০৫:৪৪ পি.এম
আরও পড়ুন: মদনে শিশু ধর্ষণ ও গর্ভধারণ মামলা, রায় ১১ নভেম্বর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পণ্য আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যের সংকট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির জন্য সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
রমজানে পণ্যের ঘাটতির আশঙ্কা নেই
রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং আসন্ন রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা পর্যালোচনা করেছে। তিনি জানান, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পাইপলাইনে যে পরিমাণ পণ্য রয়েছে, তা বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট। রমজান কিংবা তার আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না।’
তবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য এবং জাহাজভাড়ার ওঠানামা আমদানি ব্যয় ও দেশের বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই
ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয় নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রস্তাব রয়েছে কি না এবং রমজানের আগে তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরকার পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্ক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন থেকে ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং তামার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে হাসপাতালের নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় ১৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকে। তীব্র গরমের মধ্যে আইসিইউ, মেডিসিন, আইসোলেশন ও সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী এবং তাঁদের স্বজনদের জন্য দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। পরে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দুটি বিদ্যুৎ লাইনের মধ্যে একটি বেলা ১১টার দিকে এবং অন্যটি বিকেল ৫টার দিকে সচল করা সম্ভব হয়।
সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সাব-স্টেশনের ভেন্টিলেশনের ফ্যান খুলে ভিতরে প্রবেশ করে এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।
সাব-স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা সাব-স্টেশনে প্রবেশ করে ট্রান্সফরমার ও বড় জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং সব তামার ক্যাবল খুলে নিয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে তাঁরা মেরামতের কাজ শুরু করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, ‘চোরেরা সব ক্যাবল নিয়ে গেছে। এর আগে হাসপাতাল ভবনের থাইগ্লাস, বাথরুমের কলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিচ্ছি।’
এদিকে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের চুরির ঘটনায় সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ফেনী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনিসুল হক বলেন, ‘সাব-স্টেশনটি গণপূর্ত বিভাগের অধীন হলেও এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করে। এর নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের। মূলত পর্যাপ্ত পাহারা না থাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নয়ন চন্দ্র দাস জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নূর নবী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় এক রাজমিস্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে, যার নাম তারেক মিয়া (২২)। আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিখোঁজ থাকার ছয় দিন পর, পুলিশ উপজেলার একটি ডোবা থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু ও সহকর্মী সাহেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
গত মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে, লাখাই ও নবীগঞ্জ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ফুলবাড়িয়া গ্রামের শাহ আলমের বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তারেক মিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার চৌস্তপুর গ্রামের মারফত উল্লাহর ছেলে। অভিযুক্ত সাহেলও একই গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ অক্টোবর রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে তারেক ও সাহেল লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের সুরের রহমানের বাড়িতে আসেন। সেখানে কাজ করার সময় তারেকের ব্যবহৃত দামি আইফোনটির প্রতি সাহেলের লোভ জন্মায়। এর জেরে ২২ অক্টোবর রাতে তারেককে কৌশলে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
এদিকে, তারেক বাড়িতে না ফেরায় এবং তাঁর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা নবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্ত সাহেলকে আটক করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সাহেল আইফোনের লোভে তারেককে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ফুলবাড়িয়া গ্রামের ওই ডোবা থেকে নিহতের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে লাখাই থানার ওসি শরীফ আহমেদ মরদেহ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহত তারেকের বাবা মারফত উল্লাহ বাদী হয়ে লাখাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সাহেলকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ইসলামী ছাত্রশিবিরের অতীত নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি অতীতে বলতেন—‘আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিতব, সেদিন বাংলাদেশে ইসলাম বিজয়ী হবে’। বর্তমানে ডাকসুসহ দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে দেশে ইসলামের বিজয়ের পূর্বাভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরী আয়োজিত পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষ্যে ‘২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্রজীবনের স্মৃতি তুলে ধরে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা যখন শিবির করতাম, তখন কেন্দ্রীয় সভাপতিদের কাছে জানতে চাইতাম—দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংসদে আমরা বিজয়ী হচ্ছি, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবে বিজয়ী হব? তখন আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতিরা দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দিতেন, ‘আমরা যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিতব, ডাকসুতে বিজয়ী হব, সেদিন বাংলাদেশে ইসলাম বিজয়ী ও প্রতিষ্ঠিত হবে।’ আজ ডাকসুতে বিজয়ের মাধ্যমে এবং দেশের বড় বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রশিবিরের সাফল্যের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের স্পষ্ট আলামত জাতি প্রত্যক্ষ করছে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেদিন আওয়ামী লীগ, ১৪ দল ও বামপন্থীরা লগি-বৈঠা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঢাকার চতুর্দিক থেকে পৈশাচিক হামলা চালিয়েছিল। আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও তৎকালীন আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী যখন মঞ্চে ছিলেন, তখন শিবিরের তরুণ নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে বুক দিয়ে মানবঢাল তৈরি করেছিলেন। তারা শহীদ হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, তবুও বাতিলের রক্তচক্ষুর সামনে মাথা নত করেননি।’
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের রক্তপাত ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ দেশে এক-এগারোর অগণতান্ত্রিক সরকার এবং পরবর্তীতে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পথ সুগম করেছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা এবং সাজানো মামলার মাধ্যমে জামায়াত শীর্ষ নেতাদের বিচারিক হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্র-জনতা সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জনগণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে কোনো আপস বা সমঝোতার জন্য নয়। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায়, তবে জনগণ তাদেরও ক্ষমা করবে না।’ তিনি অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডিসহ বিগত দেড় দশকের সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ