০২:৩৫ পি.এম
ঢাকা, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ : পাকিস্তানের করাচির একটি রেস্তোরাঁয়, যেখানে নিয়ন আলো ঝলমল করছে, খাবারের টেবিলের মাঝ দিয়ে রোবট ওয়েট্রেস চলাচল করছে।
একটি পরিবারের জন্য সদ্য তৈরি পিৎজা পৌঁছে দিচ্ছে রোবটটি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন, আধুনিক মানবসদৃশ রোবট নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে রেস্তোরাঁয় রোবট কর্মীর উপস্থিতি এখনও বিরল। করাচি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: গুজরাটে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে সাবেক সেনাসদস্যকে হত্যা, স্ত্রী গ্রেপ্তার
রোবটটি ইলেকট্রনিক কণ্ঠে বলছে, ‘সিসিলিয়ানে আপনাদের স্বাগত। আমার নাম রোবিয়া।’ এসময়, লাল এলইডি বাতি দিয়ে তৈরি চোখের পলক ফেলে খাবারের টেবিলে বসা অতিথিদের দিকে তাকাচ্ছে সে।
রোবিয়া এবং তার সহকর্মী জোজো, পাকিস্তানি প্রকৌশলী সৈয়দ ওসামা আজিজের তৈরি রোবট। করাচির ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ ব্যবসায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির জগৎকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন আজিজ।
রোবট দুটির মাথা গোলাকার এবং সাদা। মুখের সামনে মোটরসাইকেলের হেলমেটের মতো কালো আবরণ রয়েছে। গলায় জড়ানো কালো শাল, যা এ অঞ্চলের নারীদের পরিধেয় ওড়নার আদলে তৈরি।
সিসিলিয়ান রেস্তোরাঁটির প্রতিষ্ঠাতা আজিজ, নিজের গবেষণাগারে অধিকাংশ স্থানীয়ভাবে তৈরি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে রোবট দুটির নির্মাণ করেছেন। তিনি নিজেই এগুলোর সার্কিট বোর্ড তৈরি ও প্রোগ্রামিং করেছেন।
আরও পড়ুন: আরামকো ভবনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ, সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে
তিনি এএফপিকে জানান, ‘রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ এখানে সহজে পাওয়া যায় না। তাই আমাদের সেগুলো সংগ্রহ করতে হয়েছে।’
আজিজের রোবট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘কোবট’-এর মাধ্যমে বন্ধুদের সহযোগিতায় রোবট দুটির নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ কাজে কিছু বিদেশি ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশও ব্যবহার করা হয়েছে।
বিশেষ করে চীন ও পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং হোটেলের অতিথিদের অভ্যর্থনা জানানোর মতো বিভিন্ন কাজে রোবটের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।
তবে পাকিস্তানে রোবটের ব্যবহার একটি নতুন অভিজ্ঞতা। আজিজের তৈরি রোবট দুটি তাই রেস্তোরাঁয় আসা অতিথিদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের ফলাফল বানচালের চেষ্টা করছে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল
রোবট দুটি খাবার নিয়ে টেবিলে পৌঁছালে, অতিথিদের নিজেদের ট্রে থেকে খাবার নামিয়ে নিতে হয়। অন্যথায়, সহায়তার জন্য কোনো মানব কর্মীর অপেক্ষা করতে হয়।
উচ্ছ্বসিত ক্রেতারা-
পাকিস্তানের মধ্যাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতানে আজিজের রোবট তৈরির কর্মশালা রয়েছে। ভবিষ্যতে তিনি তার তৈরি রোবটগুলোকে আরও উন্নত করতে চান।
আজিজ বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো, রোবটগুলোতে ক্যামেরাভিত্তিক প্রযুক্তি ও ছবি বিশ্লেষণের সুবিধা যুক্ত করা।’
আরও পড়ুন: টিকটকের অ্যালগরিদম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুতর আপত্তি
তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে রোবটটি আপনাকে দেখে চিনতে পারবে। গতবার আপনি কী খাবার অর্ডার করেছিলেন, সেটিও মনে রাখতে পারবে। সেই অনুযায়ী আপনাকে আরও ভালো খাবারের পরামর্শ দিতে পারবে।’
বর্তমানে রোবট দুটি পরিবারগুলোর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রোবটের কাজ দেখতে অনেকেই রেস্তোরাঁটিতে ভিড় করছেন।
উচ্ছ্বসিত ক্রেতা আহমের জামির এএফপিকে বলেন, ‘এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি নিজেই নিজের পরিচয় দেয়।’
তিনি বলেন, রোবটটি কোন খাবার অর্ডার করা যাবে, সে সম্পর্কেও অতিথিদের জানায়।
আরও পড়ুন: ১২ বছর পর লিবিয়ায় দূতাবাস চালু করল মিসর
শিশুরা রোবটগুলো ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করে। তাদের অভিভাবকেরা ছবি ও সেলফি তোলেন।
তরুণ ক্রেতা সোনিয়া দিলোস্কার রোবটগুলোর চেহারা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। গ্রাহকদের সঙ্গে রোবটের আচরণও তাঁর পছন্দ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি যন্ত্র এবং এর কোনো আবেগ নেই। এ কারণেই গ্রাহকদের সঙ্গে এর আচরণ আমার ভালো লাগে।’
রেস্তোরাঁর কর্মীরা জানান, রোবটের এই নতুনত্বের কারণে ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। এমনকি করাচির দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ রোবট দেখতে আসছেন।
রেস্তোরাঁর কর্মী হেলেন এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের ব্যবসা বেড়েছে। রোবট দেখতে অনেক দূর থেকে মানুষ আসছেন। এখানে এসে তারা প্রথমবারের মতো রোবট দেখছেন।’
আরও পড়ুন: হুথিদের হামলায় সৌদির আরামকো টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত
তিনি বলেন, ‘রোবটগুলো দেখতে মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন