ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার


বরিশালে ডিএনসির অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

 

 

বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ২০০ পিস ইয়াবা ও একটি স্মার্টফোনসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশাল। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে নগরীর বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. নয়ন (২৫) ও তাঁর স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৯)। তাঁরা বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেনে কাশেম মহল এলাকায় মো. ইদ্রিস মিয়া সবুজের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে অভিযানের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের লুৎফর রহমান সড়কের ব্লক-এ, প্রথম লেন এলাকায়।

অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ও স্মার্টফোন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৭টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বিএম কলেজ রোডের তালভিটা লেনে কাশেম মহলের সামনে পাকা সড়কে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তল্লাশি করে ২০০ পিস ইয়াবা ও একটি ইনফিনিক্স (INFINIX X6725) স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে নয়ন ও মুক্তা আক্তারকে আটক করা হয়।

### মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

অভিযানের পর গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলায় আইনের ৫৬ ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়, বরিশালের উপপরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলমের দেওয়া অভিযানের বিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালক চাঁদ আলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


চুয়াডাঙ্গায় নিখোঁজের ৫ দিন পর ভ্যানচালক চাঁদ আলীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পুলিশ চাঁদ আলী (৫০) নামের এক ভ্যান চালকের অর্ধগলিত ও মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে জীবননগর উপজেলার শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের নিকট কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে তার মরদেহটি পাওয়া যায়।

নিহত চাঁদ আলী হাসাদাহ গ্রামের মৃত জোনাব আলীর পুত্র ছিলেন। তিনি পেশায় ভ্যান চালক হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার চাঁদ আলী ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে ফেরেননি, ফলে তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

সোমবার সকালে শাহাপুর পুলিশ ক্যাম্পের কাছে কোটচাঁদপুর সড়কের পাশে একটি বিকৃত ও মাথাবিহীন অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরনে থাকা পোশাক ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে মরদেহটি চাঁদ আলীর বলে শনাক্ত করে তার পরিবার।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ জানান, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


‘খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মুসলিম হয়ে ফিরলাম’

ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণকারী এক নারী, যার বোন সন্ন্যাসিনী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও গির্জার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, শৈশব থেকেই ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। একসময় তিনি খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

কিন্তু সেখানে গিয়ে যিশু ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস, পবিত্র কুরআনের বর্ণনা এবং পাহাড়ে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত আজানের সুর তার মনে সৃষ্টি করে গভীর আলোড়ন। দীর্ঘ সাত বছরের সংগ্রাম, পারিবারিক বাধা ও নানা প্রশ্নের পথ পেরিয়ে একদিন আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন তিনি। এটি সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের এক আত্মিক যাত্রার গল্প।

সিস্টার ডেইজি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ধর্মপ্রাণ আইরিশ ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর। তাঁর নিজের বোন ছিলেন একজন কারমেলাইট সন্ন্যাসিনী। পরিবারের একাধিক চাচাও ছিলেন গির্জার যাজক। ফলে শৈশব থেকেই গির্জা, প্রার্থনা এবং খ্রিস্টীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ছিল তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে ঘিরে প্রার্থনার মধ্যেই কাটত তাঁর জীবনের অনেকটা সময়। তবে ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে উঠলেও কিছু প্রশ্ন তাঁকে ছোটবেলা থেকেই ভাবিয়ে তুলত। বিশেষ করে খ্রিস্টধর্মের ত্রিত্ববাদ এবং যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ধারণা নিয়ে তাঁর মনে সংশয় তৈরি হতো। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, ঈশ্বর যদি সর্বশক্তিমান হন, তাহলে তিনি কীভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন? কিংবা ঈশ্বরের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সঙ্গে যিশুর ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তাঁর মনে ধীরে ধীরে সত্য অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা গভীর হতে থাকে।

পরবর্তী সময়ে গির্জার দিকনির্দেশনা এবং মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুবাদে সিস্টার ডেইজি সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। তাঁর ধারণা ছিল, আরবের মানুষ যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে খুব বেশি জানেন না। তাই তাঁদের কাছে খ্রিস্টধর্মের শিক্ষা তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু সৌদি আরবে গিয়ে তিনি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হন, যা তার পূর্বধারণাকে নাড়িয়ে দেয়। তিনি দেখতে পান, সেখানকার মুসলমানেরা যিশু ও মরিয়ম সম্পর্কে গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁরা বাইবেল সম্পর্কেও জানেন এবং পবিত্র কুরআনে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনা ও অলৌকিক নিদর্শনের কথা তুলে ধরেন।

মুসলমানদের কাছ থেকে এসব বিষয় জানার পর ডেইজির মনে নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গির্জার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর মনে জেগে ওঠা সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি পাননি বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ইসলামের প্রতি তাঁর আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে।

সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি পরিবেশ সিস্টার ডেইজির জীবনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। চারপাশের পাহাড় থেকে ভেসে আসা আজানের ধ্বনি তাঁর মনে এক গভীর অনুভূতির জন্ম দিত। মুসলমানদের ইবাদত, আল্লাহর প্রতি তাঁদের নিবেদন এবং ধর্মীয় জীবনের আন্তরিকতা তাঁকে ভাবিয়ে তুলত।

যে দেশে তিনি গিয়েছিলেন খ্রিস্টধর্মের শিক্ষা প্রচার করতে, সেই দেশেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে কুরআনের বক্তব্য, মুসলমানদের বিশ্বাস এবং আজানের সুর—সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মনে সত্য অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা আরও প্রবল হয়ে ওঠে।

একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেলেও সৌদি আরবে পাওয়া সেই অভিজ্ঞতা তাঁর মন থেকে মুছে যায়নি। বরং সেখানকার স্মৃতি তাঁকে ইসলামের বিষয়ে আরও জানার জন্য অনুপ্রাণিত করতে থাকে।

সাত বছরের সংগ্রাম ও পরিবারের বাধা

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পর বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র ‘দ্য মেসেজ’-এর একটি অংশ দেখার পর ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তার মধ্যে আরও গভীর হয়। তিনি ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং নিজের দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে থাকেন।

কিন্তু তার এই পরিবর্তন পরিবারের সদস্যদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। বিশেষ করে তাঁর সন্ন্যাসিনী বোন বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। তাকে বিভিন্ন সন্ন্যাসী, যাজক ও বিশপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তিনি নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় সাত বছর ধরে তাঁকে নানা প্রশ্ন, সমালোচনা ও বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে ধর্মীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে হতো। এমনকি এক সন্ন্যাসী তার দেওয়া ইংরেজি কুরআন রাগ করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

তবে এসব বাধা তার সত্য অনুসন্ধানের পথ বন্ধ করতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় সেই সন্ন্যাসী নিজের আচরণের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ডেইজির কাছে ক্ষমা চান।

দীর্ঘ সংগ্রামের একপর্যায়ে সিস্টার ডেইজিকে নিয়ে যাওয়া হয় ফাদার টম নামের একজন প্রভাবশালী যাজকের কাছে। পরিবারের প্রত্যাশা ছিল, তার বক্তব্যে ডেইজি হয়তো নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন।

কিন্তু সেখানে তিনি ভিন্ন ধরনের একটি পরামর্শ পান। বর্ণনা অনুযায়ী, ফাদার টম তাঁকে বোঝান, অন্য কেউ কী বলছেন, তা-ই শেষ কথা নয়। বরং সত্য অনুসন্ধান করতে হবে এবং নিজের বিবেক ও ঈশ্বরের কাছে সত্য বলে প্রতীয়মান বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।

এই বক্তব্য ডেইজির মনে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব প্রশ্নের উত্তর তিনি খুঁজছিলেন, সেগুলো নিয়ে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার মানসিক শক্তি পান। ইসলামের প্রতি তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে এবং তিনি নতুন জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

প্রথম সিজদায় অশ্রুসিক্ত আত্মসমর্পণ

অবশেষে সিস্টার ডেইজি তার ছোট দুই পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফিলিস্তিনি মসজিদে যান। সেখানে একজন ফিলিস্তিনি নারী তাঁকে নামাজের নিয়ম শেখাতে সাহায্য করেন। জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি মুসলমানদের মতো নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহর সামনে সিজদায় অবনত হন।

সেই প্রথম সিজদার অভিজ্ঞতা তার জীবনে ছিল আবেগঘন এক মুহূর্ত। বর্ণনা অনুযায়ী, সিজদায় গিয়ে তিনি অঝোরে কেঁদেছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রশ্ন, অনুসন্ধান, দ্বিধা ও সংগ্রামের পর সৃষ্টিকর্তার সামনে নিজেকে সমর্পণ করার মধ্যে তিনি গভীর প্রশান্তি অনুভব করেন।

যে নারী একসময় খ্রিস্টধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, তিনিই শেষ পর্যন্ত ইসলামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে আল্লাহর সামনে সিজদাবনত হন। তার কাছে এই অভিজ্ঞতা ছিল জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সিস্টার ডেইজির ইসলাম গ্রহণের পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে ইসলামের শিক্ষা। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি উপলব্ধি করেন, ইসলাম তাঁকে ঈসা (আ.) ও মরিয়ম (আ.)-কে অস্বীকার করতে শেখায় না; বরং তাঁদের সম্পর্কে ইসলামের নির্ধারিত মর্যাদা ও বিশ্বাসের সঙ্গে পরিচিত করে।

ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। ঈসা (আ.) আল্লাহর সম্মানিত নবী ও রাসুল এবং মরিয়ম (আ.) একজন পবিত্র ও মর্যাদাবান নারী। পবিত্র কুরআনে তাঁদের জীবন, ঈসা (আ.)-এর অলৌকিক জন্ম এবং তার নবুওয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

ডেইজির কাছে ইসলামের এই শিক্ষা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তার দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মধ্যে ঈসা (আ.) এবং মরিয়ম (আ.)-এর পরিচয় ও মর্যাদার বিষয়টি বিশেষ স্থান দখল করে ছিল। ইসলামের শিক্ষা তার কাছে নতুনভাবে সেই বিষয়গুলো বোঝার সুযোগ তৈরি করে দেয়।

বর্ণনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডেইজির জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে তার মেয়েও ইসলাম গ্রহণ করেন।

সত্যের সন্ধান কখনো থেমে থাকে না

সিস্টার ডেইজির এই কাহিনি আমাদের সামনে সত্য অনুসন্ধান, ধৈর্য এবং বিশ্বাসের এক আবেগঘন চিত্র তুলে ধরে। শৈশবের ধর্মীয় পরিবেশ থেকে শুরু করে সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘ সাত বছরের সংগ্রাম এবং প্রথম সিজদার মুহূর্ত প্রতিটি ধাপ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

তার যাত্রার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েও তিনি সত্য অনুসন্ধান বন্ধ করেননি। পারিবারিক বাধা ও সামাজিক চাপের মধ্যেও নিজের প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন।

তবে প্রকাশের আগে সিস্টার ডেইজির পরিচয়, তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে বর্ণিত তথ্যগুলো মূল সাক্ষাৎকার বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এতে পাঠকের কাছে গল্পটি আরও বিশ্বাসযোগ্য ও তথ্যনির্ভর হয়ে উঠবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৯ পি.এম


বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল শুনানি ৮ ডিসেম্বর

পুরান ঢাকার আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলার আপিল বিভাগে শুনানির দিন ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে সর্বোচ্চ আদালত।

এ তথ্য জানা গেছে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আদালত সূত্রে।

এর আগে সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

জানা যায়, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ২১ আসামির মধ্যে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

পরে ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে আটজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং দুজনকে খালাস দেওয়া হয়।

এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আপিল করা দুজনও খালাস পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আধুনিকায়নে বদলাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর, ফ্লাইট সংকটে সুফল মিলছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:২০ পি.এম


আধুনিকায়নে বদলাচ্ছে বরিশাল বিমানবন্দর, ফ্লাইট সংকটে সুফল মিলছে না

বরিশাল বিমানবন্দরে আধুনিকায়নের কাজ প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে শেষের দিকে রয়েছে। নতুন টার্মিনাল ভবন, যাত্রীসেবার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিমানবন্দরটির চিত্র পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে উন্নত অবকাঠামো গড়ে উঠলেও বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ফ্লাইট সংকটে প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছেন না।

বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহে মাত্র তিন দিন ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রী সংকটের অজুহাতে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো এ রুট থেকে সরে গেছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে আকাশপথে যাতায়াত করতে না পেরে যাত্রীদের সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে অবস্থিত বিমানবন্দরে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, আধুনিকায়নের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। নতুন টার্মিনাল ভবনে কাঁচ বসানো, সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন কাজে নির্মাণশ্রমিকেরা ব্যস্ত রয়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সপ্তাহের বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও রোববার ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। যাত্রীপ্রতি ভাড়া প্রায় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ফলে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াত করতে হলে যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা বেছে নিতে হচ্ছে। সড়কপথে বরিশাল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা, নৌপথে লাগে প্রায় আট ঘণ্টা। অন্যদিকে আকাশপথে যাত্রার সময় মাত্র ২০ মিনিট।

সচেতন সমাজের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ সহজ হওয়ায় বরিশাল রুটে বিমানযাত্রীর সংখ্যা কমেছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে বরিশাল বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও সীমিত ফ্লাইটের কারণে এ সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

বরিশাল নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম রাজন মন্তব্য করেন, 'বরিশাল বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট চালু করা গেলে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।'

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, 'বরিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর। অথচ এখানকার মানুষ প্রয়োজনের সময় নিয়মিত বিমানসেবা পাচ্ছেন না। বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলো যাতে আবার এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।'

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য বিমানবন্দরটি উন্মুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর যাত্রীসেবার মান বাড়ানো ও অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে আধুনিকায়ন প্রকল্প।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তিন বছর মেয়াদি চুক্তিতে প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে দুই তলাবিশিষ্ট টার্মিনাল ভবন। এছাড়া কনভেয়ার বেল্ট স্থাপন, পার্কিংয়ের পরিসর বাড়ানো, সাবস্টেশন নির্মাণ, উড়োজাহাজ পার্কিংয়ের দুটি এপ্রোন সম্প্রসারণ, পিএপিআই লাইট স্থাপন এবং টয়লেট নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ।

বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় জানান, 'আধুনিকায়নের আওতায় যাত্রীসেবা ও পরিচালনাগত অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে। এসব উন্নয়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা বাড়বে। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা ও রুট সম্প্রসারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।'

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, 'দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বরিশাল বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। নিয়মিত ফ্লাইট বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ চালু করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে।'

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মন্তব্য করেন, 'বরিশাল বিমানবন্দরে আধুনিকায়নের কাজের পাশাপাশি নিয়মিত ফ্লাইট চালু রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা গেলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম রুট চালুর উদ্যোগ নেয়া হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।'

তথ্য অনুযায়ী, চার বছর আগেও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ও নভোএয়ারসহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত। বর্তমানে এ রুটে কেবল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসই ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%