ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে পরাজিত


ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে পরাজিত

ক্রিস গেইল এবং লেন্ডল সিমন্সের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ফলে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নসকে ৯ উইকেটে পরাজিত করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের শিরোপা অর্জন করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নস। শারজাহতে ইংল্যান্ড প্রথমে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে। এর জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১৭ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করে জয় নিশ্চিত করে।

ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল অস্বস্তিকর। তারা মাত্র ১১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এরপর অধিনায়ক রবি বোপারা এবং মঈন আলী ইনিংসকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। বোপারা ১৬ রান করে ফিরে গেলেও মঈন ছিলেন অসাধারণ। ৩৯ বলে চারটি চার এবং চারটি ছক্কায় ৬০ রান করেন তিনি।

মঈন ফিরে যাওয়ার পর ওওয়াইস শাহ ২৮ বলে অপরাজিত ৩৮ রান করে ইংল্যান্ডকে দেড়শ পার করান। শাহর সঙ্গে টবি রোল্যান্ড-জোন্সের অপরাজিত ২৮ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ইংল্যান্ড ১৫৯ রান সংগ্রহ করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ডোয়াইন ব্রাভো ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

আরও পড়ুন: ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানার মুখে রোনালদো

১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চড়াও হন গেইল এবং সিমন্স। গেইল মাত্র ১৪ বলে ২১ রান করে বিদায় নিলেও ততক্ষণে জয়ের ভিত্তি তৈরি হয়ে যায়। এরপর সিমন্স এবং চ্যাডউইক ওয়ালটন ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

সিমন্স ৫৩ বলে ৮টি চার এবং ৩টি ছক্কায় অপরাজিত ৭৭ রান করেন। অন্যদিকে ওয়ালটন মাত্র ৩৫ বলে ৩টি চার এবং ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ৫৮ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৯ উইকেটের বিশাল জয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অব লেজেন্ডসের শিরোপা নিজেদের করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নস। মঈনের অসাধারণ ইনিংস এবং ব্রাভোর কার্যকর বোলিং সত্ত্বেও গেইল, সিমন্স এবং ওয়ালটনের ব্যাটিংয়ের সামনে ইংল্যান্ড ম্যাচে টিকতে পারেনি।

আরও পড়ুন: জিম্বাবুয়েকে বোলিং-ব্যাটিংয়ে পিষ্ট করল আফগানিস্তান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০২ পি.এম


বরিশালে ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

 

 

বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ও একটি স্মার্টফোনসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশাল। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নগরীর বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নয়ন (২৫) ও তাঁর স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৯)। তাঁরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেনে কাশেম মহল এলাকায় মো. ইদ্রিস মিয়া সবুজের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে অভিযানের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়কের ব্লক-এ, প্রথম লেন এলাকায়।

অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ও স্মার্টফোন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেনে কাশেম মহলের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ও একটি ইনফিনিক্স (INFINIX X6725) স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নয়ন ও মুক্তা আক্তারকে আটক করা হয়।

### মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা

অভিযানের পর গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় আইনের ৫৬ ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলমের দেওয়া অভিযানের বিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালক চাঁদ আলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালক চাঁদ আলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পুলিশ চাঁদ আলী (৫০) নামের এক ভ্যান চালকের অর্ধগলিত ও মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে জীবননগর উপজেলার শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের নিকট কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে তার মরদেহটি পাওয়া যায়।

নিহত চাঁদ আলী হাসাদাহ গ্রামের মৃত জোনাব আলীর পুত্র ছিলেন। তিনি পেশায় ভ্যান চালক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার চাঁদ আলী ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে ফেরেননি, ফলে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সোমবার সকালে শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের কাছে কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে একটি বিকৃত ও মাথাবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরনে থাকা পোশাক ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে মরদেহটি চাঁদ আলীর বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’

ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এক নারী, যার বোন সন্ন্যাসিনী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, শৈশব থেকেই ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। একসময় তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

কিন্তু সেখানে গিয়ে যিশু ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস, পবিত্র কুরআনের বর্ণনা এবং পাহাড়ে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত আজানের সুর তার মনে সৃষ্টি করে গভীর আলোড়ন। দীর্ঘ সাত বছরের সংগ্রাম, পারিবারিক বাধা ও নানা প্রশ্নের পথ পেরিয়ে একদিন আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন তিনি। এটি সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের এক আত্মিক যাত্রার গল্প।

সিস্টার ডেইজি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর নিজের বোন ছিলেন একজন কারমেলাইট সন্ন্যাসিনী। পরিবারের একাধিক চাচাও ছিলেন গির্জার যাজক। ফলে শৈশব থেকেই গির্জা, প্রার্থনা এবং খ্রিস্টীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে ঘিরে প্রার্থনার মধ্যেই কাটত তাঁর জীবনের অনেকটা সময়। তবে ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে উঠলেও কিছু প্রশ্ন তাঁকে ছোটবেলা থেকেই ভাবিয়ে তুলত। বিশেষ করে খ্রিস্টধর্মের ত্রিত্ববাদ এবং যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ধারণা নিয়ে তাঁর মনে সংশয় তৈরি হতো। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হন, তাহলে তিনি কীভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন? কিংবা ঈশ্বরের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁর মনে ধীরে ধীরে সত্য অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা গভীর হতে থাকে।

পরবর্তী সময়ে গির্জার দিকনির্দেশনা এবং মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুবাদে সিস্টার ডেইজি সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। তাঁর ধারণা ছিল, আরবের মানুষ যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তাই তাঁদের কাছে খ্রিস্টধর্মের শিক্ষা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে তিনি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যা তার পূর্বধারণাকে নাড়িয়ে দেয়। তিনি দেখতে পান, সেখানকার মুসলমানেরা যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা বাইবেল সম্পর্কেও জানেন এবং পবিত্র কুরআনে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনা ও অলৌকিক নিদর্শনের কথা তুলে ধরেন।

মুসলমানদের কাছ থেকে এসব বিষয় জানার পর ডেইজির মনে নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গির্জার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর মনে জেগে ওঠা সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি পাননি বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইসলামের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।

সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি পরিবেশ সিস্টার ডেইজির জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। চারপাশের পাহাড় থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি তাঁর মনে এক গভীর অনুভূতির জন্ম দিত। মুসলমানদের ইবাদত, আল্লাহর প্রতি তাঁদের নিবেদন এবং ধর্মীয় জীবনের আন্তরিকতা তাঁকে ভাবিয়ে তুলত।

যে দেশে তিনি গিয়েছিলেন খ্রিস্টধর্মের শিক্ষা প্রচার করতে, সেই দেশেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য, মুসলমানদের বিশ্বাস এবং আজানের সুর—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মনে সত্য অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা আরও প্রবল হয়ে ওঠে।

একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও সৌদি আরবে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মন থেকে মুছে যায়নি। বরং সেখানকার স্মৃতি তাঁকে ইসলামের বিষয়ে আরও জানার জন্য অনুপ্রাণিত করতে থাকে।

সাত বছরের সংগ্রাম ও পরিবারের বাধা

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পর বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘দ্য মেসেজ’-এর একটি অংশ দেখার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তার মধ্যে আরও গভীর হয়। তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং নিজের দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে থাকেন।

কিন্তু তার এই পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। বিশেষ করে তাঁর সন্ন্যাসিনী বোন বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাকে বিভিন্ন সন্ন্যাসী, যাজক ও বিশপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর ধরে তাঁকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে ধর্মীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হতো। এমনকি এক সন্ন্যাসী তার দেওয়া ইংরেজি কুরআন রাগ করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

তবে এসব বাধা তার সত্য অনুসন্ধানের পথ বন্ধ করতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় সেই সন্ন্যাসী নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ডেইজির কাছে ক্ষমা চান।

দীর্ঘ সংগ্রামের একপর্যায়ে সিস্টার ডেইজিকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাদার টম নামের একজন প্রভাবশালী যাজকের কাছে। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, তার বক্তব্যে ডেইজি হয়তো নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন।

কিন্তু সেখানে তিনি ভিন্ন ধরনের একটি পরামর্শ পান। বর্ণনা অনুযায়ী, ফাদার টম তাঁকে বোঝান, অন্য কেউ কী বলছেন, তা-ই শেষ কথা নয়। বরং সত্য অনুসন্ধান করতে হবে এবং নিজের বিবেক ও ঈশ্বরের কাছে সত্য বলে প্রতীয়মান বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

এই বক্তব্য ডেইজির মনে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রশ্নের উত্তর তিনি খুঁজছিলেন, সেগুলো নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার মানসিক শক্তি পান। ইসলামের প্রতি তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে এবং তিনি নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথম সিজদায় অশ্রুসিক্ত আত্মসমর্পণ

অবশেষে সিস্টার ডেইজি তার ছোট দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি মসজিদে যান। সেখানে একজন ফিলিস্তিনি নারী তাঁকে নামাজের নিয়ম শেখাতে সাহায্য করেন। জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি মুসলমানদের মতো নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন।

সেই প্রথম সিজদার অভিজ্ঞতা তার জীবনে ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। বর্ণনা অনুযায়ী, সিজদায় গিয়ে তিনি অঝোরে কেঁদেছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রশ্ন, অনুসন্ধান, দ্বিধা ও সংগ্রামের পর সৃষ্টিকর্তার সামনে নিজেকে সমর্পণ করার মধ্যে তিনি গভীর প্রশান্তি অনুভব করেন।

যে নারী একসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত ইসলামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর সামনে সিজদাবনত হন। তার কাছে এই অভিজ্ঞতা ছিল জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উপলব্ধি করেন, ইসলাম তাঁকে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে অস্বীকার করতে শেখায় না; বরং তাঁদের সম্পর্কে ইসলামের নির্ধারিত মর্যাদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে পরিচিত করে।

ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। ঈসা (আ.) আল্লাহর সম্মানিত নবী ও রাসুল এবং মরিয়ম (আ.) একজন পবিত্র ও মর্যাদাবান নারী। পবিত্র কুরআনে তাঁদের জীবন, ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্ম এবং তার নবুওয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

ডেইজির কাছে ইসলামের এই শিক্ষা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তার দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মধ্যে ঈসা (আ.) এবং মরিয়ম (আ.)-এর পরিচয় ও মর্যাদার বিষয়টি বিশেষ স্থান দখল করে ছিল। ইসলামের শিক্ষা তার কাছে নতুনভাবে সেই বিষয়গুলো বোঝার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

বর্ণনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডেইজির জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে তার মেয়েও ইসলাম গ্রহণ করেন।

সত্যের সন্ধান কখনো থেমে থাকে না

সিস্টার ডেইজির এই কাহিনি আমাদের সামনে সত্য অনুসন্ধান, ধৈর্য এবং বিশ্বাসের এক আবেগঘন চিত্র তুলে ধরে। শৈশবের ধর্মীয় পরিবেশ থেকে শুরু করে সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ সাত বছরের সংগ্রাম এবং প্রথম সিজদার মুহূর্ত প্রতিটি ধাপ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

তার যাত্রার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও তিনি সত্য অনুসন্ধান বন্ধ করেননি। পারিবারিক বাধা ও সামাজিক চাপের মধ্যেও নিজের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

তবে প্রকাশের আগে সিস্টার ডেইজির পরিচয়, তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বর্ণিত তথ্যগুলো মূল সাক্ষাৎকার বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এতে পাঠকের কাছে গল্পটি আরও বিশ্বাসযোগ্য ও তথ্যনির্ভর হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

পুরান ঢাকার আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল বিভাগে শুনানির দিন ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

এ তথ্য জানা গেছে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালত সূত্রে।

এর আগে সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

পরে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে আটজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।

এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আপিল করা দুজনও খালাস পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%