১০:৪৫ এম
১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসে রাজস্থানের একটি জঙ্গলে ‘হম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন কৃষ্ণসার হত্যার অভিযোগ উঠেছিল বলিউডের ভাইজান সালমান খানের বিরুদ্ধে। সেই সময় সালমানের সঙ্গে সিনেমার শুটিংয়ে যুক্ত আরও কিছু তারকার নামও আলোচনায় আসে। এদের মধ্যে ছিলেন সোনালি বেন্দ্রে, টাবু, নীলম কোঠারী ও সাইফ আলি খান। অভিযোগ ছিল যে, রাজস্থানের কঙ্কণী গ্রামে দুটি কৃষ্ণসার হত্যা করা হয়েছিল।
বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার অত্যন্ত পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই সম্প্রদায়ের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। সালমানের বিরুদ্ধে এই শিকারের অভিযোগের কারণে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর ফলস্বরূপ, সালমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। এর পর থেকেই লরেন্স বিষ্ণোই সালমানকে হুমকি দিতে শুরু করেন।
২০১৮ সালে আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স বিষ্ণোই প্রকাশ্যে সালমানকে খুনের হুমকি দিয়েছিলেন। পাঞ্জাবের বাসিন্দা লরেন্সের বিরুদ্ধে খুন, তোলাবাজি সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় থেকেই তার নাম প্রকাশ্যে আসে। পরে তার অপরাধ চক্র দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তকারীদের দাবি, জেলবন্দি থেকেও তিনি সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যকলাপ চালিয়ে গেছেন।
আরও পড়ুন: রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, বান্ধবীর বিস্ফোরক সাক্ষ্য
লরেন্সের সঙ্গে গোল্ডি ব্রার, অনমোল বিষ্ণোইসহ একাধিক ব্যক্তির নাম বিভিন্ন মামলায় উঠে এসেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই চক্রের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করে যাচ্ছে। সালমানকে ঘিরে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি নতুন মাত্রা পায় ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল। ওই দিন ভোরে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় ভাইজানের বাড়ি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের সামনে মোটরবাইকে চড়ে এসে দুই দুষ্কৃতকারী গুলি চালায়। ঘটনার সময় সালমান বাড়িতে ছিলেন। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে যে, অভিযুক্তরা আগে থেকেই এলাকা রেকি করে রেখেছিল। পরে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীরা এই হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ খতিয়ে দেখেন। এ ঘটনার পর সালমান খানের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। অভিনেতার বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনা গোটা মুম্বাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এদিকে ভাইজানের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অনুজ থাপনের মৃত্যু ঘটে পুলিশি হেফাজতে ২০২৪ সালের মে মাসে। পুলিশের দাবি, সে আত্মহত্যা করেছে। তবে এ মৃত্যু কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে বাবা সিদ্দিকীর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে আসে যে, অনুজের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর খুন হন বাবা সিদ্দিকী। সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে পরবর্তী সময়ে নিশানায় আসেন মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা বাবা সিদ্দিকী। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তার ছেলে জিশান সিদ্দিকীর দপ্তরের কাছে গুলি করে তাকে হত্যা করা হয়। উৎসবের মৌসুমে এ হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।
আরও পড়ুন: ‘দিস মিউজিক মে কনটেইন হোপ’ দিয়ে মার্কারি পুরস্কার জিতলেন রে
বাবা সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দায় স্বীকার করা হয়েছিল। সেখানে সালমানের সঙ্গে বাবা সিদ্দিকীর ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ তোলা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুম্বাই পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটে বলা হয়, সালমানের ঘনিষ্ঠতার কারণেই বাবা সিদ্দিকীকে নিশানা করেছিল দুষ্কৃতকারীরা।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সালমানের নিরাপত্তা কঠোর হওয়ায় তার পরিবর্তে ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি মুম্বাইয়ে অপরাধ চক্রের প্রভাব বিস্তার এবং আতঙ্ক তৈরি করার বিষয়টিও তদন্তে উঠে আসে। এ মামলায় অনমোল বিষ্ণোইয়ের নাম উঠে আসে ষড়যন্ত্রের অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে।
আবারও সেই সূত্র ধরে অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আটককৃতদের সঙ্গে লরেন্স গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে কিনা।
এর মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠী। সেই বার্তায় সালমান খানের নামও উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন: টিউশনের আয়ে সিনেমা ‘অন্যপাতা’ মুক্তি পাচ্ছে ২৩ অক্টোবর
বলিউডে আবার আতঙ্ক শুরু হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন আটককৃতদের সঙ্গে লরেন্স গ্যাংয়ের যোগ রয়েছে কিনা। এর মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, সালমানের ঘনিষ্ঠদেরও নিশানা করা হতে পারে।
জানা গেছে, অভিনেতা টাইগার শ্রফ একটি ফুটবল মাঠ থেকে ফেরার সময়ে এ হামলার শিকার হন। গুলি চললেও টাইগার গুরুতর আহত হননি। তবে তার গাড়িচালক এবং এক পথচারী গুলিতে আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে তদন্তে নামে মুম্বাই পুলিশ। সংগ্রহ করা হয় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ।
এরপর সামাজিক মাধ্যমে দায় স্বীকার করেছে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের একটি গোষ্ঠী। সেই বার্তায় সালমানের সঙ্গে টাইগারের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ফের হুমকি দেওয়া হয়। সালমানের ঘনিষ্ঠদেরও আক্রমণ করার কথা বলা হয়। তবে হামলাকারীদের সঙ্গে সত্যিই এ গ্যাংয়ের যোগাযোগ ছিল কিনা, তা তদন্ত করছে পুলিশ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে একটি ট্রেনে যাত্রাকালে তিন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে দুজন হরিয়ানার বাসিন্দা এবং একজন বিহারের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজন নাবালক বলেও জানা গেছে।
আরও পড়ুন: আজ যমুনা ফিউচার পার্কে জেমসের কনসার্ট, অংশ নিচ্ছে জনপ্রিয় ব্যান্ডগুলো
অভিযুক্তরা হামলার আগে টাইগারের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিল কিনা, অস্ত্র কোথা থেকে এসেছিল এবং ঘটনার পর তারা কীভাবে মুম্বাই ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন