ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোহাম্মদপুরে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল


মোহাম্মদপুরে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল

ঢাকার মোহাম্মদপুরে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আনন্দঘন পরিবেশে পবিত্র জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বাদ নামাজে জুম্মা শিয়া জামে মসজিদ থেকে পবিত্র আনন্দ মিছিলটি হুসাইনী ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় শুরু হয়। মিছিলটি বাঁশবাড়ী, মোহাম্মদপুর, আল্লাহ করিম জামে মসজিদ ও নূরজাহান রোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শিয়া জামে মসজিদে এসে শেষ হয়।

এই পবিত্র আনন্দ মিছিলে মোহাম্মদপুর এবং আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মোমিনীন ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে অংশগ্রহণ করেন। ব্যানার, পতাকা এবং স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মিছিলের পরিবেশ, যেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিনের আনন্দ ও তাঁর প্রতি অগাধ ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মিছিলে অংশ নেন।

আরও পড়ুন: ‘সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

মিছিলে প্রধান বক্তব্য রাখেন হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা ডক্টর আলী মুর্তজা সাহেব। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাদাত সাহেব এবং হুজ্জাতুল ইসলাম মাওলানা মেরাজ মুন্সী সাহেব। বক্তারা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য, মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, তাঁর শিক্ষা এবং মানবতার প্রতি তাঁর মহান বার্তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

মিছিলকে কেন্দ্র করে মোমিনীনদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে মিছিলটি নির্ধারিত পথ পরিক্রমা করে সফলভাবে শিয়া জামে মসজিদে এসে শেষ হয়।

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ:

হুসাইনী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পবিত্র জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকল মোমিনীন, আলেম-ওলামা, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা সকলের প্রতি জানানো হয় আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অসংখ্য ধন্যবাদ।

আরও পড়ুন: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক, পর্যালোচনা চলবে : আইনমন্ত্রী

আপনাদের ভালোবাসা, সহযোগিতা, দোয়া ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কারণেই আজকের এই আয়োজন সফল ও সার্থক হয়েছে। হুসাইনী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

আল্লাহ পাক আমাদের সকলের এই ভালোবাসা ও খেদমত কবুল করুন। আমিন। 

- হুসাইনী ফাউন্ডেশন

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে উপচেপড়া ভিড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব লেগানেসে যোগ দিলেন মোরাতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব লেগানেসে যোগ দিলেন মোরাতা

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা ইতালিয়ান ক্লাব কোমো থেকে ধারে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের দল লেগানেসে যোগ দিয়েছেন।

৩৩ বছর বয়সী এই তারকা ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনকে শিরোপা জেতানোর সময় দলটির অধিনায়ক ছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, চেলসি ও এসি মিলানের হয়ে খেলেছেন।

গত মৌসুমে সিরি-আ’তে কোমোর হয়ে ২৬ ম্যাচ খেলেন মোরাতা। ওই মৌসুমে কোমো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এর আগে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে মোরাতা দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন।

লেগানেস তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, মৌসুম শেষে মোরাতাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার জন্য তাদের কাছে কেনার সুযোগ থাকবে।

গত মৌসুমে দ্বিতীয় বিভাগের লিগে ১৬তম স্থানে থেকে শেষ করেছিল লেগানেস। ক্লাবটির মালিকানা রয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্লু ক্রো-র হাতে। প্রতিষ্ঠানটি ফ্রান্সের ক্লাব লে হাভরেরও মালিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশকে শুন্যঝুঁড়ি বানিয়ে ভারতে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: হুইপ দুলু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


দেশকে শুন্যঝুঁড়ি বানিয়ে ভারতে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: হুইপ দুলু

জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের ১৭ বছরের দুঃশাসনে বাংলাদেশকে শুন্যঝুঁড়ি বানিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কোনো ক্ষমা নেই। 

শনিবার সকাল ১১টার দিকে নাটোর জেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক ও অসহায় রোগীদের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

হুইপ দুলু বলেন, আওয়ামী জমানায় দলের নেতাকর্মী ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার আত্মীয়-স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প নেওয়া হতো। আর সেই প্রকল্পে লোক দেখানো কাজ করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তারা বিদেশে পাচার করেছে। দেশের বাইরে বাড়ি-গাড়ি-ব্যাংক ব্যালেন্স করেছে। এখন আর এসব চলবে না। সরকারি টাকা যে মেরে খাবে, তাকে জেলে পাঠানো হবে। 

দুলু বলেন, নাটোরের মাটিতে আর কোনো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের জায়গা হবে না। নাটোরে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। শিক্ষিত বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। 

অনুষ্ঠানে দুলু আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী নেতারা পাশের দেশে বসে ষড়যন্ত্র করছে। বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের অপতৎপরতা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। 

আওয়ামী লীগের আমলে দেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন ও জমিজমা দখলের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজেদের আমানত মনে করে নিরাপত্তার সঙ্গে যত্নে রেখেছে। তারপরও ভারতে বসে থাকা হাসিনার দোসরেরা মিথ্যা প্রচার করছে। দেশের মানুষ সব সময় আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবগত আছে। তাদের যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে। 

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী মো. পারভেজুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম, এমদাদুল হক আল মামুন ও নাটোর জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিমসহ অনেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবাসন সংকটের মধ্যেও সবার থাকার ব্যবস্থা হবে: এশিয়ান গেমস কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


আবাসন সংকটের মধ্যেও সবার থাকার ব্যবস্থা হবে: এশিয়ান গেমস কর্তৃপক্ষ

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : আগামী মাসের এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় আবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও আয়োজকরা জানিয়েছেন, সব অংশগ্রহণকারীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নাগোয়া ও আইচি অঞ্চলে অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসে শুরুতে প্রায় ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

এই সংখ্যা অলিম্পিক গেমসের চেয়েও বেশি। তবে গত সপ্তাহে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) জানিয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, এর মধ্যে ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ এবং ৬ হাজার কর্মকর্তা।

এবার কোনো আলাদা অ্যাথলেট ভিলেজ থাকছে না। এর পরিবর্তে আয়োজকরা একটি ক্রুজ জাহাজ, অস্থায়ী কাঠের কনটেইনার এবং বিভিন্ন হোটেলের ওপর নির্ভর করছেন।

মার্চে ওসিএ এশিয়ান গেমসের ক্রীড়া সূচিতে টেকবল ও প্যাডেল যুক্ত করে।

আইচি প্রিফেকচারের গভর্নর এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি হিদেয়াকি ওমুরা চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে তাদের “জনবল কিংবা বাজেট, কোনোটিই নেই”।

তিনি বলেছিলেন, “তারা যদি তারপরও আসতে চান, তাহলে তাদের নিজেদের ব্যবস্থা নিজেদেরই করতে হবে।”

তবে আয়োজক কমিটি ও ওসিএর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাইয়ে নাম নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে এশিয়ান গেমসে নিবন্ধিত ১৭ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার প্রত্যেকের জন্য গেমস-উপযোগী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

“ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া নতুন করে কোনো নিবন্ধন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও করা হবে না।”
অ
ন্যদিকে শুধু আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা “প্রতিদিনই পরিবর্তিত হচ্ছে” এবং এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তারা স্বীকার করেছে, “এখন ধারণা করা হচ্ছে যে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে।”

খরচ কমাতে আয়োজকরা অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনা ভাড়া করা হয়েছে।

জাহাজটিতে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ক্রীড়াবিদ থাকবেন। আরও প্রায় ২ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা শিপিং কনটেইনারের মতো দেখতে তৈরি অস্থায়ী কক্ষে থাকবেন।

বাকি অংশগ্রহণকারীদের হোটেলে রাখা হবে। এর মধ্যে টোকিওর হোটেলও রয়েছে, কারণ সাঁতার, ডাইভিং ও অশ্বারোহণের মতো কিছু ইভেন্ট টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে।

অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন প্রতিবেদনও নাকচ করেছে স্থানীয় আয়োজক কমিটি। 

তারা জানিয়েছে, এর পরিবর্তে “কিছু দলের কর্মকর্তা নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা করবেন”।

জাপানের টাইফুন মৌসুম সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তীব্র থাকলেও এর কারণে পরিকল্পনা ব্যাহত হবে না বলে আত্মবিশ্বাসী কর্মকর্তারা।

আয়োজক কমিটি ও ওসিএর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং মসৃণভাবে চলছে। প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে জমকালো এশিয়ান গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি পুরোদমে এগিয়ে চলছে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর উদ্বেগ

অপরাধ ঠেকাতে ৫০ সিসি ক্যামেরা, পর্যায়ক্রমে বাড়বে নজরদারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:০৭ পি.এম


অপরাধ ঠেকাতে ৫০ সিসি ক্যামেরা, পর্যায়ক্রমে বাড়বে নজরদারি

অপরাধ প্রতিরোধের জন্য ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, এবং পর্যায়ক্রমে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

একাধিক সংঘর্ষ, স্থানীয় বিরোধ, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ এবং সম্প্রতি সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিন হত্যাকাণ্ডের কারণে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. শরীফুল আলম। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের শনাক্ত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৫০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শহরের অন্যান্য এলাকা পর্যায়ক্রমে ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ভৈরব বাজার শহর পুলিশ ফাঁড়ি চত্বরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আলহাজ্ব মো. জাহিদুল হক জাবেদ।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনা ও স্থানীয় বিরোধের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পর সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত কিংবা গোষ্ঠীগত বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সম্প্রতি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, বাসস্ট্যান্ডে ভাড়া নিয়ে বিরোধ এবং ভৈরব রেলস্টেশনে খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। এসব ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ সাবেক কাউন্সিলর আল-আমিন হত্যাকাণ্ড ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ভৈরবের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চান। গুটিকয়েক অপরাধীর কারণে পুরো এলাকার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধী যে-ই হোক, এমনকি নিজ দলের সদস্য হলেও, প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৫০ ক্যামেরায় নজরদারি

অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে ৫০টি উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাজার ও পয়েন্টে নজরদারি করা হবে। শহরের আরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পর্যায়ক্রমে ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই বিবেচনায় নিতে হবে।

উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ

ভৈরব-কুলিয়ারচর এলাকায় আগামী দিনে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অসহায় ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার, সেলাই মেশিন, স্কুল ব্যাগ ও স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্য অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।

শুধু ক্যামেরা স্থাপন করলেই হবে না, কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অপরাধ সংঘটনের পর ঘটনাস্থলের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে। তবে ক্যামেরা স্থাপন করলেই এর সুফল পাওয়া যাবে না।

ক্যামেরাগুলো সার্বক্ষণিক সচল রাখা, নিয়মিত মনিটরিং, পর্যাপ্ত সময় ফুটেজ সংরক্ষণ এবং অপরাধের পর দ্রুত তদন্তে এসব ফুটেজ ব্যবহারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্যামেরার আওতার বাইরে থাকা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোও পর্যায়ক্রমে নজরদারির মধ্যে আনা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি পুলিশের টহল ও তৎপরতা বাড়ানো, মাদক ও ছিনতাই দমন এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভৈরবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। নিরাপদ ভৈরব গড়তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং নাগরিক সচেতনতার সমন্বিত উদ্যোগই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%