০১:১৩ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালত বার্জিস শাবনাম বর্ষা এবং তার সহযোগী তিনজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন। এর মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের মামলা আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে। আদালত আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
রবিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির শেষে বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
বর্ষার পক্ষে আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, "তার মক্কেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু মামলায় ৪৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলেও কেউ তার মক্কেলের সম্পৃক্ততার কথা বলেননি।" তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু কেনার টাকা দেওয়ার অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ তদন্ত সংস্থা উপস্থাপন করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন জোরদারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি
তিনি উল্লেখ করেন, "আয়লানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।" বর্ষা দাবি করেন, মাহির তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং হত্যার পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। তাই বন্ধুর ডাকে সেখানে যাওয়ার কারণে তাকে অভিযুক্ত করা যায় না। তিনি তার মক্কেলের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি না দেওয়ার আবেদন জানান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, "ভুক্তভোগীকে হত্যার জন্য তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন।" তিনি আদালতের কাছে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু বলেন, "তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে প্রায় এক মাস আগে থেকে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।"
শুনানির পর আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় আয়লান ও মাহিরের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারক। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে, মামলার তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রে বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান এবং ফারদীন আহমেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সহযোগিতায় ক্যান্সারের লড়াইয়ে জয়ী শিশু নিশা
মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মো. জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় বর্ষাকে পড়াতে যান।
সেদিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে বর্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠিয়ে জানান, "জোবায়েদ স্যারকে খুন করা হয়েছে।" পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে কামরুল হাসান মুঠোফোনে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের খবর জানান।
এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। পরে তৃতীয় তলার একটি কক্ষের পূর্ব পাশে সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে প্রায় নয় মাস পর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আরো এক কয়েদির মৃত্যু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন