১১:০৮ পি.এম
শারদীয় দুর্গাপূজা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। বরিশাল জেলা ও মহানগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কারিগর ও আয়োজকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা নির্মাণ, রং-তুলির কাজ, মণ্ডপ সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও তোরণ নির্মাণে। বরিশাল জেলা ও মহানগর মিলিয়ে মোট ৬৩৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৫৯০টি এবং বরিশাল মহানগর এলাকায় ৪৭টি মণ্ডপ রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এবার একটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যদিয়ে শুরু হবে। এর পর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে।
বরিশাল নগরীর ফলপট্টি কালিমাতা ঠাকুরনীর মন্দির ও সদর রোডস্থ শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। অধিকাংশ প্রতিমার কাঠামো ও মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বাকি রয়েছে রং তুলির কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন শিল্পীরা। নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে কোথাও প্রতিমায় শেষ মুহূর্তের কাজ, কোথাও চলছে মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধন। আবার কোথাও নির্মাণ করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন তোরণ ও আলোকসজ্জা। প্রতিটি মণ্ডপকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আয়োজকদের মধ্যে চলছে নানা প্রস্তুতি।
আরও পড়ুন: বরিশালে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ ও র্যালির মাধ্যমে উদযাপন
প্রতিমা শিল্পী রনজিৎ পাল জানান, রংসহ প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জায় ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বাড়তি শ্রম দিতে হচ্ছে। অপরদিকে দুর্গাপূজাকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন নানা প্রস্তুতি নিচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা বলেন, মহানগরীতে ৪৭টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার একটি মণ্ডপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মানিক মুখার্জী জানান, প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিমা নির্মাণ, রং ও সাজসজ্জার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব মণ্ডপের প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও সিসি ক্যামেরাসহ নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পূজা উদযাপন পরিষদের সমন্বিত উদ্যোগে এবারের দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভীন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বরিশালের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা, মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতিতে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। একই সঙ্গে নগরীসহ জেলার বিপনীন বিতানগুলোতে সনাতন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশুদের নতুন পোষাকসহ অন্যান্য সামগ্রী কেনার ধুম পরেছে।
বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হবে আগৈলঝাড়া উপজেলায়। সেখানে ১৬৯টি পূজামণ্ডবে দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, রাজিহার ইউনিয়নে ৫২, বাকাল ইউনিয়নে ৪৩, বাগধা ইউনিয়নে ২৬, গৈলা ইউনিয়নে ২৪ ও রত্নপুর ইউনিয়নে ২৪টি সহ মোট ১৬৯টি মণ্ডবে এবারের দুর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আমতলীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার
ওসি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি মণ্ডবে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
সূত্রমতে, আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিপুল সংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস থাকায় প্রতি বছর এখানে উৎসবের আমেজ অনেক বেশি থাকে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় প্রতিবছর এখানে পূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির বরিশাল জেলা তথা বিভাগের অন্যতম বৃহৎ ও আকর্ষণীয় পূজামণ্ডপ। এবারও এখানে আয়োজনের কোন কমতি রাখেননি আয়োজকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন