১১:১২ পি.এম
সিলিন্ডারের সংকট বর্তমানে একটি তীব্র সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহের অভাবের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়েছেন। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা পর্যায়ের নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু মাধবপুরের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় এবং কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে পর্যাপ্ত এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কিছু দোকানে সীমিতসংখ্যক সিলিন্ডার থাকলেও তাদের দাবি করা হচ্ছে বাড়তি দাম। ফলে প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পেয়ে অনেক গ্রাহককে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে ছুটতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুবদলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে রান্নার কাজে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। গ্যাসের সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। মাধবপুরের বাসিন্দা রিনা বেগম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েই রান্না করি। তিন দিন ধরে গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। বাজারে খুঁজেও পাচ্ছি না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে, এত বেশি দামে গ্যাস কেনা সম্ভব নয়।’ অন্যদিকে, কামাল মিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, ‘আগে বাজারে গেলেই গ্যাস পাওয়া যেত। এখন দোকানে গেলে বলে গ্যাস নেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পাওয়া গেলেও দাম চায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন না। বরং ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তাই নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হচ্ছে। মাধবপুর বাজারের ব্যবসায়ী রমেশ কৈরী বলেন, ‘কোম্পানি থেকে নিয়মিত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু ব্যবসায়ী বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন।’ তবে ডিলারদের দাবি, তারাও কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে সংকট কাটছে না।
এদিকে গ্যাসের সংকটকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে একদিকে গ্যাসের সংকট, অন্যদিকে বাড়তি দামের কারণে দ্বিগুণ ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করতে না পারে, সেই জন্য বাজারে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘এলপিজি গ্যাসের সংকটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রায় ২০ দিন ধরে চলা এ সংকটের কারণে মাধবপুরে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজি গ্যাস নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো গ্রাহক। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: রহমতপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান নিজাম উদ্দিন, উঠান বৈঠকে জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন