ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন


সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

সুদানের গৃহযুদ্ধ মানুষের জীবিকা ধ্বংস করে দিচ্ছে। কাজের অভাবে হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষুদ্র স্বর্ণের খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ১৬ বছর বয়সী আলতায়েব আলহাদি একটি খনিতে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। তার মৃত্যুতে সামনে এসেছে নিরাপত্তাহীন পরিবেশে কাজ করা শিশু ও তরুণ খনি শ্রমিকদের ভয়াবহ বাস্তবতা।

আলতায়েবের বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন দক্ষিণ-মধ্য সুদানের হোয়াইট নাইল রাজ্যের তার গ্রামের একটি কুয়ো ধসে মারা যান তার বাবা। এর দুই মাস পর মারা যান মা-ও। এতিম হয়ে পড়ে পরিবারের পাঁচ ভাইবোন। সবার বড় হওয়ায় ছোট ভাইবোনদের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পড়ে আলতায়েবের কাঁধে।

১৪ বছর বয়সে ভাইবোনদের খাবার ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে কাজের সন্ধানে বাড়ি ছাড়ে সে। নিজের গাল্লি গ্রাম থেকে শত শত কিলোমিটার উত্তরে পাড়ি জমায় আলতায়েব। ওই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে স্বর্ণের খনি।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

আলতায়েবের চাচা আলহাদি হামিদ আল জাজিরাকে বলেন, "আমরা তাকে খনির বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছিলাম। তবে আলতায়েব ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তার কয়েকজন আত্মীয় আগে থেকেই ওই এলাকায় কাজ করতেন। যদিও তারা ভূগর্ভস্থ খনিতে নয়, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।"

শুরুতে পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করত আলতায়েব। পরে স্থানীয় খনি শ্রমিকদের কাছ থেকে স্বর্ণ তুলে ভালো আয় করার গল্প শুনে আশপাশের পাহাড়ে স্বর্ণের সন্ধান শুরু করে সে।

সুদানের লোহিত সাগর অঞ্চলের জাবাল আল-আইগদাতের কাছে একটি স্বর্ণের খনিতে মিশরীয় সেনাবাহিনীর বিমান হামলায় নিহত হয় আলতায়েব। ওই হামলায় অন্তত ৭২ জন খনি শ্রমিক প্রাণ হারান। খনিটিতে কাজ শুরু করার কয়েক মাসের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

আলতায়েবের এক সহকর্মী খনি শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে বলেন, "আমাদের আলাদা হওয়ার ৩০ মিনিটও পার হয়নি। এর মধ্যেই আলতায়েব তাকে জানিয়েছিল, সে খনিতে যাচ্ছে। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা ছুটে যান ঘটনাস্থলে। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ বিশৃঙ্খল। লোকজন চারদিকে ছোটাছুটি করছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে একের পর এক হামলা চলছিল।"

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

সহকর্মীটি জানান, তারা আলতায়েবকে খুঁজে পান গুরুতর আহত অবস্থায়। বিস্ফোরণে তার হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং পেটে ছিল মারাত্মক ক্ষত। তারা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন এবং পাহাড়ের কাছে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায় সে। এত দ্রুত সবকিছু ঘটে যাবে, তা তারা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

আলতায়েব প্রায় ১৫ জন তরুণ ও শিশুর সঙ্গে সাধারণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাথর থেকে স্বর্ণ উত্তোলন করত। শ্রমিকেরা দিনরাত খনিতে কাজ করতেন। পরে উত্তোলিত পাথর ও অন্যান্য উপাদান প্রক্রিয়াজাত করতে সেগুলো কাছের কারখানায় নিয়ে যাওয়া হতো।

স্বর্ণ বিক্রির আয় শ্রমিকদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হতো। তবে প্রত্যেকের আয় নির্ভর করত কতটুকু স্বর্ণ পাওয়া গেল এবং ব্যক্তিগত চুক্তির শর্ত কী ছিল, তার ওপর। খনির মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভালো দিনে পুরো দল ১০০ ডলারের বেশি আয় করতে পারত।

আলতায়েবের সাবেক এক সহকর্মী বলেন, "আমরা টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহ খনন করেও কখনো এক গ্রাম বা তার চেয়ে কম স্বর্ণ পেতাম। কোনো কুয়োয় স্বর্ণের পরিমাণ কম হলে অন্য জায়গায় চলে যেতাম। পাওয়া স্বর্ণ বিক্রি করে লাভ ভাগ করে নিতাম, যা কখনো কখনো প্রায় ১০০ ডলার হতো।"

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে থাকা তরুণদের কাছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ খনিতে অনিয়মিত আয়ও বেকার থাকার চেয়ে ভালো বিকল্প বলে মনে হতে পারে। আলতায়েবের বোন রোগাইয়া আলহাদি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, মৃত্যুর মাত্র ১০ দিন আগে ভাইবোনদের বলেছিল, শিগগিরই বাড়ি ফিরবে।

আলতায়েবের চাচা জানান, বন্ধুদের কাছ থেকে পরিবার জানতে পেরেছে, হামলার দিন সকালে আলতায়েব খনির কাছের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। শেষবারের মতো খনির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তারা এক কাপ চা পান করে। কয়েক মিনিট পরই ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সুদানি খনি শ্রমিকেরা সীমান্ত অতিক্রম করে মিশরে প্রবেশ করেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুদানের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেয়া হয়নি।

২০২৩ সালে সুদানের সামরিক বাহিনী ও আধাসামরিক গোষ্ঠী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। জীবিকার বিকল্প উৎস না থাকায় হাজার হাজার মানুষ উত্তর সুদানের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পভিত্তিক স্বর্ণের খনিতে কাজ খুঁজতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

এসব খনিতে কাজের ধরনও ভিন্ন। কেউ নিজের উদ্যোগে স্বর্ণ খোঁজেন, আবার কেউ বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন খনিতে কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে আয় নির্ভর করে পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ, সরঞ্জাম ও জ্বালানির খরচ এবং অর্থায়নকারীদের সঙ্গে সম্মত লাভের ভাগের ওপর।

স্বর্ণ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও খনি শ্রমিকদের প্রতিনিয়ত নানা বিপদের মুখে পড়তে হয়। ধসে পড়া খনি, অস্থিতিশীল মাটি ও বিমান হামলার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হওয়ায় দুর্ঘটনায় আহত হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

খনি শ্রমিকদের জীবনযাপনও অত্যন্ত কঠিন। রিভার নাইল রাজ্যে ১০ বছর খনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করা মোহাম্মদ আওয়াদালকারিম জানান, শ্রমিকেরা প্রায়ই চটের বস্তা ও প্লাস্টিকের শিট দিয়ে তৈরি অস্থায়ী কুঁড়েঘরে থাকেন। তাদের প্রধান খাবার মসুর ডাল ও জোয়ারের পায়েস।

তবে যেসব পরিবারের নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস নেই, তাদের কাছে এসব খনি তাৎক্ষণিক উপার্জনের একটি সম্ভাবনা তৈরি করে। যদিও ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্বর্ণ খুঁজেও অনেক শ্রমিক নিজেদের খরচ মেটানোর মতো স্বর্ণ পান না। আবার কেউ কেউ বিনিয়োগকারী বা যন্ত্রপাতির মালিকদের সঙ্গে আয় ভাগ করে নেন। ফলে দিনশেষে তাদের হাতে খুব সামান্য অর্থ থাকে।

আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার

চ্যাথাম হাউস থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুদানের ঘোষিত স্বর্ণ উৎপাদনের ৫৩ দশমিক ৭১ টন বা প্রায় ৮৩ শতাংশ এসেছিল কুটিরশিল্প ও ক্ষুদ্র পরিসরের খনি থেকে। তবে এই হিসাব শুধু সরকার-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোর উৎপাদনকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সুদানের ১৮টি রাজ্যজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এ ধরনের খনির কাজে যুক্ত ছিলেন। এসব খাত থেকে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয় হতো।

ক্ষুদ্র খনিগুলোকে সাধারণত যুদ্ধের মূল অর্থায়ন নেটওয়ার্কের বাইরে বলে মনে করা হলেও, এসব এলাকাও সহিংসতা থেকে রেহাই পায়নি। স্থানীয় সূত্র ও খনি শ্রমিকদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুন মিশরীয় সীমান্তের কাছে একটি খনি এলাকায় হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। সীমান্তবর্তী সুদানি এলাকায় বারবার বিমান হামলার ঘটনায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও জবাবদিহি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

মিশরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সুদানি স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে একটি মিশরীয় কোম্পানি পরিচালিত খনি এলাকার কাছে খননকাজ চালাচ্ছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ খুবই সীমিত।

জানা গেছে, সুদানের সামরিক নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান হামলার ঘটনা তদন্তে প্রসিকিউটর, বিচার বিভাগীয় প্রতিনিধি ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের নিয়ে একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে জুনে ঘোষিত একই ধরনের আরেকটি ঘটনার তদন্তের ফলাফল এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল

আঞ্চলিক সংঘাত ও স্বর্ণের সন্ধানে প্রাণ দিতে হয়েছে আলতায়েবকে। যে স্বর্ণ কারও কারও জন্য বিপুল মুনাফার উৎস, সেটিই আবার অনেক শ্রমিকের কাছে সামান্য আয় করে বেঁচে থাকার অবলম্বন।

আলতায়েবের মৃত্যুর পর তার ভাইবোনেরা এখন চাচা, খালা ও চাচাতো ভাইবোনসহ বর্ধিত পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছে। পরিচিতজনেরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে আলতায়েবের স্মৃতি ধরে রাখতে গাল্লি গ্রামে সামাজিক উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।

আলতায়েবের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা তার ইচ্ছা অনুযায়ী ছোট ভাইবোনদের লালন-পালন ও যত্ন নেবেন। আলতায়েব ছিল তরুণ, যত্নশীল ও সাহসী। তাকে সবসময় স্মরণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যানথ্রোপিকের সতর্কবার্তা: এআই মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ এম


অ্যানথ্রোপিকের সতর্কবার্তা: এআই মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর ঝুঁকি’ তৈরি করতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় পরিসরে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এআই মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর ঝুঁকি, এমনকি অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে’ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ক্লড চ্যাটবটের নির্মাতা অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, তারা নাসডাকে ‘এএনটি’ প্রতীকে তালিকাভুক্ত হবে। এটি হবে সম্পূর্ণ এআইকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম কোম্পানি। ফলে প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠবে।

অ্যানথ্রোপিকের মূল্যায়ন স্পেসএক্সকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রীষ্মকালে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে স্পেসএক্স এ ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছিল। তবে অ্যানথ্রোপিক এখনো কতটি শেয়ার ছাড়বে, শেয়ারের সম্ভাব্য মূল্যসীমা কত হবে কিংবা কবে তালিকাভুক্ত হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অ্যানথ্রোপিকের আয় হয়েছে ১৬.৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার)। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয়েছে ৮০.৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

তালিকাভুক্তির আগে জমা দেওয়া নথিতে অ্যানথ্রোপিক উল্লেখ করেছে, এআই ব্যবস্থা মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, গবেষক এবং প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, যদি যথাযথ সুরক্ষা, তদারকি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া উন্নত এআই ব্যবস্থা তৈরি, ব্যবহার ও পরিচালনা করা হয়, তাহলে তা মানবজাতির জন্য বিপর্যয়কর কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে এসব ব্যবস্থা অপব্যবহার করা হলে, প্রতিলিপি তৈরি করা হলে, অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কিংবা উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে কাজ করতে দেওয়া হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পাঁচ বছর আগে প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, তার বোন ড্যানিয়েলা আমোদেই এবং আরও পাঁচজন মিলে অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের জুনে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথা জানায়।

এরপর অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইও একই ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের তালিকাভুক্তি আগামী বছরের শুরুর দিকে হতে পারে।

দুই প্রতিষ্ঠানের এসব ঘোষণার পর কিছুটা স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্টকে ঘিরে সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। বর্তমান ও সাবেক কর্মীরাও সতর্ক করেছেন, এআই প্রযুক্তি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এআই সরঞ্জামের কারণে মানবজাতির সম্ভাব্য ক্ষতি ঠেকানোর সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।

সোমবার (২৬ অেক্টোবর) অ্যানথ্রোপিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা প্রকাশ করার দিনেই এলভিস প্রিসলির সংগীতের স্বত্বাধিকারীরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, ক্লড চ্যাটবটকে প্রশিক্ষণ দিতে অ্যানথ্রোপিক রক অ্যান্ড রোল তারকা প্রিসলির শত শত গান ব্যবহার করেছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা জালাল মাতুব্বর গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৭ এম


চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা জালাল মাতুব্বর গ্রেপ্তার

রাজধানীর চাঁদাবাজির মামলায় যুবদল নেতা জালাল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে, একই অভিযোগে তার বড় ভাই ও আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বড় ভাইয়ের গ্রেপ্তারের পর ছোট ভাইয়ের গ্রেপ্তার নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে চাঁদাবাজির একটি মামলায় জালাল মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জালাল মাতুব্বর রাজধানীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক। সম্প্রতি আদাবরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে।

আগে গ্রেপ্তার হন বড় ভাই নয়ন

জালাল মাতুব্বরের বড় ভাই নয়ন হোসেন আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত ২২ অক্টোবর চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। অভিযোগ রয়েছে, আদাবরে সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ ও নালা নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ভবনমালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করছিলেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর নয়ন হোসেনের সাংগঠনিক পদ স্থগিত করে ছাত্রদল।

গত ২৪ অক্টোবর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তার পদ স্থগিত করা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

যুবদল থেকেও বহিষ্কার জালাল

বড় ভাইয়ের গ্রেপ্তারের পর এবার জালাল মাতুব্বরকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে যুবদলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁদাবাজির অভিযোগ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে আদাবর এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। ভয়ের কারণে ভবনমালিক ও ঠিকাদারেরা মুখ খুলতেন না। সম্প্রতি কয়েকজন ভুক্তভোগী ডিবির কাছে অভিযোগ দিলে তদন্ত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমে নয়ন এবং পরে জালালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এসআইকে প্রত্যাহার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


বিয়ের আশ্বাসে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এসআইকে প্রত্যাহার

বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার রাতে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে অভিযুক্ত এসআই মো. আনছার আলী জেলা পুলিশ লাইনসে যোগদান করেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. আলমাস আলী।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে ওই তরুণীর স্বামীর দায়ের করা একটি অভিযোগের তদন্ত করতে এসআই আনছার আলী তার বাড়িতে যান। এরপর তাদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ ও সখ্য গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পরবর্তীতে তরুণী তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কোনো উপায় না পেয়ে গত ৮ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই তরুণী।

অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) অভিযোগকারী তরুণীর বিস্তারিত জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি প্রমাণ হিসেবে কিছু ভিডিও ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ওই তরুণীর নিয়মিত যাতায়াত বা উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বিভাগীয় ও আইনি পরবর্তী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ এম


কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

কুমিল্লার একটি আদালত প্রাঙ্গণে মামলার বাদী হিসেবে উপস্থিত থাকা এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী মহিলা লীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারক আবিদা সুলতানা মলির নির্দেশে অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনাকে আটক করে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ১ নম্বর আমলি আদালতে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত শাহনাজ আক্তার সুমনা কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসভার নূরপুর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী মহিলা লীগের সভাপতি।

জানা গেছে, হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন সুমনা। হাজিরা শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর বিচারক আবিদা সুলতানা মলির এজলাসের সামনে মামলার বাদী সালমা আক্তারের সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় সালমাকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে সুমনার বিরুদ্ধে। এতে সালমা আক্তার আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে বিচারকের নির্দেশে পুলিশ সুমনাকে আটক করে আদালতের হাজতখানায় (কোর্ট লকআপ) পাঠায়।

ঘটনার পর আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা সুমনার জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানিতে তারা আদালতকে জানান, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরো তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানান আইনজীবীরা।

ভুক্তভোগী সালমা আক্তারের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা ঘটলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করারও দাবি জানান তিনি।

কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব বলেন, আদালত হচ্ছে বিচার পাওয়ার জায়গা। বিচার চলাকালে আদালতের এজলাসে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরো বলেন, মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে আসে। এমন ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। ন্যায়বিচারের স্বার্থে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%