ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট


কসোভোতে মুসলিম দেশ হিসেবে অন্য এক দৃষ্টান্ত: ক্যাথলিক নারী নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র মুসলিম দেশের খবর সম্প্রতি ব্যাপকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশটির নাম কসোভো। গত ৭ অক্টোবর, প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই দেশের পার্লামেন্ট একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টান নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যেও, দেশটির মুসলিম সদস্যরা একজন খ্রিষ্টানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে দেখিয়েছেন, কীভাবে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের নাম জাস্টিনা শিরোকা পুলা। তিনি দেশের তৃতীয় নারী প্রেসিডেন্ট হলেও, খ্রিষ্টান হিসেবে প্রথম। এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহনশীলতার একটি অনন্য উদাহরণ।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, কসোভোতে খ্রিষ্টানদের মোট সংখ্যা ৫ থেকে ৬ শতাংশ। ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ২ থেকে ৩ শতাংশ। এমন একটি পরিসংখ্যানে, যেখানে তারা সংখ্যালঘু, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। যদিও অনেক বছর আগে আরেকটি মুসলিম রাষ্ট্র সেনেগালে এমন একটি দৃষ্টান্ত দেখা গিয়েছিল। দেশটি ১৯৬০ সালে স্বাধীন হওয়ার পর, কসোভোর মতো ৯৬ শতাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছিল। তার নাম ছিল লিউপোলড সেদার সিংঘর। তিনি ২০ বছর ধরে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলেন।

বর্তমানে, যখন সারা বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা সংঘর্ষে লিপ্ত, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালানোর প্রেক্ষাপটে, কসোভোর এই ঘটনা একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে সবাইকে শিক্ষা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ১২৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই ক্ষুদ্র দেশের আয়তন মাত্র ১০ হাজার ৮৭৮ বর্গকিলোমিটার। এটি ইউরোপের দশম ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। জনসংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ, যার মধ্যে ৯৬ শতাংশ মুসলমান এবং ৪ শতাংশ খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী। ১৯৯৮-৯৯ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর, ন্যাটো ও জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সার্বিয়ার সৈন্যদের প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয়। এরপর ৯ বছর জাতিসংঘের প্রশাসনের অধীনে থাকার পর, দেশটি চূড়ান্তভাবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যদিও জাতিসংঘের সব সদস্য দেশ এই সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি, তবে ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১১৫টি দেশ কসোভোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সার্বিয়া ও রাশিয়া বরাবরই কসোভোর স্বাধীনতার বিরোধিতা করে আসছে।

এদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটি সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই হয়তো তেমন কোনো ধারণা নেই। তাই সংক্ষেপে হলেও এর একটি বিবরণ থাকা দরকার। কারণ, ৯৬ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে একজন ক্যাথলিক খ্রিষ্টানকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, দেশটির মানুষ ধর্মের চেয়ে জাতীয়তাবাদকে বেশি গুরুত্ব দেয়। দেশটির জনগণ জাতিগতভাবে প্রধানত আলবেনীয়। তারা মনে করে, আলবেনীয় পরিচয়ের সঙ্গে আলবেনীয় জাতীয়তাবাদ জড়িত। সেই কারণেই কসোভো যুদ্ধের সময় মুসলমান ও খ্রিষ্টানরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছেন।

মূলত কসোভো একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তবে এটি কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষ তুরস্কের মতো নয়। এখানে সব ধর্মের মানুষকে সমভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, কসোভোর ধর্মনিরপেক্ষতা হলো ধর্ম ও রাষ্ট্রের পারস্পরিক সহাবস্থান এবং নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। অর্থাৎ ধর্ম ও রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা এবং নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। পক্ষান্তরে, কামাল আতাতুর্কের ধর্মনিরপেক্ষতার মডেলে ধর্মের ওপর রাষ্ট্রের কঠোর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, সেখানকার আলেমসমাজ কীভাবে ভূমিকা পালন করে, সেটিও জানার বিষয়। জানা গেছে, কসোভোর আলেমসমাজ ঐতিহাসিকভাবে বলকান অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী উদারপন্থি হানাফি সুন্নি মতাদর্শ অনুসরণ করে থাকে। তারা ইসলামকে চরমপন্থা ও উগ্রবাদ থেকে মুক্ত রেখে সহনশীল এবং আধুনিক জীবনমুখী ধর্ম হিসেবে প্রচার করে থাকে।

আরও পড়ুন: পুতিন ও জেলেনস্কির শিগগিরই বৈঠক হবে: ট্রাম্প

এছাড়া কসোভোতে সুফিবাদেরও প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। বলকান অঞ্চলে ইসলামের বিস্তার ঘটেছে মূলত সুফি-সাধকদের মাধ্যমে, যেমনটি ঘটেছে ভারতীয় উপমহাদেশেও। তাই এ উপমহাদেশে যেমন অসংখ্য মানুষ সুফিবাদ অনুসরণ করেন, তেমনি কসোভোয়ও বিপুলসংখ্যক মানুষ সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন সুফি তরিকার সঙ্গে যুক্ত আছেন। আমাদের অঞ্চলের মতো সেখানেও মূলধারার সুন্নি আলেমসমাজ ও সুফি দরবেশদের মধ্যে ধর্ম পালনের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তা কখনো সংঘাতে রূপ নেয় না।

আমাদের অঞ্চলের মতো কসোভোয়ও সুফিবাদের অনুসারীরা বিভিন্ন তরিকার অনুসারী। সেখানে প্রধানত রিফাই, খালওয়াতি, কাদেরি ও বেকতাশি তরিকার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। সেখানেও খানকা রয়েছে, যাকে দেশটির ভাষায় বলা হয় তেকে। এই তেকে সামাজিক মিলনকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এখানে অভাবী মানুষদের খাবার দেওয়া হয়। আমাদের উপমহাদেশের খানকাগুলোয়ও যেমন অভাবীসহ সব ধরনের মানুষ আহার করেন, সেখানেও তেমন ব্যবস্থা রয়েছে।

এছাড়া কসোভোর সুফিরা, বিশেষ করে রিফাই তরিকার দরবেশরা, প্রতিবছর বসন্তের শুরুতে (২২ মার্চ) হজরত আলী (রা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সুলতান নওরোজ’ উৎসব পালন করে থাকেন। এই উৎসবে জিকিরের সময় দরবেশরা একধরনের আধ্যাত্মিক ঘোরের মধ্যে চলে যান এবং নিজেদের গালে ও শরীরে লোহার শিক বা সুচ বিদ্ধ করেন, যা বলকান অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য।

এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মূলত সুফি সাধকরাই ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছেন। তারা এই শিক্ষা পেয়েছেন সাহাবায়ে কেরাম ও তাবে-তাবেঈনদের কাছ থেকে। এখানে উল্লেখ করতে হয়, সাহাবায়ে কেরাম রাসুল (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ করে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাদের অনুসরণ করেছিলেন তাবে-তাবেঈনরা এবং পরবর্তীকালে সুফি সাধকরা। বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (সা.) সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘সাবধান! যারা এখানে উপস্থিত আছো, তারা এই বাণীটি অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেবে। সম্ভবত অনুপস্থিত ব্যক্তি উপস্থিত শ্রোতাদের চেয়ে বেশি ভালোভাবে কথাটি অনুধাবন করতে পারবে।’

আরও পড়ুন: প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ জন নিহত

মহানবী (সা.)-এর ওই নির্দেশের পর সাহাবায়ে কেরাম পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েন। এখানে উল্লেখ করতে হয়, বিদায় হজের এই সমাবেশে ১ লাখ ১৪ হাজার, মতান্তরে ১ লাখ ২৪ হাজার সাহাবি উপস্থিত ছিলেন। কথিত আছে, এই সাহাবিদের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার সাহাবির কবর মক্কা ও মদিনায় রয়েছে। বাকি সাহাবিদের কবর পৃথিবীর নানা দেশে রয়েছে। এভাবে সাহাবিদের অনুসরণ করে তাবে-তাবেঈনরাও সারা দুনিয়ায় ইসলাম প্রচারে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। একইভাবে সুফি সাধকরা পৃথিবীর নানা দেশে ইসলাম প্রচার করে গেছেন। আমাদের উপমহাদেশেও এমনটি ঘটেছে। এখানে কোনো শাসক তরবারি উঁচিয়ে ইসলাম প্রচার করেননি; বরং সুফি ও দরবেশরা শান্তির বাণী নিয়ে ইসলাম প্রচার করেছেন।

এই পটভূমিতে বলা যায়, ইসলাম শান্তির ধর্ম হিসেবে পরিচিত। চরমপন্থা, উগ্রতা বা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং ইসলাম ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের কঠোরভাবে দমন করার কথা বলেছে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান শাকিলের জানাজায় এমপির বিরুদ্ধে

নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলামের জানাজার পূর্বে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুসল্লিরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই ঘটনার ফলে জানাজার মাঠে উত্তেজনা দেখা দেয়।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

জানাজার আগে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্দুল আজিজ বলেন, ‘প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আমার একটা কথা শুনতে হবে দাদারা।’ এই কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মী ও মুসল্লিরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি বক্তব্য বন্ধ করে দেন।

পরে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বক্তব্য রাখেন। এরপর শাকিলের পরিবারকে নিজের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন এমপি আব্দুল আজিজ। এই ঘোষণায় ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হুইপ দুলু মাইক হাতে নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

জানাজা শেষে বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে চাঁচকৈড় বাজারের সুপারিহাট রোডে আমেরিকাপ্রবাসী রাসেলের রাশ আরবানী মেগা শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এর আগে শাকিল হত্যা মামলায় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৭ এম


ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৪৭ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। রয়টার্সের কাছে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যয় পেন্টাগনের গত জুলাই মাসের প্রাক্কলনের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়েছে। এছাড়া, যুদ্ধে হারানো বিমান ও ড্রোনসহ সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এই ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গত জুলাই মাসে দেওয়া ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রাক্কলনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতের ব্যয় সর্বশেষ হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে রয়টার্স পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৮ এম


গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মূল শর্তটি অ্যাডাম প্রজেওয়ার্সকির একটি পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়: গণতন্ত্র এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে পরাজিত হতে পারে এবং পরাজয়ের পর ফলাফল মেনে নিতে বাধ্য হয়। ফলের অনিশ্চয়তা এবং ফল মেনে নেওয়া—এই দুটি শর্ত একসঙ্গে পূরণ হলেই নির্বাচন সত্যিকার অর্থে অর্থবহ হয়ে ওঠে। রাজনীতিবিজ্ঞানে দ্বিতীয় শর্তটিকে বলা হয় পরাজিতের সম্মতি। স্যামুয়েল পি হান্টিংটন তার দ্বৈত-হস্তান্তর পরীক্ষা (two-turnover test) উল্লেখ করেছেন: কোনো গণতন্ত্রকে সুসংহত বলা যাবে তখনই, যখন ক্ষমতার হাতবদল অন্তত দুবার শান্তিপূর্ণভাবে ঘটে। এই দুই শর্তের কেন্দ্রে একটি প্রশ্ন থেকে যায়: নির্বাচন পরিচালনার সময় রেফারির আসনে কে থাকবে এবং তার নিরপেক্ষতায় পরাজিত পক্ষ কতটা আস্থা রাখতে পারবে। বাংলাদেশ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছিল ১৯৯৬ সালে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।

গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইন অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা কয়েকটি ধারণা উপস্থাপন করেন। প্রস্তাব এসেছে, উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সেখান থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। কেউ বলেছেন, উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে উচ্চকক্ষের স্পিকারকে সেই দায়িত্ব দিতে হবে। অন্যদিকে, কেউ বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকেই সরকারপ্রধান করা যেতে পারে। কিন্তু কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি; এমনকি সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাবও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। সরকারের চিফ হুইপ জানিয়েছেন, ৯ নভেম্বর শুরু হওয়া অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনীর প্রস্তাব উঠছে না। অর্থাৎ আলোচনার কক্ষে উচ্চারিত একটি ধারণা জনমনে সিদ্ধান্তের রূপ নিয়েছে এবং এর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে।

এই বিতর্কের মধ্যে একটি বিষয় প্রায় অনুচ্চারিত থেকে যাচ্ছে। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট সেই বিলোপের বিধান বাতিল করেন এবং চলতি বছরের জুলাইয়ে আপিল বিভাগ এর বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে সেই রায় বহাল রাখেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী ৫৮ক থেকে ৫৮ঙ পর্যন্ত যে অনুচ্ছেদগুলো সংযোজন করেছিল, সেগুলোর একটি (৫৮গ) সংসদ ভেঙে যাওয়া বা মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের নিয়োগের কাঠামো ছিল। আদালতের রায়ে এর সাংবিধানিক ভিত্তি আবার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অর্থাৎ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা থাকবে কি না—সে প্রশ্নের উত্তর এখন রায়ের মধ্যেই রয়েছে। কোন পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হবে, সে বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা এখনো নেই। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামোয় ফেরার কথা বলছে এবং এনসিপি চায় জুলাই সনদের পদ্ধতি। আমার অবস্থান পুরোনো ও পরীক্ষিত কাঠামোর পক্ষে, প্রয়োজনে যার নির্দিষ্ট ধারা সংশোধন করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই ২০১১ সালের প্রসঙ্গ টেনেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তখন তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার পক্ষে একমত হলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বিলুপ্তির সিদ্ধান্তই জানানো হয়েছিল। এ থেকে একটি শিক্ষা পাওয়া যায়: কমিটির কক্ষে ঐকমত্য হওয়া এবং সেই ঐকমত্য টিকে থাকা এক কথা নয়। মন্ত্রী এ-ও বলেছেন, সে সময়ের একদলীয় প্রবণতার সঙ্গে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিস্থিতি মেলে না। কথাটি ঠিক হলে আজকের সুযোগ আরো বড়: আদালতের রায়ের ওপর দাঁড়িয়ে একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা বেছে নেওয়া যায়, নতুন করে বিতর্কের ময়দান খোলার প্রয়োজন পড়ে না।

এখন দেখা যাক, ‘নতুন’ প্রস্তাবগুলো কতটা নতুন। গত বছরের জুলাইয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল, তাতেই উচ্চকক্ষের ভূমিকা ছিল। উচ্চকক্ষের স্পিকার বা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কমিটি প্রধান উপদেষ্টার নাম ঠিক করবে; সেখানে সিদ্ধান্ত না হলে উচ্চকক্ষের সদস্যরা ক্রমভিত্তিক ভোটে (ranked-choice voting) তা নির্ধারণ করবেন। সেই আলোচনায় ঐকমত্য হয়নি। পরে জুলাই সনদে ভিন্ন একটি ধাপভিত্তিক পদ্ধতি এসেছে, যার কয়েকটি ধাপ নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল আপত্তি জানিয়েছিল। এর মানে, যে ধারণা নিয়ে আজ আবার আলোচনা হচ্ছে, তা এক বছরের বেশি আগে একবার আলোচিত হয়ে অমীমাংসিত থেকেছে। একই প্রশ্নে ফিরে গিয়ে ভিন্ন পোশাকে একই প্রস্তাব হাজির করলে নতুন কোনো সমাধান আসে না; আসে শুধু মতভেদের নতুন সুযোগ।

উচ্চকক্ষকেন্দ্রিক প্রস্তাবের একটি কাঠামোগত দুর্বলতাও বিদ্যমান। যে প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি এখনো অস্তিত্বেই আসেনি এবং তার গঠন নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত নয়। বিএনপি তার ইশতেহারে সংসদীয় আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলেছে; জামায়াতে ইসলামী চায় ভোটের অনুপাতে। কমিটির বৈঠকে কেউ কেউ প্রশ্নও তুলেছেন, বাংলাদেশের উচ্চকক্ষ আদৌ দরকার কি না; বরং একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা যায় কি না। এমন অবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো একটি নির্দিষ্ট ও জরুরি ব্যবস্থাকে একটি অনিশ্চিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল করলে একটি অমীমাংসিত বিতর্ক আরেকটিকে আটকে দেয়। দ্বিকক্ষ সংসদ হবে কি না, হলে কীভাবে হবে—এ সিদ্ধান্ত যত দিন না হচ্ছে, ততদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পদ্ধতিও ঝুলে থাকবে।

দ্বিতীয় আপত্তিটি নিরপেক্ষতার প্রশ্নে। জেমস ম্যাডিসন ফেডারেলিস্ট পেপার্সের দশম নিবন্ধে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, কাউকে তার নিজের মামলার বিচারক হতে দেওয়া হয় না। উচ্চকক্ষের সদস্যরা ভোটের অনুপাতে নির্বাচিত হোন বা আসনের অনুপাতে, তারা দলের প্রতিনিধি; সরকার ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারও দলীয় দর-কষাকষিরই ফল। যে সরকারের কাজ দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিচালনা করা, তার নেতৃত্ব সেই প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোরই গড়া কাঠামো থেকে এলে নিরপেক্ষতার প্রশ্নটি নতুন করে ওঠে। হান্টিংটন প্রতিষ্ঠানের মান যাচাইয়ে যে চারটি মানদণ্ড দিয়েছেন (Adaptability, Complexity, Autonomy, Coherence), তার একটি স্বাতন্ত্র্য (Autonomy), অর্থাৎ অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তি থেকে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার মূল শক্তি ওই স্বাতন্ত্র্যেই।

ইতিহাসের দিকেও একবার তাকানো যায়। ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিবারই ক্ষমতার হাতবদল ঘটেছে। হান্টিংটনের হাতবদল-মানদণ্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এ অভিজ্ঞতা তুচ্ছ নয়। এই ব্যবস্থা বিলুপ্ত হওয়ার পর ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বর্জন করেছে, আর ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ তুলনা কার্যকারণ সম্পর্ক প্রমাণ করে না, কিন্তু যে ব্যবস্থা তিন দফায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর নিশ্চিত করেছিল, তাকে নিয়ে নতুন নকশার পরীক্ষায় নামার আগে সেই ইতিহাসকে হিসাবেও রাখতে হবে।

বিপরীত মতেরও যুক্তি আছে এবং তা উপেক্ষণীয় নয়। এনসিপি বলছে, ত্রয়োদশ সংশোধনীর কাঠামো বিচার বিভাগের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল এবং অতীতে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে; তারা ১/১১-এর মতো পরিস্থিতির কথাও বলেছে। তাদের মতে, জুলাই সনদে বর্ণিত পদ্ধতিই শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য উপযুক্ত। এই সমালোচনার একটি অংশ যথার্থ: সর্বশেষ বিকল্পে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে এবং নিয়োগ নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে সংকট কীভাবে এড়ানো যাবে, তার উত্তর স্পষ্ট থাকা দরকার। তবে কোনো কাঠামোর নির্দিষ্ট দুর্বলতা চিহ্নিত হলে তার প্রতিকার হয় সেই দুর্বলতা সংশোধনেই, পুরো স্থাপত্য বদলে নয়। বিশেষ কমিটির বৈঠকেও রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্প বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন সুনির্দিষ্ট সংশোধনের পথ খোলাই আছে।

সময়েরও একটি বিবেচনা আছে। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হতে এখনো অনেক দেরি; তাড়াহুড়োর কোনো কারণ নেই। হাতে যে সময় আছে, তার সদ্ব্যবহার হতে পারে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার মতো কাজে। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান যিনিই হোন, নির্বাচন পরিচালনার যন্ত্রগুলো স্বাধীনভাবে কাজ না করলে তার পক্ষেও নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করা কঠিন। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, সে প্রশ্নের চেয়ে এই প্রশ্ন কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তাহলে করণীয় কী? আমার বিবেচনায় একটি ক্রম অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমত, আদালতের রায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধানকে ভিত্তি হিসেবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা। দ্বিতীয়ত, যেসব জায়গায় আপত্তি সুনির্দিষ্ট, যেমন সর্বশেষ বিকল্পে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও নিয়োগ নিয়ে অচলাবস্থা এড়ানোর উপায়, সেগুলো চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক সংশোধনের প্রস্তাব তৈরি করা। তৃতীয়ত, উচ্চকক্ষ কীভাবে গঠিত হবে, সে প্রশ্নটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আলোচনা থেকে আলাদা করে নিজস্ব যুক্তিতে বিবেচনা করা। চতুর্থত, এসব আলোচনায় সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলগুলোকে কার্যত অংশীদার করা, যাতে পরবর্তী সময়ে কেউ বলতে না পারে যে ব্যবস্থাটি তার সম্মতি ছাড়া তৈরি হয়েছে। ঐকমত্য এভাবেই টেকসই হয়।

সামগ্রিক বিশ্লেষণে তিনটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। প্রথমত, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি আদালতের রায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চকক্ষভিত্তিক বিকল্প এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যা এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। তৃতীয়ত, সেই বিকল্পে নির্বাচনকালীন সরকারের স্বাতন্ত্র্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বের দৃষ্টিতে কোনো ব্যবস্থার কার্যকারিতা বহুলাংশে নির্ভর করে তার স্থায়িত্ব ও পূর্বানুমেয়তার (Predictability) ওপর। নির্বাচনের নিয়ম যখন বারবার পুনর্বিবেচনার বিষয় হয়, তখন অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মনোযোগ ফল থেকে সরে নিয়মের দর-কষাকষিতে আটকে যায় এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ম্যাকিয়াভেলি দ্য প্রিন্সে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, নতুন বিধিব্যবস্থা প্রবর্তন সবচেয়ে কঠিন ও অনিশ্চিত উদ্যোগ। তাই এই মুহূর্তে পরীক্ষিত কাঠামোর নির্দিষ্ট ত্রুটি সংশোধন করে এগোনোই অধিক যুক্তিসংগত পথ। ইতোমধ্যে আদালতের রায়ে নিষ্পত্তি হওয়া প্রশ্নকে নতুন নকশায় আবার উন্মুক্ত করা কোনো নতুন সমস্যার সমাধান দেয় না; এ কারণেই বিতর্কটি এই পর্যায়ে অপ্রয়োজনীয়।

লেখক : অধ্যাপক (অব.), সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪২ এম


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন

ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দশম স্থলবাহিনী সংলাপ আজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিগণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের শুরুতে, ২৬ অক্টোবর সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধান, প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের স্ট্র্যাটেজি এন্ড প্ল্যানস বিষয়ক ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল জাইলস জে. এস. কর্ণেলিয়া সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনায় একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে, যার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান। আলোচনার এই পর্বে উভয় পক্ষ সামরিক সহযোগিতা জোরদার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এসময় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%