০১:৫৩ এম
যশোরে মাকে ধারাল বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা সাবেক শিক্ষক মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর খুলনার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
রবিবার (১ নভেম্বর) রাত ৮টা ১০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদও তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে মাদক কারবারি আটক, ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মামুনুর রশিদ মামুন হত্যা মামলার আসামি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হাজতি ছিলেন। তার হাজতি নম্বর ৫১০৫/২৫। রবিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনার সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কারারক্ষীরা তার পাহারায় নিয়োজিত ছিলেন।
খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ হাসান আলী জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামুনের মরদেহ যশোরে পাঠানো হয়েছে।
মামুন যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন।
মামুনের মা আনোয়ারা বেগম (৫৮) গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রায় আট-নয় বছর আগে যশোর সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলা নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। পরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনা নামে আরেক নারীকে বিয়ে করেন মামুন। প্রায় ছয় বছর আগে ওই সংসারও ভেঙে যায়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ট্যাংক লরির ধাক্কায় আইআইইউসির ছাত্রীর মৃত্যু
স্থানীয়দের দাবি, দুই স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ ও বিচ্ছেদের জন্য মামুন তাঁর মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে এর আগেও মায়ের সঙ্গে বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। এলাকাবাসীর ভাষ্য, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন তিনি।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট বাড়িতে ফেরেন মামুন। ওই দিন বিকেলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে মামুন ধারাল বটি দিয়ে মায়ের গলায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই আনোয়ারা বেগমের মৃত্যু ঘটে।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মামুন বটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছিল। কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে খুলনার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: গুরুদাসপুরে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য আলাদা কবরস্থান, জমি কেনা সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন