ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যাত্রাবাড়ী থানার বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২০ জন


যাত্রাবাড়ী থানার বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ২০ জন

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

আজ ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন অপরাধ প্রবণ এলাকা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- মো. রাকিব (১৯), মো. সিফাত (২৬), মো. শাওন (২০), মো. রায়হান (২০), রূপা আক্তার (৩০), জীবন (২৮), মো. রিয়াজ (৩০), সম্রাট (৩০), মো. হাসান (২৬), মো. নাজমুল হোসেন (৩২), পারভেজ (২৫), মো. সবুজ (২৩), মো. ইমন (২০), মো. শাওন (২২), মো. রমজান (২৮), মো. জায়েদ (১৯), মো. সাজ্জাদ (১৯), মো. রাজিব হোসেন (১৮), কামরুল (৩২) এবং আলী আহাম্মদ শেখ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের সহায়তায় সরকার : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের সহায়তায় সরকার : তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

ঢাকা, ২ অক্টোবর, ২০২৬ : সরকার জন্মগত ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের সঠিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে, এমনটি জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মন্ত্রী বলেন, "উপযুক্ত চিকিৎসা সুবিধা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে এসব শিশুর মুখে হাসি ফোটানো আমাদের সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।"

আজ রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘স্মাইল ট্রেন আমেরিকা’র সহযোগিতায় আয়োজিত ‘নিউ লাইফ হসপিটাল ক্লেফট প্রজেক্ট’ ও ‘চাইল্ড হেলথ্ অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে ‘বিশ্ব হাসি দিবস-২০২৬’ উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটির উপলক্ষে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হওয়া শিশুদের নিয়ে এক মিলনমেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আরও বলেন, "হাসি একটি সার্বজনীন ভাষা। বিশেষ করে একটি শিশুর মুখের হাসি তার পরিবার ও পুরো সমাজকে আনন্দিত করে। একটি সুস্থ ও হাসিখুশি শিশিই আগামী দিনের সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তুলবে। তাই শিশুদের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।"

তিনি উল্লেখ করেন, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও দ্রুত করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। টেলিমেডিসিন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরাও এখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, "প্রযুক্তির এই সুফল প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।"

চিকিৎসকদের অবদানের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, "আজ এখানে ঠোঁট ও তালু কাটা শিশুদের চিকিৎসার মাধ্যমে মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ার যে মানবিক উদ্যোগ দেখলাম, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ড. বিজয় দাসসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যে সেবা দিচ্ছেন, তা শুধু চিকিৎসাসেবা নয়- এটি শিশু ও তাদের পরিবারগুলোতে নতুন আনন্দ ফিরিয়ে দেওয়ার একটি মহৎ উদ্যোগ।"

এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কাজে দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, "শিশুদের জন্য আমরা যে সময়, শ্রম, মেধা ও অর্থ বিনিয়োগ করব, সেটিই হবে দেশের ভবিষ্যতের প্রকৃত বিনিয়োগ। আসুন, সবাই মিলে প্রতিটি শিশুর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং স্মাইল ট্রেন (বাংলাদেশ ও নেপাল)-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এ বি এম মোবাশ্বের হোসেন। বক্তারা জন্মগত ত্রুটিমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

চাইল্ড হেলথ্ অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী প্রধান অধ্যাপক ডা. বিজয় কৃষ্ণ দাসের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. শামীম আরা খান চৌধুরী, বিশ্ব হাসি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ডা. আসলামুল ইসলাম রুদ্র এবং নিউ লাইফ হাসপাতাল (প্রা.) লি.-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. আসাদুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে সফল অস্ত্রোপচারে সুস্থ হয়ে ওঠা শিশু ও তাদের অভিভাবকদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২১ এম


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী পরিদর্শনকালে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্ট এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে লাগেজের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছে জানতে চান, বিমান থেকে নামার পর লাগেজ গ্রহণে কত সময় লাগছে এবং লাগেজ ডেলিভারি কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের অভিজ্ঞতা কেমন।

যাত্রীরা মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিমানবন্দরের ব্যাগেজ ডেলিভারি ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ পাওয়ার বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এছাড়া তিনি দ্রুত ট্রলির সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে পাকাপোক্ত ডিপি ওয়ার্ল্ডের আগমন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৩ এম


চট্টগ্রাম বন্দরে পাকাপোক্ত ডিপি ওয়ার্ল্ডের আগমন

চট্টগ্রাম বন্দরে দুবাইভিত্তিক বিদেশি কোম্পানি ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর প্রবেশের চেষ্টা এবং তদবিরের কার্যক্রম এখন দৃঢ়ভাবে দৃশ্যমান হয়েছে। কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রলোভন ও বন্দর আধুনিকায়নের নাম করে নিউমুরিংয়ের অবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এর আগে বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত পতেঙ্গা, লালদিয়া চর, পনগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ছেড়ে দেওয়ার ফলে বন্দর ক্রমেই গুরুত্বহীন হয়ে পুরনো যুগে ফিরে যাচ্ছে। বন্দরের অর্থায়নে তৈরি প্রধান টার্মিনাল এনসিটি নিরবচ্ছিন্ন মুনাফার রেকর্ডধারী। আধুনিক যন্ত্রপাতিতে এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ। নতুন অবকাঠামো কিংবা বিনিয়োগের জায়গা অবশিষ্ট নেই। বন্দরের চ্যানেলে জোয়ার-ভাটার সূচি মেনে সীমিত সময়ে, সুনির্দিষ্ট আকার-আয়তনের জাহাজ, নির্দিষ্ট সংখ্যক কন্টেইনার বহন করেই জেটি-বার্থে ভিড়তে হয়। এ অবস্থায় কথিত বিনিয়োগ ও উন্নয়নের নামে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়ে আসা হচ্ছে কমপক্ষে ১৫ বছরের ইজারা চুক্তিতে। এর খসড়া চূড়ান্ত হলেও শর্ত গোপন রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, এনসিটি কিংবা চট্টগ্রাম বন্দরের যে কোনো সচল স্থাপনা বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদি ইজারার পক্ষে এবং বিপক্ষে দুই ধরনের যুক্তি ও বিভাজন রয়েছে। পতিত পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে নেয়া হয় বিতর্কিত এই সিদ্ধান্ত। এর পেছনে কায়েমী স্বার্থবাদীদের হাত রয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের উচিত হবে সেই অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক পরিহার করা। তাছাড়া এ চুক্তি করা হলে চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হারাবে। ঝুঁকিতে পড়বে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব।

চুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কর্মসূচির আওতায় আগামী ৫ অক্টোবর শ্রমিক-কর্মচারী, রাজনৈতিক, পেশাজীবি জোট-সংগঠনগুলো বন্দরের মেইন গেইটের সামনে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে। এতে একাত্মতা ঘোষণা করেছে বিভিন্ন সংগঠন। তাছাড়া খসড়া চুক্তি এবং পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে আজ শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করবে বন্দর রক্ষা কমিটি।

‘সুঁই হয়ে ঢুকে: ফাল হয়ে বের হয়’:

প্রচলিত বাংলা প্রবাদ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথের সনদ (১৬০০ খ্রিস্টাব্দ) নিয়ে হুগলি নদীর তীরে একটি বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে (১৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)। ব্রিটিশরা ‘ব্যবসা’র নামে এসে সুযোগ বুঝে এদেশে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও শতবছরের রাজত্ব গেঁড়ে বসেছিল তা বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অথচ ব্রিটিশ আগমনের পূর্ব পর্যন্ত বৃহত্তর বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল সমৃদ্ধ অঞ্চল। গরীব ছিল না কেউ। বাংলার বিখ্যাত মসলিন, রেশম, সুতির সূক্ষè বয়নের বস্ত্র, খাদ্যশস্য, ফলমূল, সুগন্ধি, সৌখিন দ্রব্যসহ হরেক নামিদামি পণ্যসামগ্রী বিদেশিদের বিস্ময় জাগায়। চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশী অপারেটরের ঢোকার বিষয়টিও অনুরূপ নির্মম পরিণতি ডেকে আনে কি না বিশেষজ্ঞদের ভাবিত করেছে।

দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, আমদানি-রফতানির গেইটওয়ে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে হাজার বছরে গড়ে ওঠা প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম। সেই বন্দরের হৃৎপি- খ্যাত সর্ববৃহৎ স্থাপনা হচ্ছে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। যা বন্দরের প্রতিবছর মুনাফার টাকায় নির্মিত হয়েছে। এনসিটিতে ব্যবহৃত কী গ্যানট্রি ক্রেনসহ অত্যাধুনিক ভারী যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে। এ টার্মিনালে এককভাবে বন্দরের প্রায় ৪৪ শতাংশই কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এবং ৬০ শতাংশ আয় আসছে। কন্টেইনার ওঠানামা এবং জাহাজ গমনাগমনের সক্ষমতা, দক্ষতা, গতিশীলর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এনসিটি। গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে; যা এ যাবতকালের রেকর্ড পারফরমেন্স। গত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি দক্ষতা, স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড। নৌবাহিনীর সুচারু পরিচালনা প্রশংসিত হচ্ছে বন্দর ব্যবহারকারীদের (স্টেক হোল্ডার) কাছে।

কিন্তু আরেক বাংলা প্রবাদে বলা হয়- ‘সুখে থাকলে ভূতে কিলায়’! ধারাবাহিক লাভজনক, সার্বক্ষণিক সচল বন্দরের প্রধান স্থাপনা নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের হাতে ইজারা চুক্তিতে ছেড়ে দেয়ার অদ্ভুত এক ভূত পেয়ে বসেছে। এ নিয়ে অতিউৎসাহী নৌ-পরিবহনমন্ত্রীসহ মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ‘করিৎকর্মা’ শীর্ষ কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জমানের পক্ষ থেকে চলছে তড়িঘড়ি এবং তোড়জোড় তৎপরতা। তাও আবার চট্টগ্রাম বন্দর ভবনকেন্দ্রিক নয়; রাজধানী ঢাকায়। ইজারার যাবতীয় তৎপরতা চলছে গোপনে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের আগেই ২০২৪ সালে বন্দরের এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। মূলত শেখ পরিবার এবং আওয়ামী অলিগার্ক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে চট্টগ্রাম বন্দরকে কব্জায় পাইয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই ‘বিদেশি কোম্পানির’ ডামি সাজানো হয়। তখনই ইজারা বিতর্কে আলোচনায় সামনে আসে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড (দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ড)। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দরসহ শ্রমিক-কর্মচারী ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভ-অসন্তোষ তৈরি হয়। এ কারণে হাসিনা সরকার তা বাস্তবায়নে বিরত থাকে। পরবর্তী সময়ে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার একই পথে অগ্রসর হয়ে এনসিটি ইজারা চুক্তির তোড়জোড় তৎপরতা চালায়। এমনকি যেনতেনপ্রকারে চুক্তি চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা হয়। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারী-জনতার প্রতিবাদী আন্দোলন, বিক্ষোভ, বন্দর ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির মুখে গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি ইজারা চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় ড. ইউনূস সরকার।

পোর্ট-শিপিং সার্কেলে জানা গেছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা ও লজিস্টিকস কোম্পানি। বিভিন্ন দেশে কোম্পানিটির বন্দর পরিচালনা বা ইজারা চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের সবচেয়ে স্পষ্ট ও নথিভুক্ত দেশের উদাহরণ হচ্ছে জিবুতি। জিবুতির ডোরালেহ কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০০৬ সালে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জিবুতি সরকারের ৩০ বছরের চুক্তি হয়েছিল। এরপর ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জিবুতি সরকার একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করে এবং টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেয়। জিবুতি সরকারের অভিযোগ ছিল, ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির শর্তাবলী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সোনার ডিম পাড়া হাঁস?

চট্টগ্রাম বন্দরের সর্ববৃহৎ এবং লাভজনক নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) সচল এই বন্দরের সবচেয়ে সচল স্থাপনা। যার ধারাবাহিক মুনাফা অর্জন এবং কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিবছর। এনসিটি আর বাড়ানোর বা সম্প্রসারণের জায়গা নেই। এর পাশ ঘেঁষেই দেশের অন্যতম প্রধান নৌ-ঘাঁটির স্থাপনা। এছাড়া রয়েছে প্রধান জ্বালানি স্থাপনা। মুনাফার রেকর্ডধারী চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ এনসিটিকে বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারাদানের বিতর্কিত বিষয়টি সেই ঈশপের গল্পে বর্ণিত প্রতিদিন একটি করে সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে জবাই করে একসঙ্গে সবগুলো ডিম একত্রে পেয়ে কৃষকের রাতারাতি ধনী হওয়ার অতিলোভের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেন অনেকেই। যে গল্পে মৃত হাঁসটির পেটে কোনো সোনার ডিম খুঁজে না পেয়ে মোহভঙ্গ হয়। কৃষক বুক চাপড়ে বিলাপ করে।

বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) একটি বিদেশি অপারেটরের কাছে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। বহুল আলোচিত টার্মিনালটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন করেছে। গত পরশু ১ অক্টোবর অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি একটি কনসেশন বা ইজারা চুক্তির খসড়া পেশ করে। বৈঠকে তা অনুমোদন পেয়েছে। এতে চুক্তির আওতায় এনসিটি ছাড়াও বন্দরের ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ডও (ওসিওয়াই) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জানা গেছে, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিতে নিউমুরিং টার্মিনাল এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড ইজারা চুক্তির বিষয়টি মূল এজেন্ডায় ছিলনা। তবে ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় এটি উপস্থাপন এবং অনুমোদন লাভ করে। কোন কোন শর্তে এবং কবে নাগাদ এই ইজারা বা কনসেশন চুক্তি সম্পাদন করা হতে পারে তাও গতকাল পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির উক্ত বৈঠকের বরাতে সরকারিভাবে ‘একটি বিদেশি অপারেটরের’ কথা বলা হলেও বিদেশি কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানে নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো কন্টেইনার ইয়ার্ড পরিচালনায় অপারেটর হিসেবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবার পাকাপোক্ত হয়েছে। তাছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বা উন্মুক্ত দরপত্র নয়; বরং একতরফাভাবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছে বিদেশি কোম্পানিটি।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশি এ কোম্পানি এনসিটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আশ্বাস দেয় ইতঃপূর্বে। অথচ স্বয়ংসম্পূর্ণ এ টার্মিনালের আকার-আয়তন, ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই -বলছেন বিশেষজ্ঞরা। রয়েছে পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি। নতুন অবকাঠামো বিনিয়োগের আর সুযোগই নেই। কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ ও লাভের টোপে হাতছাড়া হতে চলেছে সচল নিউমুরিং। ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরে মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাসহ ১৫ বছরের ইজারা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বিদেশি অপারেটরের ইচ্ছাপূরণে।

ড. মইনুল ইসলামের অভিমত :

এ প্রসঙ্গে একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মইনুল ইসলাম গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, বন্দরের এনসিটি বিদেশিদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন ইজারা চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুই ধরনের মতামত এবং স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। এটি বিতর্কিত বিষয়। বর্তমান বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা রয়েছে। তবে বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দিলেই বন্দরের দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা দূরীভূত হবে কিনা কেউ এ ব্যাপারে নিশ্চিত নয়। এনসিটি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আমলের একই নীতিতে অগ্রসর হচ্ছে বর্তমান সরকার। এর পেছনে কায়েমী স্বার্থবাদী মহলের হাত আছে। তাছাড়া চুক্তির প্রক্রিয়া ও শর্তাবলী অস্পষ্ট এবং অস্বচ্ছ।

বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে বন্দর রক্ষা কমিটি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অথচ দুঃখের বিষয়, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের কথা চিন্তা না করে এনসিটি-সিসিটি ইজারাদানে এরমধ্যেই সরকার খসড়া কনসেশন চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ চুক্তি হলে চট্টগ্রাম বন্দর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ হারাবে। ঝুঁকিতে পড়বে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব। আমরা আশা করি অবিলম্বে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং চুক্তির পদক্ষেপ বাতিল করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী বিএনপি সমর্থিক শ্রমিক দলের নেতা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন বলেন, দেশ ও জাতির কাছে পুরো প্রক্রিয়া গোপন রেখে এনসিটি কিংবা বন্দরের যে কোনো স্থাপনা বিদেশিদের কাছে ইজারা চুক্তির পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। দেশের মূল্যবান রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচার এবং বন্দর কর্মীদের চাকরিচ্যুতির শঙ্কা রয়েছে। সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বন্দরের ভূমিকা বিলোপ হয়ে বন্দর-ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। খেসারত দিতে হবে ভোক্তা বা দেশবাসীকে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা না দেয়ার দাবিতে বন্দর রক্ষা কমিটির ঘোষিত ৫ অক্টোবর বন্দর গেইটের সামনে অবস্থান কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্কপ চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক জরুরি সভা যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বন্দরের এনসিটি, সিসিটিসহ স্থাপনা ইজারার উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক বন্দর সিবিএ সেক্রেটারি কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, শ ম জামাল উদ্দিন, আব্দুল বাতেন, সোহাগ হোসেন, নুরুল আবসার তৌহিদ, হেলাল উদ্দিন কবির, আবু আহমেদ মিয়া, ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের কঠোর অবস্থানে রাজধানীতে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২৪ এম


সরকারের কঠোর অবস্থানে রাজধানীতে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে

চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলসহ নানা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছিল। তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং ধারাবাহিক অভিযানগুলো রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিএনপি পরিবারের সদস্য ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিকে দল থেকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও দলের প্রতি কঠোর অবস্থানের একটি নতুন বার্তা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের জন্য নতুন একটি বার্তা হিসেবে কাজ করছে। মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে বড়-ছোট রাজনৈতিক নেতাদেরও চাঁদাবাজি বা অন্যায় করলে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রী একটি শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছেন, যা স্বস্তির পাশাপাশি দেশের সর্বমহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। তবে স্বস্তির পাশাপাশি শঙ্কাও বিদ্যমান। কারণ একটি সুশীল গ্রুপ আবারও হকারদের উচ্ছেদে মানবাধিকার হরণের অভিযোগ তুলছে। অথচ তারাই দু’দিন আগে বলেছিল, ফুটপাতে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছে না। তাই জনমনে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে মানবাধিকারের নামে ফুটপাত দখলে উস্কে দেওয়া হচ্ছে হকারদের।

অবৈধ দখল উচ্ছেদ, চাঁদাবাজি বন্ধে পদক্ষেপ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, সাময়িক অভিযান ও কঠোর অবস্থানের পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে তাদের ভোগান্তিও ফিরে আসবে। তাই এসব উদ্যোগকে টেকসই ও নিয়মিত রাখতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি বন্ধে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বর্তমান স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সরকারের সাম্প্রতিক তৎপরতায় স্বস্তির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন একটি স্থায়ী, কার্যকর ও দৃশ্যমান পরিবর্তনের।

দেশজুড়ে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মব সন্ত্রাসের ঘটনায় সাধারণ মানুষ হতাশ ও বিক্ষুব্ধ। তবে এসব আর প্রশাসনিকভাবে প্রশ্রয় বা অগ্রাহ্য করার পুরনো ধারায় নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজির বিরুদ্ধে তারেক রহমানের জিরো টলারেন্স প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন লক্ষ করা যাচ্ছে। মিরপুরে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবল প্রতিরোধের সম্মুখীন হওয়ায় দখলবাজদের বেপরোয়া ঔদ্ধত্য প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। কোথাও কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ সামনে আসছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া এবং লুটপাট করা হয়। এ ঘটনা নিয়ে যখন দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে, ঠিক এর এক দিন পরেই রাজধানীর ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা এবং সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একই দিন ভোরে রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে বহুতল ভবন দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেদিনই মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে কয়েক শ লোক একটি প্লটে ঢুকে ভাঙচুর করে লুটপাট করে। এসব ঘটনায় সরকারি দলের স্থানীয় কিছু নেতা-কর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে বাঁচাতে এবং প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনবিআর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ কয়েকটি সংস্থার গভীর ষড়যন্ত্র নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা। তবে এর নেপথ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত দেশের একটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপ। ওই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকা দেয়া হয়েছে দু’টি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ কতিপয় কর্মকর্তাকে। আর ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারাই কৌশলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কতিপয় ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের চারটি কূটনৈতিক মদের ওয়্যারহাউস বা গুদামে অভিযান শেষে সিলগালা করে। নূর ইসলাম ফু ওয়াং কোম্পানীর মালিকানাধীন ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী। বছরের পর বছর ধরে সরকারের নিয়ম মেনে এ সব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে আসছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে বহিষ্কৃত এক যুবদল নেতা আগ্নেয়াস্ত্রের বাঁট দিয়ে মো. সোহান (৩৫) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গুরুতর আহত করেন। সোহানের অভিযোগ, ঘটনার রাতে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস আহমেদ সায়মন কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাঁর পথরোধ করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ফেরদৌস পিস্তলের বাঁট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। একপর্যায়ে ফেরদৌস দুটি ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। স্থানীয় লোকজন ধাওয়ায় ফেরদৌস তাঁর সহযোগীদের নিয়ে একটি ভবনে ঢোকেন। রাত ১২টা পর্যন্ত বাংলামোটর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। ভবনটির সামনে অবস্থান নেয় হাজারো জনতা। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে ফেরদৌস আহমেদ ও তার দুই সহযোগীকে আটক করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ফেরদৌস দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাকে চাঁদা না দিলে তিনি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালান। একই রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে থানার সামনেই এক পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ ওঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি পদে থাকা মো. ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে। মারধরের ঘটনায় রাতে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে বিএনপি নেতাদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। জানা গেছে, এ ঘটনার পর ওই নেতাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে রাজধানীর ৪টি বারে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় ‘কয়লা’ বারে অভিযান শেষে ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)-এর উপ-পরিচালক মো. রাজিউর রহমান বলেন, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বারে একযোগে অভিযান হয়েছে। এর মধ্যে ফুয়াং ক্লাব, রুচিতা, ব্লেজার ক্লাউস ও কয়লায় অভিযান চালানো হয়েছে। এদিকে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় দলীয় এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে গত বুধবার জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ছাড় দেয়া হবে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মাদক, জুয়াসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে, তাদের দলীয় পরিচয় যাই হোক, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসআরবিয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী ইনকিলাবকে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং একটি ভীতিহীন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে আমরা সদা তৎপর। জননিরাপত্তা রক্ষা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং আপসহীন। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হয়।

এছাড়াও রাজধানী ঢাকার ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে হকার, ভাসমান দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা এবং বিভিন্ন ধরনের অবৈধ দখলের কারণে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করেছে। অভিযানে ফুটপাত থেকে অস্থায়ী দোকান, টংঘর, বিভিন্ন পণ্যের পসরা, স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

দীর্ঘদিনের দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নগরের ফুটপাত ফিরে পেতে শুরু করেছে স্বাভাবিক চেহারা। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন নগরবাসী। পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় বাড়ছে স্বস্তি। আগে যেখানে পণ্যের পসরা, স্থাপনা, নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা কঠিন ছিল, উচ্ছেদ অভিযানের পর সেসব এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার এই উদ্যোগ নিয়মিতভাবে চালু থাকলে সড়কে মানুষের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতে পারে বলে জানিয়েছেন নগরবাসী। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে পথচারীদের মধ্যে। তবে এই স্বস্তি কতটা স্থায়ী হবে তা নির্ভর করছে উচ্ছেদের পর ফুটপাতগুলো আবার দখলমুক্ত রাখা, সিটি করপোরেশনের তদারকি ও নিয়মিত অভিযানের ওপর। কঠোর অভিযান বলতে শুধু উচ্ছেদ নয়, অবৈধ দখল পুনরায় যাতে না হয় সেই ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। ফুটপাতের ওপর বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা সরানোর পর সেখানে যাতে পুনরায় দোকান বসতে না পারে, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।

অভিযান কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি দিন বা বিশেষ কোনো উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পরিচালনা না করে নিয়মিতভাবে চালানো প্রয়োজন। আগেও দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরে আবার ফুটপাত দখল হয়ে যায়। একটি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ হওয়ার পর যদি সেখানে নিয়মিত নজরদারি না থাকে, তাহলে নতুন করে দোকান বসানো বা আগের দোকান ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে। অভিযান নিয়মিত চালানোর পাশাপাশি পথচারীবান্ধব ফুটপাত এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে বলছেন তারা।

মিরপুরের বাসিন্দা সাহাদাত হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, রাজধানীর বেশিরভাগ ফুটপাতের ওপর দোকান বসিয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে হকাররা। ফুটপাতের ওপর দোকান বসলে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাতের পুরো অংশ দখল হয়ে গেছে। আমাদের রাস্তার পাশে বা মূল সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হয়। আমরা প্রতিনিয়তই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।

একই এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক বেলাল হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত, সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের ফলে এলাকায় পথচারীদের চলাচল সহজ হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ফুটপাত পুরোপুরি দখল হয়ে ছিল সেখানে উচ্ছেদের পর হাঁটার জায়গা তৈরি হওয়াকে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন অনেকে। ফলে শুধু অভিযান নয়, উচ্ছেদের পরবর্তী সময়ে নিয়মিত নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় ফুটপাত দখল করলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করবে ডিএনসিসি। জনগণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত ফুটপাত উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। ফুটপাত পুনরায় দখলের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ইনকিলাবকে বলেন, ঢাকা নগরীর স্বাভাবিক নাগরিক সুবিধা ও নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই। পথচারীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে মূল সড়কে বা ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। যত্রতত্র বসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না। অবৈধ দোকান বসালে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ প্রফেসর ড. আদিল মুহাম্মদ খান ইনকিলাবকে বলেন, নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন ফুটপাত গুরুত্বপূর্ণ। ফুটপাত খালি করার পাশাপাশি সেখানে পথচারী পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চালানো যেতে পারে। পাশাপাশি নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল সমস্যার সঙ্গে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয় ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কাজ করা প্রয়োজন। ফুটপাত দখলের সঙ্গে জড়িত চাঁদাবাজি বা প্রভাবশালীদের ভূমিকা থাকলে তা বন্ধ করার ব্যবস্থাও জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%