১১:০৫ পি.এম
পদ্মার পাড় ধসে যাওয়ার ফলে ভাঙনের চিত্র দীর্ঘ হচ্ছে, যখন পানি কমছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণে কালিদাসখালী এলাকায় ২০-২৫টি বাড়ি হুমকির সম্মুখীন রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। হুমকির মধ্যে রয়েছে আলাল কাজী, মেহেদী জামালসহ ২০-২৫টি বাড়ি। চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ও হুমকির আওতায় রয়েছে।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর শহিদুল ইসলাম জানান, এক সপ্তাহ আগে পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে এবং ভাঙনও শুরু হয়েছে। এবারের ভাঙনে যেসব জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার অধিকাংশেই আম, মেহগনি গাছ ও বাড়িঘর ছিল। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১,২৬২ জন এবং পরিবার সংখ্যা চার শতাধিক। নদী ভাঙনের কারণে ইতিমধ্যে দেড় শতাধিক পরিবার বিভিন্ন স্থানে চলে গেছে।
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
৩ নম্বর কালিদাসখালী চরের চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে অনেকের বাড়ি ও আম বাগান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। অনেকেই এখন হুমকির মধ্যে রয়েছেন। এবারের ভাঙনের ফলে মনে হচ্ছে কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর নামে কোনো চিহ্ন থাকবে না।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর ফজলুল হক মন্তব্য করেন, চকরাজাপুরের কোনো চিহ্ন নেই। ইতিমধ্যে অনেক কিছু বিলিন হয়ে গেছে। এ ওয়ার্ডের তিন ভাগের দুই ভাগ পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। যদি ভাঙন এভাবে চলতে থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই এ ওয়ার্ডও বিলিন হয়ে যাবে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বর আনোয়ার শিকদার জানান, তার প্রায় ৩০ বিঘা জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে এবং এ ওয়ার্ডের কোনো চিহ্ন নেই। দুই বছরের মধ্যে ৩ শতাধিক পরিবার অন্যত্র চলে গেছে। কালিদাসখালী চরের আলী হোসেন ও আলী ফকির বলেন, বাড়ি করার জমিও ভাঙনে চলে গেছে এবং তারা অন্যের জমি লিজ নিয়ে বসবাস করছেন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রতি বছর ভাঙনের কবলে পড়ে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বর্তমান ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন