০৫:৫৮ পি.এম
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি হাইকোর্টকে অবহিত করেছে যে, কৃষি ভবন চত্বরে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন একটি মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি দপ্তরের মতো স্থানে স্থায়ী কোনো ধর্মীয় কাঠামো রাখা বা তৈরি করা ‘আইনসম্মত নয় এবং এটি সরকারি সম্পত্তির ধর্মীয় নিরপেক্ষ (সেক্যুলার) চরিত্রের সাথে সাংঘর্ষিক।’
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্ন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষি ভবন ও পার্শ্ববর্তী শাস্ত্রী ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকারের এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হলো যে প্রকল্প এলাকা থেকে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই 'কাদিমি মসজিদ'টি সরিয়ে নেওয়া হবে।
এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন ছয়টি মসজিদ সুরক্ষার আবেদন জানানো হয়েছিল। তখন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানিয়েছিলেন, এসব সম্পত্তির কিছুই হচ্ছে না এবং প্রকল্পের কাজ অনেক দূরের বিষয়।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরোধিতার মধ্যেই পঞ্চমবার নির্বাচিত হলেন ইলহান ওমর
তবে সরকারের নতুন অবস্থানের প্রেক্ষাপটে সোমবার দিল্লি হাইকোর্ট জানতে চান—সরকারি অফিস চত্বরে ধর্মীয় কাঠামো নিষিদ্ধ করার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম বা নির্দেশিকা রয়েছে কি না।
বিচারপতি অনীশ দয়াল মন্তব্য করেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে যে বিকল্প জায়গা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মগুলো আসলে কী। আপনারা কি বলতে চাইছেন যে কোনো ধর্মের প্রার্থনার জন্যই বিকল্প স্থান দেওয়া যাবে না? সব সম্প্রদায়ের জন্যই কি এমন কোনো নিয়ম রয়েছে যে সরকারি কোনো জায়গায় প্রার্থনার সুযোগ থাকবে না? আমরা শুধু এই বিষয়টি জানার জন্য কৌতুহলী।’
আদালত এই বক্তব্যের আইনি ভিত্তি ও প্রভাব স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে মসজিদ কমিটিকে আগামী ২৩ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির আগে সরকারের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় দিয়েছেন।
ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ওয়াকফ-তালিকাভুক্ত এই মসজিদটির পরিচালনা কমিটি আদালতের দ্বারস্থ হয়। কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় গণপূর্ত বিভাগ গত ১৯ জানুয়ারি কৃষি ভবন ও শাস্ত্রী ভবনের স্থানে কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটের ৪ ও ৫ নম্বর ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর এই উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, মসজিদটি অপসারণের তালিকায় সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও নতুন ভবনের নকশায় এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়া আবদুল এল-সায়েদ কে?
গত ২৭ অক্টোবর নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের ভূমি ও উন্নয়ন দপ্তর এক স্থিতিবস্থা প্রতিবেদনে জানায়, এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাঙ্গণে থাকা মসজিদটি অপসারণ করা আবশ্যক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কৃষি ভবন ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় প্রাঙ্গণ সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক ও পাবলিক সার্ভিস কাজের জন্য নির্ধারিত নিরপেক্ষ সরকারি সম্পত্তি। এখানে কোনো স্থায়ী ধর্মীয় কাঠামো রাখা বা এর দাবি করা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাছাড়া সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্ন্নয়ন মাস্টার প্ল্যানের সাথেও এটি মেলানো সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী জামা মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে এটি কেবল প্রার্থনার কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
মসজিদ কমিটি আদালতে দাবি করেছে যে, পুনর্ন্নয়ন এড়ানো অসম্ভব হলে নিকটবর্তী কোনো সুবিধাজনক স্থানে বিকল্প প্রার্থনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক। স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে কৃষি ভবন ও আশেপাশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা কাজের ফাঁকে এখানে প্রার্থনা করে আসছেন।
এর জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমির মালিক হিসেবে সরকার কৃষি ভবন বা সচিবালয় চত্বরে মসজিদের জন্য বিকল্প জায়গা বরাদ্দ দিতে বাধ্য নয়। তাছাড়া নিকটবর্তী ইন্ডিয়া গেটের কাছেই 'শাহী মসজিদ জাবতা গঞ্জ' নামে আরেকটি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে, যা নিকটস্থ দূরত্বে প্রার্থনার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন: মার্সি ক্যাপ্টুর কংগ্রেসের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকা নারী হিসেবে পুনর্নির্বাচন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন