনের যুদ্ধ ও বিজয় নিয়ে একটি লেগো অ্যানিমেশন তৈরি করে। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের লড়াইকে কল্পনাপ্রসূতভাবে তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে হুথিদের একটি দলকে সৌদি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে দেখা যায়। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোনালি মূর্তিও দেখানো হয়। শেষে হুথি এক কমান্ডারকে ‘মোখা’ লেখা মগ থেকে পানীয় পান করতে দেখা যায়। লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখলের প্রতি এটি ইঙ্গিত করে। একসময় এই বন্দর কফি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ছিল।

হুথিদের প্রচারের বার্তা বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে। এমন কিছু ব্যক্তিও গোষ্ঠীটির প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন, যাদের সঙ্গে হুথিদের সরাসরি সম্পর্ক থাকার কথা নয়। তাদের কারো কারো মধ্যে এপস্টেইন ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে একই ধরনের আগ্রহ রয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মিক্সড মার্শাল আর্টস চ্যাম্পিয়ন এবং জনপ্রিয় ডানপন্থি পডকাস্টার জেক শিল্ডস তাদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার তার বিরুদ্ধে ‘ইহুদিবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও অসহিষ্ণুতা’ ছড়ানোর অভিযোগ করেছে। শিল্ডস নিয়মিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে পোস্ট করেন।

সম্প্রতি নিজের অনুষ্ঠানে হুথি ও সৌদি আরবের সংঘাত নিয়ে কথা বলার সময় তিনি গোষ্ঠীটির প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন। হুথিদের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুর্ধর্ষ।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক অভিযান ও প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে হুথিরা যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চায়, শিল্ডসের এই প্রতিক্রিয়া তারই একটি উদাহরণ।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মদসহ আটক ২ জন হয়েছে,

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৫ পি.এম


শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় মদসহ আটক ২ জন হয়েছে,

 

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটক মদের সিজার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, , ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার জামতলা কলনী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন হলদিগ্রাম ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা।

এ সময় ৫০ বোতল ভারতীয় মদসহ দুইজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমরা গ্রামের মৃত ছফর আলীর ছেলে মো. সুলতান মাহমুদ (৩৮) এবং একই গ্রামের কালো গাজীর ছেলে মিস্টার আলী (৩৬)।

উদ্ধার করা মদের সিজার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। এ ঘটনায় আটক দুইজনের পাশাপাশি পলাতক আরও তিনজনের বিরুদ্ধে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিজিবি সূত্রে আরও জানা যায়, আটক ও পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে। অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ও কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বিজিবি জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে তারা সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী যুবদল নেতা মোঃ জামাল আহমদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন চাইলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী যুবদল নেতা মোঃ জামাল আহমদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও যুবদল নেতা মোঃ জামাল আহমদ ইউনিয়নবাসী ও ভোটারদের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রমকে সামনে রেখে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা জানার চেষ্টা করছেন। তিনি মনে করেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

চাপরতলা ইউনিয়নের মানুষের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে মোঃ জামাল আহমদ বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁর পথচলার অনুপ্রেরণা। তিনি ইউনিয়নের মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চান। এলাকার উন্নয়ন, জনসাধারণের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, মানুষের আস্থা অর্জন করতে হলে কথার চেয়ে কাজে নিজেকে প্রমাণ করা জরুরি। তাই তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া কামনা করছেন এবং সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

চাপরতলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের ভালোবাসা, পরামর্শ ও সহযোগিতা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে জনসেবার সুযোগ পেলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিনিদের ওপর হামলার পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরান, সতর্ক অবস্থানে ওয়াশিংটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


মার্কিনিদের ওপর হামলার পরিকল্পনার চূড়ান্ত পর্যায়ে ইরান, সতর্ক অবস্থানে ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে ইরান। এই পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় জনবল কমানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে এমন গোয়েন্দা তথ্য সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্য এবং আরও কয়েকটি দেশে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক পৃষ্ঠার ওই স্মারকলিপিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, ব্যক্তি, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাম কিংবা ষড়যন্ত্রের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যাতে আরও বিস্তৃত পরিসরে তথ্যটি জানাতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী এর গোপনীয়তার মাত্রা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লেটন।

শুক্রবার রাতে এক মার্কিন কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। কর্মকর্তারা জানান, এই পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, সম্ভাব্য হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কতটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন, কাতার ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মী কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পেছনে এসব গোয়েন্দা তথ্যও একটি কারণ। এর আগে সিএনএন এ খবর প্রকাশ করেছিল।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও দাহরানের কনস্যুলেট থেকে পরিবারের সদস্য ও জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন এমন কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর আবারও হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%