ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ত্রাণের কম্বল চুরির অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে


ত্রাণের কম্বল চুরির অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের বিরুদ্ধে জব্দকৃত চোরাচালানের কম্বল সংখ্যা কম দেখিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া তিনি কম্বলগুলোর গুণগত মান গোপন করেছেন এবং আসামিদের সুবিধার্থে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিয়েছেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাস্তির মুখে পড়লেও ওসি মনির ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।

একাধিক মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ, এসএমপি কমিশনারের চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, কম্বল আত্মসাতের ঘটনায় এসএমপি কমিশনার মোগলাবাজার থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেনকে কৈফিয়ত তলব (শোকজ) করে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বক্তব্য, চুরির সময়ের ছবি এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর সত্যতা মিলেছে।

কমিশনারের চিঠি অনুযায়ী, মোগলাবাজার থানার একটি চোরাচালানবিরোধী অভিযানে (মামলা নং: জিআর-০৫/২৬) একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে ৫৬০ পিস দ্বিস্তরবিশিষ্ট (ডাবল পার্ট) ভারতীয় কম্বল জব্দ করা হয়। কিন্তু মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেনের নির্দেশে মামলার মূল এজাহারকারী এক উপপরিদর্শক (এসআই) প্রকৃত সংখ্যা ও গুণগত মান গোপন করেন। তিনি জব্দতালিকায় ৫৬০ পিসের বদলে এজাহারে মাত্র ৪৩০ পিস কম্বল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া কম্বলগুলো সিঙ্গেল পার্ট নাকি ডাবল পার্ট, তা জব্দতালিকায় উল্লেখ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: মন্দিরে অর্থ সহায়তা করলেন আলিনগর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার হাওলাদার

পরে দেখা যায়, সিলেট শাহপরান থানার অপর একটি মামলায় (জিআর-২৬৫/২৫) মো. কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি আদালত থেকে নিলামে ৬৫৮ পিস এক স্তরবিশিষ্ট (সিঙ্গেল পার্ট) পাতলা কম্বল কিনেছেন। তারপর তার কাছ থেকে দুই ব্যবসায়ী আরমান হুদা ২২৮ পিস এবং মো. সেলিম আহমদ ৪৩০ পিস কম্বল কিনে নেন। এরপর আসামি ও চোরাকারবারিদের সুবিধা পাইয়ে দিতে মোগলাবাজার থানার পুলিশ কর্মকর্তারা নতুন নাটক সাজান। মো. সেলিম আহমদ আদালতে আবেদন করেন যে, মোগলাবাজার থানায় আটক ৪৩০ পিস কম্বল শাহপরান থানার মামলার কেনা নিলামের কম্বল। ওসি মনিরের পরিকল্পনা ছিল, আদালতের মাধ্যমে কম্বলগুলো সেলিম আহমদের জিম্মায় দিয়ে দামি ডাবল পার্টের কম্বলগুলো নামমাত্র মূল্যে বের করে নিয়ে যাওয়া এবং এজাহারে গোপন রাখা অতিরিক্ত ১৩০ পিস কম্বল নিজেদের কাছে রেখে দেওয়া।

এই মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর দ্বিতীয় তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী তোবারক হোসেন। আদালত আলামতের প্রকৃত মালিকানা যাচাইয়ের নির্দেশ দিলে কাজী তোবারক হোসেন সরেজমিনে থানায় রক্ষিত কাভার্ড ভ্যানের কম্বল গণনা বা পরীক্ষা না করেই চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার প্রতিবেদনে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়ায় আদালত নতুন করে কম্বল গণনা ও গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি মোগলাবাজার থানার কম্পাউন্ডে তল্লাশি চালিয়ে ৫৬০ পিস দামি দ্বিস্তরবিশিষ্ট কম্বল পায়। পরে কমিটি আদালতকে অবহিত করে।

গত ৯ মার্চ আদালত তোবারক হোসেনকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয় এবং কৈফিয়ত দিতে বলেন। শুনানি চলাকালীন তিনি জনৈক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে জানান এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু আদালত তার অপেশাদার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়ে এসএমপি কমিশনার বরাবর চিঠি পাঠান। এসএমপি পরে তাকে কৈফিয়ত তলবনামা পাঠায় এবং তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা পরিপন্থি, অপেশাদারিত্ব, অদক্ষতা, নৈতিক স্খলন, গাফিলতি অভিযোগ তুলে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।

কিন্তু এসব ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত নায়ক, ওসি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ১১ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা দিলেন মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মোগলাবাজার থানার ওসি মনির হোসেন বলেছেন, কোনো কম্বল চুরি হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা গণনায় ভুল করেছেন। সকল কম্বল থানার হেফাজতে ছিল এবং পরে তা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

এসএমপি কমিশনারের একটি চিঠিতে বেশ কয়েকবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওসির মদদে ও নির্দেশে কম্বল চুরি হয়েছে। কমিশনার কেন এভাবে লিখেছেন, এমন প্রশ্নে ওসি মনির মন্তব্য করেন, কেউ কারো বিরুদ্ধে লিখলে তো আর কম লিখে না। ফলে তিনি এভাবে লিখেছেন।

এ ব্যাপারে এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. এনামুল হক বলেন, আমি ওসি মনিরের সঙ্গে আলোচনা করব। বিষয়টি খতিয়ে দেখব। পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে পুঙ্খানাপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। তদন্তে প্রমাণ পেলে প্রথমে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: ফেনীতে মাদক কারবারিদের হামলায় আহত দিনমজুর মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুখের ভাষার কারনে এনসিপি বিভিন্ন যায়গায় অপমানিত হচ্ছে - এমপি খোকন তালুকদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ পি.এম


মুখের ভাষার কারনে এনসিপি বিভিন্ন যায়গায় অপমানিত হচ্ছে - এমপি খোকন তালুকদার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে মাদারীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার বলেছেন, আজকে বিভিন্ন জায়গায় আমরা দেখতে পাই আপনারা প্রতিরোধের মুখে পড়েন এবং প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তিনি আরও বলেন, শুধু একটা কথা বলতে চাই, বাংলাদেশের সকল সচেতন মানুষ জানে যে, শুধু আপনাদের মুখের কারণে আপনারা বিভিন্ন জায়গায় অপমানিত হচ্ছেন। মুখ দিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করেন এবং দেশের স্বার্থে কাজ করেন।

শুক্রবার বিকেলে মাদারীপুর সরকারি কলেজ মাঠে ডিসি ব্রিজ ক্লাব মাদারীপুর এর আয়োজনে করিম খান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন এবং দেশবাসী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খোকন তালুকদার আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে অভিভাবকের আসনে বসেছেন। তার এই পরিশ্রম ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতই জায়গা করে নেবে, ইনশাআল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মাদারীপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাড. জাফর আলী মিয়া, জেলা যুবদলের আহবায়ক ফারুক বেপারী, জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন হাওলাদার, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক মেহেদী হাসান জাকির, সদস্য সচিব কামরুল হাসানসহ বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশব্যাপী ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব ডা. জুবাইদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে দেশব্যাপী ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব ডা. জুবাইদার

থ্যালাসেমিয়া এবং জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্তদের জন্য দেশব্যাপী একটি ডেটাবেজ (রেজিস্ট্রি) তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ডা. জুবাইদা রহমানের পক্ষ থেকে।

ডা. জুবাইদা রহমান, যিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।

তিনি বলেন, “দেশজুড়ে থ্যালাসেমিয়া এবং অন্যান্য জন্মগত ও বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষের একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করা প্রয়োজন এবং একটি রেজিস্টার মেইনটেইন করা জরুরি।” থ্যালাসেমিয়া যোদ্ধাদের শতভাগ সুস্থ করতে না পারলেও, তাদের এবং পরিবারের জন্য সান্ত্বনা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে আশ্বাসের হাত বাড়াতে হবে।

সচেতনতা তৈরির জন্য ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অন্তঃসত্ত্বাকালীন সময়ে স্ক্রিনিং করলে এটি শনাক্ত করা যায়। যেকোনো বয়সে স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে রোগটির সনাক্তকরণ সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশবাসীকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে কার্যকরীভাবে চালানো যায়।

তিনি বলেন, “এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় তাদেরকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সম্যক তাৎপর্য এবং তথ্য দেওয়া যেতে পারে, যেমন এর উপসর্গ, চিকিৎসা ও রোগীকে আশ্বস্ত করার পদ্ধতি।”

ডা. জুবাইদা রহমান রোগীদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিভক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, শনাক্ত করার পর ধাপে ধাপে থ্যালাসেমিয়া মেজর, থ্যালাসেমিয়া মাইনর এবং থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট হিসেবে বিভক্ত করা যায়। চিকিৎসকরা যতদূর সম্ভব সতর্কতা এবং সংবেদনশীলতার সাথে চিকিৎসা প্রদান করলে রোগী এবং তার পরিবার অনেকাংশে চিন্তামুক্ত ও আশ্বস্ত থাকবেন।

স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের জন্য তাদের এই অসামান্য মানবিক কাজের জন্য অভিনন্দন এবং মোবারকবাদ।” তিনি বিশেষভাবে অভিনন্দন জানান তার কন্যা জাইমা রহমানকে, যিনি একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা। এ পর্যন্ত তিনি সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এছাড়া অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহু বিদেশে গ্রেফতার হলে ইসরায়েল কী করবে? সামনে এলো দুর্ধর্ষ পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


নেতানিয়াহু বিদেশে গ্রেফতার হলে ইসরায়েল কী করবে? সামনে এলো দুর্ধর্ষ পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গৃহীত গ্রেফতারি পরোয়ানার কারণে বিদেশ সফরে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কাকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এমনকি বিদেশে তার আটক করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের ‘বিশেষ বাহিনী’ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন দুর্ধর্ষ পরিকল্পনার ইঙ্গিত। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি আইসিসির জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য মার্কিন ফেডারেল সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৪ সালে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ওই পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল আইসিসি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়, তবে আইসিসির ১২৪টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ রয়েছে, সেখানে নেতানিয়াহু প্রবেশ করলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর কাছে তার বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে, নেতানিয়াহুকে উপস্থাপক শন হ্যানিটি প্রশ্ন করেন, বিদেশ সফরের সময় জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এবং আইসিসির এখতিয়ারভুক্ত কোনো দেশে বিমান অবতরণ করতে হলে তিনি গ্রেফতারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন কি না। জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবি। আপনি জানেন, আমাদের বিশেষ বাহিনী আছে। আমি সেখানে পাঁচ বছর কাজ করেছি।’

এরপর, হ্যানিটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করলে, নেতানিয়াহু বলেন, ‘চলুন তাদের একটি নতুন দায়িত্ব দেওয়া যাক।’ এদিকে, সম্ভাব্য গ্রেফতারের আলোচনা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। জোহরান মামদানিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, নিউইয়র্কে গিয়ে তিনি ‘সত্য কথা’ বলবেন। তার অভিযোগ হচ্ছে, মামদানি শহরের এক শ্রেণির মানুষকে অন্য শ্রেণির বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছেন এবং তিনি ইহুদিবিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে, আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের অভিযোগ, গাজার যুদ্ধের কৌশল হিসেবে অনাহারকে ব্যবহার এবং বেসামরিক জনগণের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলার দায় রয়েছে তার। পাশাপাশি, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত সময়ে হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে নেতানিয়াহু সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, আইসিসির এই পদক্ষেপ ‘ইহুদিবিদ্বেষপ্রসূত’।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, তার বিশ্বাস নেতানিয়াহুর হেগে বিচার হওয়া উচিত, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, নিউইয়র্ক সিটির নিজস্বভাবে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের এখতিয়ার নেই; তবে এ বিষয়ে তিনি মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ চান।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করা হবে না।’ একই পোস্টে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, গ্রেফতারের যোগ্য তারা, যারা ইরানকে মৃত্যু ও ধ্বংসের এই পরিস্থিতির দিকে নিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসায়ী হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রিমান্ডে, স্ত্রী পাঠালেন কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


ব্যবসায়ী হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী রিমান্ডে, স্ত্রী পাঠালেন কারাগারে

রাজধানীর হাতিরঝিলে কাঁচামাল ব্যবসায়ী এমাদুল হাওলাদার রাজু (৪৮) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামির মধ্যে প্রধান আসামি মো. বজলু মিয়া ওরফে বজুকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বজলুর স্ত্রী সাথী আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। কিন্তু আদালত বজুর স্ত্রী সাথীর রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, নিহত এমাদুল হাওলাদার রাজু কারওয়ান বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রধান আসামি বজলু মিয়াও একই বাজারে ব্যবসা করতেন। তাঁদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ব্যবসার কথা বলে রাজুকে নিজের বাসায় ডেকে নেন বজলু। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পিঠের ডান পাশে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজুকে প্রথমে মগবাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্তরা হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই হাতিরঝিল থানায় এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বড় বোন শাহানা বেগম।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%