ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যে কারণে ৩০ ঊর্ধ্ব মার্কিন সেনাদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র


যে কারণে ৩০ ঊর্ধ্ব মার্কিন সেনাদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা করেছেন যে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি সক্রিয় ও রিজার্ভ সেনাসদস্যদের জন্য বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি (টেস্টোস্টেরন ডেফিসিয়েন্সি) পরীক্ষা করা হবে।

এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হেগসেথ জানিয়েছেন, সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচিটি চালু করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

তিনি আরও জানান যে, যাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম পাওয়া যাবে, তাদেরকে স্বেচ্ছাভিত্তিতে হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (এইচআরটি) নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তবে ৩০ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে এ পরীক্ষা ঐচ্ছিক থাকবে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানিয়েছেন, নতুন নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বিভাগ সেনাদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ভিত্তি তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টার্গেটেড চিকিৎসার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সক্ষম ও কার্যকর যুদ্ধশক্তি বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

তবে, এই পরীক্ষা নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না, কিংবা বয়সজনিত হরমোন পরিবর্তনের জন্য তাদের ইস্ট্রোজেনভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হবে কি না—এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও ইরাক যুদ্ধের সাবেক সেনাসদস্য ট্যামি ডাকওর্থ নারী ও পুরুষ উভয় সেনাসদস্যের জন্য হরমোন পরীক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস সদস্য ক্রিসি হুলাহান এই উদ্যোগকে ‘সংস্কৃতিযুদ্ধের আরেকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করেছেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

বেইলর কলেজ অব মেডিসিনের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহিত খেরা বলেন, ৩০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কম টেস্টোস্টেরনের কারণে পেশিশক্তি, কর্মশক্তি ও মানসিক সক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, উপসর্গ না থাকলে শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে হরমোন দেওয়া উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির ফলে পেশিশক্তি বৃদ্ধি, শরীরে চর্বি কমানো, বিষণ্নতার ঝুঁকি হ্রাস এবং হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির মতো উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়।

ডা. খেরা আরও বলেন, তরুণ বয়সে অপ্রয়োজনীয় টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং হৃদ্রোগের সম্ভাবনাও কিছুটা বাড়াতে পারে।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র টেস্টোস্টেরনভিত্তিক চিকিৎসা সহজলভ্য করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি, দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) টেস্টোস্টেরন থেরাপি-সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তাবও দিয়েছে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে হামলার ছক, যুক্তরাজ্যে কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ এম


মসজিদে হামলার ছক, যুক্তরাজ্যে কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ লন্ডনের দুটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৪ বছর বয়সি এক কিশোরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য মতে, ঘটনাটি চরম ডানপন্থি মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এতে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, নাম প্রকাশ না করা ওই কিশোরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ লন্ডনের সাটন এলাকার দুটি মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া, গত ২০ জুন বা তার আগে একটি গাড়ির জানালা ভাঙার ঘটনায় বর্ণবিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যে সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশে ওই কিশোরকে আটক রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রথমে গত ৯ জুলাই একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্বেগজনক কিছু নথি উদ্ধার করা হয়। এরপর সন্ত্রাসবাদবিরোধী ইউনিট তদন্ত শুরু করে এবং ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে মামলার পরিধি বাড়ানো হয়।

তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়, যা চরম ডানপন্থি মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল সাটন এলাকার দুটি মসজিদ। ঘটনার পরপরই বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা ওই দুই মসজিদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কাউকে খোঁজা হচ্ছে না এবং বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের কোনো অতিরিক্ত হুমকির তথ্যও তাদের কাছে নেই। লন্ডনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, ‘এত অল্প বয়সি একজনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ সৃষ্টি করবে।’

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট তদন্তে অল্প বয়সিদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা বাড়ছে। তাই তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও শিশুদের কাছের মানুষদের সতর্ক হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি পাওয়া গেলে বের করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ এম


মালয়েশিয়ায় কোনো ইসরাইলি পাওয়া গেলে বের করে দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছেন, যদি দেশটিতে কোনো ইসরাইলি নাগরিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, তাহলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বের করে দেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) তিনি এ ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলীয় জোহর রাজ্যে একটি বেসরকারি আবাসিক কমিউনিটির কার্যক্রমে একজন ইসরাইলি ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।

ইংরেজি দৈনিক ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে জানিয়েছে, আনোয়ার বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভিযোগটি তদন্ত করছে। এবং অভিযোগ সত্য পরীক্ষিত হলে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।

তিনি আরও বলেন, যদি আমাদের কাছে কোনো ইসরাইলি নাগরিক থাকে, তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বের করে দেওয়া হবে। কারণ আমরা ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিই না।

মালয়েশিয়া ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার কারণে, বিশেষ অনুমতি ছাড়া দেশটিতে ইসরাইলি পাসপোর্টধারীদের প্রবেশ সাধারণত নিষিদ্ধ থাকে।

স্টার্টআপ কমিউনিটি নেটওয়ার্কের স্কুল–সংক্রান্ত অভিযোগের পর জোহর রাজ্য সরকার ফেডারেল পর্যায়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে, বুধবার দেশটির অভিবাসন বিভাগ জানায়, ফরেস্ট সিটি আন্তর্জাতিক কমিউনিটিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৬৬ জন বিদেশিকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের সবার কাছ থেকেই বৈধ অভিবাসনসংক্রান্ত নথিপত্র পাওয়া গেছে।

সূত্র: আনাদলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ এম


বিজেপির শেষ না দেখে মরতে চাই না: মমতা

নিজেকে যেন চলচ্চিত্রের চরিত্র ইন্ডিয়ানা জোনসের সঙ্গে তুলনা করে সমালোচকদের জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, তিনি এখনো লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত এবং ‘বিজেপির শাসনের অবসান’ না দেখা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে চান।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসির ভরাডুবির পর অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক যখন মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন তিনি পালটা দাবি করেছেন—দলত্যাগে দুর্বল হয়ে পড়া দলকে তিনি আবারও নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

৭১ বছর বয়সি মমতা ফেসবুক বার্তায় বলেন, আমার বয়স নিয়ে আপনাদের চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। মানুষের বয়স নির্ধারণ করে তার মন, শরীর ও মানসিক শক্তি। আমি কি কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি? বয়স নিয়ে কাউকে অপমান করার সাহস দেখাবেন না। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বিজেপির লোকজন চেয়েছিল আমি যেন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাই। কিন্তু আমি বেঁচে থাকব, যত দিন না তোমাদের পতন দেখি।

বয়সকে প্রত্যাবর্তনের পথে বাধা মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এবারও তিনি দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলবেন।

মমতা বলেন, যারা যেতে চায়, তারা চলে যাক। যা থাকবে, সেটাই আমার সোনার খনি। ২০০৪ ও ১৯৯৭ সালে যেমন একা নতুন করে শুরু করেছিলাম, ২০২৬ সালেও তেমনই পারব। আমার সেই সাহস এখনো আছে। আমি এক-দুই নয়, তিন প্রজন্মের নেতা তৈরি করেছি এবং যারা আমার সঙ্গে আছে, তাদের জন্য আমি ছাতার মতো আশ্রয় হয়ে থাকব।

এরপরই তিনি ঘোষণা দেন, করব, লড়ব, বাঁচব। এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে টিএমসিতে নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য বিধানসভা ও জাতীয় সংসদে নির্বাচিত তার দলের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি বিদ্রোহ করেছেন। বিধায়কদের বড় অংশ বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং লোকসভার ২০ জন সাংসদ একটি ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে এনডিএ জোটকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন।

২১ জুলাই টিএমসির শহীদ দিবসের সমাবেশের কয়েক দিন আগে মমতার এই আবেগঘন বার্তা এসেছে। দলটির রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার একই দিনে দলটির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে পৃথকভাবে শহীদ দিবস পালন করবে।

এদিকে বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন টিএমসি গোষ্ঠীকে কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের ঐতিহ্যবাহী স্থানের পরিবর্তে বিড়লা প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে তাদের বার্ষিক ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে যুব কংগ্রেসের সভাপতি থাকাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভে ১৩ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। সেই ঘটনাকে স্মরণ করেই পরবর্তীতে টিএমসি প্রতি বছর ২১ জুলাই ‘শহীদ দিবস’ পালন করে আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে কয়েক ঘণ্টার একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে গোটা দেশকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ এম


তুরস্কে কয়েক ঘণ্টার একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা যেভাবে পালটে দিয়েছে গোটা দেশকে

রাস্তায় গোলাগুলি, চলমান ট্যাংক, সরকারি ভবনের ওপর নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, সংসদ ভবনে হামলা – এসব কিছুই টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। তিনটি সামরিক অভ্যুত্থান এবং আরও দুটি সামরিক হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা থাকা একটি দেশের জন্যও ২০১৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের রাতটি ছিল নজিরবিহীন।

এর আগে কখনও তুরস্কের সংসদ ভবন হামলার শিকার হয়নি এবং ইস্তানবুলের বসফরাস সেতু, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ জুলাই শহীদ সেতু নামে পরিচিত, কখনও এমন রক্তপাতের সাক্ষী হয়নি। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের আহ্বানে সাধারণ মানুষ অভ্যুত্থানকারীদের প্রতিরোধে রাস্তায় নেমে এসেছিল।

অজ্ঞাত একটি স্থান থেকে মোবাইল ফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সরাসরি একজন টেলিভিশন উপস্থাপকের সঙ্গে কথা বলে এরদোগান সেদিন রাতে তার সমর্থকদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। সারা দেশের মসজিদগুলোও তাদের লাউডস্পিকারের মাধ্যমে তার বার্তা প্রচার করে।

সকালের মধ্যেই অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হয়। মোট ২৫৩ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১৮৪ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। আর কথিত ৩৪ জন ষড়যন্ত্রকারীও নিহত হন। অভ্যুত্থানচেষ্টাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল, কিন্তু এর পরিণতি গত এক দশকে তুর্কি রাজনীতিকে পুনর্গঠন করেছে। এতে দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে গেছে এবং বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান সরকার তখন দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইসলামপন্থি ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেনের নেটওয়ার্ক এই অভ্যুত্থানচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গুলেন এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভ্যুত্থানচেষ্টার কয়েকদিন পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যা ২০১৮ সাল পর্যন্ত বলবৎ ছিল এবং সাতবার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময়ে কর্তৃপক্ষ তুরস্কের আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শুদ্ধি অভিযানের একটি পরিচালনা করে।

সরকার বলেছিল, গুলেন নেটওয়ার্ককে ভেঙে দিতে এসব ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল। একসময় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন গুলেন। তার ধর্মীয় আন্দোলনের সদস্যরা কয়েক দশক ধরে তুর্কি রাষ্ট্র ও আমলাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

অভ্যুত্থানচেষ্টার পর হাজার হাজার সেনাসদস্য, যার মধ্যে পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও জেনারেলও ছিলেন, বিচারক, প্রসিকিউটর বা আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার, বরখাস্ত বা সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

গুলেন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ থাকা শত শত বেসরকারি স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়, পাশাপাশি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ হয়। সমালোচকদের দাবি, এই দমন অভিযান শুধু কথিত অভ্যুত্থানকারী ও গুলেনপন্থিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আরও বিস্তৃতভাবে ভিন্নমত দমনেও ব্যবহৃত হয়।

বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, শুদ্ধি অভিযানের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।

এরদোগানের ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বহু লোকের মতে, অভ্যুত্থানচেষ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব ছিল প্রেসিডেন্ট এরদোগানের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত হওয়া। ২০১৭ সালে ভোটাররা অল্প ব্যবধানে এমন সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন, যার মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বাদ দিয়ে শক্তিশালী নির্বাহী রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয়। পরের বছর এসব পরিবর্তন কার্যকর হয়। প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানো হয়।

সমর্থকদের মতে, নতুন ব্যবস্থা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আরও কার্যকর শাসন নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, এতে প্রেসিডেন্টের হাতে, বিশেষ করে একজন ব্যক্তির চারপাশে, অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউজ বলছে, রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থার অধীনে নীতিনির্ধারণে আইনপ্রণেতাদের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে।

তুরস্ক নিয়ে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, (এরদোগান) প্রায়ই মন্ত্রণালয় এবং স্বাধীন সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেন, যখন তারা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়।

ইস্তানবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক দোগান চেতিনকায়াও এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত। তার মতে, প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যবস্থা ‘খামখেয়ালিপনা এবং অস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ দ্বারা চিহ্নিত।

কর্তৃত্ববাদ নিয়ে উদ্বেগ তুরস্ক সরকার বহু বছর ধরেই মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনার মুখে ছিল। তবে অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানের পর সেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

গুলেন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে হাজার হাজার বিচারক ও প্রসিকিউটরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর মানবাধিকার সংগঠন ও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

অধ্যাপক চেতিনকায়া বলেন, ১৫ই জুলাইয়ের পর তুরস্কের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং তারা তাদের স্বায়ত্তশাসন হারায়। বিচার বিভাগ এবং আইনসভা আর অর্থবহ ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেনি।

এর পর থেকে জনসমাবেশ আয়োজন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। কর্তৃপক্ষ প্রায়ই সমাবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। গণমাধ্যমের মালিকানার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলার কারণে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও দুর্বল হয়েছে।

২০২৬ সালের রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ১৬৩তম।

দেশটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি একজন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান প্রেসিডেন্টকে অপমানের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি সাংবাদিক, রাজনীতিক ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের সেই দীর্ঘ তালিকায় যুক্ত হয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

ফ্রিডম হাউজ বলছে, গত এক দশকে তুরস্ক সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, স্বাধীন সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের কারাবন্দি করার মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছে।

ইস্তানবুলের মেয়র একরেম ইমামোগলু, যাকে ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোয়ানের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকেই, ২০২৫ সালের মার্চে দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার সঙ্গে আরও কয়েক ডজন পৌর কর্মকর্তা গ্রেফতার হন। যদিও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলছে।

২০২৬ সালের মে মাসে একটি আদালতের আদেশ কার্যত তার দল, প্রধান বিরোধী দল সিএইচপি-এর নেতৃত্বে হস্তক্ষেপ করে এবং বর্তমান নেতার পরিবর্তে একজন সাবেক নেতাকে দায়িত্ব দেয়। বিরোধীরা এ ঘটনাকে ‘বিচারিক অভ্যুত্থান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে সরকার গণতান্ত্রের যাত্রা পিছিয়ে দেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে।

সরকারের বক্তব্য হলো, অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং পরবর্তী শুদ্ধি অভিযানের পর গৃহীত পরিবর্তনগুলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করেছে। কারণ এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্য হুমকি বলে বিবেচিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অপসারণ করা হয়েছে।

ইয়িলদিরিম বেয়াজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নুরি সালিক বলেন, বর্তমান ব্যবস্থাকে আমি অভ্যুত্থানচেষ্টার মাধ্যমে উন্মোচিত অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের গড়ে তোলা একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখি। এটিকে শুধু কর্তৃত্ববাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে দেখি না; বরং রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার প্রবৃত্তিরই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে দেখি।

সামরিক বাহিনীর ভূমিকার অবসান দশকের পর দশক ধরে তুর্কি সামরিক বাহিনী নিজেদের মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক প্রতিষ্ঠিত ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের অভিভাবক হিসেবে দেখেছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে বারবার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১৬ সালের অভ্যুত্থানচেষ্টার পর ধারাবাহিক কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে দৃঢ়ভাবে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনা হয়। নিয়োগ ও নেতৃত্বে নতুন কাঠামো চালু করা হয়। সামরিক একাডেমি ও হাসপাতালগুলো পুনর্গঠিত বা বন্ধ করা হয় এবং সামরিক ইউনিটগুলোকে শহরকেন্দ্রের বাইরে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়।

অনেক বিশ্লেষকের বিশ্বাস, এসব পরিবর্তন কার্যত তুর্কি রাজনীতিতে সামরিক হস্তক্ষেপের যুগের অবসান ঘটিয়েছে। অধ্যাপক সালিক বলেন, সেনাবাহিনী সবসময় রাজনীতির ওপর অভিভাবকত্বের একটি ব্যবস্থা হিসেবে বিদ্যমান ছিল। আধুনিক তুর্কি ইতিহাসে (১৫ই জুলাই) প্রথমবারের মতো মানুষ সক্রিয়ভাবে একটি সামরিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করেছে। সে অর্থে এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়বদল।

তার বিশ্বাস, তুর্কি রাজনীতি গভীরভাবে প্রভাবিত করার সক্ষমতা সামরিক বাহিনী এখন ‘সম্পূর্ণভাবে হারিয়েছে’। তিনি বলেন, এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নীতি অভ্যুত্থানচেষ্টার পর তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। পরবর্তী মাস ও বছরগুলোতে আঙ্কারা উত্তর সিরিয়ায় তিনটি বড় সীমান্তপার সামরিক অভিযান চালায়, যার লক্ষ্য ছিল ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী এবং পিপলস প্রোটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি)।

তুরস্ক ওয়াইপিজি-কে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। পিকেকে-কে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পিকেকে-এর সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ দেখা গেছে, যদিও অগ্রগতি এখনো অনিশ্চিত।

অধ্যাপক সালিকের মতে, ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টা তুর্কি রাষ্ট্রের ভেতরে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছিল।

একই সময়ে, নেটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ার সত্ত্বেও তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে আরও বৈচিত্র্যময় পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছে। রাশিয়ান এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-থার্টিফাইফ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবেন এবং এফ-থার্টিফাইফ বিক্রির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এমন কোনো পদক্ষেপ কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য তুরস্কের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় খুব কম অগ্রগতি হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে অন্তর্ভুক্তি-সংক্রান্ত আলোচনা কার্যত স্থগিত রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%