১২:১৯ পি.এম
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার পর চারপাশের দৃশ্য দেখে সবাই প্রথমে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চারদিকের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ যে কারো মনকে আনন্দিত করে তুলবে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে এই আনন্দের ছোঁয়া কিছুটা বেশি দেখা গেছে। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ধাঁচ দেখে একটি শব্দই মনে হলো, সিরিয়াসনেস!
মঙ্গলবার সিলেটের সবুজ মাঠে দুই দলের অনুশীলনের দৃশ্য ছিল ভিন্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে হাসি-আনন্দের অভাব নেই। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। কখনো শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, কখনো খুনসুটি। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা তার ভঙ্গি যেন আরেকটি জয়ের আগাম ঘোষণা!
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অনুশীলনে চাপের ছাপ স্পষ্ট ছিল। প্রত্যেকের চোখে-মুখে ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দেখা গেছে। সিলেটে বাংলাদেশের চাওয়া একটাইÑ ঢাকার দুঃখ ভুলে ক্রিকেটের সুখ খুঁজে পাওয়া।
আরও পড়ুন: সিলেট টেস্টের আগে তাইজুলের ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন সিমন্স
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে বর্তমানে সিলেটে দুই দল অবস্থান করছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। সিরিজ শুরুর আগে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের ফেভারিট তকমা। কিন্তু মিরপুরের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে। আট উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে এগিয়ে এখন অতিথিরা। সিলেটেও জিতে সিরিজ ২-০ করার স্বপ্ন দেখছে তারা। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য সমীকরণ পরিষ্কার। জিততেই হবে। নইলে দেশের মাটিতে আরেকটি টেস্ট সিরিজ হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হবে।
ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্লেখ করার মতো কিছু ছিল না। ২৭২ রানে শেষ হয় প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো বিপর্যয় ঘটে। মাত্র ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নাঈম হাসান লোয়ার অর্ডারে হাফ সেঞ্চুরি না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।
সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। টপ অর্ডারকে শক্ত ভিত দিতে হবে। ভালো শুরু পেয়েও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পুরোনো রোগ ছাড়তে হবে। মিডল অর্ডারকে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু উইকেটে টিকে থাকলেই হবে না, রানও তুলতে হবে। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই। অন্তত ৪০০ রানের কাছাকাছি পুঁজি পেলে বোলাররাও লড়াই করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাচ ফেলে কিংবা সহজ রান বিলিয়ে দিয়ে টেস্ট জেতা যায় না।
মুশফিকুর রহিমের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি। ইনজুরি কাটিয়ে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ফিরে আসা দলের ব্যাটিংয়ে বাড়তি শক্তি যোগাবে। তবে মুমিনুল হকের ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা। তার অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে অন্যদের। অভিজ্ঞতার ঘাটতি যেন পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলেÑ সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত, শিরোপা জিতেছে শারীরিক শিক্ষা বিভাগ
মিরপুরে স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের ফাঁদে পড়েছিল। প্রতিপক্ষকে স্পিনে ঘায়েল করার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত উল্টো বাংলাদেশের জন্য বিপদ ডেকে আনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা বরং বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন। সিলেটে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। উইকেট বুঝে বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে। স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু টার্নের অপেক্ষায় না থেকে লাইন-লেংথ ও নিয়ন্ত্রণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হবে।
সিলেটের উইকেট নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এ টেস্টে দলে আসা অমিত হাসান। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত যা দেখছি, তাতে ঘাসের উইকেটই মনে হচ্ছে। এখনো টেস্ট শুরুর এক-দুদিন বাকি আছে, দেখা যাক। এখানে এনসিএলে শেষ দুই ম্যাচে ভিন্নরকমের উইকেট ছিল, এখন আরেকরকম। এক-দুদিন পর বোঝা যাবে উইকেট কেমন।"
মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে দলে এসেছেন অমিত। ম্যাচে তাই মুমিনুলের অভাবটা পূরণ করতে চান জানিয়ে অমিত বলেন, "মুমিনুল ভাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে কনকাশনের কারণে দলে নেই। আমার যদি খেলার সুযোগ আসে, তাহলে চেষ্টা করব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে বা যে প্রক্রিয়ায় খেলে আসছি, সেভাবেই খেলার।"
প্রথম টেস্ট জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন আত্মবিশ্বাসী। তাদের চোখ সিরিজ জয়ের দিকে। স্যামির দলের অনুশীলনে সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপও স্পষ্ট। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। নিজেদের ভুল শুধরে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ডুলি: ঘরের মাঠে দীর্ঘ ট্রফি খরা কাটানো আকাশকুসুম কল্পনা নয়
ঢাকায় বাংলাদেশ হেরেছে আট উইকেটে। সেই হারের ক্ষত এখনো নিশ্চয়ই তাজা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে একটি পরাজয়ই শেষ কথা নয়। সিলেটে নতুন পরীক্ষা, নতুন লড়াই। এবার আর অজুহাত নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই জবাব দিতে হবে বাংলাদেশকে। ক্রিকেট সুখের খোঁজে সিলেটে এসেছে দল। সেই সুখ খুঁজে পেতে হলে ব্যাটে-বলে ফিরতে হবে পুরোনো বাংলাদেশকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন