শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১০ পি.এম
২০তম এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকি প্রতিযোগিতায় আজ বাংলাদেশ দল ৩-১ গোলে ইন্দোনেশিয়াকে পরাজিত করেছে। পুল 'এ'-এর এই ম্যাচে বাংলাদেশের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাদের টানা দ্বিতীয় জয় নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ দল ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা প্রদর্শন করে এবং দারুণ আধিপত্য বিস্তার করে। দলের পেনাল্টি কর্নার বিশেষজ্ঞ আমিরুল ইসলাম ১১ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এরপর ৩১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে আমিরুল ব্যবধান ২-০ করেন। ৩৭ মিনিটে রাসেল মাহমুদ একটি চমৎকার ফিল্ড গোল করে বাংলাদেশের জয়কে প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে (৩-০)।
৪৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার আল আরধ আউলিয়া পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে একটি গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন, কিন্তু এটি বাংলাদেশের জয়ে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।
এটি চলমান এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছিল।
তবে আসরের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সুখকর ছিল না। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে এবং স্বাগতিক জাপানের কাছে ৬-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল বাংলাদেশ দল।
২৮ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েল সরকারের সরকারি পাবলিক ম্যাপিং পরিষেবা ‘গভম্যাপ’-এ কিছু সময়ের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের উচ্চ-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট ছবি দেখা গিয়েছিল। এসব ছবিতে বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং যুদ্ধের কারণে ব্যাপক ধ্বংসের চিত্রও দৃশ্যমান হয়েছিল। পরবর্তীতে গভম্যাপ গাজার ছবিগুলো আবার ঝাপসা করে দেয়।
সোমবার ‘@Stinky915846091’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে। এই অ্যাকাউন্টটি ওপেন-সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি) নিয়ে কাজ করে এবং গাজা উপত্যকার বিভিন্ন ঘটনার ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করার জন্য পরিচিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলি সরকার তাদের সরকারি ম্যাপিংসেবায় গাজার বিভিন্ন এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র আবার ঝাপসা করে দেয়।
গভম্যাপে দীর্ঘদিন ধরে গাজা উপত্যকার পাশাপাশি ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের সামরিক ঘাঁটি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে। ফলে গাজার তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার ও উচ্চ-রেজল্যুশনের ছবি অল্প সময়ের জন্য দৃশ্যমান হওয়ার ঘটনাটি অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। ঝাপসা না থাকা ওই চিত্রে উত্তর গাজার কয়েকটি এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর মধ্যে বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন শহরও রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এই এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছবিগুলো ২০২৫ সালের। তাই এগুলো ইসরায়েলি সেনাদের ঘাঁটিগুলোর বর্তমান অবস্থা দেখায় না। তবে ছবিতে উত্তর গাজার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা যায়। পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনাদের বাফার জোনের ভেতরে অন্তত ১১টি সামরিক ঘাঁটিও দেখা গেছে। এক্স ব্যবহারকারী ‘@Nrg8000’ ছবিগুলো সোয়ার অ্যাটলাসেও প্রকাশ করেছেন। মিডল ইস্ট আই ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে ছবিগুলো গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি এবং ব্যাপক ধ্বংসের বিষয়ে আগের বিভিন্ন প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলে যায়।
২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ৭৩,৯২৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরও ১,৪০৮ জন নিহত এবং ৪,৯১৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে বিভিন্ন স্বাধীন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
বেইত হানুনে ব্যাপক ধ্বংস
গাজা ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোর ধ্বংসের কিছু সেন্সরবিহীন ছবি নিচে দেওয়া হলো। গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত হানুন শহরটি ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের অনেক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কারণে শহরের বেশির ভাগ মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। পরে এলাকাটিকে সামরিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
শুজাইয়ায় ব্যাপক ধ্বংস
গাজা শহরের শুজাইয়া এলাকাতেও ব্যাপক ধ্বংসের চিত্র দেখা গেছে। অনেক ভবন ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছাড়া তেমন কিছুই দেখা যায় না।
কারনি ক্রসিংয়ে ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন
ছবিতে গাজা শহরের জেইতুন এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত কারনি ক্রসিংয়ে ইসরায়েলি সেনাদের বড় ধরনের উপস্থিতি দেখা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার আরো ভেতরে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটিকে একটি সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
পূর্ব জাবালিয়ায় সামরিক ঘাঁটি
পূর্ব জাবালিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সামরিক ঘাঁটি দেখা যাচ্ছে। ছবিতে ঘাঁটির চারপাশে মাটির তৈরি উঁচু প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং অনেক সামরিক যান দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাংহাইয়ের ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে কিছু স্থান সকাল শুরু করে ভিন্নভাবে। সেখানে দিনের হিসাব অফিস, যানজট কিংবা বাজার দিয়ে নয়, বরং হিসাব হয় অনুশীলনের সময় দিয়ে। ছোট বয়সের ছেলেমেয়েরা আসে প্রশিক্ষণে। কারো হাতে ব্যাট, কারো পায়ে দৌড়ের জুতা, কেউ বা পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য তখন অলিম্পিক নয়, কিন্তু এই বয়সেই শুরু হয় সেই দীর্ঘ পথের প্রথম ধাপ।
চীনের খেলোয়াড় তৈরির গল্পটি বোঝার জন্য সাংহাইয়ের শুহুই অঞ্চলের দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। শুহুই জেলা যুব ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যুব ক্রীড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৫৭ সালে। কয়েক দশকের পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চীনের ক্রীড়া প্রতিভা তৈরির ব্যবস্থার একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। ২০০৪ সাল থেকে টানা চার মেয়াদে এটি জাতীয় পর্যায়ের উচ্চমানের ক্রীড়া প্রতিভার ঘাঁটি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখান থেকে জাতীয় পর্যায়েও খেলোয়াড় উঠে এসেছে।
চীনের ক্রীড়া সাফল্য বোঝার জন্য একটি ক্রীড়া বিদ্যালয়ের গল্পই যথেষ্ট নয়। বরং শুহুই দেখায়, কীভাবে স্কুল, ক্রীড়া বিদ্যালয়, কোচ, স্থানীয় প্রশাসন, প্রতিযোগিতা ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণ—সবকিছুকে একই ধারায় আনার চেষ্টা করা হয়।
প্রথমে খোঁজা হয় প্রতিভা
চীনের ক্রীড়াব্যবস্থায় একটি শিশু শুরুতেই পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে যায় না। সাধারণ স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগ্রহ ও সম্ভাবনা দেখা যায়। এরপর আসে প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও বাছাইয়ের ধাপ।
সাংহাইয়ের বর্তমান ব্যবস্থাতেও এই ধারণাটি স্পষ্ট। শহরটি ক্রীড়া বিদ্যালয়, সাধারণ স্কুল ও বেসরকারি ক্লাবকে যুক্ত করে তিন স্তরের একটি যুব ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাংহাইয়ে নিবন্ধিত যুব অ্যাথলেটের সংখ্যা ৬২ হাজার এবং যুব কোচের সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি। শুহুই জেলাতেও প্রতিভা খোঁজার প্রক্রিয়াকে আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। ২০২৫ সালে সেখানে প্রথমবারের মতো ক্রস-ইভেন্ট ট্যালেন্ট সিলেকশন টেস্ট আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ কোনো শিশুকে শুধু একটি খেলায় সীমাবদ্ধ না রেখে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতার সঙ্গে কোন খেলাটি বেশি মানানসই, সেটিও দেখার চেষ্টা চলছে। এখানেই চীনের মডেলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে—খেলোয়াড় খোঁজার কাজ শুধু কোচের চোখের ওপর ছেড়ে দেওয়া নয়।
সপ্তাহে পাঁচ দিন, অন্তত ১০ ঘণ্টা
খেলাধুলার সঙ্গে পড়াশোনার ভারসাম্য কিভাবে রাখা যায়, সেটিও এই ব্যবস্থার বড় অংশ। সাংহাইয়ের ‘একটি ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ-পথ’ বা ‘ই থিয়াও লং’ স্কুলব্যবস্থায় নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর শিক্ষার্থী-অ্যাথলেটদের সপ্তাহে সাধারণত অন্তত পাঁচবার অনুশীলন করতে হয় এবং সাপ্তাহিক প্রশিক্ষণের সময় কমপক্ষে ১০ ঘণ্টা। ছুটির সময়ও প্রশিক্ষণের আলাদা ব্যবস্থা থাকে। তবে বয়স, লিঙ্গ ও খেলোয়াড়ের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাত্রা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অনুশীলন এখানে আলাদা কোনো অতিরিক্ত কাজ নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গেও সেটিকে যুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে।
শুহুইয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাতেও একই বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। জেলা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলের ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে অন্তত দুই ঘণ্টা শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্কুল, ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে একসঙ্গে কাজ করার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
কোচ শুধু মাঠে থাকেন না
চীনের এই ব্যবস্থায় কোচের ভূমিকাও বদলাচ্ছে। শুধু অনুশীলনের সময় নির্দেশনা দেওয়া নয়, স্কুল পর্যায় থেকেই পেশাদার কোচকে যুক্ত করার চেষ্টা রয়েছে। শুহুই জেলার পরিকল্পনায় ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৫০ জন পেশাদার কোচকে স্কুলে পাঠানোর লক্ষ্য ছিল। উদ্দেশ্য—স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক ও পেশাদার কোচের অভিজ্ঞতাকে এক জায়গায় আনা। শুহুইয়ের স্কুল ফুটবল কোচ চেন জিপিং মনে করেন, শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু নিখুঁত কৌশল দেখা যথেষ্ট নয়। একটি স্কুলভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি বলেন, তাদের কারও কারও কৌশল হয়তো এখনও পুরোপুরি পরিণত নয়, কিন্তু খেলার প্রতি আগ্রহ ও মাঠে লড়াই করার মানসিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
২০২৬ সালের সরকারি নথিতেও বলা হয়েছে, স্কুলে পেশাদার কোচ পাঠানো এবং পূর্ণকালীন বা খণ্ডকালীন কোচের পদ তৈরির উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সরকার, স্কুল, পরিবার ও সমাজ—এই চার পক্ষকে যুক্ত করে যুব ক্রীড়ার কাঠামো গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। ফলে একটি শিশুর প্রশিক্ষণ শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না। তার পড়াশোনা, শারীরিক সক্ষমতা, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ বিকাশ—সবকিছুকে একই পরিকল্পনার অংশ করার চেষ্টা থাকে।
বিজ্ঞানও আছে মাঠে
শুহুইয়ের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের সংযোগটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের একটি সরকারি প্রতিবেদনে এই বিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক প্রতিভা বাছাই ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছিল। সেখানে মৌসুমি বৈজ্ঞানিক নির্বাচন পরীক্ষা এবং এফএমএস বা ফাংশনাল মুভমেন্ট স্ক্রিনিং ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের নড়াচড়া, নমনীয়তা ও স্থিতিশীলতা মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে। সাংহাইয়ের ২০২৫ সালের যুব ক্রীড়া কর্মপরিকল্পনায় তরুণ অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণের চাপ পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ-মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নত করার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খেলায় তরুণদের প্রশিক্ষণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
চীনের বৃহত্তর ক্রীড়া ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কোথাও বাতাসের গতি অনুকরণ করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, আবার ডাইভিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খেলোয়াড়ের আকাশপথের গতিবিধি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ ছোট বয়সের একজন খেলোয়াড়কে শুধু বেশি অনুশীলন করানোই লক্ষ্য নয়; কীভাবে অনুশীলন করলে তার শরীর ও দক্ষতার সর্বোচ্চ উন্নতি হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতা ছাড়া বাছাই অসম্পূর্ণ
প্রশিক্ষণের পর আসে প্রতিযোগিতা। কারণ অনুশীলনে ভালো করলেই যে ম্যাচ বা প্রতিযোগিতায় ভালো করবে, তার নিশ্চয়তা নেই। সাংহাইয়ে ২০২৫ সালের যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতার তালিকায় ছিল ফুটবল, বাস্কেটবল, ভলিবল, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, ডাইভিং, নৌকাবাইচ, জিমন্যাস্টিকস, ফেন্সিং, তীরন্দাজি, শুটিং, সাইক্লিংসহ মোট ১৫টি বড় ক্রীড়া এবং ২৫টি উপশাখা। এসব প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য শুধু পদক দেওয়া নয়—ভবিষ্যতের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে আনার ব্যবস্থাও। শুহুইয়ের ২০২৫ সালের ফলাফলও দেখায়, এই কাঠামো থেকে নিয়মিত খেলোয়াড় উঠে আসছে।
ওই বছর জেলা থেকে সাংহাইয়ের প্রথম সারির দলগুলোতে ১৯ জন এবং দ্বিতীয় স্তরের উচ্চমানের যুব দলে ৬৮ জন খেলোয়াড় পাঠানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের যুব প্রতিযোগিতায় শুহুইয়ের খেলোয়াড়েরা ২৯টি প্রথম স্থান, ২০টি দ্বিতীয় এবং ২৭টি তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। শুহুইয়ের এক স্কুল ফুটবল কোচের কথায়, শিশুরা এখানে শুধু ফুটবল শেখে না; প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়াটাও শেখে। এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার—একজন খেলোয়াড়ের পথটা সরাসরি স্কুল থেকে জাতীয় দল নয়। মাঝখানে রয়েছে একাধিক স্তর, একাধিক পরীক্ষা ও একাধিক প্রতিযোগিতা।
সবাই কি অলিম্পিয়ান হবে?
না। আর বর্তমান ব্যবস্থার লক্ষ্যও এমন নয় যে প্রত্যেক শিশুকে অলিম্পিয়ান বানাতে হবে। চীনের যুব ক্রীড়া নীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক সুস্থতা ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব বেড়েছে। সাংহাইয়ের ২০২৫ সালের পরিকল্পনায়ও যুবকদের ক্রীড়া দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি আজীবন ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরির কথা বলা হয়েছে। চেন জিপিংয়ের কথাতেও সেই বাস্তবতার ছাপ রয়েছে। তাঁর মতে, খেলাধুলায় অংশ নেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রত্যেক শিশু পেশাদার খেলোয়াড় হবে—এমন প্রত্যাশা না রেখেও তাদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত রাখা যায়। ২০২৫ সালে সাংহাইয়ের বিভিন্ন যুব ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সংখ্যা ছিল ৫০.৮৪ লাখ। এর মধ্যে স্কুল, কমিউনিটি ও ছুটির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ছিল। শিশুদের দুই থেকে তিনটি ক্রীড়া দক্ষতা শেখানোর লক্ষ্য নিয়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ বড় তারকা তৈরি হবে—এমন সম্ভাবনা হয়তো সবার নেই। কিন্তু খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগটা অনেকের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।
এখানেই আসল পার্থক্য
শুহুই জেলা যুব ক্রীড়া বিদ্যালয়ের গল্প আসলে একটি স্কুলের গল্প নয়। এটি একটি ধারাবাহিক ব্যবস্থার গল্প। একটি শিশু আজ হয়তো স্থানীয় প্রতিযোগিতায় খেলছে। কাল সে জেলা দলে যাবে। সেখান থেকে সাংহাইয়ের যুব দলে। এরপর জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ। কেউ হয়তো একসময় অলিম্পিকে যাবে। কেউ তার আগেই থেমে যাবে। কেউ আবার খেলাধুলার বাইরে অন্য পেশায় চলে যাবে। কিন্তু ব্যবস্থাটি চেষ্টা করছে, যেন প্রতিটি ধাপে তার সামনে একটি পথ থাকে। এই পথের শুরুতে আছে স্কুল। এরপর কোচ। তারপর প্রশিক্ষণ। প্রতিযোগিতা। বিজ্ঞান। পরিবার। স্থানীয় প্রশাসন। সবকিছুকে একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা।
সাংহাইয়ের ক্রীড়া ব্যবস্থার বর্তমান পরিসরও সেটিই বলছে। শহরটি শুধু ক্রীড়া বিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করছে না; সাধারণ স্কুল ও বেসরকারি ক্লাবকেও একই প্রতিভা তৈরির ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করছে।
পদকের গল্প আসলে আরও আগে শুরু
অলিম্পিকের মঞ্চে যখন কোনো চীনা অ্যাথলেট পদকের জন্য দাঁড়ান, তখন ক্যামেরা তার মুখের দিকে থাকে। দেখা যায় কয়েক মিনিটের প্রতিযোগিতা। কিন্তু সেই কয়েক মিনিটের গল্প আসলে বহু বছরের। হয়তো শুরুটা হয়েছিল একটি স্কুলের ছোট মাঠে। কোনো কোচ প্রথম তার দৌড় দেখে থেমেছিলেন। কোনো শিক্ষক তাকে প্রতিযোগিতায় পাঠিয়েছিলেন। কোনো পরীক্ষায় তার শারীরিক সক্ষমতা নজরে এসেছিল। এরপর ধাপে ধাপে সে ঢুকেছে প্রশিক্ষণের বড় কাঠামোয়। শুহুইয়ের গল্প তাই চীনের ক্রীড়া ব্যবস্থার একটি ছোট ছবি। এখানে অলিম্পিক পদকের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু পদকের জন্য প্রস্তুত হওয়ার একটি পথ আছে।
আর সেই পথের শুরুটা হয় অনেক আগে—যখন শিশুটি এখনো জানেই না, একদিন সে অলিম্পিকের মঞ্চে দাঁড়াতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নতুন বিতর্কের মুখোমুখি রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড, যখন তারা নেশন্স লিগের ম্যাচে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জেসন নাইট প্রকাশ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খেলার বিরোধিতা করেছেন। তিনি প্রথম আইরিশ ফুটবলার, যিনি সরাসরি এমন একটি ম্যাচ বাতিলের পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
রবিবার হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি ইসরায়েলের বিপক্ষে আইরিশদের বয়কটের জোরালো দাবির মধ্যেই আয়োজন করা হচ্ছে। এফএআই (আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) তাদের বরাদ্দকৃত টিকিটের কোটা নিতে অস্বীকার করায়, মাঠে কোনো আইরিশ সমর্থক খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না।
গত বৃহস্পতিবার কসোভোর কাছে ১-০ গোলে হারের পর নাইট সাংবাদিকদের সামনে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্রিস্টল সিটির এই আইরিশ তারকা বলেন, “আমার মনে হয় না এই ম্যাচটি হওয়া উচিত। তবে যেহেতু ম্যাচটি আয়োজিত হচ্ছে, আমাদের স্কোয়াডে এটা নিয়ে আরো গভীরভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন।”
আইরিশ ম্যানেজার হেইমির হালগ্রিমসনও গত সপ্তাহে স্বীকার করেছেন যে, ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত দলের অনেক খেলোয়াড়কে অস্বস্তিতে ফেলেছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাচকা তোপোলায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই দল আবার মুখোমুখি হবে।
নাইট আরো বলেন, “আমি যতটা সম্ভব ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে এখন ফুটবল ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতেই আলো বেশি পড়ছে। এটি খুবই অস্বাভাবিক এক পরিস্থিতি এবং আমরা সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
আয়ারল্যান্ডের ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইতিহাসের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে আইরিশরা সব সময় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরেই স্পেন ও নরওয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আয়ারল্যান্ড সরকার। পাশাপাশি গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে ডাবলিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জেলায় অসুস্থ ও বাদ পড়া শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকার প্রদান করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে শনিবার সকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা.
বাহারুল আলম। হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ কেন্দ্রে।
এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ হাজার শিশু এই টিকা পাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.
ইছমাইল হাসান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরুপ পাল এবং আরো অনেক অতিথি।
সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম বাসস’কে জানান, জেলার ১ হাজার ৪শ’ স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এই কার্যক্রম আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে পারেনি এমন অসুস্থ ও বাদ পড়া শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
এই টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদানকারীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী ও নিয়োজিত কর্মী উপস্থিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ