ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোমস্তাপুরে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত


গোমস্তাপুরে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাইরুল চেয়ারম্যানের চাতালে এক আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার বিবরণ

সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বতীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম (চাইনিজ) প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: সকাল ৯টায়ও তালাবদ্ধ চিকিৎসকের কক্ষ, রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম টিপু, গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন আলীম, গোমস্তাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সেন্টু, রহনপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক এনায়েত করিম তোকি, রহনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র তারিক আহমেদ, গোমস্তাপুর উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান (সোহরাব) এবং গোমস্তাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রাইয়ান।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যালি

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে চত্বরকে মুখরিত করে তোলেন।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যুবলীগের মিছিলে পুলিশের ৪ সদস্যকে শাস্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন, ‘যতবার গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, ততবারই বিএনপি গণতন্ত্রকে তুলে ধরেছে এবং প্রতিষ্ঠিত করেছে। আমরা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি।’

 

তিনি মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলন করেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার আন্দোলনের মধ্য দিয়েই আজকের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫-এর বিপ্লব থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের আন্দোলন—প্রতিটি গণতন্ত্রকামী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে।

 

বিএনপির নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিএনপিকে কেউ রাজাকার বলতে পারে না। কারণ স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল হচ্ছে বিএনপি। বিএনপিকে কেউ ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারও বলতে পারে না।

 

কারণ বিএনপির নেতৃত্বেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, স্বৈরাচারের পতন হয়েছে এবং বিএনপির হাত ধরেই গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে।’

সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, ‘সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনী যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা, খাল খনন কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ ও পোশাক দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন।

 

কিন্তু বিএনপি কখনোই জনগণের বিপক্ষে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য কাজ করছেন। এই মুহূর্তে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করা যায় এবং গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা যায়, সে ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কোনোভাবেই বাংলাদেশে গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি যাতে আর ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুর সঞ্চালনায় জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলী ইমাম তপন, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক কাজী শফিকুর রহমান লিটন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি: বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি: বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
 
স্বনির্ভরতার শিকড় থেকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি: বিএনপির ৪৮ বছর ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
 
-কৃষিবিদ মোঃ আতিকুর রহমান 
 
১ সেপ্টেম্বর- বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যবাহী দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দীর্ঘ ৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রায় দলটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, গণতন্ত্র, অর্থনীতি, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দর্শনের অধিকারী হয়ে উঠেছে।
 
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিছক আনুষ্ঠানিকতার দিন নয়; এটি আত্মপর্যালোচনা, আত্মসমালোচনা এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণের দিন। অতীতের অর্জনকে স্মরণ করার পাশাপাশি আগামী দিনের বাংলাদেশকে কোন দর্শন, কোন নীতি এবং কোন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে-সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ারও দিন।
 
বিএনপির ইতিহাসের দিকে তাকালে একটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়-বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে কৃষিকে কখনোই বিচ্ছিন্ন করে দেখা হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তায় কৃষি ছিল কেবল একটি উৎপাদন খাত নয়; এটি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বনির্ভরতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
 
জিয়ার কৃষিদর্শন: স্বনির্ভরতার অর্থনৈতিক ভিত্তিঃ
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত ও নানামুখী সংকটে পর্যুদস্ত। সেই বাস্তবতায় তাঁর রাষ্ট্রচিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল উৎপাদনমুখী অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা এবং জনগণকে উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদারে পরিণত করা।
 
তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচিতে কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্তর্নিহিত বোধ ছিল অত্যন্ত বাস্তব-বাংলাদেশকে শক্তিশালী করতে হলে প্রথমে শক্তিশালী করতে হবে বাংলাদেশের গ্রামকে আর বাংলাদেশের গ্রামকে শক্তিশালী করতে হলে শক্তিশালী করতে হবে কৃষককে।
 
এই দর্শনের মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা ছিল না। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণস্পন্দন বরাবরই কৃষি ও গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
 
সময়ের পরিক্রমায় কৃষির প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস, কৃষিজমির ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা এবং উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি কৃষিকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
 
ফলে আজ জিয়ার স্বনির্ভরতার দর্শনকে বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষিকে শুধু উৎপাদনশীল নয়, প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই করে তুলতে হবে।
 
খাল পুনরুজ্জীবন: প্রকৃতির সঙ্গে উন্নয়নের পুনঃসমঝোতাঃ
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি মূলত নদী ও জলনির্ভর। নদী, খাল, বিল ও জলাশয় এ দেশের কৃষি-সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে অসংখ্য খাল আজ মৃতপ্রায়।
 
একটি খালের মৃত্যু কেবল একটি জলপ্রবাহের মৃত্যু নয়-এর সঙ্গে ধ্বংস হয় একটি এলাকার জলজ প্রতিবেশ, সেচব্যবস্থা, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষির স্বাভাবিক ভারসাম্য।
 
এই বাস্তবতায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে নদী ও খাল পুনঃখনন এবং জলপথ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে।
 
খাল পুনঃখননকে যদি বিচ্ছিন্ন কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে না দেখে সমন্বিত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এর বহুমাত্রিক সুফল পাওয়া সম্ভব। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি সংরক্ষণ, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস, মৎস্যসম্পদের পুনরুজ্জীবন এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থাৎ খাল পুনরুজ্জীবন কেবল পানি ফিরিয়ে আনা নয়, এটি কৃষির প্রাণপ্রবাহ পুনঃস্থাপন।
 
কৃষির নতুন দিগন্ত: GIS, ড্রোন ও প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচারঃ
একসময় কৃষকের প্রধান সম্পদ ছিল অভিজ্ঞতা। আজকের কৃষিতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথ্য ও প্রযুক্তি।
 
কোন জমিতে মাটির আর্দ্রতা কত, কোথায় নাইট্রোজেনের ঘাটতি, কোন অংশে রোগের প্রাদুর্ভাব, কোথায় অতিরিক্ত সেচ প্রয়োজন কিংবা কোন জমিতে কোন ফসল অধিক উপযোগী-এসব প্রশ্নের উত্তর এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব।
 
এখানেই Geographic Information System বা GIS কৃষির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে।
 
GIS-এর মাধ্যমে একটি অঞ্চলের ভূমি ব্যবহার, মাটির বৈশিষ্ট্য, পানি, আবহাওয়া, ফসলের ধরন ও উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্যকে একই প্ল্যাটফর্মে বিশ্লেষণ করা যায়। ফলে কৃষি পরিকল্পনা হতে পারে আরও বৈজ্ঞানিক ও স্থানভিত্তিক।
 
অন্যদিকে ড্রোন প্রযুক্তি কৃষকের মাঠ পর্যবেক্ষণের ধারণাকেই পাল্টে দিতে পারে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমির ওপর দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে ফসলের স্বাস্থ্য, রোগের বিস্তার, পানির ঘাটতি কিংবা ক্ষতির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে ড্রোনভিত্তিক স্প্রে প্রযুক্তিও কৃষি উপকরণের অপচয় কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
 
এর সঙ্গে যদি স্যাটেলাইট ইমেজ, সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে যুক্ত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে পারে Precision Agriculture বা নির্ভুল কৃষির যুগে।
 
এখানে লক্ষ্য শুধু বেশি উৎপাদন নয়; বরং কম সম্পদে অধিক উৎপাদন, কম অপচয়ে অধিক ফলন এবং পরিবেশের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে অধিকতর টেকসই কৃষি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
এটাই হতে পারে একবিংশ শতাব্দীর কৃষিতে স্বনির্ভরতার আধুনিক সংজ্ঞা।
 
কৃষককে ভর্তুকির গ্রহীতা নয়, অর্থনীতির অংশীদার করতে হবেঃ
কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রায়ই আমরা কৃষি উপকরণ, সার, বীজ কিংবা ঋণের কথা বলি। কিন্তু কৃষকের প্রকৃত ক্ষমতায়ন আরও বিস্তৃত বিষয়।
কৃষককে হতে হবে উৎপাদন ব্যবস্থার সক্রিয় অংশীদার এবং কৃষি অর্থনীতির সম্মানিত উদ্যোক্তা।
এই জায়গায় কৃষক কার্ড, ডিজিটাল কৃষি তথ্যব্যবস্থা, কৃষিঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্যমূল্য এবং বাজারসংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 
একজন কৃষক কখন বীজ বপন করবেন, কোন ফসল চাষ করবেন, কতটুকু সার ব্যবহার করবেন, কোথায় তার ফসল বিক্রি করলে ভালো দাম পাবেন-রাষ্ট্র যদি তাকে এসব বিষয়ে তথ্যনির্ভর সহায়তা দিতে পারে, তাহলে কৃষি আর কেবল জীবিকার ব্যবস্থা থাকবে না; এটি পরিণত হতে পারে আধুনিক উদ্যোক্তাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে।
 
জিয়ার স্বপ্ন থেকে তারেক রহমানের আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাঃ
বিএনপির রাজনৈতিক ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার Vision 2030 এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে একই ধারার ভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।
সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মসূচির ভাষা ও উপকরণ পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন অপরিবর্তিত থেকেছে-কীভাবে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়।
 
তারেক রহমানের নেতৃত্বে কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করার যে ভাবনা সামনে এসেছে, তার মধ্যে এই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি আধুনিক রূপ প্রতিফলিত হয়।
জিয়ার সময় কৃষির আধুনিকায়নের অর্থ ছিল সেচ, উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও স্বনির্ভরতা; আজ সেই একই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে GIS, ড্রোন, স্যাটেলাইট, ডিজিটাল ডেটা, প্রিসিশন অ্যাগ্রিকালচার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
 
দর্শন একই-উপকরণ আধুনিক
এটাই সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক দর্শনের অভিযোজন।
 
বিএনপি ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাঃ
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস কেবল নির্বাচন, সরকার গঠন কিংবা ক্ষমতার পরিবর্তনের ইতিহাস নয়। বাংলাদেশের বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্রের স্বাধীন সত্তা নিয়ে যে বিতর্ক-তার একটি বড় অংশ বিএনপিকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে।
 
রাজনৈতিক ইতিহাসে মতপার্থক্য থাকবে, বিতর্ক থাকবে, সমালোচনা থাকবে। কিন্তু গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হলো-ভিন্নমতকে ধারণ করে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ ঘটানো।
 
বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলাকে তাই শুধু দলীয় আবেগ দিয়ে নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বৃহত্তর পরিপ্রেক্ষিতেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কারণ একটি দলের প্রকৃত শক্তি শুধু তার সাংগঠনিক বিস্তারে নয়; তার শক্তি নিহিত থাকে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপান্তরিত করার সক্ষমতায়।
 
সামনে বাংলাদেশের যে কৃষিঃ
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কৃষির ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
আমাদের সামনে একদিকে খাদ্যনিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন। একদিকে কৃষিজমির সংকোচন, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। একদিকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যের অনিশ্চয়তা।
এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন একটি সমন্বিত কৃষি বিপ্লব।
যেখানে খাল পুনরুজ্জীবিত হবে, কিন্তু তার সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনার বৈজ্ঞানিক সংস্কারও হবে।
যেখানে কৃষক কার্ড থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে ডিজিটাল কৃষি ডেটাবেস।
যেখানে কৃষিযন্ত্র থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে দক্ষ মানবসম্পদ।
যেখানে ড্রোন থাকবে, কিন্তু তার সঙ্গে থাকবে প্রশিক্ষিত কৃষি বিশেষজ্ঞ।
যেখানে GIS থাকবে, কিন্তু সেই GIS-এর তথ্য পৌঁছাবে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকের হাতেও।
অর্থাৎ প্রযুক্তি যেন প্রদর্শনীর বিষয় না হয়ে কৃষকের বাস্তব জীবনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে-এটাই হতে হবে আধুনিক কৃষিনীতির মূল দর্শন।
 
শেষ কথাঃ
১ সেপ্টেম্বর তাই কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় দিন। এটি একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপরিচয়ের দিন, এটি একটি সংবাদপত্রের পথচলার স্মৃতির দিন, সর্বোপরি এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার দিন।
 
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নের মাটিতে আজকের প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির বীজ রোপণ করা যেতে পারে।
খাল পুনঃখনন সেই মাটিতে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে পারে।
GIS কৃষকের জমিকে তথ্যের মানচিত্রে রূপান্তর করতে পারে।
ড্রোন কৃষকের চোখকে আরও দূরদর্শী করতে পারে।
আধুনিক কৃষিযন্ত্র কৃষকের শ্রমকে আরও উৎপাদনশীল করতে পারে।
কৃষক কার্ড কৃষক ও রাষ্ট্রের সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করতে পারে।
আর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে-এই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন শেষ পর্যন্ত মানুষই থাকে।
 
জিয়াউর রহমানের স্বনির্ভরতার দর্শন থেকে তারেক রহমানের আধুনিকায়নের প্রত্যয়-এই দুই প্রান্তকে যদি প্রযুক্তি, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের সেতুবন্ধনে যুক্ত করা যায়, তবে বাংলাদেশের কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের খাত থাকবে না। এটি হয়ে উঠতে পারে জাতীয় অর্থনীতির পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
 
৪৮ বছরের রাজনৈতিক অভিযাত্রার পর বিএনপির সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু অতীতের উত্তরাধিকার বহন করা নয়-সেই উত্তরাধিকারকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে পুনর্নির্মাণ করা।
 
কারণ ইতিহাস কেবল স্মরণ করার বিষয় নয়, ইতিহাস থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণের সাহস অর্জন করাই ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা।
আর সেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে এমন এক বাংলাদেশ-যেখানে কৃষকের ঘরে স্বচ্ছলতা, তরুণের হাতে কর্মসংস্থান, নদী-খালে প্রাণের প্রবাহ, প্রযুক্তির হাতে উৎপাদনের নতুন শক্তি এবং সংবাদপত্রের পাতায় সত্য বলার অবাধ সাহস থাকবে।
 
সেই বাংলাদেশই হতে পারে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন থেকে আধুনিকতার বাস্তবতায় উত্তরণের বাংলাদেশ।
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালের নতুন সংবাদ এর ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে গুণী সাংবাদিক সম্মাননা প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


কালের নতুন সংবাদ এর ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে গুণী সাংবাদিক সম্মাননা প্রদান

"কালের নতুন সংবাদ"-এর ১১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা, কেক কাটা ও সেরা সাংবাদিকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন দৈনিক দিনকাল কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আবু জাফর সালেহ মো. বাবুল। কালের নতুন সংবাদ এর সম্পাদক খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা রুহুল হোসাইন, কিশোরগঞ্জ জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল্লাহ, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম সম্পাদক সালাহউদ্দিন খান ছোটন, করিমগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক রাজ্জাকুন্নেছা সুমী, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম ফকির মতি, সাপ্তাহিক শুরূক পত্রিকার সম্পাদক মুহা. ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক নবধারা বার্তার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পলাশ, নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, তাড়াইল বিএমইউজের সভাপতি ছাদেকুর রহমান রতন ও দৈনিক দিনকাল জেলা প্রতিনিধি আবু সালেহ বাবুল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, হাওর টাইমস্ এর সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম ভূঁইয়া, দৈনিক কিশোরগঞ্জ এর স্টাফ রিপোর্টার পলাশ, সাংবাদিক মাহবুব আলম নজরুল, মিজানুর রহমান শাহিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক আজকের দর্পণ এর জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান লিপন, বিটিএন বাংলার সম্পাদক ও কালের নতুন সংবাদ এর নির্বাহী সম্পাদক এডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, দৈনিক আমার সংবাদ এর পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি এম এ হান্নান, কালের নতুন সংবাদ এর হোসেনপুর স্টাফ রিপোর্টার এস কে শাহিন নবাব, মামুন, উপজেলা প্রতিনিধি সোহেল মিয়া, হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম রিপন, দৈনিক নওরোজের তাড়াইল প্রতিনিধি মজিবুল হক চুন্নু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা তাড়াইলের সভাপতি হাজী শহিদুল ইসলাম, কবি ও ছড়াকার সাদেক আহমেদ, দৈনিক সরেজমিন বার্তার জেলা প্রতিনিধি মো. আজিজুল হক ফাহিম, আমার সংবাদ এর জেলা প্রতিনিধি ইমরান হাসান, দৈনিক নিরপেক্ষ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান মিজান।

কালের নতুন সংবাদ পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সোহেল রানা, সহ-বার্তা সম্পাদক রিতু আক্তার, সহকারী সম্পাদক মাসুদ মিয়া, সহ-সম্পাদক রাকিব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শাহিন, নান্দাইল প্রতিনিধি আতাউর রহমান বাচ্চু, আতাউল হাসান দিনার ও মো. এমদাদ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কালের নতুন সংবাদ এর পক্ষ থেকে বছরসেরা ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা সাংবাদিকদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রাপ্তরা হলেন- অ্যাডভোকেট আসাউজ্জামান জুয়েল, গাজীপুর প্রতিনিধি এমদাদুল হক, নেত্রকোণা প্রতিনিধি আলম খান, আতাউর রহমান বাচ্চু, আমিনুল ইসলাম রিপন এবং এস কে শাহিন নবাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৫ বছর পর ইমিগ্রেশন নীতিতে বদল: মার্কিন নাগরিকত্বে ফিরল আগের নিয়ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ পি.এম


৩৫ বছর পর ইমিগ্রেশন নীতিতে বদল: মার্কিন নাগরিকত্বে ফিরল আগের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর হতে চলেছে। ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর, নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র এবং অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম পুনরায় চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, সংক্ষেপে ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণরূপে স্থগিত ছিল। সে সময় ইউএসসিআইএস, যা পূর্বে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপর নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর, সংস্থাটি আবার পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে এসেছে।

নতুন নীতি গত ২৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, "যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।"

এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। সাক্ষাৎকারে প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেন। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

তবে, সকল আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এজন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়।

এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।"

শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে।

সূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%