ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লক্ষ্মীপুরে জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা চলছে, আতঙ্কিত নার্স ও রোগীরা


লক্ষ্মীপুরে জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা চলছে, আতঙ্কিত নার্স ও রোগীরা

লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর সরকারি হাসপাতালের জরাজীর্ণ ভবনে চিকিৎসা সেবা ঝুঁকির মধ্যে চলছে। সোমবার দুপুরে হাসপাতালের ১ নম্বর কক্ষে রোগী দেখার সময় আকস্মিকভাবে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে, যার ফলে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. রাইসাসহ চারজন রোগী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

এর আগে, গত ১ অক্টোবর একই হাসপাতালের রেস্টরুমে সিলিং ফ্যানসহ পলেস্তারা খসে পড়ে, যার ফলে গুরুতর আহত হন ডা. ফৌজিয়া মোস্তফা। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব দুর্ঘটনার কারণে হাসপাতালটিতে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স ও রোগীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনের নিচতলায় ১২১ নম্বর কক্ষে পুনরায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পলেস্তারা খসে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ অংশের নিচে থাকা রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

আরও পড়ুন: যে পাপ করেছি, তার মাসুল এখন দিতে হচ্ছে: রুমিন ফারহানা

গত বছর প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালের পুরাতন ভবন ও চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনটি সংস্কার করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের কাজের কারণে সংস্কারের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুস্থ হতে এসে এখন জীবন ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে। তাঁরা দ্রুত হাসপাতালের ভবনটি নিরাপদ ও সঠিকভাবে পুনঃসংস্কারের জোর দাবি জানান, যাতে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নাঈমা নুসরাত জাবীন বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অবকাঠামোগত এই ঝুঁকির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি সতর্ক করেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘আজ আমি মারা যাচ্ছি, কিন্তু মা ও ছোট ভাইয়ের কী হবে’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণমাধ্যমই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ: প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


গণমাধ্যমই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ: প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যম গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত। প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, "যদি গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক হয়ে উঠে এবং গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে কাজ করে, তবে তা জনগণের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারে আসে।"

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় সকল কর্মী ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে। তিনি সাংবাদিকদের নিজেদের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতি, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করার মতো গণমাধ্যমকর্মীদের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে পেশাদার সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট।

সাক্ষাৎকালে ডিআরইউ প্রতিনিধিদল সংগঠনটির পরিচিতি এবং সদস্যদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করে। তাঁরা সংগঠনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রেসিডেন্টের সহযোগিতা কামনা করেন। এ ছাড়া ডিআরইউ আয়োজিত ‘বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।

প্রেসিডেন্ট গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আন্দোলনের সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে তাঁর বিভিন্ন কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন। এ সময় সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার জন্য তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি ডিআরইউর উন্নয়নে সহায়তার বিষয়ে সদস্যদের আশ্বস্ত করেন এবং সংগঠনটির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, প্রেস সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়ে নিজেরাই ধ্বংসের মুখোমুখি শত্রুরা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়ে নিজেরাই ধ্বংসের মুখোমুখি শত্রুরা’

মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি, যিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ, তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র বহুবার তেহরানের দৃঢ় সংকল্প এবং ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা নিয়েছে। তবে, তাদের সব হিসাব শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা অতীতের প্রতিটি যুদ্ধে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করার, ইরানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার এবং ধ্বংস করার স্লোগান নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছিলেন। কিন্তু আজ আপনারাই ধ্বংস ও উৎখাতের মুখোমুখি হয়েছেন। অন্যদিকে, একটি শক্তিশালী ইরান এখনো অটলভাবে দাঁড়িয়ে আছে।’

ইরানের চিফ অব স্টাফ আরও বলেন, যদি ইরানের বিরুদ্ধে ‘পুনরায় কোনো ভুল হিসাব’ করা হয়, তাহলে তার জবাবে আগের চেয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে সবচেয়ে বেশি হরিলুট হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতে: এমপি নাসের রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


দেশে সবচেয়ে বেশি হরিলুট হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতে: এমপি নাসের রহমান

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও হরিলুট সংঘটিত হচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকেই এই খাতে লুটপাটের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। বর্তমানে সেই দুর্নীতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সদরে মেরিনা ইয়াসমিন চৌধুরী ফিজিওথেরাপি সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে সম্প্রতি কোনো কাজ না করিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা—এটি আমরা হাতে-নাতে প্রমাণিত করেছি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে না ধরলে দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হবে। বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ দুর্নীতির মহাসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এই সমুদ্রে দুর্নীতি এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মন্ত্রী ও এমপিরাও হাবুডুবু খাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বর্তমানে মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে স্বস্তি বোধ করছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. জাকির হোসেন এবং সাংবাদিক এম শাকিল রশীদ চৌধুরী। ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি আজম জে চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের হেড অব সিএসআর কর্নেল (অব.) লিয়াকত আলী খান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের এমডি দিলরুবা চৌধুরী ও তানভীর চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে চাপের মুখে মার্কিন নাগরিকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৮ পি.এম


ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে চাপের মুখে মার্কিন নাগরিকরা

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, ইরান যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে পড়ছে। মার্কিন পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে জ্বালানি, গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল, পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি খরচ নিয়ে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, এই অর্থনৈতিক চাপ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। আল মায়াদিনে প্রকাশিত বিশ্লেষণে করিম শারারার মতে, বিদেশে নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক মাশুল কিভাবে সাধারণ নাগরিকদের বহন করতে হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় ছিল অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা। পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল। তবে ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় অর্থনৈতিক উদ্বেগের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষণটি উল্লেখ করেছে, যুদ্ধের প্রভাব শুধুমাত্র সামরিক ব্যয় বা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং এর ফলে ভোক্তাপণ্যের দামে প্রভাব পড়ে। ফলে, পররাষ্ট্রনীতিকে অনেক সময় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থেকে আলাদা করে দেখা হলেও বাস্তবে এ দুইয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।

গাড়ির ইঞ্জিন অয়েলের বাজারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান যুদ্ধের সময় কাতারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য উৎপাদকদের সরবরাহব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে সিনথেটিক লুব্রিকেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত বেস অয়েলের বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুব্রিকেন্টের দাম বৃদ্ধির কারণে গাড়ির তেল পরিবর্তনের খরচও বেড়েছে। গাড়ি সচল রাখা অনেক মার্কিন পরিবারের জন্য বিলাসিতা নয়, বরং কর্মস্থলে যাতায়াত এবং জীবিকা নির্বাহের অপরিহার্য অংশ। তাই গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হলে অনেক পরিবারকে অন্য খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এএএ-র তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৬৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু ডিজেলচালিত গাড়ির মালিকদেরই প্রভাবিত করে না, বরং পণ্য পরিবহনে ডিজেল ব্যবহৃত হওয়ায় এর বাড়তি খরচ খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

কৃষি খাতেও জ্বালানি এবং কাঁচামালের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। ইউরিয়া এবং অন্যান্য নাইট্রোজেন সার উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োজন হয়। আবার ফসফেট সার উৎপাদনেও বিভিন্ন শিল্প উপকরণের ভূমিকা রয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি এবং কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বাড়তে পারে। সেই চাপ শস্য উৎপাদন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং পরিবহনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ভোক্তাদের ওপর এসে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাও জ্বালানি বাজারের সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ রাশিয়ার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজেছে, অন্যদিকে রাশিয়াকে নতুন বাজারের দিকে ঝুঁকতে হয়েছে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের রুশ ডিজেল সংক্রান্ত লেনদেনে সাময়িক অনুমোদনের খবর থেকে বোঝা যায়, বাজারের বাস্তবতা কখনো কখনো নিষেধাজ্ঞার নীতিকে পুনর্বিবেচনার মুখে ফেলে। অর্থনৈতিক চাপের পেছনে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যাখ্যা এবং নীতিগত প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিও মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের গবেষণা উদ্ধৃত করে বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ সালের শুল্কনীতি আমদানি করা অ-জ্বালানি ভোক্তাপণ্যের মূল্যস্ফীতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। শুল্কের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়লে তার একটি অংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বহন করতে পারে, আবার কিছু অংশ বেশি দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। মূল্যবৃদ্ধির গতি কমে গেলেও আগে বেড়ে যাওয়া দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগের অবস্থায় ফিরে আসে না।

মার্কিন জনমত জরিপেও যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে। শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের ২০২৬ সালের জরিপে ৮৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতা বলেছেন, ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৭৬ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। একই জরিপে ৮১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, শুল্কনীতি জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য ক্ষতিকর; রিপাবলিকানদের মধ্যে এ মত দিয়েছেন ৬২ শতাংশ।

তবে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব স্বীকার করা এবং যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করা এক বিষয় নয়। শিকাগো কাউন্সিলের জরিপে রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা বললেও যুদ্ধের পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। এর অর্থ, ভোটারদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ব্যয়ের হিসাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না। দলীয় আনুগত্য, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ধারণা এবং সরকারের নীতির প্রতি বিশ্বাসও তাদের অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

দাম বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করার ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক বিভাজন রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক সেন্টারের জরিপে ৬৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি দামের পেছনে ট্রাম্পের নীতির ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে ৬৭ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন, উচ্চমূল্যের জন্য প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণের বাইরের কারণ দায়ী। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তার দায় কার ওপর বর্তাবে, সে বিষয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ কংগ্রেসীয় আসনগুলোতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রচারিত ৬৫টি বিজ্ঞাপনের মধ্যে ৬১টিতে গৃহস্থালি ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এসব বিজ্ঞাপন ৪৩ হাজারের বেশি বার প্রচারিত হয়; এতে আনুমানিক ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। বিজ্ঞাপনগুলোতে যুদ্ধের সঙ্গে জ্বালানি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

তবে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি স্বয়ংক্রিয় সমর্থন তৈরি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে কোন দলকে বেশি বিশ্বাস করা যায়, সে প্রশ্নে ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে ডেমোক্র্যাটদের সামনে সরকারের নীতির সমালোচনা করার সুযোগ থাকলেও, বিকল্প অর্থনৈতিক এবং পররাষ্ট্রনীতি কতটা কার্যকর হবে, তা প্রমাণ করাও তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষণটির মূল বক্তব্য হলো, পররাষ্ট্রনীতি ভোটারদের প্রধান নির্বাচনী উদ্বেগ না হলেও তার অর্থনৈতিক পরিণতি নির্বাচনের আলোচনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষককে সার উৎপাদনের জটিল প্রক্রিয়া বুঝতে না হলেও সারের দাম বাড়ার প্রভাব তিনি অনুভব করেন। একইভাবে, একজন গাড়িচালক আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সব হিসাব না জানলেও গাড়ির তেল এবং রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি খরচ টের পান।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি প্রশ্ন—যুদ্ধ এবং শুল্কনীতির কারণে বেড়ে যাওয়া ব্যয়ের দায় ভোটাররা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করে তাঁরা ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করবেন, নাকি নিরাপত্তা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক বিবেচনায় রিপাবলিকানদের সমর্থন অব্যাহত রাখবেন, তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদেরও দেখাতে হবে, সমালোচনার বাইরে গিয়ে তাঁরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং পররাষ্ট্রনীতির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় কী বিকল্প দিতে পারেন। তথ্যসূত্র: আল মায়াদিন, এপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%