ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাল যেসব এলাকায় টানা ২০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে


কাল যেসব এলাকায় টানা ২০ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর) জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে গ্যাস সরবরাহ ২০ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বগুড়া শহর এবং এর আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে পিজিসিএল।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বনানী থেকে তিনমাথা পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি টাই-ইন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টা থেকে ১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের নেটওয়ার্কে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

এর ফলে বগুড়া শহর এবং এর সংলগ্ন এলাকার আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প-কারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার এবং সিএনজি স্টেশনসহ সব শ্রেণির গ্রাহকরা এই সাময়িক সংকটের সম্মুখীন হবে।

পিজিসিএল কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কাছে এই সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।

 

আরও পড়ুন: সকালে যুবদল নেতা, সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ খুলনায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কানাডার অ্যালকোহল আমদানি নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


কানাডার অ্যালকোহল আমদানি নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

 কানাডার সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ আরও জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি কানাডা থেকে অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছেন এবং আরও কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছেন।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক বিরোধ শিগগিরই হ্রাস পাওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

তিনি স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনতে গেলে কানাডার কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে তার মতে, এর সুফল সেই ক্ষতির চেয়ে বেশিই হবে।

মঙ্গলবার রাতে জারি করা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে গদি বা ম্যাট্রেস, মোটরবোট ও গলফ কার্টও রয়েছে।

একই সময়ে জারি করা আরও কয়েকটি নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, দেশটি থেকে বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহলিক পানীয় ও কিছু দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে মঙ্গলবারই কানাডা পাল্টা শুল্ক কার্যকর করে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার (২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার) মূল্যের পণ্যের ওপর এ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য এবং দুগ্ধজাত পণ্য রয়েছে।
ওয়াশিংটন ২২ আগস্ট নতুন শুল্ক ঘোষণা করার পর তার জবাবে কানাডা এই পদক্ষেপ নেয়।

এক ভিডিও বার্তায় কার্নি বলেন, কানাডার কাছে ‘ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের জন্য মূল্য দিতে হবে। পদক্ষেপ নেওয়ার সব সময়ই একটা মূল্য আছে। তবে সেই মূল্য কোনোভাবেই স্থির হয়ে বসে থাকার ক্ষতির কাছাকাছি নয়।’

কানাডার নতুন পাল্টা শুল্কের জবাবে ট্রাম্প মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে কানাডীয় কোম্পানিগুলোর ওপর বিধিনিষেধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মার্কিন জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিএসএ) দীর্ঘমেয়াদি সরকারি চুক্তির তালিকা থেকে ‘কানাডায় তৈরি পণ্য সরিয়ে নিতে’ তিনি কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে প্রতারক চক্রের ৭ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের অভিযানে প্রতারক চক্রের ৭ জন গ্রেপ্তার

মেহেরপুর জেলা ডিবি পুলিশ এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতারক চক্রের ৭ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজারের চকরিয়ার মো. তালিপ (২০), পেকুয়ার মো. জয়নাল (৩৪), রামুর মোহাম্মদ কাউছার (২৭), কক্সবাজার সদরের মো. মিরুয়ান (২৫), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর আবুল কালাম (৬৭), টেকনাফের নুরুল আবছার (৩৩) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দির মো. ইসমাইল মীর (২৪)।

মেহেরপুর ডিবি ও সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের ইনচার্জ প্রদীপ কুমার সানা বাসস’কে জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার এবং কর্নেল পরিচয়ে ত্রাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তালিপ ও জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কাউছার ও মিরুয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে জালিয়াতি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আবুল কালাম, নুরুল আবছার ও ইসমাইল মীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক চারটি প্রতারণার মামলা রয়েছে।

তিনি জানান, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর তিন দিনব্যাপী বিশেষ অভিযানে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারকদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ৭ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সরকারি বা ব্যাংক কর্মকর্তা পরিচয়ে কেউ ফোন করে ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য কিংবা গোপন পিন চাইলে সতর্ক থাকতে হবে। সন্দেহজনক কল বা মেসেজ পেলে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে রেলের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দুইজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৮ এম


সিলেটে রেলের টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে দুইজন আটক

সিলেটে অনলাইনে রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু রেলের টিকিট ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সিলেট রেল স্টেশন এলাকায় জেলা প্রশাসন এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মজলিসপুর এলাকার সঞ্জীব দাসের ছেলে সঞ্জয় দাস এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জলিলপুর এলাকার মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে মো. আবু তাহের। উভয়েই রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য বলে জানা গেছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রাকিবুল আলম। এ সময় অভিযানে সহযোগিতা করেন রেলওয়ে থানা পুলিশ, দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলেট রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় টিকিট কালোবাজারির সক্রিয় দুই সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা অনলাইনে অবৈধভাবে রেলের টিকিট ক্রয় ও ডাউনলোড করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতেন।

আটকের সময় তাদের কাছে থাকা টিকিট এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য রেলওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. রাকিবুল আলম বাসস’কে জানিয়েছেন, রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিলেটে রেলওয়ের টিকিট কালোবাজারির ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দুর্বলতা ফাঁস, কাজের চেয়ে কথায় বড়?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের দুর্বলতা ফাঁস, কাজের চেয়ে কথায় বড়?

যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে জল্পনা-কল্পনা এবং সমালোচনা চলছে, তা সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণে নতুনভাবে উঠে এসেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞ এবং মিলিটারি রাশিয়া প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ও লেখক দিমিত্রি কোর্নেভ একটি বিশদ নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, আধুনিক আকাশে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই সামরিক প্রকল্পটি বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ত্রুটি, লাগামহীন খরচ এবং এর প্রকৃত যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। ২০০টির বেশি ইউনিট ইতোমধ্যে তৈরি করা হয়েছে এবং ইরানসহ বিভিন্ন সংঘাতময় এলাকায় মোতায়েন করা হলেও, বিমানটির পঞ্চম প্রজন্মের আদর্শ মান পূরণ নিয়ে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।

এফ-৩৫ বিমানের পারফরম্যান্স নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০১৫ সালের জুনে মার্কিন এক টেস্ট পাইলটের একটি গোপনীয় রিপোর্ট অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়, যেখানে প্রকাশ পায় যে এক পরীক্ষামূলক ডগফাইটে চতুর্থ প্রজন্মের পুরনো এফ-১৬ডি বিমানের কাছে নতুন এফ-৩৫ পরাজিত হয়েছিল। উচ্চমাত্রার আক্রমণাত্মক মহড়ায় এটি এফ-১৬ডি বিমানের পেছনে যেতে ব্যর্থ হয় এবং বিমানের গতি ও পিচ রেটের দিক থেকেও পিছিয়ে পড়ে। তবে সেই সময় প্রচারমাধ্যমগুলো এই বিষয়টি এড়িয়ে যায় যে, পরীক্ষাটিতে ব্যবহৃত এফ-৩৫টি ছিল একটি পরীক্ষামূলক প্রোটোটাইপ, যাতে পূর্ণাঙ্গ সমরাস্ত্র পরিচালনার সফটওয়্যার ছিল না এবং এর অভিকর্ষীয় চাপ সহ্যসীমা ছিল মাত্র ৫.৫ জি, যেখানে এফ-১৬ বিমান ৯ জি পর্যন্ত সহ্য করতে পারে। পরবর্তীকালে ব্লক ৩এফ সফটওয়্যার চালিত উন্নত সংস্করণগুলো 'রেড ফ্ল্যাগ' মহড়ায় এফ-১৬ সহ অন্যান্য চতুর্থ প্রজন্মের বিমানকে বেশ দূর থেকেই হারিয়ে দেয়। তবে এই সাফল্য কোনো আকাশ মহড়ার কৌশলে আসেনি, বরং এসেছে এর দূরপাল্লার রাডার-অদৃশ্য বা স্টিলথ প্রযুক্তির বদৌলতে, যার ফলে বিমানটি প্রতিপক্ষের কাছাকাছি না গিয়েই আঘাত হানতে সক্ষম হয়।

আমেরিকান সামরিক কৌশলে পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের প্রধান ভিত্তি হলো এই স্টিলথ ক্ষমতা। বিমানের বিশেষ নকশা এবং রাডার তরঙ্গ শোষণকারী প্রলেপের মাধ্যমে একটি অতি ক্ষুদ্র রাডার সংকেত তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নজর এড়িয়ে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়। এর পাশাপাশি এফ-৩৫ এর দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধ পরিচালনা ক্ষমতা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি কেবল তথ্য আদান-প্রদানই করে না, বরং অন্যান্য বিমান এবং ড্রোন বহরকে সরাসরি পরিচালনা করতে পারে। দৃশ্যত এই কথিত অদৃশ্য বিমানটি একা বা নিজের সহযোগীদের নিয়ে যেকোনো প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করে আক্রমণ পরিচালনা করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগতভাবে বেশ উপযুক্ত।

তবে বিমানটির অন্যান্য প্রযুক্তিগত দিকগুলো যথেষ্ট উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একটি আদর্শ পঞ্চম প্রজন্মের বিমান আফটারবার্নার ব্যবহার না করেই একটানা সুপারসনিক বা শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে উড়তে সক্ষম হওয়ার কথা। কাগজে-কলমে এফ-৩৫ এই শর্ত পূরণ করলেও বাস্তবে এর এফ-৩৫বি এবং এফ-৩৫সি সংস্করণ দুটি ম্যাক ১.২ গতির ওপরে বেশিক্ষণ উড়তে পারে না। দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত গতিতে চললে এর লেজের অংশ এবং মূল্যবান স্টিলথ প্রলেপ তাপের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একটি সুপারসনিক যুদ্ধবিমান হয়েও কিভাবে এটি দ্রুত গতি ধরে রাখতে পারে না; তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি এর প্রধান এফ-৩৫এ সংস্করণটিও একটানা সুপারসনিক গতি ধরে রাখতে হিমশিম খায়। উপরন্তু, বিমানটিতে ব্যবহৃত প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিনের টারবাইন ব্লেড ক্ষয়, অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া এবং সময়মতো মেরামতের জন্য যন্ত্রাংশের চরম সংকটের বিষয়টি মিডিয়া ও পর্যবেক্ষকদের নজর কেড়েছে।

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি এর আকাশচুম্বী খরচ পুরো কর্মসূচিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এফ-৩৫ এর উন্নয়ন ও সার্বিক জীবনচক্রের মোট ব্যয় ইতোমধ্যে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং তা দিন দিন বেড়েই চলেছে, যা একে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সমরাস্ত্র কর্মসূচিতে পরিণত করেছে। একজন ব্যবহারকারীর জন্য এর প্রতি ঘণ্টার উড্ডয়ন খরচ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার থেকে ৪২ হাজার ডলারের মধ্যে, যেখানে একটি মানসম্মত এফ-১৬ বিমানের প্রতি ঘণ্টার খরচ পড়ে প্রায় ২২ হাজার ডলার। গণহারে উৎপাদিত কোনো যুদ্ধবিমানের জন্য এই পরিচালন ব্যয় অত্যন্ত আকাশচুম্বী।

অন্যান্য প্রতিযোগী বিমান, যেমন রাশিয়ার সু-৫৭ এর তুলনায় এফ-৩৫ ম্যানুভারেবিলিটি বা আকাশ কৌশলে অনেক পিছিয়ে। এটি সত্যি যে শত্রু যদি অদৃশ্য বিমানটির মাধ্যমে শুরুতেই দূর থেকে ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আর সামনাসামনি ডগফাইটের প্রয়োজন নাও হতে পারে। কিন্তু কোনো কারণে যদি এটিকে সরাসরি আকাশে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়, তবে অত্যন্ত চটপটে ও ক্ষিপ্রগতির অন্যান্য চতুর্থ বা পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের বিরুদ্ধে এফ-৩৫ চরম বিপদের মুখোমুখি হবে।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এফ-৩৫ মূলত চালিত হয় অতি জটিল একটি সফটওয়্যার ব্যবস্থার মাধ্যমে, যা প্রায় ২৪ মিলিয়ন বা দুই কোটি ৪০ লাখ কোডিং লাইনের সমন্বয়ে গঠিত। পেন্টাগনের অডিটররা ইতোমধ্যে এটিতে ৮০০-এরও বেশি অমীমাংসিত ত্রুটি (বাগ) চিহ্নিত করেছেন। এত জটিল ও ত্রুটিপূর্ণ একটি সফটওয়্যার চালিত সামরিক ব্যবস্থা কতটুকু নিরাপদ এবং আধুনিক সমরে কতটুকু নির্ভরযোগ্য, তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

এত ত্রুটি ও বিপুল পরিচালনা ব্যয় সত্ত্বেও কেন বিশ্বজুড়ে এই বিমানটিকে এত বিপুল পরিমাণে তৈরি করা হচ্ছে এবং ডজন ডজন দেশ তা লুফে নিচ্ছে; তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে। বর্তমানে ১৩শ'টিরও বেশি বিমান তৈরি হয়ে গেছে এবং আরও প্রায় দুই হাজার বিমান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক দশকে ২০টিরও বেশি দেশ এটি পরিচালনা করবে। এই আন্তর্জাতিক প্রবণতার পেছনে মূল কারণ বিমানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয় বরং মার্কিন কূটনীতি ও ভূ-রাজনীতি। এফ-৩৫ এখন কেবল একটি যুদ্ধবিমান নয়, এটি ওয়াশিংটনের সাথে কোনো দেশের সম্পর্কের গভীরতার প্রতীক।

যেসব দেশ এফ-৩৫ ক্রয় করছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিশেষ কিছু কূটনৈতিক ও সামরিক সুবিধা পেয়ে থাকে। যেমন, ইসরায়েল এটি ক্রয়ের পর সামরিক অভিযানে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা এবং আমেরিকার অস্ত্র ভাণ্ডারে অবাধ প্রবেশাধিকার পেয়েছে। আবার জার্মানির ক্ষেত্রে এফ-৩৫ কেনার প্রধান কারণ হলো, এটিই একমাত্র বিমান যা ন্যাটোর পরমাণু বিনিময় কর্মসূচির আওতায় মার্কিন পারমাণবিক বোমা বহনের জন্য অনুমোদিত।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান কিংবা তুরস্কের মতো দেশগুলো নিজেদের নিজস্ব পঞ্চম বা ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রস্তুত করার আগ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে এফ-৩৫ এর নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং জরুরি প্রয়োজনীয়তার কারণেই দেশগুলো এর বিভিন্ন ত্রুটি ও ব্যাটল পেঙ্গুইন (এর স্থূল আকৃতির কারণে পাইলটদের দেয়া ডাকনাম) খেতাবকে উপেক্ষা করে ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাসেলসের কঠোর অবস্থানের কারণে তারা অন্তত রাশিয়ার তৈরি সু-৫৭ বিমান কিনতে পারবে না; যদিও প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে তা হয়তো মোটেও খারাপ বিকল্প ছিল না।

সূত্র: আরটি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%