শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:১২ পি.এম
লক্ষ্মীপুর, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ জেলায় অসুস্থ ও বাদ পড়া শিশুদের জন্য হাম-রুবেলা টিকার প্রদান করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে শনিবার সকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা.
বাহারুল আলম। হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪শ’ কেন্দ্রে।
এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ হাজার শিশু এই টিকা পাবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.
ইছমাইল হাসান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অরুপ পাল এবং আরো অনেক অতিথি।
সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম বাসস’কে জানান, জেলার ১ হাজার ৪শ’ স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৬ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এই কার্যক্রম আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা নিতে পারেনি এমন অসুস্থ ও বাদ পড়া শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
এই টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদানকারীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী ও নিয়োজিত কর্মী উপস্থিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে দক্ষ করার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত প্রশিক্ষণের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশের ৬৪ জেলার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে একযোগে এ লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন যুবদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় এআই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী এআই প্রশিক্ষণের জন্য মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬টি আবেদন জমা পড়েছে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ লাখ ২ হাজার ৯২৮টি আবেদন বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বৈধ আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থী বাছাই করা হচ্ছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রতি জেলায় ২৫ জন করে মোট ১ হাজার ৬০০ জন প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ হিসাবে বৈধ আবেদনকারীর সংখ্যা বিবেচনায় প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে ৬৪ জনের বেশি প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় প্রতিযোগিতার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা জেলার ২৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১৭ হাজার ৫৫২ জন। অর্থাৎ প্রতি আসনের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এবং ঢাকা জেলার উপপরিচালক এ কে এম শাহরিয়ার। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ, আসনব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।
পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত ১ হাজার ৬০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নিয়ে ১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় মোট ১১ হাজার ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে এআই প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার ৬০০ জনকে বেসিক এবং ১ হাজার ৬০০ জনকে অ্যাডভান্সড পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, প্রতি ব্যাচে ২৫ জন করে মোট ৪৪৮টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। প্রতিটি প্রশিক্ষণ দুই মাস মেয়াদি এবং ৫০টি ক্লাসে মোট ৩০০ ঘণ্টার পাঠদান থাকবে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে চ্যাটজিপিটি, কোপাইলট, ডিপসিক, জেমিনি, মিডজার্নি, রানওয়ে, সিন্থেশিয়া, ট্যাবলো, ক্লিকআপ ও অ্যাডোবি সেনসেইসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুল ও প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর বিক্ষোভ প্রতিহত করতে পুলিশের সংগৃহীত ১,৫৫০টি কনটেইনারের জন্য সরকারকে দৈনিক ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি খরচ করতে হবে।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, পিটিআই তাদের নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ প্রায় এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার ফলে ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল পুলিশের চাওয়া নিরাপত্তা বাজেট কার্যত দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি (১ বিলিয়ন) রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
পিটিআই ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল। এই ঘোষণার পর ইসলামাবাদ পুলিশসহ অন্যান্য স্থানে প্রস্তুতি শুরু হয়। পাঞ্জাব ও সিন্ধু থেকে আসা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের থাকা-খাওয়া এবং কনটেইনারের ভাড়া মেটানোর জন্য তারা ৮২ কোটি (৮২০ মিলিয়ন) রুপি বাজেট আবেদন পাঠিয়েছে।
‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি যে কনটেইনারগুলো ছেড়ে দেওয়া হবে নাকি পুলিশের হেফাজতে রাখা হবে। পুলিশ মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হতে যাওয়া বিক্ষোভ ও লংমার্চ ৪ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার হিসাব করে এক সপ্তাহের বাজেট নির্ধারণ করেছিল। তবে বিক্ষোভের তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে যাওয়ায় ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
নিসার হোসেন জাফরি জানান, সমিতি প্রথমে ৪০ ফুট ও ২০ ফুটের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া যথাক্রমে ৪০,০০০ ও ২০,০০০ রুপি দাবি করেছিল। পরে তা সংশোধন করে সব আকারের কনটেইনারের জন্য দৈনিক ভাড়া ৩০,০০০ রুপি নির্ধারণ করা হয়।
পিটিআই লংমার্চ স্থগিত করার পর কনটেইনারগুলোর বিষয়ে পুলিশের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, তাদের দাবিকৃত দর অনুযায়ী ১,৫৫০টি কনটেইনারের প্রতিদিনের ভাড়া ৪ কোটি ৬৫ লাখ রুপি। এক সপ্তাহের ভাড়া ৩২ কোটি ৫৫ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহের ভাড়া ৬৫ কোটি ১০ লাখ রুপি।
সূত্র আরও জানায়, পুলিশ পাঞ্জাব থেকে ১৬,০০০ এবং সিন্ধু পুলিশ থেকে ২,০০০ অতিরিক্ত সদস্যের চাহিদা দিয়েছিল। সিন্ধু পুলিশের দলটি ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। তাদের পুলিশ লাইন্স হেডকোয়ার্টার্স, ফয়সাল মসজিদ এবং জি-১৩ সেক্টরের কমিউনিটি সেন্টারে মার্কি (অস্থায়ী তাবু) খাটিয়ে রাখা হয়েছে।
আগামী এই সদস্যদের তিন বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। জনপ্রতি তিন বেলার খাবারের খরচ ৬০০ রুপি। সেই হিসেবে সিন্ধু পুলিশের ২,০০০ সদস্যের খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হচ্ছে ১২ লাখ রুপি। এক সপ্তাহে এই ব্যয় দাঁড়াবে ৮৪ লাখ রুপি এবং দুই সপ্তাহে ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপি।
তবে পাঞ্জাব পুলিশের কাঙ্ক্ষিত দলটি এখনও ইসলামাবাদে পৌঁছায়নি। সূত্রের খবর, ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা থাকায় ২৫ সেপ্টেম্বর বিকেলের মধ্যেই ১৬,০০০ সদস্যের দলটির পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঞ্জাব পুলিশের কোনো সদস্য রাজধানীতে এসে পৌঁছাননি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াতের জন্য প্রায় ৭০টি কোস্টার, ৩০টি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ি এবং বেশ কিছু বাস ভাড়া করা হয়েছে। একটি কোস্টারের দৈনিক ভাড়া ১৫,০০০ রুপি হিসেবে ৭০টি কোস্টারের দিনে লাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি। অন্যদিকে, একটি ডাবল-ক্যাবিন গাড়ির প্রতিদিনের ভাড়া ১০,০০০ রুপি ধরে ৩০টি গাড়ির জন্য দিনে খরচ হচ্ছে ৩ লাখ রুপি।
এছাড়া বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তাদের থাকার জন্য শহরজুড়ে ১৩টি হোটেলে ১৭৫টি রুম বুক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২৪৬ জন পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর), ৫৮ জন সহকারী ও ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, পুলিশ সুপার, ১০ জন সিনিয়র পুলিশ সুপার এবং ৮ জন ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেলের (ডিআইজি) থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
১৩টি হোটেলের মধ্যে ১১টি হোটেলের ১৫৭টি রুম বুক করা হয়েছে ইনস্পেক্টর থেকে এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য। এসব রুমের দৈনিক ভাড়া ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ রুপি, যা এক সপ্তাহে দাঁড়ায় প্রায় ৫২ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ রুপি।
পাঞ্জাব পুলিশের ফোর্স এখনও না পৌঁছালেও তাদের তিন বেলার খাবারের সম্ভাব্য খরচ হিসাব করা হয়েছে দৈনিক ৯৬ লাখ রুপি, যা এক সপ্তাহে গিয়ে ঠেকবে ৬ কোটি ৭২ লাখ রুপি।
তবে যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত রাখা বাসগুলোর ভাড়া এবং ডিআইজি ও এসএসপিদের জন্য দুটি হোটেলে বুক করা ১৮টি রুমের খরচের তথ্য এখনও জানা যায়নি।
এদিকে, ‘অল পাকিস্তান গুডস অ্যালায়েন্স’-এর চেয়ারম্যান নিসার হোসেন অভিযোগ করেছেন, ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব পুলিশ তাদের কর্মীবৃন্দসহ অন্তত ২,৭০০টি পণ্যবাহী গাড়ি নিজেদের জিম্মায় নিয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি গাড়ি ও তার চালক-সহকারীদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাকিদের বিভিন্ন থানায় আটকে রাখা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পুলিশ চালক ও কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার না করলেও থানা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, কেবল খাবারের ব্যবস্থাটুকু করছে। পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন, গাড়ির কাগজপত্র এবং চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কনটেইনার ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের থানায় রেখে দেওয়া হবে। এসব বড় কনটেইনার চালানোর জন্য বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হওয়ায় মূলত তাদের সেখানে আটকে রাখা হয়েছে যেন প্রয়োজনমতো গাড়ি চালানো যায়।
ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, লাহোর, ঝং, হাসানআব্দাল, অ্যাটক, কামোকে, তক্ষশীলা, ঝিলম, মিয়ানওয়ালি, চকওয়াল, ফয়সালাবাদ এবং গুজরাট থেকে এসব যান ও কর্মীদের আটক করা হয়। আটক ২,৭০০টি গাড়ির মধ্যে ৪৫০টিতে ওষুধ, খাদ্যদ্রব্য ও রাসায়নিক সামগ্রী বোঝাই ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম মন্তব্য করেছেন যে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য নগরবাসীর সচেতনতার বিকল্প নেই। তিনি বাসাবাড়ির ছাদ, ড্রেন ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ অভিযান ‘ক্লিনিং ডে’ উদ্বোধন করার পর তিনি এই বক্তব্য দেন।
মো. আবদুস সালাম বলেন, "বাসাবাড়ির ছাদে জমে থাকা পানি নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।"
তিনি আরও বলেন, "সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ঢাকাকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব। এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।"
এ সময় তিনি বিরোধী দলকে জনভোগান্তি তৈরি হয়, এমন কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এক দফার হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমানো যাবে না। বিএনপি জনগণের দল।"
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান ডিএসসি প্রশাসক। তিনি গণতন্ত্রকে নস্যাৎ না করে ধৈর্য ধরে সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জাতিসংঘে সারা বিশ্ব ও বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান মো. আবদুস সালাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুক্রবার দেশটিতে স্পোর্টস বেটিং বা খেলাধুলার ফল নিয়ে অনলাইন বাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
এই খাত বন্ধের সিদ্ধান্তটি এমন একটি সময়ে এসেছে, যখন ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মাত্র কয়েক দিন পর। লুলা চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে জুয়া ও অনলাইন বেটিং ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে অনেক মানুষ ঋণের মধ্যে পড়েছেন।
জনমত জরিপগুলোতে এই শিল্পের বিরুদ্ধে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। লুলা নিজেও বেটিং শিল্পকে ‘ক্যানসার’ বলে অভিহিত করেছেন।
শুক্রবার লুলার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘দেশে বেটিং সাইটগুলোতে আর টাকা জমা করা সম্ভব হবে না।’
আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম দফার ভোটের আগে, লুলা সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের মধ্যে এটি সর্বশেষ।
নির্বাচনী জনমত জরিপে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে লুলার ব্যবধান খুবই কম।
২০২৩ সালে স্পোর্টস বেটিং বা বাজি ধরার বাজারের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালু হওয়ার পর থেকে ব্রাজিলে এই বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।
রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম— সবখানেই ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রীড়া তারকাদের মাধ্যমে ব্যাপক বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে।
দেশটির শীর্ষ বিভাগের ২০টি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাবের জার্সিতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অনলাইন বেটিং কোম্পানির নাম রয়েছে।
ফুটবল তারকা নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও এই শিল্পের বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে রয়েছেন।
সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেটিং ব্যবসার জন্য ৮৫টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লাইসেন্সের মূল্য ছিল ৩ কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বা প্রায় ৫৭ লাখ ডলার। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।
অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান জানান, বেটিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন বিজ্ঞাপন চুক্তিও তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা চুক্তিগুলো ৬ অক্টোবরের পর বাতিল হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ওই তারিখের পর দেশে ‘কোনো সাইট, কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা কোনো বৈধ বেটিং স্পনসরশিপ থাকবে না।’
ফুটবল ক্লাবগুলোর আপত্তি
ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ফ্লামেঙ্গো এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্রাজিলের ক্রীড়াঙ্গনের ওপর বড় আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।
ক্লাবটির আশঙ্কা, এর প্রভাব শুধু পেশাদার ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুব একাডেমি, নারী ফুটবল, অলিম্পিক ক্রীড়া ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এক বিবৃতিতে ফ্লামেঙ্গো বলেছে, ‘ব্রাজিল স্পোর্টস বেটিং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা করেছে।
একটি নিয়ম তৈরি করে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পর রাতারাতি পুরো নিয়ন্ত্রক কাঠামো বদলে দেওয়া যায় না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ